15/06/2024
সুন্দরী মেয়েরা গন পরিবহনে উঠলে সব পুরুষ মানুষের দৃষ্টি নিক্ষেপ সেদিকে হয়।
আর যদি মেয়ের পাশের সিট যদি খালি থাকে তাহলে তো কোন কথা নাইকিছু কিছু পুরুষ মানুষ তার পাশে বসার জন্য হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। কার পায়ে লাথি, কার গায়ে হাত লাগে সেই খেয়াল টুকু থাকে না।
যাত্রা যমুনা ফিউচার পার্ক টু সাভার ব্যাংক কলোনি কবি কুঞ্জ। অছিম পরিবহনে চড়ে বসলাম। প্রচন্ড দাবদাহ বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি। বন্ধুদের সাথে আড্ডা বলে কথা।
মাথার উপর একটা ফ্যান স্থীর হয়ে ঘুরছে।
প্রত্যেক সিটে একজন করে যাত্রী বসা।
বাসের অর্ধেক সিট খালি। আমার সামনের সিটে এক সুন্দরী মেয়ে বসা তার কারনে চোখ দুটো সেদিকে বার বার ছুটে যাচ্ছে।
সুন্দরী বলতে আমি সাদা রঙ্গে মেয়েদের মনে করিনা।
দেখি তার ব্যক্তিত্ব,পোষাক আশাক, মিষ্টি চেহারা, হরিনী কালো চোখ, মূক্তার মতো দাত, মুখভরা হাসি, মধুর আচরন।
স্বল্প সমায়ের মধ্যে বেশ কিছু জিনিস চোখে পড়লো ঐ কন্ট্রাকটরের বদৌলতে।
কন্ট্রাকটর ভেরিমাস ইয়াং সে ভাড়া আদায় বন্ধ করে ঐ মেয়েটির পাশের সিটে বসে আমার মাথার উপরের স্থীর ফ্যানটি তার দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে মেয়েটির সাথে খোস গল্প শুরু করে দিয়েছে।
আমি ছেলেটিকে ইঙ্গিত করে বললাম বাবা তোমার নাম কি?
কাওসার,,,,
তুমি জানো তোমার নামের কতো ফজিলত,,,,,,,?
চুপ করে আমার দিকে তাকাতেই বললাম
শুনো,,,,,,
আখেরাতের সময় হাউজে কাওছারের পানি যারা পান করবে তাদের অন্তর ঠান্ডা হয়ে যাবে।
নবীজীর জন্য পুরস্কার স্বরুপ আল্লা হাউজে কাওছার উপহার দিবেন।
আর কোন কিছু শুনার আগেই
সে লজ্জায় ফ্যানটি ঘুরিয়ে দিয়ে একটা হাসি দিলো এবং ছিট ছেড়ে উঠে পড়লো।
কাওসার ছিট ছেড়ে উঠে পড়ার সাথে সাথে পিছন থেকে একটি ছেলে উড়ে এসে মেয়েটির পাশের ছিটটি দখল করে ফেললো। মনে হচ্ছিলো- বাস ভর্তি লোক বসার কোন সিট খালি নাই!
সব-ই আমার চোখের সামনের ঘটনা। কিছু ক্ষণের মধ্যে ছেলেটি গভীর ঘুমে ঢলে পড়লো। দেখে মনে হচ্ছে সাতদিন পর্যন্ত ঘুমায় নাই।
বার বার করে মেয়েটির গায়ের দিকে ঝুকে পড়ছে এমন কি মাথাটা মেয়ের কাঁধে পড়ছে।
মেয়েটি বিব্রত বোধ করছিলো। পরে সে উঠে অন্য একটি সিটে বসার সাথে সাথে আরেকটি বয়স্ক লোক মেয়েটির পাশে এসে বসলো।
কি আশ্চর্য বিষয় আগের ছেলেটির ঘুম ভেঙ্গে গেছে এখন আর তার ঘুম আসেনা। বরং মেয়টির দিকে ফিরে ফিরে বারবার তাকাচ্ছে।
বুড়ো চাচা মেয়েটির সাথে খাস গল্প শুরু করলো। মেয়েটি শুধু মাথা নেড়ে হায় হ্যলো সম্মতি জানিয়ে যাচ্ছে কোন কথা বলছিলো না।
হয়তো বা মেয়েটি অফিস থেকে বাসায় ফিরছিলো, খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছিলো তাকে।
তার গন্তব্য মিরপুর ১১ নাম্বারে কন্ট্রাকটর কাওসারের কথায় বুঝলাম।
আপা,,,,
১১ নাম্বারে চলে এসেছি। যখন মেয়েটি নামার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে উঠে বাসের গেটের কাছে যাচ্ছে ঠিক তখন অন্য একটি ছেলে ইচ্ছে করে হাতের কনুইটা দিয়ে মেয়েটির টাচি নরম জায়গাটায় আলতো আঘাত করে। দ্রুতই মেয়েটি নিজেকে সামলে নিলো।
আমি ছেলেটিকে বললাম বাসের মধ্যে এতো ফাঁকা জায়গা থাকতে ওখানে কেন দাড়িয়েছেন? ছেলেটি আমাকে অপমান সুচক ভাষা তির্যক ভাবে নিক্ষেপ করলেন। বসের কোন যাত্রী কিন্তু কোন প্রতিবাদ করলো না। মেয়েটি ছেলেটির দিকে আড় চোখে তাকিয়ে নিরবে বাস থেকে নেমে গেলো।
সত্যি বলতে কি আমাদের দেশের মেয়েরা এখনো স্বাধীন ভাবে চলাচলে নিরাপদ না।
বিশেষ করে গন পরিবহনে যাতাযতে প্রতিদিন আমাদের হাজারো মা,বোন বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত হচ্ছে তার প্রমান আমার দেড় ঘন্টার বাস জার্নি।
মেয়েরা আমাদের কারো মা, বোন, মেয়ে বৌ, প্রেমিকা। আসুন না তাদেরকে আমরা সম্মান করি নিজের মা বোনের মতো।
অণুগল্প
দেড়_ঘন্টার_যার্নি
Copy paste