13/04/2014
আজ পহেলা বৈশাখ বাঙালির উৎসবের দিন বাঙলা বছরকে অভিবাদন
বাঙালির প্রাণের আর মনের মিলন ঘটার দিন৷বাঙালি বাংলা ১৪২১ সালকে বরণ করে নিচ্ছে সব বিভেদ, জরা আর দুঃখকে ভুলে৷পহেলা বৈশাখ বাঙালির উৎসবের দিন৷বাঙলা বছরকে অভিবাদন জানানোর দিন৷এদিন গোটা বাঙালি আলোড়িত হয়,আন্দোলিত হয়৷রবীন্দ্রনাথ বলেন, 'প্রতিদিন মানুষ ক্ষুদ্র, দীন, একাকী৷কিন্তু উৎসবের দিনে মানুষ বৃহৎ,সে সমস্ত মানুষের সঙ্গে একত্র হইয়া বৃহৎ,সেদিন সমস্ত মনুষ্যত্বের শক্তি অনুভব করিয়া বৃহৎ।'সত্যই মানুষ নির্মল আনন্দ এবং সামাজিক মিলনের মধ্যদিয়ে বড় হয়৷প্রসারিত হয় তারা দৃষ্টির দিগন্ত।এই বড় হওয়া সার্থক হয়ে ওঠে তখনই,যখন তা ব্যাপৃত হয় জীবন জুড়ে৷কিন্তু আমাদের বাস্তবতা! অনেকে বলেন,অনেকটাই ভিন্ন রকমের।উৎসবের ঔদার্যকে আমরা উৎসব শেষে প্রায়শ ভুলে যাই৷ দৈন্যের মাঝে আমরা তাকে হারিয়ে ফেলি৷যে কোনো উৎসবে বাঙালি অভিন্ন হয়ে ওঠে, আবার উৎসব শেষেই বিভেদ ও বিচ্ছেদ৷দূরে চলে যায় একে অপরের কাছ থেকে৷পৃথিবীর প্রায় সবদেশে,সব অঞ্চলে নববর্ষ পালনের রেওয়াজ আছে৷একেক দেশে একেক রীতি৷বসন্তকালে ইংরেজি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চের ১৯ তারিখের যেকোনো দিন হতে পারে এই নববর্ষ৷আমাদের বাংলা নববর্ষ আমরা পালন করি একদিন৷ওই একদিন প্রাণের সমস্ত আবেগ দিয়ে আমরা মেতে উঠি উদযাপনে৷একালে এই দেশে শহর এবং গ্রামের আয়োজন ও আন্তরিকতায় বেশ প্রভেদ ৷শহরাঞ্চলে খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠে পাট ভাঙ্গা পাঞ্জাবি, ফতুয়া পরে ছেলেরা এবং মেয়েরা লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরে বেরিয়ে পড়েন ৷তারা ছুটেন বৈশাখী মেলার দিকে ৷সেখানে গিয়ে ইলিশ ভাজা দিয়ে পান্তা খেয়ে একদিনের জন্য বাঙালি হওয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা চলে অনেক ক্ষেত্রে ৷ পক্ষান্তরে, পল্লী বাংলায়, এখনও ধলপহরে মানুষ জেগে ওঠেন কাছে কিংবা দূরে কোথাও মেলার ঢাকের শব্দে ৷গ্রামের মানুষ এই দিন আনন্দ করেন ৷বড়রা ছোটদের আশীর্বাদ করেন ৷ছেলেমেয়েরা চাচা, মামা, খালা, খালু এবং বড় ভাইবোনদের কাছ থেকে পরবি (উৎসব উপলক্ষ্যে উপহার) পেয়ে থাকে, তা যত সামান্যই হউক না কেন ৷উৎসবের ভেতর দিয়ে মানুষ ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ হয়, এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই ৷পহেলা বৈশাখে মানুষের যে বৃহৎ সত্তা জাগরিত হয়, যে সম্প্রসারিত চেতনার উন্মেষ ঘটে ও জেগে ওঠে যে মানবিক মূল্যবোধ, প্রতিদিনের ব্যবহারিক জীবনে তার প্রতিফলন থাকা চাই৷