26/11/2018
হে আদম সন্তান! যতক্ষণ আমাকে তুমি ডাকতে থাকবে এবং আমার হতে (ক্ষমা পাওয়ার) আশায় থাকবে, তোমার গুনাহ যত অধিক হোক, তোমাকে আমি ক্ষমা করব, এতে কোন পরওয়া করব না
সূরা শুরা ২৫. নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন। তাদের পাপমোচন করেন। তোমরা যা করো, তিনি তা সবই জানেন। ২৬. বিশ্বাসী ও সৎকর্মশীলদের ডাকে তিনি সবসময় সাড়া দেন। তাদেরকে বিশেষভাবে অনুগৃহীত করেন। অপরপক্ষে সত্য অস্বীকারকারীদের জন্যে অপেক্ষা করছে কঠিন আজাব।
সূরা মুমিন ৬০. তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি সাড়া দেবো (দোয়া কবুল করব)। যারা অতি-অহমিকায় আমার ইবাদতে বিমুখ, তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।
(আল আনআম - ৮২)
যারা ঈমান আনে এবং স্বীয় বিশ্বাসকে শেরেকীর সাথে মিশ্রিত করে না, তাদের জন্যেই শান্তি এবং তারাই সুপথগামী।
সূরা মুমিন ৪১-৪৪. ‘হে আমার সম্প্রদায়! অবাক কাণ্ড! আমি তোমাদের ডাকছি মুক্তির দিকে আর তোমরা আমাকে ডাকছ জাহান্নামের দিকে! তোমরা আমাকে বলছ আল্লাহর (একত্বকে) অস্বীকার করতে? আর যার সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই, তাকে আল্লাহর সাথে শরিক করতে? আমি এখনো তোমাদের আহ্বান করছি মহাপরাক্রমশালী, অতীব ক্ষমাশীল আল্লাহকে বিশ্বাস করতে। আমি সন্দেহাতীতভাবে তোমাদের বলছি, তোমরা যে উপাস্যকে ডাকতে বলছ, দুনিয়া বা আখেরাতে তার কিছুই করার ক্ষমতা নেই। আমরা সবাই আল্লাহর কাছে ফিরে যাব। আর সীমালঙ্ঘনকারীরা জাহান্নামে স্থান পাবে। হে আমার সম্প্রদায়! আমার কথাগুলো শিগগিরই তোমরা স্মরণ করবে। আর আমি তো আমার সবকিছু আল্লাহতে সমর্পণ করেছি। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখেন।’
সূরা মুমিন ৪৫. আল্লাহ তাকে ওদের সকল চক্রান্ত থেকে রক্ষা করলেন। আর ফেরাউনের সম্প্রদায় কঠিন আজাবে পরিবেষ্টিত হলো। ৪৬. (রসুলরা) সকাল-সন্ধ্যায় (অর্থাৎ প্রতিদিন যে) আগুনের শাস্তি (সম্পর্কে সতর্ক করেছে তা-ই) হবে ওদের কপালের লিখন। মহাবিচার দিবসে ফেরেশতাদের বলা হবে, ‘ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়কে নিক্ষেপ করো কঠিন আজাবে।’
গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
অধ্যায়ঃ ৫০। তাওবাহ্ (كتاب التوبة)
হাদিস নম্বরঃ ৬৮৪৫
১. তাওবার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও তার মাধ্যমে মুক্তি লাভ করা
৬৮৪৫-(১/২৬৭৫) সুওয়াইদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ..... আবু হুরাইরাহ (রাযিঃ) এর সানাদে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ রববুল আলামীন ইরশাদ করেছেনঃ আমার উপর বান্দার ধারণা অনুযায়ী আমি তার সাথে আছি। সে যেখানেই আমাকে স্মরণ করে আমি তার সাথে আছি। আল্লাহর কসম, শূন্য মাঠে তোমাদের কেউ হারানো প্রাণী পাওয়ার পর যে আনন্দিত হয় আল্লাহ তা’আলা বান্দার তাওবার কারণে এর চেয়েও বেশি আনন্দিত হন। যদি কেউ একবিঘত সমান আমার দিকে অগ্রসর হয় তাহলে আমি তার দিকে একহাত অগ্রসর হই। যদি কেউ একহাত সমান আমার প্রতি অগ্রসর হয়, তাহলে আমি একগজ সমান তার প্রতি অগ্রসর হই। যদি কেউ আমার দিকে পায়ে হেঁটে আসে তবে আমি তার দিকে দৌড়ে আসি। (ইসলামিক ) ফাউন্ডেশন ৬৭০০, ইসলামিক সেন্টার ৬৭৫৫)সহীহুল বুখারী ৭৪০৫, ৭৫০৫, ৭৫৩৬, ৭৫৩৭, মুসলিম ২৬৭৫, তিরমিযী ২৩৮৮, ইবনু মাজাহ ৩৭২২, আহমাদ ৭৩৭৪, ২৭৪০৯, ৮৪৩৬, ৮৮৩৩, ৯০০১, ৯০৮৭, ৯৩৩৪, ৯৪৫৭
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
গ্রন্থঃ রিয়াযুস স্বা-লিহীন
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ (كتاب المقدمات)
হাদিস নম্বরঃ ৪৪৬
৫২: আল্লাহর কাছে ভাল আশা রাখার মাহাত্ম্য
২/৪৪৬। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যুর তিনদিন পূর্বে তাঁকে বলতে শুনেছেন, ‘‘আল্লাহর প্রতি সুধারণা না রেখে তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই মৃত্যুবরণ না করে।’’ (মুসলিম) [1]
[1] মুসলিম ২৭৭৭, আবূ দাউদ ৩১১৩, ইবনু মাজাহ ৪১৩৭, আহমাদ ১৩৭১১, ১৩৯৭৭, ১৪০৭২, ১৪১২৩, ১৪১৭০, ১৪৭৭৫ হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
গ্রন্থঃ রিয়াযুস স্বা-লিহীন
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ (كتاب المقدمات)
হাদিস নম্বরঃ ১৬
২: তওবার বিবরণ
৩/১৬। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খাদেম, আবূ হামযাহ আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় বান্দার তওবা করার জন্য ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা বেশী আনন্দিত হন, যে তার উট জঙ্গলে হারিয়ে ফেলার পর পুনরায় ফিরে পায়।’’
(বুখারী ৬৩০৯,
)মুসলিম ২৭৪৭, আহমাদ ১২৮১৫)
মুসলিমের অন্য বর্ণনায় এইভাবে এসেছে যে, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার তওবায় যখন সে তওবা করে তোমাদের সেই ব্যক্তির চেয়ে বেশী খুশী হন, যে তার বাহনের উপর চড়ে কোনো মরুভূমি বা জনহীন প্রান্তর অতিক্রমকালে বাহনটি তার নিকট থেকে পালিয়ে যায়। আর খাদ্য ও পানীয় সব ওর পিঠের উপর থাকে। অতঃপর বহু খোঁজাখুঁজির পর নিরাশ হয়ে সে একটি গাছের ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে বাহনটি হঠাৎ তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে যায়। সে তার লাগাম ধরে খুশীর চোটে বলে ওঠে, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার দাস, আর আমি তোমার প্রভু!’ সীমাহীন খুশীর কারণে সে ভুল করে ফেলে।’’
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
গ্রন্থঃ সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত]
অধ্যায়ঃ ৪৫/ দু'আসমূহ (كتاب الدعوات عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ৩৫৪০
৯৯. তাওবাহ ও ক্ষমা প্রার্থনার ফাযীলাত এবং বান্দাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলার দয়া ও অনুগ্রহ প্রসঙ্গে
৩৫৪০। আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ বারাকাতময় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হে আদম সন্তান! যতক্ষণ আমাকে তুমি ডাকতে থাকবে এবং আমার হতে (ক্ষমা পাওয়ার) আশায় থাকবে, তোমার গুনাহ যত অধিক হোক, তোমাকে আমি ক্ষমা করব, এতে কোন পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহর পরিমাণ যদি আসমানের কিনারা বা মেঘমালা পর্যন্তও পৌছে যায়, তারপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, এতে আমি পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি সম্পূর্ণ পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়েও আমার নিকট আস এবং আমার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করে থাক, তাহলে তোমার কাছে আমিও পৃথিবী পূর্ণ ক্ষমা নিয়ে হাযির হব।
সহীহঃ সহীহাহ (হাঃ ১২৭, ১২৮), রাওযুন নাযীর (হাঃ ৪৩২), মিশকাত তাহকীক সানী (হাঃ ২৩৩৬), তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৬৮)।
আবূ ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান গারীব। এ হাদীস আমরা শুধুমাত্র উপর্যুক্ত সনদেই অবগত হয়েছি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
সূরা জুমার ৬৪. (হে নবী! ওদের) বলো, ‘হে (সত্য ও মিথ্যা সম্পর্কে) অজ্ঞরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর ইবাদত করতে বলছ?’ ৬৫-৬৬. অথচ তুমি জানো, তোমার ও তোমার পূর্ববর্তী নবীদের কাছে ওহী পাঠানো হয়েছে যে, ‘তুমি আল্লাহর সাথে কোনোকিছুকে শরিক করলে তোমার সকল কর্ম নিষ্ফল হবে এবং অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অতএব তুমি আল্লাহর ইবাদত করো ও শোকরগোজারদের অন্তর্ভুক্ত হও।
আল্লাহ বলেন আমাকে ডাকতে থাকবে বা ক্ষমা পাওয়ার আশায় থাকবে গুনাহ যত অধিক হোক তোমাকে আমি ক্ষমা করব