ইসলামিয়া কলেজ, কুষ্টিয়া - Islamia College, Kushtia

  • Home
  • Bangladesh
  • Kushtia
  • ইসলামিয়া কলেজ, কুষ্টিয়া - Islamia College, Kushtia

ইসলামিয়া কলেজ, কুষ্টিয়া - Islamia College, Kushtia Welcome to the page of Islamia College, Kushtia, a renowned institution dedicated to academic excellence and holistic education since 1968.

Situated on approximately 2 acres of land along NS Road in Kushtia city, our college stands as a beacon of learning and development in the Sadar Upazila of Kushtia district. Affiliated with the National University of Bangladesh, Islamia College, Kushtia offers a diverse range of educational programs. At the higher secondary level under the Jessore Board, we have three distinguished departments. Fo

r undergraduate studies, we offer four Bachelor's Degree (Pass) courses and twelve specialized Bachelor's Degree Honours courses. Additionally, we provide five Master's Final courses to foster advanced learning opportunities. Established through the visionary efforts of local educationists and philanthropists, Islamia College continues its mission to elevate education standards and empower students with the knowledge and skills to thrive. Join us to celebrate our legacy, achievements, and vibrant student community! This page is Islamia College, Kushtia - Official Students' Page

01/10/2025

যে মাছ আমার আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশিরা কিনে খেতে পারবে না, আমি টাকা থাকলেও সেটা কিনে খাবো না।

আসেন এই শপথ নেই। এটাই মনুষ্যত্ব।

🗓️ ১৫ জুলাই ১৯৭১ । মুক্তিযুদ্ধের রোজনামচা============================১. কলকাতার ৮‑নং থিয়েটার রোডের অফিস ভবনে আয়োজিত আওয়া...
15/07/2025

🗓️ ১৫ জুলাই ১৯৭১ । মুক্তিযুদ্ধের রোজনামচা
============================

১. কলকাতার ৮‑নং থিয়েটার রোডের অফিস ভবনে আয়োজিত আওয়ামি লীগ জাতীয় এবং আঞ্চলিক কমিটির বৈঠকে অংশ নেয়া সকল সেক্টর কমান্ডার, জাতির দায়িত্বে নিয়োজিত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের ওপর শপথ গ্রহণ করে এবং “স্বাধীনতা পর্যন্ত সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে”–এ মর্যাদা অনুযায়ী অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ।
২. কমিটি মুকতি বাহিনীর ‘নৌ ও বিমান ইউনিট’ গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা মুক্তিযুদ্ধের কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ায় ।
৩. সিলেটের শায়েবাদপুরে মুকতিযোদ্ধারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৩ সদস্যকে হত্যা করে ।
৪. বল্লার এলাকায় মুকতিযোদ্ধাদের এক অভিযান—সূত্র মতে ৬০ পাকিস্তানি সৈন্যকে ধরেন এবং তাদের মধ্য থেকে ৫১ জনকে হত্যা করেন ।
৫. পাকিস্তানের সাবেক বিদেশমন্ত্রী হামিদুল হক চৌধুরী ও পিডিপি নেতা মোহাম্মদ আলী জাতিসংঘের সাধারণ সম্পাদক উ থান্তের কাছে এবং বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যাকনামারের কাছে বৈঠকে অংশ নিয়ে ইস্ট পাকিস্তানের অবস্থা সর্ম্পকে অবহিত করেন ।
৬. পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট ইয়াহ্য খান ড. এ. এম. মালিককে তার বিশেষ সহকারি নিয়োগ দেন ।

#১৯৭১ #মুক্তিযুদ্ধ১৯৭১ #১৫জুলাই১৯৭১ #মুক্তিযোদ্ধা #বাংলারইতিহাস #সেক্টরকমান্ডার #গর্বেরবাংলা #বীরেরগাঁথা #স্বাধীনতারসংগ্রাম #বিজয়েরপথে #জাতিরপিতারদিশা

তাঁকে মনে রেখো বাংলাদেশ 💚দিনটি ছিল ১৭ আগস্ট মঙ্গলবার ১৯৭১ সাল, কিশোরগঞ্জের জেলার হোসেনপুরে পাকিস্তানী জ*ল্লা*দেরা আক্রমণ...
15/01/2025

তাঁকে মনে রেখো বাংলাদেশ 💚

দিনটি ছিল ১৭ আগস্ট মঙ্গলবার ১৯৭১ সাল, কিশোরগঞ্জের জেলার হোসেনপুরে পাকিস্তানী জ*ল্লা*দেরা আক্রমণ করেছিল। সেদিনের নির্বিচার হ*ত্যা*যজ্ঞ শেষে চারজন নারীকে ধরে নিয়ে যায়। যাঁদের দু'জন আর কখনোই ফিরে আসেননি। ছবির মানুষটি সেই দু'জনের একজন। তাঁর নাম 'গৌরি', শহীদ গৌরির পবিত্র দেহ মিশে আছে আমাদের বাংলাদেশে।

'স্বাধীনতা' এত সস্তা নয়, নয় এত ঠুনকো। ত্রিশ লক্ষাধিক শহীদের র*ক্ত মিশে আছে বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি জমিনে। যে জমিনে পা রাখছেন, খেলছেন, আত্মঅহমে দাবড়ে বেড়াচ্ছেন, সেই জমিনের মতো পবিত্র কোন ভূখণ্ড এই পৃথিবীতে নাই।

সৌজন্যে: মানিক/ বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র
#মুক্তিযুদ্ধ #বাংলাদেশেরইতিহাস #শহীদ_গৌরি #বাংলাদেশের_দুষ্প্রাপ্য_ছবি_সমগ্র #ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর

14/01/2025

দেশের প্রতিজন মানুষ যতদিন রাজনীতি সচেতন হয়ে বিভিন্ন ভাবে রাজনীতিতে ভূমিকা না রাখবে, ততদিন দেশের রাজনীতি ভালো হবে না।
আর রাজনীতি ভালো না হলে, দেশ ভালো হবে না।

#দেশ #মানুষ #জনগণ #রাষ্ট্র #রাজনীতি #দেশপ্রেম #মানবতা #জনসেবা #গণতন্ত্র #রাজনৈতিকবিশ্লেষণ #রাষ্ট্রবিজ্ঞান #জাতীয়তা #সমাজ #সমাজনীতি #বাংলাদেশ #বাঙালি #জাতীয়চেতনা #মানবাধিকার #রাজনৈতিকঅধিকার #জাতীয়ঐক্য #গণপ্রজাতন্ত্রী #সমাজকল্যাণ #রাষ্ট্রনীতি #দেশীয়সংস্কৃতি #রাজনৈতিকসচেতনতা #জনগণেরঅধিকার #বাংলারজীবন #রাজনৈতিকচেতনা #রাষ্ট্রগঠন #মানুষেরঅধিকার

"সাক্ষী ছিল পক্ষী সকল" নামে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি গল্প -"দুপুরে ঘুমানো আমার অনেক পুরানো অভ্যেস। যত ব্যস্তই থাকি না কেন...
22/12/2024

"সাক্ষী ছিল পক্ষী সকল" নামে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি গল্প -

"দুপুরে ঘুমানো আমার অনেক পুরানো অভ্যেস। যত ব্যস্তই থাকি না কেন, আধ ঘন্টা আমাকে ঘুমাতেই হবে। এ সময় টেলিফোনের রিসিভার তোলা থাকে, মোবাইল ফোন সাইলেন্ট করা থাকে। পর্দা টেনে ঘর অন্ধকার করা হয় ।মোটামুটি সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ‘ভাত ঘুম’ যাকে বলে।

সেদিন ও এ রকম ভাত ঘুম দিয়ে উঠেছি। তারপর হাত মুখ ধুয়ে মোবাইল চেক করে দেখি অনেকগুলো মিস কল। করেছে ডাক্তার মেশকাত। একটু অবাক হলাম। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এ ডাক্তারের সাথে আমার তেমন ঘনিষ্টতা নেই। মাঝে মাঝে সামাজিক অনুষ্ঠানে দেখা হলে সামান্য কথাবার্তা হয় মাত্র। সে কী প্রয়োজনে এত বার ফোন করেছে? ভাবতে ভাবতে কল ব্যাক করলাম।
ওপাশ থেকে মেশকাত সাড়া দিলো, ‘বাদল ভাই, সরি বিরক্ত করলাম বোধ হয়।‘

আমি বললাম, না, না, বলো কী ব্যাপার?
“ভাই আপনি কি একবার আমাদের হাসপাতালে আসতে পারবেন?”
এবার আমার আরো অবাক হওয়ার পালা। ওর হাসপাতালে আমার কী কাজ?ওরা মূলতঃ কাজ করে পোস্ট মর্টেম নিয়ে। এর সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তারপর বুক ধ্বক করে উঠলো, তাহলে কি আমার পরিচিত কেউ মর্গে আছে?

আমি উদ্বেগ নিয়ে বললাম, মেশকাত, এনি থিং রং? পরিচিত কারো কোন সমস্যা হয়েছে ?
“ না, না, বাদল ভাই, একটা ব্যাপার একটু ইন্টেরেস্টিং মনে হচ্ছে। তাই আপনার সাথে আলাপ করতে চাইছি।“
কী ব্যাপারে মেশকাত?

“ গত রাতে আমাদের এখানে একটা লাশ এসেছে। সেটার ব্যাপারে কথা বলতে চাই।আপনি ভয় পাবেন না, এটা পরিচিত কারো লাশ নয়। কিন্তু ব্যাপারটা কেমন যেন ইন্টেরেস্টিং। মনে হচ্ছে আপনি পুরো বিষয়টা দেখলে কিছুটা ধারণা দিতে পারবেন, আসলে ব্যাপারটা কী?”
ওকে, আমি আসছি। সামনা সামনি কথা বলবো।

মেশকাতের অফিসে যখন পৌঁছালাম তখন শেষ বিকেল। এ সময় ওর অফিসে থাকার কথা না। দুপুরেই ওর অফিস শেষ। তারপরও সে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। মনে হচ্ছে সে যা বলতে চায়, তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
আমি ওর সামনের চেয়ারে বসতে বসতে বললাম, এবার বলো দেখি, আসলে কী ব্যাপার?
“ বাদল ভাই, আগে চা খান, তারপর বলি” বলে সে বেল টিপলো। সাথে সাথে একজন আর্দালী ট্রে হাতে চা নিয়ে ঢুকলো।মনে হয় আগেই বলা ছিল। তাই বেল টিপতেই চায়ের আগমন। আমি হাসতে হাসতে বললাম, মনে হচ্ছে তুমি বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলতে চাও- চা পর্যন্ত রেডি করে রেখেছো!

মেশকাত মৃদু হাসলো, তারপর বললো, বাদল ভাই, গত রাতে আমাদের এখানে একটি বেওয়ারিশ লাশ এসেছে। মিশকিন শাহের মাজারে মরে পড়েছিল। পুলিশ আমাদের কাছে পৌঁছে দেয়। তাদের বেওয়ারিশ লাশের পোস্ট মর্টেম করে রেকর্ড রাখতে হয়। আমরা দেখলাম লোকটি মারা গেছে নিউমনিয়ায়। নাথিং এবনরমাল। ন্যাচারাল ডেথ।

আমি কিছুটা বিস্ময় নিয়ে বললাম, এর সাথে আমার সম্পর্ক কী?
মেশকাত জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো, সেখানে নরম সন্ধ্যার আলো। কিছুক্ষণ সে দিকে তাকিয়ে থেকে সে মৃদু গলায় বললো, লাশের উরুতে একটি গুলি পাওয়া গেছে। সম্ভবত অপারেশন করা হয়েছিল, কিন্তু গুলিটি বের করা যায়নি------

আমি তাকে থামিয়ে কিছুটা বিরক্তি নিয়ে বললাম, কিছু মনে করো না মেশকাত, ক্যান ইউ কাম টু দ্য বিজনেস? আমি কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাকে কেন ডেকেছ তাও বুঝছি না।

মেশকাত কিছুটা ঝুঁকে এসে বললো, বাদল ভাই, আমাদের রিপোর্ট বলছে গুলিটির বয়স প্রায় আট চল্লিশ বছর।
তো? আমি প্রশ্ন করলাম।

এবার মেশকাতই কিছুটা অসহিষ্ণু গলায় বললো, ভাই, আট চল্লিশ বছরের পুরানো গুলির মানে বুঝতে পারছেন?
সরি, মেশকাত, পারছি না।
“ আট চল্লিশ বছর আগে মানে উনিশ শ একাত্তর সাল, বাদল ভাই।“

এবার আমি নড়ে চড়ে বসলাম। তুমি কী বলতে চাইছো মেশকাত?
“ ভদ্রলোক মনে হয় একাত্তরে গুলি খেয়েছিলেন। সম্ভবত আজ সকালে মিশকিন শাহের মাজারে যে অসহায় মানুষটি নিঃসঙ্গ এবং অতি দরিদ্র অবস্থায় মারা গেছেন তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা---- বলতে বলতে সে সামনে ঝুঁকে আসে, তারপর দৃঢ় কন্ঠে বলে, বাদল ভাই, আপনি হয়তো জানেন না, একাত্তরের ২৭ আগষ্ট আমার বাবাকে আমাদের রেলওয়ে কলোনীর বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর আর তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। হয়তো তিনিও এরকম বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে কোথাও পড়ে ছিলেন। কিন্তু ইনার ক্ষেত্রে আমি তা হতে দেবো না।
আমি তাঁর ফ্যামিলিকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে লাশ তুলে দেবো, যাতে অন্তত তিনি প্রিয়জনদের হাতে সমাহিত হন।

আমি আমতা আমতা করে বলি, ঘটনা তো অন্য রকমও হতে পারে মেশকাত।
“কী রকম?”
একাত্তরে শুধু মুক্তিযোদ্ধারা গুলি খেয়েছেন তা কিন্তু নয়, অন্য পক্ষও----
আমার কথা হাতের ঝাপটায় থামিয়ে দিয়ে মেশকাত বললো, বুঝেছি, আপনি বলতে চাইছেন, লোকটি রাজাকারও হতে পারে তাই না?
হা, আমি তাই বলতে চাইছি।
না, ভাই, তাঁর রাজাকার হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। আমরা তাঁর শরীরে পাওয়া বুলেটটি পুলিশের ফরেনসিক বিভাগে পাঠিয়েছি। জানেনই তো পেশাগত কারণে ওদের সাথে আমাদের সম্পর্ক খুব ভাল। তাঁরা জানিয়েছেন বুলেটটি ‘ড্রাগোনোভ’ স্নাইপার রাইফেলের। পাক বাহিনীর খুব হাই প্রোফাইল সৈনিকেরাই কেবল এ রাইফেলগুলো ব্যবহার করতো। যেমন ধরুন খুব উচ্চ পদস্থ কারো দেহরক্ষীরা। এ রাইফেল মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাই আমি নিশ্চিত ভদ্রলোক মুক্তিযোদ্ধা, রাজাকার নন।

আমি তার যুক্তি মেনে নিয়ে বলি, কিন্তু এখানে আমার কাজ কী?
“ ভাই, আমি তো বলেছি লাশটিকে ফ্যামিলির কাছে ফিরিয়ে দিতে চাই।“
সেটা কীভাবে সম্ভব?
“সে জন্যই তো আপনাকে ডাকা। ড্রাগোনাভ রাইফেলের গুলি ব্যবহৃত হয়েছে মানে ভদ্রলোক কোন ব্যতিক্রমধর্মী লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।। মাঠেঘাটে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক বাহিনির যে অসংখ্য সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছে, সম্ভবত এটা সে রকম নয় । এটা খুব সম্ভব কোন উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিকে আক্রমণ করার জন্য পরিচালিত অভিযান, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহরক্ষীরা স্নাইপার রাইফেলের গুলি ছুড়েছিল। আপনার তো অনেক ‘একাত্তর’ বিশেষজ্ঞের সাথে পরিচয় আছে, আপনি কি তাঁদের জিজ্ঞেস করতে পারেন, সে রকম কোন ঘটনা ঘটেছিল কিনা? যদি ঘটে সে অভিযানের কেউ বেঁচে আছেন কিনা? যদি থাকেন, তাহলে হয়তো তিনি এ ভদ্রলোককে চিনতেও পারেন।তাঁরা হয়তো সহযোদ্ধা ছিলেন।“
এটা কি সম্ভব? আমি অনিশ্চিত গলায় বললাম।

“ বাদল ভাই, চেষ্টা করতে সমস্যা কী? একটা সূত্র যেহেতু আছে, আমরা ট্রাই করে দেখতে পারি। আমরা তো অন্তত এটা জানি যে, ড্রাগোনোভ রাইফেল শুধু হাই প্রোফাইল দায়িত্বে থাকা সৈনিকেরা ব্যবহার করতো। তাদের সাথে তো খন্ড যুদ্ধ খুব বেশি হওয়ার কথা না। আপনি চেষ্টা করুন। আমার মনে হয় সিরিয়াসলি খুঁজলে এরকম মুখোমুখি যুদ্ধের খবর বের করা যাবে। তবে সময় বেশি নেই। আমি হাসপাতাল থেকে পাঁচ দিন সময় নিতে পেরেছি। এরপর লাশটি আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামকে দিয়ে দেয়া হবে। ভদ্রলোকের ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। মাজারে অনেকেই তাঁকে নামাজ পড়তে দেখেছেন।ইন ফ্যাক্ট তাঁরাই পুলিশকে তাঁর মৃত্যুর খবর দেন।

আমি কোন ধরণের সাহায্য করতে পারবো বলে মেশকাতকে আশ্বস্ত করতে পারলাম না। তবে চেষ্টা করার কথা দিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। প্রথমেই ফোন করলাম ইসমাইল মজুমদারকে। তিনি বয়সে আমার বছর পাঁচেকের বড়। ভদ্রলোককে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চলন্ত এন্সাইক্লোপেডিয়া বলা যায়। গত প্রায় ত্রিশ বছর ধরে তিনি সারা দেশ ঘুরে ঘুরে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। এ বিষয়ে তাঁর লেখা বইকে মোস্ট অথেনটিক বিবেচনা করা হয়। চট্টগ্রামের বধ্যভূমি নিয়ে কাজ করার সময় তাঁর সাথে আমার পরিচয়।তারপর ঘনিষ্টতা। আমরা পরে এক সাথে কিছু কাজও করেছি।
তিনি আমার প্রশ্নের সাথে সাথে উত্তর দিলেন, বাদল, তোমার ডাক্তার বন্ধু ঠিকই বলেছেন। এ রাশিয়ান রাইফেল পাকিস্তানীদের হাতে আসে একাত্তরের অক্টোবরের পর। যদিও কীভাবে এটা তারা পেলো তা পরিস্কার নয়। তখনকার পরিস্থতিতে রাশিয়ার তাদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করার কথা নয়। সম্ভবত তারা এটি সংগ্রহ করেছিল থার্ড পার্টির মাধ্যমে। এরকম থার্ড পার্টি অস্ত্র বিক্রি খুব কমন একটি ব্যাপার। যাই হোক, অক্টোবরে ঢাকায় রাইফেলগুলো আনা হয় উচ্চ পদস্থ পাকি বদমাশ আর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষার কাজে দায়িত্ব প্রাপ্ত কমান্ডোদের ব্যবহারের জন্য। ঢাকার বাইরে এগুলোর ব্যবহার তেমন হয়নি। তবে আমি ঠিক জানি না কোন খন্ড যুদ্ধে এটা ব্যবহৃত হয়েছি কিনা? আমাকে একদিন সময় দাও। খোঁজ নিয়ে দেখি।

পরদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গে ইসমাইল মজুমদারের ফোনে।তাঁকে বেশ উত্তেজিত মনে হয়, বাদল,শুন, একটা পাত্তা মনে হয় পাওয়া গেছে----
তাঁর উত্তেজনা আমাকেও টানটান করে তোলে, কী পাত্তা ভাইজান?
‘তুমি তো ক্রাক প্লাটুনের কথা জানো তাই না? একাত্তরে খালেদ মোশাররফের উদ্যোগে ১৭ জনের একটি ছোট্ট গেরিলা ইউনিট গড়ে তোলা হয়েছিল-------“
আমি কিছুটা বিরক্তি নিয়ে তাঁকে থামিয়ে দেই, আমি এ ব্যাপারে ভালভাবে জানি ভাইজান। ওই সময় জুন মাসে গঠিত দলটা কর্ণেল হায়দারের নেতৃত্বে ঢাকায় ঢুকে গেরিলা অপারেশন শুরু করে। কিন্তু এর সাথে আমাদের মৃত ভদ্রলোকের সম্পর্ক কী? তিনি কি এ প্লাটুনের সদস্য ছিলেন? তাও তো সম্ভব না, কারণ ক্রাক প্লাটুনের কার্যক্রম আগস্ট মাসে এর উল্লেখযোগ্য সদস্যরা ধরা পড়ার পর বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পাক বাহিনীর হাতে নিহত হন শহীদ রুমি, বদিউল আলমসহ আরো অনেকে, আর আমাদের ভদ্রলোক সম্ভত গুলি খেয়েছিলেন অক্টোবরের পর। কারণ ড্রাগোনোভ রাইফেল এর আগে পাক বাহিনীর হাতে ছিলো না---
“আরে থামো তো মিয়া”- এবার ইসমাইল ভাই-ই আমাকে প্রায় ধমক দিয়ে থামিয়ে দিয়ে বললেন, এইখানেই তুমি ভুল করছো।“

কোথায় ভুল করছি ভাইজান?
“এই যে বললে আগস্টে ক্রাক প্লাটুনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়- আসলে এটা ঠিক না। সেপ্টেম্বরেই ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে উঠা ফিনিক্স পাখির মতো ক্রাক প্লাটুন আবার আবির্ভুত হয়। এবার প্রথমে তাঁরা সংখ্যায় ছিলেন ত্রিশ জন।তারপর আরো অনেকেই তাঁদের সাথে যোগ দেন।“
আমি কিছুটা অসহিষ্ণু কন্ঠে বলি, ভাইজান, এর সাথে আমাদের ইস্যুর সম্পর্ক কী যদি পরিস্কার করতেন ভাল হতো।

“ একাত্তর সালের ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ক্রাক প্লাটুন ঢাকা রেডিও অফিস আক্রমণ করে। সেখানে সম্ভবত ড্রাগোনোভ রাইফেল ব্যবহার করা হয়েছিল। কারণ তাঁদের সে অভিযান ব্যর্থ হয়েছিল এবং সাতজন গেরিলা সদস্য নিহত হয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের আরকাইভ বলছে, তাঁরা সবাই নিহত হয়েছিলেন অনেক দূর থেকে ছোড়া গুলিতে। সম্ভবত পাক স্নাইপাররা রেডিও অফিসের ছাদ থেকে গুলি ছুড়েছিল। সে ক্ষেত্রে ড্রাগোনোভ রাইফেলই ছিল বদমাশদের একমাত্র ভরসা। তাদের কাছে আর কোন দূর পাল্লার রাইফেলের সাপ্লাই ছিলো না। তাই আমার মনে হচ্ছে আমাদের ভদ্রলোক হয়তো রেডিও অফিস আক্রমণে ছিলেন। সম্ভবত তিনি ক্রাক প্লাটুনের দ্বিতীয় পর্বে তাদের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। পসিবলি হি ওয়াজ আ ইয়াং ফিনিক্স হু মেইড কামব্যাক ফর রিভেঞ্জ।“

কিন্তু আমরা তা নিশ্চিত হবো কীভাবে ভাইজান?
“উপায় আছে।“
কী উপায়?
“ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের আরকাইভ থেকে জেনেছি, রেডিও অফিস হামলায় গেরিলাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন ক্যাপ্টেন তৌফিক। পরে তিনি কর্ণেল হিসেবে আর্মি থেকে অবসর নেন। সৌভাগ্যবশতঃ অসুস্থ হলেও তিনি বেঁচে আছেন। তুমি এক কাজ করো, মৃত ভদ্রলোকের কয়েকটি ছবি তুলে নিয়ে ঢাকায় চলে আসো। খুব ক্লোজ এঙ্গেল থেকে চেহারার ছবি তুলবে। তারপর তাতে বিশেষ সফটওয়ার ব্যবহার করে আরো কিছু ইমেজ তৈরি করবে। যেমন দাঁড়ি না থাকলে তাঁর চেহারা কেমন হতো, গোঁফ থাকলে কেমন হতো, একদম ক্লিন শেভড হলে কেমন হতো, খোঁচা খোঁচা দাঁড়িতে কেমন হতো, চুল ঘাড় অব্দি লম্বা হলে কেমন হতো, তাঁর আনুমানিক বয়স ধরে নিয়ে তা থেকে প্রায় আট চল্লিশ বছর কম হলে তাঁর চেহারা কেমন দাঁড়াতো - এ রকম বিভিন্ন ইমেজ। তুমি পুলিশে কাজ করেন এমন কাউকে অনুরোধ করলেই তাঁরা কাজটি করে দিতে পারবেন।অপরাধী সনাক্তের জন্য এ কাজটি তাঁরা প্রায়ই করেন। তুমি এলে আমরা এক সাথে কর্ণেল তৌফিকের বাসায় যাবো। এর মধ্যে আমি তাঁর সাথে কথা বলে রাখছি। অনেক আগে থেকেই আমরা পূর্ব পরিচিত।“

ইসমাইল ভাই এর কথা মতো এক গুচ্ছ ছবি নিয়ে সেদিন সন্ধায় ঢাকা পৌঁছালাম। তিনি এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করছিলেন। আমাকে দেখেই বললেন, আগে চলো কর্ণেল সাহেবের বাসায় যাই।তিনি ঠিক রাত দশটায় ঘুমাতে যান। এরপর তাঁকে পাওয়া যাবে না।

ইস্কাটনে আমরা যখন কর্ণেল তৌফিকের কাছে পৌঁছলাম তখন প্রায় রাত ন’টা বেজে গেছে। রাস্তায় জ্যামের কারণে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় নষ্ট হয়েছে।

কর্ণেল সাহেব বয়সের কারণে বেশ অসুস্থ। হাঁটাচলা করতে পারেন না। হুইল চেয়ার ব্যবহার করেন। তবে চেহারায় রাগী ভাব আর তাকানোর ভঙ্গি দেখে আঁচ করা যায় এক সময় দুঁদে আর্মি অফিসার ছিলেন।

আমাদের দেখেই বললেন, জেন্টেলম্যান, ইউ আর অলরেডি লেইট। জাস্ট কাম টু দা বিজনেস। ঘটনায় যাওয়ার দরকার নেই, ওটা আমি ইসমাইল সাহেবের কাছ থেকে আগেই শুনেছি। শুধু ছবিগুলো দেখান। তবে জানি না আমি আপনাদের কোন সাহায্য করতে পারবো কিনা?

আমরা কথা না বাড়িয়ে ছবিগুলো তাঁর হাতে দিলাম। তিনি খুব যত্ন করে সেগুলো সামনে রাখা একটি নিচু টেবিলে একে একে সাজালেন। প্রথমে মৃত ব্যক্তির বর্তমান ছবি, তারপর সফটওয়্যারের কারুকাজে একই ব্যক্তির বিভিন্ন রকম ছবি। দাঁড়িসহ, দাঁড়ি ছাড়া, গোঁফওয়ালা, গোঁফবিহীন, ক্লিন শেভড, খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি, তারুণ্য, বয়স্ক সব ধরণের পরিবর্তিত ছবি আছে সেখানে।

বৃদ্ধ কর্ণেল ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দিয়ে সবগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলেন। তারপর এক সময় ম্যাগনিফায়িং গ্লাসটি লাশটির বর্তমান চেহারায় গিয়ে থমকে দাঁড়ালো। তিনি ঝুঁকে কী যেন দেখলেন। তারপর গ্লাসটি নিয়ে গেলেন মৃত মানুষটির তরুণ কালের সম্ভাব্য ছবির উপর।কিছুক্ষণ সে ছবির দিকে গভীর মনোযোগের সাথে তাকিয়ে রইলেন। তারপর তিনি থর থর করে কেঁপে উঠলেন। তাঁর হাত থেকে ম্যাগনিফায়িং গ্লাসটি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। তিনি কোন রকমে আমাদের দিকে চোখ তুলে অনেকটা নিজেকেই যেন বললেন, আনোয়ার, আনোয়ার----
আমরা তাঁর দিকে ঝুঁকে এলাম। বললাম, স্যার, আপনি কি চিনতে পারছেন উনি কে?

আমাদের কথার উত্তর না দিয়ে তিনি আবার লাশের ছবির উপর গ্লাসটি ধরে রইলেন, তারপর আমাদের ইশারা করে বললেন, দেখুন দাঁড়ি গোঁফের আড়ালে ঠোঁটের উপরে ডান দিকে কাটা দাগ। পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে না। গোঁফে ঢেকে আছে। কিন্তু আছে। বলতে বলতে তিনি ক্লিন শেভড ইমেজটি তুলে নিলেন, এখানে দেখুন গ্লাস ছাড়াই দাগটি পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে।

আমরা দুটো ছবি ভাল ভাবে খেয়াল করে বুঝলাম উনি ঠিকই বলছেন। মৃত মানুষটির ঠোঁটের উপরে ডান দিকে কাটা দাগ আছে। তীব্র উত্তেজনা নিয়ে আমরা দু’জন প্রায় এক সাথে আবার বললাম, স্যার আপনি কি উনাকে চিনতে পেরেছেন?

‘ইয়েস জেন্টেলম্যান, ওর নাম আনোয়ার। আর্মিতে সৈনিক হিসেবে ছিল। ১৯৭০ এর ডিসেম্বরে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে আমার পোস্টিং হওয়ার পর ওকে আমার ‘রানার’ বা দেহরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। একাত্তরের এপ্রিলে আমি যখন পাকিস্তানী জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করি তখন ও আমা্র সাথেই বিদ্রোহ করে। পরে আমরা খালেদ মোশাররফের সাথে যোগ দেই। তিনিই ক্রাক প্লাটুনে আমাদের রিক্রুট করেন। আমি ছিলাম এ প্লাটুনের অধিনায়ক কর্ণেল হায়দারের সেকেন্ড ইন কমান্ড। আনোয়ার তখনও আমার রানারের দায়িত্বে ছিল।

“স্যার উনি কীভাবে গুলি খেয়েছিলেন? আপনি জানেন?”
অনেক দূর থেকে যেন ‘প্রাচীন’ সৈনিকের কন্ঠ ভেসে এলো, হা জানি। ডিসেম্বরের দুই তারিখ আমরা ঢাকায় রেডিও অফিস আক্রমণ করি। ক্রাক প্লাটুনের এগারজনের একটি দল। নেতৃত্বে ছিলাম আমি। কিন্তু আমরা জানতাম না যে, ওই অফিসের ছাদে পাক বাহিনী স্নাইপারদের পাহাড়া বসিয়েছিল। প্রথম গ্রেনেড চার্জের পরই আমরা সে সব স্নাইপারের দূরপাল্লার রাইফেলের মুখে পড়ি। আমাদের কিছুই করার ছিল না। ইট ওয়াজ আ টোটালি ওয়ান সাইডেড কমব্যাট। শত্রু অনেক দূরে, নিরাপদ আড়াল থেকে গুলি ছুড়ছে, আমাদের কিছুই করার নেই। আমাদের সাত জন যোদ্ধা স্পটেই মারা যান। আনোয়ারও গুলি খায় তখন। ইনফ্যাক্ট আমাকে বাঁচানোর জন্য সে নিজে গুলিটি বরণ করেছিল। শেষ মূহুর্তে ঝাঁপ দিয়ে সে আমাকে আড়াল না করলে আপনারা আজ আমাকে এখানে দেখতেন না, আমি থাকতাম কয়েক টন মাটির নিচে।

‘স্যার, আপনার কি উনার ঠিকানা জানা আছে?”- আমরা রুদ্ধশ্বাসে জিজ্ঞেস করি।
“ হা, জানা আছে। যতোদিন আমরা পাকিস্তান আর্মিতে ছিলাম ততোদিন আমাদের সম্পর্ক ছিল খুব ফরমাল। রেগুলার আর্মিতে তাই থাকে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে এ সম্পর্ক অনেকটাই ইনফরমাল হয়ে যায় । জেন্টেলম্যান, যে কোন মুক্তির লড়াইয়ে সবাই এক হয়ে যায়। সেখানে কোন ভেদাভেদ থাকে না। অল আর ইন দা সেইম বোট ব্রাদার। যদিও আনোয়ার ঠিকই কিছুটা দূরত্ব রেখেই চলতো, তারপরও আমরা অনেকটাই ইনফরমাল হয়ে যাই। তখন একদিন আমরা দুজন নিজেদের ঠিকানা একজন আরেকজনকে দেই। কথা ছিল, যুদ্ধে আমাদের কেউ একজন মারা গেলে আরেকজন তাঁর বাড়িতে খবর পৌঁছে দেবে। তাই তাঁর ঠিকানা আমার জানা ।একটি ডায়েরিতে আমি তা লিখে রেখেছিলাম । একাত্তরের রক্ত ঝরা দিনগুলোর স্মৃতি হিসেবে সেটি আমি সযত্নে রেখে দিয়েছি।“

স্যার ঠিকানাটি দেবেন? আমরা তাঁকে সেখানে সমাহিত করতে চাই।
“অবশ্যই জেন্টেলম্যান, আপনারা যা করছেন আমি তার জন্য সালাম জানাই। আমি নিজেই যেতাম। কিন্তু চলৎশক্তি রহিত হয়ে যাওয়ায় পারছি না।“
কর্ণেল তৌফিকের কাছ থেকে পাওয়া ঠিকানায় দেখা গেলো মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদ্গঞ্জ উপজেলার ‘শোল্লা’ গ্রামে। সেখানে তাঁদের বাড়ি ‘মোল্লা বাড়ি’ নামে পরিচিত।
বৃদ্ধ সৈনিকের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসবো, এমন সময় তিনি বললেন, জেন্টেলম্যান একটু দাঁড়ান।

আমরা ঘুরে দাঁড়ালাম। তিনি বললেন, আপনাদের একজন কি আনোয়ারের লাশের ছবিটি নিয়ে আমার সামনে দাঁড়াবেন?
আমি অবাক হয়ে তাই করলাম। বুক বরাবর আনোয়ারের ছবি হাতে নিয়ে আমি দাঁড়াতেই কর্ণেল তৌফিকের হাত হুইল চেয়ারে বসা অবস্থাতেই কপালে উঠে গেলো।
একজন সৈনিক তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাকে সামরিক কায়দায় স্যালুট জানাচ্ছেন-------

চাঁদপুরের শোল্লা গ্রামে আমরা যখন পৌঁছলাম তখন পরদিন সকাল আটটার মতো বাজে। একরাশ ক্লান্তি নিয়ে আমরা মোল্লা বাড়ির খোঁজে নামলাম। বেশি খুঁজতে হলো না। বাড়িটি বেশ পরিচিত। বংশ পরম্পরায় এরা স্থানীয় জামে মসজিদের ঈমামের দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয় এক লোক আমাদের ওই বাড়ির মুরুব্বীর কাছে নিয়ে গেলেন। তিনিই এখন ঈমামতি করেন। বয়স প্রায় সত্তর। তাঁকে আনোয়ারের কথা জিজ্ঞেস করতেই তিনি কিছুটা অবাক হয়ে বললেন, ও তো আমার চাচাতো ভাই। আমার চেয়ে কয়েক বছরের ছোট। কিন্তু সেতো অনেক দিন থেকে নিখোঁজ। আপনারা তাঁর ব্যাপারে কী জানতে চান?

পুরো ব্যাপারটি খুলে বলতেই ঈমাম সাহেব ধপ করে একটি মোড়ায় বসে পড়লেন, তারপর পায়ের পাতার দিকে চোখ নামিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। যখন আমাদের দিকে তাকালেন তখন সে চোখগুলোয় তীব্র বিষাদ। তিনি বললেন, আহা, আমার ভাইটা কি মরার আগে পানি পেয়েছিল? আহা, আহা--- এবার তাঁর চোখ বাঁধ মানছে না।অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বললেন, যুদ্ধের কয়েক মাস পর ও গ্রামে এসেছিল।খুঁড়িয়ে হাঁটতো। যুদ্ধে নাকি গুলি খেয়েছিল। একাই থাকতো। তার বাবা-মা আগেই মারা গিয়েছিলেন। আর কোন ভাইবোনও ছিলো না। কিছুদিন পর ওর মধ্যে মাথা খারাপের লক্ষণ দেখা দেয়। তারপর একদিন হঠাৎ করে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও আমরা তার কোন খোঁজ পাইনি। এতদিন পর আপনারা------

বলতে বলতে তিনি দমকা কান্নার তোড়ে থেমে যান। এবারো অনেক কষ্টে সামলে নিয়ে তিনি বললেন, ভাই সাহেব, আপনারা আমার ভাই এর লাশ নিয়ে আসুন। আমি ওর মা-বাবার পাশে তাঁকে কবর দেয়ার ব্যবস্থা করবো।
সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে লাশ নিয়ে আবার শোল্লা গ্রামে পৌঁছালাম একদিন পর। তখন প্রায় দুপুর। আমার সাথে আছেন ইসমাইল ভাই আর ডাক্তার মেশকাত। সেখানে পৌঁছে খুব মন খারাপ হয়ে গেলো। জানাযায় এসেছেন খুব বেশি হলে পনের/বিশজন মানুষ! আহা! একজন বীর, যিনি জীবন বাজি রেখেছিলেন দেশ মাতৃকাকে মুক্ত করবেন বলে, কী নীরব প্রস্থান তাঁর!
লোক নেই, জন নেই, সরকারীভাবে স্বীকৃতি পাননি বলে স্থানীয় প্রশাসনের কোন উদ্যোগ নেই------

খুব মন খারাপ করে আমরা ঈমাম সাহেবের পেছনে জানাযায় দাঁড়ালাম। এমন সময় বেশ আওয়াজ করে ধুলি উড়িয়ে কয়েকটি গাড়ি ছুটে আসতে দেখা গেলো। আমরা একটু অবাক হয়ে, জানাযা পড়া বন্ধ করে সেদিকে তাকিয়ে রইলাম। গাড়ির আওয়াজে ঈমাম সাহেবের একামত শোনা যাবে না। আমাদের অবাক করে দিয়ে গাড়িগুলো জানাযার মাঠের সামনে এসে থামলো। দেখা গেলো সেগুলো আসলে ছোট্ট একটি মিলিটারি কনভয়। সবার সামনে থাকা জিপ থেকে লেফটেনেন্ট কর্ণেল পদমর্যাদার একজন অফিসার নেমে এলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি সৈনিক আনোয়ারের জানাযা?
আমরা অবাক হয়ে বললাম, হা, এটা তাঁর জানাযা।

অফিসার বললেন, কর্ণেল তৌফিক কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের জি ও সিকে পুরো ব্যাপারটি জানিয়েছেন। আনোয়ার ছিলেন রেগুলার আর্মির সৈনিক, এরপর তিনি আনুগত্য পরিবর্তন করে্ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তার মানে তখন তিনি বাংলাদেশ আর্মির সৈনিকে পরিণত হয়েছিলেন। তাই আমরা তাঁকে সামরিক কায়দায় সম্মান জানিয়ে বিদায় দিতে এসেছি।

তারপর আমাদের বিস্মিত চোখের সামনে আনোয়ারের লাশের খাটিয়ার সামনে একদল চৌকস সৈনিক সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়ালেন।

সবার আগে লেফটেনেন্ট কর্ণেল। একটু পর শোনা গেলো তাঁর ব্জ্র কন্ঠ “গার্ড সাবধান হবে—সা আ আ ব ধা আআ ন--- --

তারপর উচ্চারিত হলো, গার্ড সশস্ত্র সালাম দেবে--- সশস্ত্র অ অ অ সালাম-----
সাথে সাথে ঠকাঠক আওয়াজের সাথে তাল মিলিয়ে এক ফুটের মতো উপরে উঠে গেল সকল সম্মিলিত সামরিক পা এবং মূহুর্তে তাদের হাতের রাইফেলগুলো বুক বরাবর উঠে এলো।

বিউগলে বেজে উঠলো করুণ সুর, তা থামতেই উচ্চারিত হলো--- ফায়ার--- ফায়ার----
সাথে সাথে সামনে শুয়ে থাকা বীরের সম্মানে আকাশ বিদীর্ণ করে কয়েক রাউণ্ড গুলি ছোড়া হলো।

অকস্মাৎ সে গুলির শব্দে আশপাশের গাছ থেকে ডানা ঝাপটে উড়তে লাগলো কিছু নাম না জানা পাখি।
আমি সেই সব পাখির দিকে তাকিয়ে আছি, কিন্তু তাদের পরিস্কার দেখতে পারছি না, সব কিছু কেমন যেন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে।
চোখে মনে হয় কী যেন পড়েছে---------"

#মুক্তিযুদ্ধ #মুক্তিযোদ্ধা #রাজাকার #পাকিস্তান #গণহত্যা #বাংলাদেশেরইতিহাস #১৯৭১ #স্বাধীনতাযুদ্ধ #বীরবাঙালি #স্বাধীনতাসংগ্রাম #জাতীয়গৌরব #ইতিহাস #বীরত্ব #মুক্তিযুদ্ধেরগল্প #দেশপ্রেম #বাংলাদেশ #মুক্তিযুদ্ধ৭১ #গণহত্যারইতিহাস #মুক্তিযুদ্ধেরচেতনা

বড় সাহেব যখন আমার ব্লাউজের বোতাম খুলছিলেন, তখন আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কেমন যেন লোভাতুর চকচকে দৃষ্টিতে সে আমার ...
20/12/2024

বড় সাহেব যখন আমার ব্লাউজের বোতাম খুলছিলেন, তখন আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। কেমন যেন লোভাতুর চকচকে দৃষ্টিতে সে আমার শরীর দেখছে।

হয়তো আমার চোখে তাচ্ছিল্যের কোন ভাব ছিল,সম্ভবত ঠোঁটের কোনাটাও হাল্কা বেঁকে গিয়েছিল। কারণ সে হঠাত আমার দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলো।

আমি তাড়াতাড়ি ভয়ে কুঁকড়ে ওঠার ভান করে বুকের ওপর হাত গুটিয়ে আনলাম। সে কি বুঝলো কি জানি। এবার লোভাতুর চোখের সাথে যুক্ত হলো অশ্লীল হাসি। আমি ভয়ের ভান করে জিজ্ঞাসা করলাম,আমার সাথে কি করবেন বড় সাহেব? সে জিভ দিয়ে নিজের ঠোঁট চেটে বললো, ও তুম আভি দেখোগে।

যদিও আমি তাকিয়েই ছিলাম,কিন্তু আসলে আমি কিছুই দেখিনি। তাকে কোন বাধাও দেইনি। শুধু কিছুক্ষণ পর পর ব্যথায় শরীরটা কুঁকড়ে যাচ্ছিল,কিন্তু তাও চোখে পানি আসতে দেইনি। শুধু শরীরটাই দূষিত হচ্ছিল,কিন্তু মন ঠিকই জানতো,এই ঘরের ঠিক পেছনে এই মুহুর্তে সোহাগ লুকিয়ে আছে। এভাবে কতক্ষন কাটলো জানিনা। কতবার যে আমাকে দুষিত করলো তাও বলতে পারবো না। বড় সাহেব আমার চুলের মুঠি ধরে মেঝেতে আছড়ে ফেলার পর আমার ঘোর ভাঙে। সে শোয়ার কাপড় পড়ে ঘুমাতে গেল। রাতের খাবারের পর সে এক বোতল মদ খেয়েছে,এখন বেঘোরে ঘুমাবে।আমাকে দিয়ে তার আপাতত প্রয়োজন শেষ,তাই আমি কি করবো এটা নিয়ে সে চিন্তিত না। তাছাড়া সে জানে,ঘরের বাইরে একজন আর মাঠে দুইজন সেন্ট্রি আছে,তাই আমার পক্ষে পালানোও সম্ভব না। রক্তাক্ত আমি, ঘরের এক কোনায় বস্ত্রহীন অবস্থায় চুপচাপ বসে রইলাম। আধা ঘন্টা পর বড় সাহেব ওরফে মেজর ওয়াসিমের নাক ডাকার আওয়াজ পেলাম।

আমি বেলি, এখন যে ঘরটায় আমি আছি,সেটা আমার স্কুলের প্রিন্সিপালের অফিস ছিল। বর্তমানে পাকিস্তান সেনা ক্যাম্পের কমান্ডারের ঘর। অন্যান্য ক্লাসরুম গুলো সৈনিকদের ব্যারাক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি আর সোহাগ এই স্কুলে একই সাথে পড়তাম। এই স্কুলের প্রতিটা কোনা আমাদের মুখস্থ। এরপর কলেজ,আর এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও একসাথে পড়ি। সোহাগ আমার বাগদত্তা। গত এপ্রিলে আমাদের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার কারনে বিয়ে পিছানো হয়। আমরাও ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে আসি।কিন্তু গ্রামের অবস্থাও খারাপের দিকে যেতে থাকলে আমাদের পরিবার বর্ডার পার হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।

একরাতে সোহাগ আমার কাছ থেকে বিদায় নিতে আসে,মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেবে বলে। আমার তখন কষ্টে বুক ভেঙে আসছিল। আমিও জোর করি ওর সাথে যাওয়ার। সোহাগ যেন চমকে ওঠে,মাথা নেড়ে বারবার জানায়, এ সম্ভব না! পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কোন মেয়েদের ছেড়ে দিচ্ছেনা। তা সে যে ধর্মেরই হোক। আমি ওকে বললাম যে,আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবো না। ও আমাকে আশা দিচ্ছিল, স্বাধীন দেশে আমাদের বিয়ে হবে। আমাদের সুন্দর একটা সংসার হবে। আমি হঠাত প্রশ্ন করে বসলাম,যদি তুমি না ফিরে আসো,তাহলে এই স্বাধীন দেশে আমি কি নিয়ে বেঁচে থাকবো? সোহাগ চুপ হয়ে যায়, আমি জানতাম ওর কাছে এই প্রশ্নের উত্তর নেই।

আমি আরো আধাঘণ্টা ঝিম মেরে পড়ে রইলাম।এরপর আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালাম। ব্যথায় শরীর ভেঙে যাচ্ছে। দাঁড়াতেও পারছিনা ঠিকমত। আস্তে আস্তে হেটে রুমের কোনায় রাখা, ঝোলা গুড়ের কলসির ভিতর হাত ঢুকিয়ে চাকুটা বের করে আনলাম। বুদ্ধিটা অবশ্য বারী ভাইয়ের। বারী ভাই হচ্ছেন আমাদের এলাকার মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার। আমাদের গ্রামেরই ছেলে।আর সোহাগ তার সেকেন্ড ইন কমান্ড। সেই রাতে সোহাগের সাথে পালিয়ে যখন মুক্তিক্যাম্পে এলাম,বারী ভাই উচ্ছসিত হয়ে আমাকে মুক্তিবাহিনীতে রিক্রুট করে নিলেন। তিনি আমাকে বললেন,বিশ্বাস কর বেলি,তোকে দেখে যে আমার কি পরিমান শ্রদ্ধা হচ্ছে! তোর এত সাহস!!! আমি আসলেই তোকে নিয়ে খুব গর্ববোধ করছি রে,তুই আমার গ্রামের মেয়ে! সবাই আমাদের ভুলে গেলেও তোকে সারা দেশ চিনবে!

বারী ভাইয়ের কথায়,মনোবল অনেক বেড়ে গেল। আর সাথে সোহাগ তো আছেই! এভাবে বেশ কিছুদিন কাটলো ট্রেনিং নিয়ে। তারপর যেদিন স্কুলে বানানো ক্যাম্পে অভিযান চালানোর কথা হচ্ছিল,সেদিন সবাই বেশ চিন্তিত ছিল। ক্যাম্পে ঢোকাটা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল,কারণ এই ক্যাম্পে সেনাসদস্যদের সংখ্যা অনেক বেশি। সবার আলোচনা শুনে আমি প্রস্তাব দিলাম যে আমি তাদের ভেতরে যাওয়ার রাস্তা করে দেব। সোহাগ বুঝলো আমি কি বলতে চাইছি। সে চমকে উঠে আমার আমার হাত চেপে ধরলো। জিজ্ঞাসা করলো,তুই কি বলছিস বুঝতে পারছিস বেলি? আমি খুব ঠাণ্ডা গলায় জিজ্ঞাসা করলাম,আমাকে যেতে দিবি না? আমাদের জন্য? আমাদের দেশের জন্য? ওর চোখে শুধু দুফোঁটা পানি দেখেছিলাম। তবে সেটা গড়িয়ে পড়ার আগেই ও মুছে ফেললো। হাসিমুখে বললো,আমাদের ভবিষ্যতেও জন্যও তো!

বারীভাই এতক্ষন মাথা নিচু করে বসে ছিলেন। এরপর আস্তে আস্তে আমাদের প্ল্যান বুঝিয়ে দিলেন। চাকুটা বের করে আমি শাড়ি দিয়ে ভালোভাবে গুড়গুলো পরিষ্কার করে নিলাম। এরপর বড় সাহেবের খাটের পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। আশ্চর্য, আমার কোন ভয় লাগছে না। শুধু পাশের বাড়ির ছয়বছরের মায়ারানীর খুবলে খাওয়া রক্তাক্ত দেহটার কথা মনে পড়ছে। বড় সাহেবের নাকি কচি মেয়ে পছন্দ,তাই ছয় বছরের বাচ্চাকেও ছাড়েনি। এইতো স্কুলের সামনে পুকুর পাড়ে ওর লাশটা পড়েছিল কেউ নিতে আসেনি। দুই দিনের দিন হয়তো শেয়াল এসে নিয়ে যায়। আমিও এই পুকুর পার দিয়ে গুড় বিক্রির নাম করে হেটে যাচ্ছিলাম। পাহারারত সৈনিক যখন আমাকে ডেকে জেরা করছিল,তখনই বড় সাহেব আমাকে ডেকে পাঠান। আমিও তাই চাইছিলাম,সেজন্যই তার দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য উঁচু গলায় কথা বলছিলাম। ক্যাম্প কমান্ডার ভাবছিল, আমি বাকিদের মত অমত করবো, হাতে পায়ে ধরে প্রান ভিক্ষা চাইবো। কিন্তু আমি উল্টা রাস্তার মেয়েদের মত বিচিত্র অংগভংগি করে তার মনোরঞ্জনের চেষ্টা করতে লাগলাম। কথায় কথায় গুড়ের হাড়ি থেকে একটু গুড়ও তার মুখে দিয়ে দিলাম। তার লোভী চোখ আমার এলোভাবে পড়া পাতলা সুতি শাড়ি ভেদ করে আমার শরীর উপভোগ করতে লাগলো। আমাকে তার রুমের ভেতরে নিতে বেশিক্ষন লাগলো না।

নাহ, চোখ বন্ধ করিনি। বরং খোলা চোখেই বড়সাহেবের গলায় অবলীলায় চাকু চালিয়ে দিলাম। সে বিষ্ফোরিত চোখে চেয়ে দেখলো আমার ঠোঁটের কোনে একটুকরো হাসি। চিৎকার করা তো দূরে থাক,তার গলা থেকে ঘরঘর জাতীয় আওয়াজ ছাড়া আর কোন আওয়াজ বের হলো না। কিছুক্ষন জবাই করা মুরগীর মত খাটে দাপাদাপি করলো,তারপর সব চুপ। একেবারেই চুপ।আমি অবশ্য দাপাদাপির আওয়াজে চিন্তিত হলাম না।কারণ দরজার বাইরের সেন্ট্রি হয়ত ভাবছে,সাহেব লীলা খেলায় ব্যস্ত,তাই এত শব্দ। আমার শরীর রক্তে মাখামাখি। কোন রকম শাড়িটা গায়ে ফেলে,রক্ত মুছে আস্তে করে দরজা খুললাম। সেন্ট্রিটা বোধহয় ঘুমিয়ে ছিল। ধরমর করে উঠে বসতে আমি তাকে বললাম যে, সাহেব তাকে ভেতরে ডাকে। তাকে ভেতরে নেয়ার পর বাকি কাজটা আর কঠিন কিছু ছিল না।

এলোমেলো শাড়ি পড়ে এবার সৈনিক ব্যারাকের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। একটা রুমে কিছু সৈন্য তাস খেলছে।আমি তাদের সামনে এমনভাবে দাঁড়ালাম, যেন ভুল করে চলে এসেছি। তারা এম্নিতেই মনোরঞ্জনে ব্যস্ত ছিল।আমি তাদের সামনে যাওয়াতে তারা যেন আরেকটা খোরাক পেয়ে গেল। একদল হায়েনা যেমন অন্য পশুর ঝুটা খাবারের জন্য ওত পেতে থাকে,ওরাও তেমন যেন ওত পেতে ছিল। চোখের পলকে আমি আবার বিবস্ত্র হলাম।যে যেভাবে পারছে আমাকে ছুড়ে, ছিড়ে, খুবলে খাচ্ছে।আমি চোখের সামনে অন্ধকার দেখতে পাচ্ছিলাম।মুহুর্তেই জ্ঞান হারাবো।
এরমধ্যেই শুনলাম সেই কাঙ্ক্ষিত শব্দ,"সকাল"----আমাদের কোডওয়ার্ড। প্ল্যান অনুযায়ী এই শব্দ শোনার পর আমার প্রথম কাজ হবে মেঝেতে শুয়ে পড়া। তারপর গড়িয়ে গড়িয়ে দরজা দিয়ে বের হয়ে যাওয়া। আমি সাথে সাথেই মেঝেতে শুয়ে পড়লাম।কিন্তু একচুল নড়তে পারলাম না। ক্লান্তিতে শরীর যেন আর চলছে না। মুক্তিবাহিনীর অস্ত্র যেন ঘরের ভেতরে আগুনের ফুল্কি তুলছে। বুলেটের আওয়াজে সারা স্কুলঘর কেঁপে কেঁপে উঠছে। ঘুমন্ত সৈনিকদের ব্যারাকে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে,ঠিক যেমন ওরা সাধারণ নিরীহ মানুষগুলোর ঘরে দিয়েছে। তবে যারা বেড়িয়ে আসার চেষ্টা করছিল,তাদের জন্য বাড়তি হিসেবে গ্রেনেড ছোড়া হয়।

হঠাত দেখি দরজার বাইরে যেন সূর্য্য উঠছে আর সোহাগ আমাকে হাত বাড়িয়ে ডাকছে। আমি রক্তাক্ত শাড়িটা কুড়িয়ে, ধীরে ধীরে দরজার দিকে গড়িয়ে গড়িয়ে আগাতে লাগলাম। বাইরে এসে বুঝলাম আলোটা সূর্যের ছিলনা,ব্যারাকের আগুনের ছিল। আমি কাঁপতে কাঁপতে উঠে দাঁড়ালাম । আমার পরবর্তী গন্তব্য পুকুরের দক্ষিণ পাশের তালগাছের নিচের ঝোপ থেকে ১০০ গজ পূর্বে। যেতে আমাকে হবেই। আমাকে যেতেই হবে! টলমলে পায়ে হোঁচট খেতে খেতে হাটতে শুরু করলাম। ক্লান্তিতে,কষ্টে চোখ বারবার বুঁজে আসছে। টলতে টলতে পড়েই যাচ্ছিলাম,কোথাথেকে যেন একজোড়া হাত আমাকে ধরে ফেলে। চোখ বুঁজেও বুঝলাম,এ সোহাগ ছাড়া আর কেউ না।একরাশ কান্না যেন গলায় দলা পাকিয়ে গেল। আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, দেখেছিস,বলেছিলাম না পারবো?
সোহাগ আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো,আমরা পেরেছি রে! আমরা একসাথে পেরেছি!!!

আমি সোহাগের কাধে মাথা এলিয়ে দেই। ইশ, ভালোবাসার স্পর্শে কি আনন্দ!!!

-সূর্যোদয়ের_হাতছানি
-জেনিফার আরেফীন তিলোত্তমা

#মুক্তিযুদ্ধ #মুক্তিযোদ্ধা #বীরাঙ্গনা #রাজাকার #পাকিস্তান #গণহত্যা #বাংলাদেশেরইতিহাস #১৯৭১ #স্বাধীনতাযুদ্ধ #বীরবাঙালি #স্বাধীনতাসংগ্রাম #জাতীয়গৌরব #ইতিহাস #বীরত্ব #মুক্তিযুদ্ধেরগল্প #দেশপ্রেম #বাংলাদেশ #মুক্তিযুদ্ধ৭১ #গণহত্যারইতিহাস #মুক্তিযুদ্ধেরচেতনা

11/08/2022
05/08/2022

তবু মনে রেখো
31/07/2022

তবু মনে রেখো

সব সময়ের ভীষণ প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অদিতি মহসিন আপা।জন্মদিনে অনেক শুভেচ্ছা এবং ভালবাসা ❤️❤️
25/07/2022

সব সময়ের ভীষণ প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অদিতি মহসিন আপা।
জন্মদিনে অনেক শুভেচ্ছা এবং ভালবাসা ❤️❤️

সেই যুগে হেলমেট টেস্টিং !!!
13/07/2022

সেই যুগে হেলমেট টেস্টিং !!!

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে মা, বোন ও দুলাভাই সহ অন্যরা #কিছু_দুর্লভ_ছবি
13/07/2022

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে মা, বোন ও দুলাভাই সহ অন্যরা
#কিছু_দুর্লভ_ছবি

Address

Nabab Sirajuddaula Road
Kushtia
7000

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইসলামিয়া কলেজ, কুষ্টিয়া - Islamia College, Kushtia posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share