08/08/2025
অভিনন্দন । কৃতী ছাত্রী
আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের অদম্য এক কৃতি শিক্ষার্থী সানজিদা ইলিয়াছ
অধ্যাপক প্রদীপ কুমার নাথ
আজকাল পত্র-পত্রিকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অদম্য মেধাবীদের জীবন-যুদ্ধার বাস্তব কাহিনী কথা শুনা যায়। এই কাহিনী পরবর্তী প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষণীয় ও অনুস্মরণীয়।
শিক্ষক পরিবারে বেড়ে উঠা অদম্য মেধাবীকে নিয়ে আমার লেখনি। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের প্রভাষক। তিনি হচ্ছেন আমাদের প্রাণপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন মেধাবী এক কৃতি ছাত্রী সানজিদা ইলিয়াছ সিমোন। সে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের সংগ্রামী শিক্ষা- জীবন কেটেছে লোহাগাড়ায়। সে আমাদের সহকর্মী আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজের গণিত বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইলিয়াছের বড় মেয়ে।
সে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলা সদরের আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়। শিক্ষা জীবনে সংগ্রামের নানা বাঁক পেরিয়ে সে ২০১২ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে জিপিএ-৫ (এ প্লাস) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। তারপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসী বিষয়ে অনার্স- মাস্টার্স শেষ করে। বর্তমানে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফর্মেসী বিভাগে প্রভাষক পদে কর্মরত আছে। তার কাছে অদম্য হওয়ার গল্প জানতে চাওয়া হলে বলে এভাবে .......
আমি শিক্ষক পরিবারের মেয়ে। আমার বাবা একজন শিক্ষক। আমার চাচারাও শিক্ষক। এমনকি আমার দাদাও শিক্ষক ছিলেন। এখন আমিও শিক্ষক। আমাদের পরিবারে ২ বোন ও ২ ভাই। ছোট বোন মহসিন কলেজ, এক ভাই চুয়েটে ও ছোট ভাই টেক্সটাইলে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্র। আমার পথচলার দিশা দিয়েছিলেন আমার প্রিয় শিক্ষকগণ। চেষ্টা করলে পারা যাবে না এমন কোন কাজ পৃথিবীতে নেই। ইচ্ছা শক্তিই সব সম্ভব। শ্রেণি কক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠ গ্রহণ এবং নিয়মিত অনুশীলনে মেধাবী শিক্ষার্থী হওয়া কোন ব্যাপারই নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোন ফ্যাক্টর নয়, ফ্যাক্টর হচ্ছে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি ও অনুশীলন করছি কিনা। সাথে থাকতে হবে ভীষণ আত্মবিশ্বাস। লোহাগাড়া নজুমুন্নিছা আদর্শ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি বৃত্তি অর্জন করি। তারপর লোহাগাড়ার দক্ষিণ সাতকানিয়া গোলামবারী মডেল উচ্চ থেকে ২০১০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (এ প্লাস) এবং আলহাজ্ব মোস্তফিজুর রহমান কলেজে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১২ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (এ প্লাস) অর্জন করি। কলেজে পড়ুয়াকালীন সময়ে আমি একদিনও ক্লাস মিস করিনি। প্রতিদিন কলেজে গিয়েছি, ক্লাস করেছি। কলেজের সমৃদ্ধ ল্যাবে ব্যবহারিক ক্লাস করেছি। নিয়মিত পড়াশুনার খবর নিতেন আমার বাবাসহ শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা। বিশেষ করে জহির স্যার, সালা উদ্দীন স্যার, ছেতার স্যার, আলম স্যার। আর সবসময় পড়ালেখায় ব্যস্ত রাখতেন বিজ্ঞান বিভাগের শোভন স্যার, প্রদীপ স্যার, মতিন স্যার, টুটুল স্যার, বোরহান স্যার, আবদুল্লাহ স্যার।
এ জন্য আমি স্যারদেরকে স্যালুট জানাই। স্যারদের কাছে আজীবন আমি ঋণী। তারপর ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগ থেকে বি. ফার্ম ও ২০২১ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগ থেকে এম. ফার্ম ডিগ্রী কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এ ফার্মেসী বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করে আমার কর্মজীবন শুরু হয়। বর্তমানে আমি চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসী বিভাগে প্রভাষক পদে কর্মরত আছি। এই পর্যন্ত আসার পিছনে আমার পরিবারের পাশাপাশি শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণের ভূমিকা ছিল অনন্য।
এই কৃতি শিক্ষার্থী পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'কখনো সাহস ও মনোবল হারানো যাবে না। সকল বাধা পেরিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খারাপ না। নিয়মিত শ্রেণি কক্ষে উপস্থিত থেকে মনযোগ সহকারে পাঠ গ্রহণ ও নিয়মিত পড়াশুনা করলেই মেধার স্বাক্ষর রাখা সম্ভব।
আমরা কলেজ পরিবার তার প্রতি গর্বিত।