30/10/2025
ডায়েরি থেকে - আরিশ
লেখক: Silent Narrator
আজ লিখছি, হয়তো শেষবারের মতো।
আমার নাম আরিশ, বয়স ২৮। সদ্য গ্রাজুয়েশন শেষ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ সেমিস্টারে আমি আমার সবচেয়ে কাছের মানুষটাকে বিয়ে করেছি, আমার বেস্টফ্রেন্ডকে। তখন মনে হয়েছিল, ভালোবাসা থাকলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা কোনো বইয়ের মতো হয় না।
বিয়ের পরই জীবনের চাপ আসতে শুরু করল। ক্যারিয়ার গঠনের চিন্তা, পরিবারের দায়িত্ব, প্রতিদিনের ব্যস্ততা, সব মিলিয়ে আমি চাপের তলায় দম ফেলার মতো হয়ে যাই। আমি ছুটছিলাম, চেষ্টা করছিলাম। শুধু এই একটাই আশা ছিল - আমার স্ত্রীকে সুখে রাখতে পারব, তার সব ইচ্ছে পূরণ করতে পারব।
কিন্তু আমি পারিনি। আমি চাইতাম, দিনের সব পরিশ্রমের পরে তার বুকে মাথা রেখে কিছু সময় শান্তিতে কাটাতে। কিন্তু সে সেটা চায়নি। যখনই আমি তাকে কাছে আনতে চাইতাম, ছোট ছোট ঝগড়া লেগে যেত। কখনো কোনো কথা, কখনো সময়, কখনো আমার অসাবধানতার জন্য। একবার ঠিক হয়ে যেত, আবার নতুন সমস্যা। আমি তাকে কাছে রাখতে পারিনি।
আমি অনেক সময় তাকে গালিগালাজ করতাম, যা মোটেও ঠিক ছিল না। কিন্তু করতাম, কারণ মাঝে মাঝে আমার এক্সপেক্টেশন তার থেকে একটু বেশি থাকত। সেই এক্সপেক্টেশনগুলো একটার পর একটা ভেঙ্গে যেত, আর তখন আমার সেন্স ঠিক থাকত না। আমি অনেক খারাপভাবে গালাগালি করতাম। তারপরও আমি অনুতপ্ত হতাম। আমি চাইনি আমাদের বিচ্ছেদ হোক। আমি সবসময় চেয়েছি তাকে আমার সাথে রাখতে, তার বুকে মাথা রেখে জীবন কাটাতে। কিন্তু নিয়তি আজ আমাদের কোথায় নিয়ে এসেছে, সেটা আমার হাতের বাইরে। সেই চাওয়াটাই আজ আমাদের বিচ্ছেদের কারণ, আর তার চোখে আমি একজন ভিলেন।
তিনটি বছর চেষ্টা করেও আমি তাকে রাখতে পারিনি। আমি জানি, তার কাছে আমি ব্যর্থ। আমি নিজেও নিজের প্রতি দোষবোধ অনুভব করি। আমি চাইতাম, আমাদের ভালোবাসা ধরে থাকুক। কিন্তু ভালোবাসা সবসময় যথেষ্ট নয়।
আমার ভালোবাসা সত্যি ছিল, কিন্তু সেটির যথেষ্ট শক্তি ছিল না। জীবনের এই বাস্তবতা শিখিয়েছে - সব ভালোবাসা হৃদয়ে বেঁচে থাকে, কিন্তু বাস্তবে সবকিছু সহজ হয় না।
শিক্ষণীয় বিষয়: জীবন ও সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাইতে পারি, আমরা আশা করতে পারি, কিন্তু প্রত্যাশা যদি বাস্তবতার সীমার বাইরে চলে যায়, তখন ক্ষতি হয় - নিজেরও, অন্যেরও। ভালোবাসা যথেষ্ট নয়, একে অপরকে বোঝাপড়া, সহমর্মিতা এবং বাস্তবতার স্বীকৃতিও দরকার। সময়মতো স্বীকার করা, সীমা জানা এবং নিজের জায়গায় দাঁড়ানো - এইগুলোই পারে সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে।