11/10/2026
রেজাল্ট কার্ডটা হাতে নিয়ে নাবিলা সিঁড়িতে বসে ছিল অনেকক্ষণ।
ক্লাস সিক্স। অঙ্কে ৮২। গত বছর ছিল ৬৫।
সারা রাস্তা মনে মনে গুছিয়ে এনেছিল কথাটা: "আম্মু, এবার অঙ্কে অনেক বেড়েছে!"
দরজা খুলতেই আম্মুর প্রথম প্রশ্ন,
"তানহা কত পেয়েছে?"
তানহা, ওর খালাতো বোন। অঙ্কে ৯৫।
"দেখ, ও কত নম্বর পেয়েছে… আর তুই? একই স্কুল, একই টিচার। ওর মাথায় কি আলাদা কিছু আছে?"
নাবিলা কিছু বলল না। কার্ডটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নিজের ঘরে চলে গেল।
এরপর থেকে একটা জিনিস বদলে গেল। নাবিলা আর খাতা দেখাত না। পরীক্ষার কথা জিজ্ঞেস করলে বলত, "ভালো হয়েছে।" ব্যস।
কয়েক মাস পর ঘর গোছাতে গিয়ে আম্মু ওর ডায়েরিটা পেলেন। শেষ পাতায় গোটা গোটা অক্ষরে লেখা:
"আমি যত চেষ্টাই করি, তানহার মতো হতে পারব না। তাহলে চেষ্টা করে কী লাভ?"
সেদিন রাতে আম্মু অনেকক্ষণ জায়নামাজে বসে ছিলেন।
পরদিন সকালে নাবিলার টেবিলে একটা কাগজ রাখা ছিল। আম্মুর হাতের লেখা:
"আমার নাবিলার পাঁচটা গুণ:
১. ও কখনো মিথ্যা বলে না
২. ছোট ভাইটাকে আগলে রাখে
৩. হার মানে না, ৬৫ থেকে ৮২ এনেছে
৪. ওর আঁকা ছবি দেখলে মন ভালো হয়ে যায়
৫. ও আমার মেয়ে, আর এটাই যথেষ্ট"
নাবিলা কাগজটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর অনেকদিন পর আম্মুকে জড়িয়ে ধরল।
━━━━━━━━━━
তুলনা করে আমরা ভাবি সন্তানকে উৎসাহ দিচ্ছি।
আসলে সে শেখে: আমি যেমন, তেমন যথেষ্ট না।
প্রতিটা সন্তান আল্লাহর আলাদা সৃষ্টি। কারো হাতে অঙ্ক, কারো হাতে রং, কারো হৃদয়ে মানুষের জন্য মায়া। আমাদের কাজ অন্যের সন্তানের মাপে তাকে কাটা না। আমাদের কাজ তার নিজের গুণগুলো খুঁজে বের করা।
আজ একটা কাজ করে দেখুন।
একটা কাগজে আপনার সন্তানের অন্তত পাঁচটা ভালো দিক লিখুন। তারপর তাকে পড়ে শোনান। বলুন, "আল্লাহ তোমাকে এই গুণগুলো দিয়েছেন।"
━━━━━━━━━━
এই লেখাটি আমার আসন্ন বই "সন্তানকে সফল ও দ্বীনদার মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ২১টি নীতি"-এর ১৫ নম্বর নীতি থেকে: আত্মবিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তুলুন।
ছোটবেলায় কারো সাথে আপনাকে তুলনা করা হয়েছিল? সেই কথাটা কি এখনো মনে আছে?
— মুনাইম বিল্লাহ