19/05/2026
এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের জীবনে একটা বড়সড় অবসর আসে। দীর্ঘদিনের পড়াশোনার চাপমুক্ত হয়ে এই সময়টাতে তারা একটু বেশিই স্বাধীন বোধ করে। তবে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে এই দীর্ঘ অবসর অনেক সময়ই অলসতা, অতিরিক্ত ডিভাইস আসক্তি কিংবা ভুল আড্ডায় জড়িয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সন্তান যেন বিপথে না গিয়ে এই মূল্যবান সময়টাকে নিজের ভবিষ্যতের ভিত গড়ায় কাজে লাগাতে পারে, সে বিষয়ে অভিভাবক হিসেবে আপনার ভূমিকা অপরিসীম। এই সময়টাতে তাকে যে ধরনের দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করতে পারেন, তার একটি গোছানো গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো:
১. প্রযুক্তিগত দক্ষতা (Tech Skills)
বর্তমান যুগ প্রযুক্তির। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই কিছু বেসিক টেক স্কিল জানা থাকলে আপনার সন্তান অন্যদের চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে থাকবে।
বেসিক কম্পিউটার ও অফিস অ্যাপ্লিকেশন: MS Word, Excel, PowerPoint এবং টাইপিং স্পিড বাড়ানো। এটি কলেজের অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে দারুণ কাজে দেবে।
গ্রাফিক ডিজাইন বা ভিডিও এডিটিং: ক্যানভা (Canva), ফটোশপ বা ক্যাপকাটের (CapCut) মতো টুলস দিয়ে বেসিক ডিজাইন এবং এডিটিং শেখা যেতে পারে। এটি সৃজনশীলতা বাড়ায়।
প্রোগ্রামিং বা কোডিং: সন্তানের যদি আইটিতে আগ্রহ থাকে, তবে পাইথন (Python) বা এইচটিএমএল (HTML) এর মতো বেসিক কোডিং শেখা শুরু করতে পারে।
২. আর্থিক ও জীবনমুখী দক্ষতা (Life Skills)
বড় হওয়ার সাথে সাথে বাস্তব জীবনের কিছু দক্ষতা থাকা অত্যন্ত জরুরি, যা সাধারণ পাঠ্যবইয়ে শেখানো হয় না।
আর্থিক সচেতনতা (Financial Literacy): বাজেট করা, টাকা জমানো এবং সীমিত খরচে চলার অভ্যাস তৈরি করা।
ভলান্টিয়ারিং বা সামাজিক কাজ: কোনো রক্তদাতার সংগঠন, স্কাউট, বা স্থানীয় সামাজিক ক্লাবের সাথে যুক্ত হওয়া। এতে মানুষের সাথে মেশার ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী (Leadership Skills) তৈরি হয়।
অন্যান্য সাধারণ দক্ষতা: সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো বা ড্রাইভিং শেখা।
অভিভাবক হিসেবে আপনার করণীয় কী?
সরাসরি বাধা না দিয়ে বিকল্প দিন: সন্তানকে "আড্ডা দিও না" বা "বন্ধুদের সাথে মিশো না" বলে সরাসরি শাসন করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তার চেয়ে বরং তাকে বলুন, "তুমি আড্ডাও দাও, পাশাপাশি এই কোর্সটাও করো।"
পছন্দকে প্রাধান্য দিন: জোর করে নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেবেন না। সে কোডিং শিখবে, নাকি ছবি আঁকা বা কোনো ভাষা শিখবে—সেটি তার আগ্রহের ওপর ছেড়ে দিন।
অনলাইন কোর্সের সুবিধা নিন