03/11/2025
সরজুবালা সাহা- এক মহীয়সী নারী, যার অবদানে স্যার জে সি বোস কমপ্লেক্স ঃ
রাড়িখালের ধনাঢ্য অম্বিকা চরণ সাহা পরিবারের বড় পুত্রবধু ছিলেন শ্রীমতী সরজুবালা সাহা। অম্বিকাচরণ সাহার ৫ পুত্র ও ২ কন্যা ছিল, অম্বিকাসাহা মারা যান ১৯৫৪ সালে। বড় ছেলে মোহিনী মোহন সাহা স্ত্রী সরজু বালাকে নিয়ে ঝালকাঠিতে ব্যবসা করতেন, সেখানে নিঃসন্তান অবস্থায় ১৯৬০ সালে মোহনী মোহন সাহা মৃত্যুবরণ করলে স্ত্রী সরজুবালা স্বামীর অধিকারে অম্বিকাসাহা বাড়ি নামে খ্যাত এ বাড়িতে এসে উঠেন। এসেই দেখতে পান তাঁর স্বামীর অধিকার ক্ষুণ্ণ করে বাকি ৪ ভাই যথাক্রমে যোগেন্দ্র চন্দ্র সাহা , গোপী বল্লভ সাহা, বঙ্কিম চন্দ্র সাহা ও জগদীশ চন্দ্র সাহা এর নামে সমুদয় সম্পত্তি এস এ রেকর্ড হয়ে আছে। তিনি অম্বিকা সাহার মেয়ে জামাই কামারগাঁয়ের সূর্যকুমার চৌধু্রীর পুত্র মোতিলাল চৌধুরীকে এ বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করলেন । উল্লেখ্য, মোতিলালের এ স্ত্রী মারা গেলে পরে কু্মিল্লায় (চাঁদপুর) ২য় বিয়ে করেন, এ ঘরে আমাদের ক্লাসমেট শান্তলতা সাহা ওরফে শান্তি ও তাঁর ছোট বোন মাধবীর জন্ম হয়। অম্বিকাসাহার এক মেয়ে যামিনী বালাকে আমরা দেখেছি, ট্যারা চোখে তাঁকাতেন, তিনিও এ বাড়িতে মারা যান। দেবররা একে একে দেশত্যাগ করেন। সরজুবালা তাঁর অধিকার ফিরে পাবার জন্য মামলা করলে হাইকোর্টের রায়ে তিনি জিতে যান, তিনি ঘাট বাঁধাই ২টি দিঘি, সুদৃশ্য ভবন, সেগুন কাঠের ঘর, গোয়ালঘর, বাগানবাড়িসহ প্রায় ১২ একর সম্পত্তির উপর স্বামীর অধিকার ও দখলী সত্ত্ব ফিরে পান, এ বাড়ি দখল, পাল্টা দখল, জোর করে লিখে নেয়া ও নানা ধরনের মামলা মোকদ্দমার ঝামেলা তাঁকে সইতে হয়েছে। '৭১ সালের ১২ মে পাকিস্তানি সেনারা এ বাড়ি হামলা করে দামি সেগুন কাঠের ঘরটি জালিয়ে দেয় এবং বাড়িটি লুটপাটের শিকার হয়, স্বাধীনতার পরে একদল উদ্যমী তরুণ লুণ্ঠিত সামগ্রী সংগ্রহ করে বাড়িটি বাসযোগ্য করে দেন। আব্দুল জলিল খান যখন ১৯৭১-৭৩ সময়কালে স্কুলের চেয়ারম্যান ছিলেন সে সময় সরজুবালার বাড়ির কিয়দাংশ কেনার জন্য তিনি প্রথমে উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন, এবং দুরের কিছু সম্পত্তি বিক্রি করে সরজুবালার হাতে দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় স্কুলে শিক্ষকদের বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি হয়। '৮১ সালে তাঁর পুজা মন্দির থেকে পিতলের মূর্তিগুলো চুরি হয়ে গেলে তিনি মানসিককভাবে ভেঙে পড়েন। রাড়িখাল স্কুল কর্তৃপক্ষ পূরো এ বাড়িটি স্কুলের স্বার্থে দাবি করলে এলাকার প্রভাবশালীদের হুমকি সত্ত্বেও তিনি সানন্দে নামমাত্র মূল্যে সমূদয় সম্পত্তি ১৯৮৪ সালে স্কুলকে লিখে দিয়ে ভারত চলে যান। তাঁর কেয়ারটেকার গৌড়া বা গৌরাঙ্গ কে স্কুল কর্তৃপক্ষ উত্তর পাশে একটি ঘর নির্মাণ করে বসবাসের সুযোগ করে দেন। গৌড়ার নিকট জেনেছিলাম সরজুবালা কলকাতার পরেশ পণ্ডিতের মন্দির, শ্যামবাজার, গড়িয়াবাড়ীর নাতির নিকট গিয়েছিলেন, যাবার এক বছরের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। সরজুবালাকে কথা দেয়া হয়েছিল- তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ শুধুমাত্র বিল্ডিংটির নাম হবে 'সরজুবালা ভবন'। তাঁর বাড়িটি এখন স্যার জে সি বোস কমপ্লেক্স নামে বিনোদন কেন্দ্রে রুপান্তরিত হয়েছে, এখান থেকে বছরে প্রচুর অর্থ উপার্জন হলেও সরজুবালাকে দেয় ছোট্ট প্রতিশ্রুতি অপূর্ণই থেকেছিল প্রায় ৩৪ বছর। গত ২৪ অক্টোবর ২০১৮ স্যার জে সি বোস ইন্সটিটিউশন এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল তার ফেইসবুক পোস্টে জানিয়েছেন যে, তার নামে বোর্ডিং বাড়িটির নামফলক ইতোমধ্যে উন্মোচন হয়েছে, সংস্কার শেষে তা ভবনের গায়ে লাগানো হয়েছে। নিচে নাম ফলকের ছবি দেয়া হল।