ইতিহাস
অতুলনীয় শিক্ষাবিদ মরহুম প্রফেসর শাফায়েত সিদ্দিকীর মনের অফুরন্ত বাসনা ছিল রামগঞ্জে একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ও বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিদের নিয়ে পরামর্শ করলেন এবং এগিয়ে গেলেন তাঁর স্বপ্ন প্রতিষ্ঠার দিকে। প্রতিষ্ঠিত হলো ১ জুলাই ১৯৬৭ সনে রামগঞ্জ কলেজ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানটিকে স্বার্থক করে তোলার জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শুরু হলো কঠোর সাধনা। শিক্ষক
ও শিক্ষার্থীরা লেখা-পড়ার পাশাপাশি দৈহিক শ্রমও দিতে লাগলেন। সবাই মিলে মাটি কাটা, কাথায় করে সেই মাটি আনা, গ্রামে গ্রামে ঘুরে গাছ ও বাঁশ সংগ্রহ, বাজার, ঘাট, রেজেষ্ট্রি অফিস প্রভৃতি স্থান থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে তৈরী হতে লাগলো টিন শেড ঘর। শিক্ষকদের থাকার জন্য তৈরী হল আবাসন। ছাত্রদের থাকার জন্য তৈরী হল লম্বা টিন শেড নির্মিত ছাত্রাবাস। দুর-দুরান্ত থেকে আসতে লাগলো ছাত্র-ছাত্রী। কলেজের ফলাফল বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে লাগলো ঈর্ষনীয়। মরহুম জনাব মোঃ মাহবুব রববানী কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করার পর কলেজের সামগ্রীক অবস্থার উন্নতি ঘটতে লাগলো। তৎকালীন সময়ে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, কলেজের গভর্নিং বডির সদস্যগণ, শিক্ষকমন্ডলী, কর্মচারীবৃন্দ, ছাত্র-ছাত্রীদের সবাইকে রামগঞ্জ কলেজ চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
অতঃপর ১৯৮৫ সনের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেন মুহাম্মদ এরশাদ কলেজটিকে জাতীয়করণ করেন। ১৯৮৬ সনের ১ ফেব্রুয়ারী থেকে কলেজটির সরকারি কার্যক্রম শুরু হয়। রামগঞ্জ সরকারি কলেজ নামে কলেজটির যাত্রা শুরু হল। ক্রমান্বয়ে কলেজটি বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। নির্মিত হয়েছে ত্রিতল একাডেমিক ভবন, দুটি দ্বিতল একাডেমিক ভবন, নতুন বিজ্ঞান ভবন, দ্বিতল প্রশাসনিক ভবন, একটি ইন্টারনেট সংযোগসহ অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, আধুনিক বিজ্ঞানাগার, আকর্ষণীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন, বি.এন.সি.সি যুব রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউটস রয়েছে। ৯.৭৩ একর ভূমির উপর কলেজটি প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক পরীক্ষায় এ কলেজ ঈষণীয় সাফল্য অর্জন করছে। এ কলেজ থেকে পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীরা দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং নামকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদে কর্মরত আছেন। আশা করা যায় এই সরকারি কলেজটি ক্রমান্বয়ে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।