Jamea Ahmadia Sunnia Mohila Madrasah

Jamea Ahmadia Sunnia Mohila Madrasah MY MADRASAH

It's one of the most greatest islam based educational institution in the whole country which is situated by the Chief Patron Awlad E Rasul Huzur Qebla Allama Syed Mohhammad Taher Shah(M.Z.A) and founded by Awlad E Rasul Peer E Bangal Allama Syed Mohammasd Saber Shah(M.Z.A).Every year it cuts a brilliant result in Dakhil,Alim & Fazil examination.In the present world it does a great role in expandin

g woman islamic education.It is a award winning madrasah of all years.It has library,computer lab,Information and Communication Technology(ICT),Playground,Transportation system by Madrasah micro-buses,Assembly system,Weekly Conference system(for example-Qiraat,Naat,Speech on different subjects both Islamic and Others,Debate,Poet/rhyme reciting,Experience sharing,Speeches of our honorable teachers,Guidence of our Respectful Super and vice-super,Milaad-Qiyam,Munajat)...Above all,recently this Madrasah has added a new dimension by including Fazil section in it,Which is almost similar to degree section..

02/09/2024

শুধু কোরআন দিয়ে কথা বলা একজন মহিলার গল্প
ইমাম আযম হযরত আবু হানিফা রহমাতুল্লাহ আলাইহির অন্যতম ছাত্র হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন: আমি একবার হজ্বে গিয়ে মরুভূমির ভেতরে রাস্তা অতিক্রম করতে গিয়ে এক স্থানে একাকি এক বৃদ্ধা মহিলাকে বসা দেখলাম। বিজন মরুপ্রান্তরে তাকে একাকি এভাবে দেখে আমার মনে হল, তিনি বিপদগ্রস্ত কেউ হবেন। তার সাথে আমার কথোকথন ছিল বিস্ময়কর। তিনি আমার প্রত্যেকটি কথার জবাব কুরআনের আয়াত দ্বারা দিয়েছিলেন। কথোপকথন বিস্তারিত তুলে ধরা হল:
অধিকাংশ ইসলামী স্কলারগনের মতে এই মহীয়সী নারীর নাম 'রাবিয়্যাহ' কিংবা 'উম্মে ইয়াহইয়া'।
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ.: ''আসসালামু আলাইকুম।''
রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া): ''سَلَامٌ قَوْلًا مِن رَّبٍّ رَّحِيمٍ'' অর্থ: ''দয়াবান রবের পক্ষ থেকে সালাম।'' (সূরাহ ইয়াসিন, ৫৮ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, আমি বললাম: ''আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন। আপনি এখানে বসে কী করছেন?''
জবাবে রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) তিলাওয়াত করলেন সূরাহ কাহাফের এই আয়াত: ''مَن يُضْلِلِ اللّهُ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَيَذَرُهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ'' অর্থ: ''আল্লাহ পাক যাকে পথহারা করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ থাকে না।'' (সূরাহ আ'রাফ, ১৮৬ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, আমি বুঝতে পারলাম মহিলাটি পথ হারিয়ে ফেলেছে। তাই জিজ্ঞেস করলাম: ''কোথায় যেতে চান আপনি?''
উত্তরে রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) তিলাওয়াত করলেন: ''سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ'' অর্থ: ''তিনি একটি পবিত্র সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে রাতের বেলায় মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকছায় ভ্রমন করিয়েছেন।'' (সূরাহ ইসরা, ১ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, আমি বুঝতে পারলাম মহিলাটি হজ্জের কাজ শেষ করেছেন। এখন তিনি বাইতুল মুকাদ্দাস যেতে চান। জিজ্ঞেস করলাম: ''কতক্ষন এখানে বসে আছেন?''
রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) উত্তরে তিলাওয়াত করলেন: ''ثَلَاثَ لَيَالٍ سَوِيًّا'' অর্থ: ''পূর্ন তিনটি রাত ধরে।'' (সূরাহ মারইয়াম, ১০ নং আয়াতাংশ)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. জিজ্ঞেস করলেন: ''আপনার কাছে আহারের কিছু দেখছি না। কি খেয়ে কাটাচ্ছেন?''
রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) তিলাওয়াত করলেন: ''وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ'' অর্থ: ''তিনি আমাকে খাইয়ে থাকেন এবং তিনিই আমাকে পান করিয়ে থাকেন।'' (সূরাহ শুআ'রা, ৭৯ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. জিজ্ঞেস করলেন: ''কিসের দ্বারা অযু করে থাকেন?''
রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) তিলাওয়াত করলেন: ''فَتَيَمَّمُواْ صَعِيدًا طَيِّبًا'' অর্থ: ''পাক মাটি দিয়ে তখন তায়াম্মুম করে নিও।'' (সূরাহ নিসা, ৪৩ আয়াতাংশ)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বললেন: ''আমার কাছে কিছু খাবার আছে। খাবেন?''
রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) তিলাওয়াত করলেন: ''রাত আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করে (অর্থাত, সূর্যাস্তের পরে ইফতার করে) রোযাকে পূর্ন কর।'' (সূরাহ বাক্কারাহ, ৮৭ আয়াত)
ইফতার করে) রোযাকে পূর্ন কর।'' (সূরাহ বাক্কারাহ, ৮৭ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বললেন: ''কিন্তু এটাতো রমজান মাস নয়।''
রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) তিলাওয়াত করলেন: ''وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ'' অর্থ: ''যে ব্যক্তি সাওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে নফল ইবাদত করে থাকে আল্লাহ তার কদর করে থাকেন এবং তিনি সব জানেন'' (সূরাহ বাক্কারাহ, ১৫৮ আয়াতাংশ)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বললেন: ''মুসাফির অবস্থায় ফরয রোযাও তো না রাখা জায়েজ আছে।''
রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) তিলাওয়াত করলেন: ''وَأَن تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ'' অর্থ: ''(কত যে সাওয়াব) তোমরা যদি জানতে তাহলে রোজা রাখাটাই ভাল মনে করতে।'' (সূরাহ বাক্কারাহ, ১৮৪ আয়াতাংশ)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. জিজ্ঞেস করলেন: ''আপনি আমার মত করে কথা বলছেন না কেন?''
জবাবে রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) তিলাওয়াত করলেন: ''مَا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ'' অর্থ: ''মানুষ যে কথাটিই বলছে খবরদারীর জন্য তার কাছে একজন ফিরিশতা প্রস্তুত আছে।'' (সূরাহ ক্কাফ, ১৮ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. জিজ্ঞেস করলেন: ''আপনি কোন গোত্রের লোক?''
রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) তিলাওয়াত করলেন: ''وَلاَ تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ'' অর্থ: ''যে বিষয়ে জানতে নেই, সে বিষয়ের পেছনে লেগো না।'' (সূরাহ ইসরা, ৩৬ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, আমি আরজ করলাম: ''ভুল হয়ে গেছে। আমি মাফ চাচ্ছি।''
উত্তরে রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) তিলাওয়াত করলেন: ''قَالَ لاَ تَثْرَيبَ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ يَغْفِرُ اللّهُ لَكُمْ وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ'' অর্থ: ''আজ তোমাদের প্রতি কোন তিরষ্কার নেই। আল্লাহ তোমাদের মাফ করে দিন।'' (সূরাহ ইউসূফ, ৯২ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, আমি বললাম: ''যদি চান তবে আমার উটনির পিঠে সওয়ার হয়ে আপনার দলের লোকের কাছে যেতে পারেন''
রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) তিলাওয়াত করলেন: ''وَمَا تَفْعَلُواْ مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ اللّهُ'' অর্থ: ''তোমরা যা কিছু ভাল কাজ কর আল্লাহ তা জেনে থাকেন।'' (সূরাহ বাক্কারাহ, ১৯৭ আয়াতাংশ)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, এই আয়াত শোনার পরে আমি আমার উটনিকে বসালাম। কিন্তু মহিলা তার পিঠে সওয়ার হওয়ার আগে বললেন: ''قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ'' অর্থ: ''মুমিন ব্যক্তিদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিচের দিকে করে রাখে'' (সূরাহ নূর, ৩০ আয়াতাংশ)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, আমি আমার দৃষ্টিকে নিম্নগামী করে তাকে বললাম: ''এবার সওয়ার হোন।''
মহিলা সওয়ার হতে গেলেন। কিন্তু, উটনি ভয় পেয়ে পালাতে উদ্যত হলো। ধস্তাধস্তির ফলে বৃদ্ধা মহিলার কাপড় ছিড়ে গেল। তখন রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) তিলাওয়াত করলেন: ''وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ'' অর্থ: ''যত মুছিবত এসে থাকে তা তোমাদের আমলের কারনে।'' (সূরাহ শুআ'রা, ৩০ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, আমি তাকে বললাম: ''একটু অপেক্ষা করুন। উটনি বেঁধে দিচ্ছি। তারপরে সওয়ার হোন।''
রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) তিলাওয়াত করলেন: ''فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ'' অর্থ: ''এই সব বিষয়ের সমাধান আমি সুলাইমান (আ:) কে শিখিয়ে দিয়েছি।'' (সূরাহ আম্বিয়া, ৭৯ আয়াতাংশ)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, আমি উটনিকে ভাল করে বাঁধলাম। তারপর তাকে বললাম: ''এবার সওয়ার হোন।''
তখন রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) উটের পিঠে সওয়ার হয়ে এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন: ''سُبْحانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ'' অর্থ: ''পবিত্র সেই সত্তা যিনি এটাকে আমাদের আয়ত্তাধীন করে দিয়েছেন। আমাদের ক্ষমতা ছিল না তাকে আয়ত্ত করার। আর আমরা আমাদের পরওয়ারদেগারের কাছে নি:সন্দেহে ফিরে যাব।'' (সূরাহ যুখরূফ, ১৩, ১৪ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, আমি উটনির লাগাম ধরে হাটতে লাগলাম। খুব জোরে হাটছিলাম আর চিতকার করে করে উটনি তাড়াচ্ছিলাম। এই দেখে তিনি তিলাওয়াত করলেন: ''وَاقْصِدْ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِن صَوْتِكَ'' অর্থ: ''স্বাভাবিক পন্থায় হাঁট আর তোমার স্বর অবনত কর।'' (সূরাহ লুক্কমান, ১৯ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, এবার আমি আস্তে আস্তে হাটতে লাগলাম এবং কবিতার কয়েকটি ছন্দ গুন গুন করে গাইতে লাগলাম। এই দেখে তিনি তিলাওয়াত করলেন: ''فَاقْرَؤُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ'' অর্থ: ''কুরআন থেকে যে অংশ সহজ মনে হয় তাই পড়'' (সূরাহ মুজ্জাম্মিল, ২০ আয়াতাংশ)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, আমি তাকে বললাম: ''আল্লাহ পাক সত্যি আপনাকে নেককার মহিলা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।''
তখন রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন: ''وَمَا يَذَّكَّرُ إِلاَّ أُوْلُواْ الألْبَابِ'' অর্থ: ''যাদের জ্ঞান আছে তারাই শুধু শিক্ষা গ্রহন করে থাকে।'' (সূরাহ আলে ইমরান, ৭ আয়াতাংশ)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, কিছুক্ষন চুপচাপ চলার পর তাকে জিজ্ঞেস করলাম: ''আপনার স্বামী আছে?''
তখন রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন: ''يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَسْأَلُواْ عَنْ أَشْيَاء إِن تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ'' অর্থ: ''তোমরা এমন বিষয় জিজ্ঞেস করো না, যা প্রকাশ পেলে তোমাদের কাছে খারাপ লাগতে পারে।'' (সূরাহ মায়িদাহ, ১০১ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, এবার আমি পুরোপুরি চুপ হয়ে গেলাম। যতক্ষন কাফেলা না পাওয়া গেল আমি তার সাথে কোন কথা বললাম না। কাফেলা যখন সামনে দেখতে পেলাম তখন তাকে বললাম: ''এই যে সামনে কাফেলা এসে গেছে। এই কাফেলায় আপনার কে আছে?''
রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন: ''الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا'' অর্থ: ''সম্পদ এবং সন্তান এসবই দুনিয়ার জীবনের বিলাসিতা।'' (সূরাহ কাহফ, ৪৬ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, আমি বুঝতে পারলাম এই কাফেলায় তার ছেলে আছে। জিজ্ঞেস করলাম: ''কি কাজ করে সে এই কাফেলায়?
রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন: ''وَعَلامَاتٍ وَبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ'' অর্থ: ''অনেক চিহ্ন আছে। আর নক্ষত্রের সাহা্য্যে তারা পথের নির্দেশ গ্রহন করে থাকে।'' (সূরাহ নহল, ১৬ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, বুঝতে পারলাম তার ছেলে এই কাফেলার পথ নির্দেশক 'রাহবর'। মহিলাকে নিয়ে কাফেলার তাবুতে গেলাম। সেখানে গিয়ে বললাম: ''এইবার বলুন, এখানে আপনার কে আছে?"
রাবিয়্যাহ (উম্মে ইয়াহইয়া) এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন:
'' وَاتَّخَذَ اللّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً'' অর্থ: ''এবং আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম (আ:) কে দোস্ত হিসেবে গ্রহন করেছেন।'' (সূরাহ নিসা, ১২৫ আয়াত)
''كَلَّمَ اللّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا'' অর্থ: ''আর মূসা (আ:) এর সাথে আল্লাহ পাক কথা বলেছেন।'' (সূরাহ নিসা, ১৬৪ আয়াত)
''يَا يَحْيَى خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ'' অর্থ: ''হে ইয়াহইয়া! শক্ত করে কিতাব ধারন কর।'' (সূরাহ মারইয়াম, ১২ আয়াত)
'' وَاتَّخَذَ اللّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلاً'' অর্থ: ''এবং আল্লাহ তাআলা ইবরাহীম (আ:) কে দোস্ত হিসেবে গ্রহন করেছেন।'' (সূরাহ নিসা, ১২৫ আয়াত)
''كَلَّمَ اللّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا'' অর্থ: ''আর মূসা (আ:) এর সাথে আল্লাহ পাক কথা বলেছেন।'' (সূরাহ নিসা, ১৬৪ আয়াত)
''يَا يَحْيَى خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ'' অর্থ: ''হে ইয়াহইয়া! শক্ত করে কিতাব ধারন কর।'' (সূরাহ মারইয়াম, ১২ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, এই আয়াতগুলো শোনার পরে আমি চিতকার করে ডাকতে লাগলাম: ''হে ইবরাহীম! হে মূসা!
হে ইয়াহইয়া!"
কিছুক্ষন পর চাঁদের মত সুন্দর কয়েকজন নওজোয়ান আমার সামনে এসে দাঁড়ালো। আমরা যখন স্থির হয়ে আসন গ্রহন করলাম তখন মহিলা তার ছেলেদের বললেন: ''فَابْعَثُوا أَحَدَكُم بِوَرِقِكُمْ هَذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيَنظُرْ أَيُّهَا أَزْكَى طَعَامًا فَلْيَأْتِكُم بِرِزْقٍ مِّنْهُ'' অর্থ: ''এই টাকা দিয়ে তোমাদের মধ্যে হতে কাউকে শহরে পাঠাও। সে অনুসন্ধান করে দেখবে কোন খাবারটি অধিক পবিত্র। তখন সে তোমাদের জন্য সেখান থেকে কিছু খাবার নিয়ে আসবে।'' (সূরাহ কাহফ, ১৯ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, এই আয়াত শুনে তাদের মধ্যে থেকে একটি ছেলে উঠে গেল এবং কিছুক্ষন পরে খাবার নিয়ে আসলো। খাবার আমার সামনে যখন রাখা হলো তখন মহিলাটি বললো: ''كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ'' অর্থ: ''সানন্দে খাও এবং পান কর। এগুলো তোমাদের সেই কাজের বিনিময় যে কাজ তোমরা ইতিপূর্বে করে এসেছো।" (সূরাহ আল হাক্কাহ, ২৪ আয়াত)
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. বলেন, আমি আর থাকতে পারলাম না। ছেলেদের বললাম: "এই খাবার আমার জন্য হালাল হবে না যতক্ষন ন তোমরা এই মহিলার রহস্য বলছো।''
ছেলেরা বললো: ''চল্লিশ বছর যাবত আমাদের মায়ের এই অবস্থা। এই চল্লিশ বছরে তিনি কুরআন পাকের আয়াত ছাড়া একটি বাক্যও বলেন নি। এই জন্য এই নিয়ম তিনি পালন করছেন যেন জিহবা থেকে কোন অপ্রয়োজনীয় কথা বের না হয়ে পড়ে। তাহলে আল্লাহ নারাজ হবেন।''
আমি বললাম: ''এসব আল্লাহ পাকের অনুগ্রহের নিআমত। যাকে ই্চ্ছা প্রদান করেন। আর আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহশীল মহান।'' (সূরাহ আল হাদীদ, ২১ আয়াত)
সংগ্রহ: আল-আবশেহী (র:)। আল মুসতাতারফু ফি কুল্লি ফান। মুসতাতারফ ১ম খন্ড ৫৬ ও ৫৭ পৃষ্ঠা। মিশর ১৩৬৮ হিজরী।

30/08/2024

আজ ২৫ শে সফর, ১৪৪৬ হিজরী
ওরসে আলা হযরত
-------------------
এক নজরে 'আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী (র:)'
জন্ম :১০ই শাবান ১২৭২ হিজরী / ১৮৫৬ ইং
ইন্তেকাল:২৫ শে সফর ১৩৪০ হিজরী / ১৯২১ ইং।
হিজরী চতুর্দশ শতাব্দীর মোজাদ্দেদ, ইমামে আহলে সুন্নাত, আ’লা হযরত, ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী (র:) এমন এক যুগ সন্ধিক্ষণে আবির্ভূত হয়েছিলেন- যখন সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের দালাল বাতিল ফের্কাগুলো আরবে ও আজমে- সর্বত্র ইসলামের প্রতিষ্ঠিত আকিদাসমূহের উপর কঠোর আঘাত হানা শুরু করেছিল। আরবের অভিশপ্ত নজদ প্রদেশের মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদীর ভারতীয় অনুসারীরা ওহাবী আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের ঈমান আকিদা বিনষ্ট করছিল, পাক-ভারত উপমহাদেশের ওহাবী আন্দোলনের ঢেউ এসে একের পর এক আঘাত হানতেছিল, ইংরেজদের সহায়তায় তারা বিরাট ধরণের দেওবন্দ ওহাবী মাদ্রাসা তৈরী করে ওহাবী মতবাদ প্রচারে লিপ্ত হয়েছিল, তাকভিয়াতুল ঈমান, তাহযিরুন্নাছ, ফতোয়ায়ে রশিদিয়া, বারাহীনে কাতেয়া, হেফযুল ঈমান ও বেহেস্তী জেরর প্রভৃতি ঈমান বিধ্বংসী ওহাবী মতবদী কিতাবসমূহ লিখে বিদেশী অর্থানুকূল্যে ছেঁপে ঘরে-ঘরে পৌছিয়ে দেয়া হচিছল। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের মান মর্যাদার উপর এসব কিতাব দ্বারা জঘন্য আক্রমন পরিচালনা করা হচ্ছিল। উদাহরণ স্বরূপ :এসব কিতাবে লিখা ছিল-“আমাদের নবীজির এলেমের চাইতে শয়তানের এলেম অধিক, নবী মরে পঁচে গলে মাটি হয়ে গেছেন, নবীজীর মর্যদা বড় ভাইয়ের তুল্য খাতামুন্নাবিয়ীন অর্থ শেষ নবী নয়, নবীজীর গায়েবী এলেমের মত এমন এলেম চতুস্পদ জন্তুরও আছে, নামাযে নবীজীর খেয়াল আসার চেয়ে গরু-গাধার খেয়াল আসা অধিক ভাল-ইত্যাদি বেদ্বীনি আকিদাসমূহ। উপরে উল্লেখিত কিতাবসমূহে এসব জঘন্য উক্তি লিখে প্রচার করা হচ্ছিল। এমন এক ঘনঘোর অমানিশা যখন উপমহাদেশের আকাশকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল, সে সময়ে আল্লাহ্র রহমত স্বরূপ ভারতের বাঁশ বেরেলীতে জন্ম গ্রহণ করেন হিজরী চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান (র:)। ১২৭২ হিজরীতে ১০ই শওয়াল তারিখ মোতাবেক ১৪ই জুন ১৮৫৬ ঈসায়ী সালে ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী (র:) বেরেলীর এক খান্দানী ঐতিহ্যবাহী পাঠান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সিপাহী বিদ্রোহের ১ বৎসর পূর্বেই তাঁর জন্ম। সুতরাং পরবর্তী আযাদী আন্দোলনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
শিক্ষা :মাত্র তের বৎসর দশ মাস চার দিনে তিনি কোরআন, হাদীস, তাফসীর, আরবী সাহিত্যসহ সমস্ত আকলী ও নকলী এলেম শিক্ষা সমাপ্ত করেন। ঐদিনেই তিনি আপন পিতা আল্লামা নক্বী আলী খান (র:)-এর তত্ত্বাবধানে প্রথম ফতোয়া লিখে মুফতী পদে সমাসীন হন। মজার ব্যাপার -ঐ দিনেই তার উপর নামায ফরয হয়। এই পদে একাধারে ৫৫ বৎসর দায়িত্ব পালন করে ১৩৪৯ হিজরীতে ৬৮ বৎসর বয়সে তিনি ইন্তিকাল করেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি বিভিন্ন ওস্তাদ ও নিজ প্রতিভার মাধ্যমে ৫৫ প্রকার বিদ্যা বা জ্ঞানের শাখা-প্র শাখায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। জ্ঞানের এতগুলো শাখায় বিচরণ করা এ কথাই প্রমাণ করে যে, তিনি ছিলেন যুগের দ্বিতীয় ইমাম আবু হানিফা। আল্লামা ইকবাল (র:) তাঁকে এই উপাধীতেই স্মরন করতেন। দীর্ঘ ৫৫ বৎসর পর্যন্ত তিনি যেসব ফতোয়া প্রদান করেছেন-সেগুলো সম্মিলিত নাম রাখা হয়েছে ফতোয়ায়ে রজভীয়া- ৩০ খন্ডে বিরাট ভলিউমে ছাঁপা হয়েছে। এর বর্তমান হাদীয়া ৩০,০০০/= (ত্রিশ হাজার) টাকা। এই দীর্ঘ অর্ধ শতাব্দী ব্যাপী সময়ে আ’লা হযরত জ্ঞানের ৫৫ টি শাখায় প্রায় ১৫০০ কিতাব রচনা করেছেন। আ’লা হযরতের জীবনী গবেষক ডঃ মাসউদ আহমদ বলেন শুধু হাদীসের ব্যাখ্যা গ্রন্থ বা টীকা গ্রন্থের সংখ্যাই ৪৬টি। পবিত্র কালাম মজিদের যে অনুবাদ তিনি রচনা করেছেন-তা অতুলনীয় ও নির্ভুল। এমনকি-গতিশীল বিজ্ঞানেও আ’লা হযরতের অনুবাদের ভুল প্রমাণ করতে পারেনি। তিনি অনুবাদের নাম রেখেছেন“কানযুল ঈমান” বা ঈমানের খনি। কোরআন মজিদের আকায়েদ সংক্রান্ত আয়াতসমূহের সঠিক অনুবাদ একমাত্র কানযুল ঈমানেই পাওয়া যায়। অন্যত্র তা খুবই বিরল। এজন্যই সৌদী সরকার কানযুল ঈমানের বড় শত্রু। কেননা, এতে তাদের কৃত অনুবাদের ও আকায়েদের অসারতা ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কানযুল ঈমানের বাংলা অনুবাদ বের হয়েছে চট্টগ্রামে থেকে মাওলানা আবদুল মান্নান কর্তৃক।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় আ’লা হযরতের অবদান:
জ্ঞান তাপস আ’লা হযরত (র:) বিভিন্ন ওস্তাদ আপন প্রকৃতিগত প্রতিভার মাধ্যমে যে সব বিদ্যায় পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন- তার সংখ্যা ৫৫টি। তিনি নিজেই এসব বিদ্যার একটি তালিকা তৈরী করে ১৩২৪ হিজরীতে মক্কা শরীফের মুফতী খলিল মক্কী (র:)-এর কাছে পেশ করেছিলেন এবং এগুলোর এযাযত বা অনুমতি সনদও লাভ করেছিলেন। যারা হাকিমুল উম্মত-হাকিমুল উম্মত বলতে বলতে অজ্ঞান হয়ে যায় এবং ৯০০ কিতাবের রচয়িতা বলে তাকে সমাজে বিরাটভাবে তুলে ধরতে চায়, তাদের জানার জন্যই আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান (র:)-এর জ্ঞান শাখার সংখ্যা ও তার প্রণীত গ্রন্থের কিছু পরিচয় তুলে ধরা একান্ত আবশ্যক বলে মনে করছি।
আ’লা হযরতের অর্জিত বিদ্যার সংখ্যা ও তালিকা:
১.ইলমুল কোরআন, ২. ইলমুল হাদীস, ৩. ইলমে তাফসীর, ৪. ইলমে উসুলে হাদীস, ৫. ইলমে আসমাউল রিজাল (হাদীস বর্র্ণনাকারীদের জীবনী), ৬. ইলমে ফিক্হ, ৭. ইলমে উসুলে ফিক্হ, ৮. ইলমে আকাঈদ ওয়াল কালাম (দর্শন), ৯. ইলমে ফারায়েজ, ১০. ইলমে নাহু, ১১. ইলমে সরফ,১২. ইলমে মা’আনী,১৩. ইলমে বয়ান, ১৪. ইলমে বদী,১৫. ইলমে আরুজ, ১৬. ইলমে মোনাযারা, ১৭. ইলমে মানতিক, ১৮. ইলমুল আদব (সর্ব বিষয়ের সাহিত্য), ১৯. ইলমে ফিকহে হানাফী, ২০. ইলমে জদল মহাযযব, ২১. ইলমে ফালছাফা,২২. ইলমে হিসাব (গণিত), ২৩. ইলমে হাইয়াত জোতির্বিদ্যা), ২৪. ইলমে হান্দাসা (জ্যামিতি), ২৫. ইলমে ক্বেরাত, ২৬. ইলমে তাজবিদ, ২৭. ইলমে তাসাউফ (সুফীতত্ত্ব), ২৮. ইলমে সুলুক (তরিকত জগতে ভ্রমণ), ২৯. ইলমে আখলাক, ৩০. ইলমে সিয়াম, ৩১. ইলমে তারিখ (ইতিহাস), ৩২. ইলমে লুগাত (অভিধান), ৩৩. এ্যারিস মাতী ক্বী, ৩৪. যবর ও মোকাবালাহ, ৩৫. হিসাবে সিত্তানী, ৩৬. লগারিদম, ৩৭. ইলমে তাওকীত (সময় নির্দ্ধরণ বিদ্যা), ৩৮. মুনাযারা ও মারাযাহ, ৩৯. ইলমুল আকর, ৪০.যীজাত, ৪১. মুছাল্লাছে কুরভী, ৪২. মুছাল্লাছে মোসাত্তাহ, ৪৩. হাইয়াতে জাদীদা, ৪৪. মুরাব্বাআত, ৪৫. ইলমে জফর, ৪৬. ইলমে যায়েরজাহ, ৪৭. আরবী পদ্য, ৪৮. ফার্সী পদ্য, ৪৯.হিন্দী পদ্য, ৫০. আরবী গদ্য, ৫১. ফার্সী গদ্য, ৫২.হিন্দী গদ্য, ৫৩. কেতাবাত বা লিখন পদ্ধতি, ৫৪. খত্তে নাস্তালীক পদ্ধতির লিখন (ক্যালিওগ্রাফী), ৫৫. তাজবীদসহ ক্বেরাত।
উপরোক্ত ৫৫টি বিদ্যায় আ’লা হযরতের পান্ডিত্যের ব্যাপারে একটি ঘটনা উল্লেখ করার মত। ১৩২৯ হিজরী মোতাবেক ১৯১১ ঈসায়ী সালে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলার ডঃ যিয়াউদ্দীন সাহেব রামপুর (ইউপি) হতে প্রকাশিত দবদবা-ই-সিকান্দরী নামক পত্রিকায় চতুর্ভূজ সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন প্রচার করেন। আ’লা হযরত সাথে সাথে উক্ত প্রশ্নের সমাধান দিয়ে অন্য একটি চতুর্ভূজ সংক্রান্ত প্রশ্ন তার উদ্দেশ্যে ছুড়ে মারেন। স্যার যিয়াউদ্দীন এতে হতবাক হয়ে যান-একজন আরবী জানা আলেম কি করে এই বিদ্যা অর্জন করলেন ? এই ঘটনায় স্যার যিয়াউদ্দীন আ’লা হযরতের ভক্ত হয়ে পড়েন।
আর একটি ঘটনা। গণিত সংক্রান্ত একটি বিষয়ের সমাধানের জন্য স্যার যিয়াউদ্দীন বড় পেরেশান হয়ে পড়েন। অতঃপর প্রফেসার সুলাইমান আশরাফের অনুরোধে তিনি বেরেলী শরীফ আগমন করে অংকটি আ’লা হযরতের দরবারে পেশ করেন। আ’লা হযরত নিমিষের মধ্যে উক্ত অংকের সমাধান পেশ করে দেন। এতে স্যার যিয়াউদ্দিন হতবাক হয়ে যান এবং এক সময় মন্তব্য করেন – “মনে হয় আ’লা হযরত এই বিষয়ে পূর্বেই গবেষণা করে সমাধান তৈরী করে রেখেছিলেন। বর্তমানে ভারতবর্ষে এটা জানার মত লোক নেই”।
(হায়াতে আ’লা হযরত)।
জামাতে ইসলামীর তৎকালীন নায়েবে আমীর কাউছার নিয়াজী বলেন, “আমি মনে করেছিরাম – ইসলামের কোন ইলম সম্পর্কে জানা আমার বাকী নেই। কিন্তু আ’লা হযরতের ফতোয়ায়ে রেজভীয়া পড়ে মনে হলো- আমি ইসলামি জ্ঞান সাগরের পাড়ে দাঁড়িয়ে আছি”। (আ’লা হযরত কনফারেন্স করাচী-কাউছার নিয়াজীর পঠিত প্রবন্ধ)।বিরুদ্ধ ভাবাপন্ন দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রধান মোহাদ্দেছ ইদ্রিস কান্দুলভী আ’লা হযরতের বিখ্যাত নাতিয়া কালাম- “মোস্তাফা জানে রহমত পে লাখো ছালাম” আদ্যেপান্ত পাঠ করে ভাবাবেগে বলে উঠেন “হাশরের দিনে ইমাম আহমদ রেযা (র:) তাঁর অতুলনীয় এই একটি অনুপম কসিদার কারণেই নাজাত পেয়ে যেতে পারেন। (আ’লা হযরত করফারেন্স, করাচী-কাউছার নিয়াজীর জীবনী।)
আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান (রহঃ)-এর কিছু গ্রন্থ পর্যালোচনা:
আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান (র:) দেড় হাজার কিতাব রচনা করে অতীতের অনেক রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। এক একটি কিতাবের পরিধিও ছিল উল্লেখযোগ্য। ফতোয়ায়ে রেজভীয়া ও কানযুল ঈমান গ্রন্থদ্বয়ই তার প্রমাণ। জ্ঞান বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় আ’লা হযরতের রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে নিম্মলিখিত কয়েকটি বহুল পরিচিত ও আলোচিত।
ফতোয়ায়ে রেজভীয়া:
১২৮৬ হিজরী থেকে ১৩৪০ হিজরী পর্যন্ত লিখিত বিভিন্ন বিষয়ের ফতোয়ার সমষ্টি। বর্তমানে ৩০ ভলিউমে সমাপ্ত। ফিকহী মাছায়েলের এমন কোন শাখা নেই। যা ফতোয়ায়ে রিজভীয়াতে বর্ণিত হয়নি। এক একটি মাসআলার উত্তরে তিনি নির্ভরযোগ্য ফিকাহর অসংখ্য দলীল এ রেফারেন্স উল্লেখ করে প্রশ্নকৃত মাসআলার উত্তর দিয়েছেন। যে কোন দক্ষ আলেম ও মুফতী ফতোয়ায়ে রেজভীয়া পাঠ করলে দলীলের সমাহার দেখে তাকে স্তম্ভিত হয়ে যেতে হয়। অতি সুহ্ম ও চুলচেরা বিশ্লেষণ সহকারে তিনি প্রশ্নসমূহের উত্তর দিতেন। ফতোয়ায়ে রশিদিয়া, বেহেস্তী জেওর নিয়ে বিরুদ্ধবাদীরা গৌরব করে- অথচ এগুলোতে শুধু সংক্ষেপেই উত্তর দেয়া আছে। দলীল খুব কমই দেখা যায়। চোখ বুঝে ভক্তরা বিশ্বাস করে নেন। কিন্তু আ’লা হযরতের প্রত্যেকটি ফতোয়ায় অসংখ্য দলীল আদিল্লা দ্বারা মাসআলাটি পরিস্কার ও বোধগম্য করে তোলা হয়েছে। এখানেই আ’লা হযরতের নিরপেক্ষতার প্রমাণ পরিস্ফুট হয়ে উঠেছে।
কানযুল ঈমান:
কোরআন মজিদের প্রামাণিক ও তাফসির ভিত্তিক উর্দ্দু অনুবাদ। আ’লা হযরত বিষয় ভিত্তিক আয়াতসমূহের একটি পৃথক তালিকা উক্ত অনুবাদে সংযুক্ত করেছেন, যাতে যে কোন বিষয়ে একজন জ্ঞানী ও গবেষক অতি সহজে একাধিক আয়াতের সন্ধান করে নিতে পারেন। বর্তমানে কানযুল ঈমান ও পার্শ্ব টীকা খাযায়েনুল ইরফানের বাংলা অনুবাদ করেছেন। মাওলানা আব্দুল মান্নান চট্টগ্রাম। কানযুল ঈমানের অনুবাদ অন্যান্য ১২ জন লেখকের ১২ টি অনুবাদের সাথে তুলনা করে দেখানো হয়েছে যে, আ’লা হযরতের অনুবাদটিই সর্বোত্তম এবং ইসলামী আকিদার সাথে সমাঞ্জস্যপূর্ণ। (ইমাম আহমদ রেযা আওর উর্দু তারাজামে কোরআন কা তাকবুলী জায়েযাহ)।
আদ্‌দৌলাতুল মক্কিয়া বিল মাআদ্দাতিল গাইবিয়া:
এই গ্রন্থটি আরবীতে রচিত। আট ঘন্টা সময়ের মধ্যে আ’লা হযরত আরবের মক্কা শরীফে বসে উক্ত গ্রন্থখানা রচনা করেছেন। মক্কার গভর্ণর (শরীফ)-এর নির্দেশে আ’লা হযরত (র:) নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অদৃশ্য বিষয়ক এলম বা ইলমে গায়েব এর উপর দেড়শত পৃষ্ঠার উক্ত কিতাবখানা লিখে ফেলেন। গভর্ণর পান্ডুলিপি দেখে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইলমে গায়েবের দলীলাদি দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান। তিনি এই কিতাব রচনায় কোন রেফারেন্স গ্রন্থ সাহায্য নেয়ার সুযোগই পাননি। শরীফ তাঁর কুতুবখানায় সংরক্ষিত একটি হস্তলিখিত কিতাবের সাথে মিলিয়ে দেখেন-উক্ত গ্রন্থের হুবহু দলীল ও উদ্ধতিসমূহ আদদৌলতুল মক্কিয়ায় বিদ্যমান। এতে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারলেন এবং আ’লা হযরতের হাতে বায়াআত হয়ে যান।
হুসসামুল হারামাঈন:
এই গ্রন্থখানা আ’লা হযরত “আল মো’তামাদ ওয়াল মোস্তানাদ” নামে আরবীতে রচনা করেন। এতে হিন্দুস্থানের ৫ জন আকাবিরীনে দেওবন্দ আলেমের কিতাবসমূহের বিভিন্ন উর্দ্দু উদ্ধৃতি উল্লেখ করে নীচে এগুলোর আরবী অনুবাদ করে ১৩২৪ হিজরীতে মক্কা মোয়াজ্জমা ও মদিনা মোনাওয়ারার ৩৩ জন মুফতীর খেদমতে পেশ করে তাঁদের মতামত চান। উক্ত ৫ জন দেওবন্দী ওলামাদের গ্রন্থসমূহে মন্তব্য ছিল নিম্মরূপ :
১.আল্লাহ মিথ্যা বলতে পারে, ২. নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মরে পঁচে গলে মাটির সাথে মিশে গেছেন, ৩. নবীজীর এলেমের চেয়ে শয়তানের এলেম বেশী ছিল, ৪. নবীজীর ইলমে গায়েবের মত এমন ইলমে গায়েব চতুস্পদ জন্তুরও আছে, ৫.মূর্খরা বলে থাকে খাতামুন্নাবীয়ীন অর্থ-শেষনবী,কিন্তু খাতামুন্নাবীয়ীন-এর প্রকৃত অর্থ শেষ নবী নয় – বরং মূল নবী। তার পরে এক হাজার নবীর আগমন ধরে নিলেও “খাতমুন্নবীয়ীন বা মূল নবী হওয়ার ব্যাপারে কোন সমস্যা হবে না”। হারামাঈন শরিফাঈনের ৩৩ জন মুফতী উক্ত এবারতসমূহ পর্যালোচনা করে ঐগুলোর লেখকগণকে সরাসরি কাফের ঘোষনা করেন। তাঁর উক্ত ফতোয়ার নাম হয় “হুসসামুল হারমাঈন” বা মক্কা-মদিনার তীহ্ম তরবারী। এটা বাতিল পন্থীদের বিরুদ্ধে আ’লা হযরতের অবিস্মরণীয় অমর কীর্তি। হুসসামুল হারামাঈন-এর বঙ্গানুবাদ করেছেন হাফেজ মাওলানা আব্দুল করিম নঈমী (মুলফতগঞ্জ) এবং সম্পাদন করেছেন।মাওলানা আব্দুল মান্নান।
আল কাওকাবাতুশ শিহাবীয়া ফি রদ্দে আবিল ওয়াহাবিয়া:
ইসমাঈল দেহলভীর রচিত ৭০টি কুফরী ও বাতিল আকিদা সম্পন্ন কিতাব “তাকভীয়াতুল ঈমান” এর খন্ডনে লেখা হয়েছে উক্ত গ্রন্থ। সংক্ষেপে ওহাবী আকিদা জানতে হলে উক্তগ্রন্থ পাঠ করা উচিত। ওহাবী সম্প্রদায়ের প্রতিটি বাতিল আকিদার বিরুদ্ধে আ’লা হযরত একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন।
আ’লা হযরত (রহঃ) চতুর্দশ হিজরী শতাব্দীর মোজাদ্দেদ ও সুন্নী আকিদার একমাত্র ইমাম :
আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা (র:) এয়োদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে অর্থাৎ ১২৮৬ হিজরী সাল হতে তাঁর তাজদিদী কার্যক্রম শুরু করেন এবং চতুর্দশ হিজরী শতাব্দীর শেষভাগে অর্থাৎ ১২৮৬ হিজরী সাল হতে তাঁর তাজদিদী কার্যক্রম শুরু করেন এবং চতুর্দশ হিজরী শতাব্দীর প্রথম দশকে তাঁর তাজদিদী কার্যক্রম জনসমক্ষে প্রকাশ পেতে থাকে। একজন মুজাদ্দিদ হওয়ার জন্য তাঁর এলেমের প্রাধান্য বিস্তার, এক শতাব্দীর শেষ ও পরবর্তী শতাব্দীর প্রথম ভাগে সংস্কার কার্যক্রম প্রকাশ এবং এর প্রতি জনগণের স্বীকৃতি প্রদান শর্ত। আ’লা হযরতের মধ্যে এই উভয়বিদ শর্তই বিদ্যমান ছিল বলে সে যুগের আরব ও আজমের মশহুর ওলামায়ে কেরাম ও মাশায়েখীনে ইজাম তাঁর মোজাদ্দেদ হওয়ার স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। বরিশাল জেলার নেছারাবাদের মাওলানা আজিজুর রহমান নেছারাবাদী (কায়েদ সাহেব) তার মুজাদ্দিদ গ্রন্থে আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান (রহঃ) কে চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ বলে বর্ননা করেছেন। তিনি তৎসঙ্গে প্রতি শতাব্দীর একজন করে মোট ১৩ জন মুজাদ্দিদের তালিকাও উক্ত গ্রন্থে প্রকাশ করেছেন।মক্কা মদিনাসহ সুন্নী জগতের ওলামাগণ বিনা ইখতিলাফে আ’লা হযরতকে চতুর্দশ শতাব্দীর সুন্নী মুজাদ্দিদ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
আ’লা হযরতের সংস্কার কার্যক্রমের প্রধান দিক ছিল আকায়েদ সংশোধন করা। ওহাবী-খারেজী-নজদী সম্প্রদায় আরব আজমসহ সর্বত্র বাতিল আকিদা সৃষ্টি করে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্তির অতল গহবরে নিক্ষেপ করেছিল। তৎকালে তারা ইংরেজদের মদদে নিত্য নতুন বাতিল আকিদার কিতাব রচনা করে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে লাগলো। ফলে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হলো। ওহাবী, কাদিয়ানী, বাহায়ী সম্প্রদায়ের সৃষ্টি হলো। মুসলমান সমাজ শতধা বিভক্ত হয়ে পড়লো। একদিকে মূল ইসলামী আকিদায় বিশ্বাসী সুন্নী মুসলমান. অন্যদিকে নব্য সৃষ্ট ওহাবী, খারেজী, কাদিয়ানী, বাহায়ী ফের্কার নতুন সম্প্রদায়সমূহ আকদাগত দ্বন্দে লিপ্ত হয়ে পড়লো। এই দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে ইংরেজরা আরবে ও ভারতে তাদের প্রভুত্ব বিস্তার করলো। ওহাবীরা কিতাবুত তাওহীদ, আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা (র:) এয়োদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে অর্থাৎ ১২৮৬ হিজরী সাল হতে তাঁর তাজদিদী কার্যক্রম শুরু করেন এবং চতুর্দশ হিজরী শতাব্দীর শেষভাগে অর্থাৎ ১২৮৬ হিজরী সাল হতে তাঁর তাজদিদী কার্যক্রম শুরু করেন এবং চতুর্দশ হিজরী শতাব্দীর প্রথম দশকে তাঁর তাজদিদী কার্যক্রম জনসমক্ষে প্রকাশ পেতে থাকে। একজন মুজাদ্দিদ হওয়ার জন্য তাঁর এলেমের প্রাধান্য বিস্তার, এক শতাব্দীর শেষ ও পরবর্তী শতাব্দীর প্রথম ভাগে সংস্কার কার্যক্রম প্রকাশ এবং এর প্রতি জনগণের স্বীকৃতি প্রদান শর্ত। আ’লা হযরতের মধ্যে এই উভয়বিদ শর্তই বিদ্যমান ছিল বলে সে যুগের আরব ও আজমের মশহুর ওলামায়ে কেরাম ও মাশায়েখীনে ইজাম তাঁর মোজাদ্দেদ হওয়ার স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। বরিশাল জেলার নেছারাবাদের মাওলানা আজিজুর রহমান নেছারাবাদী (কায়েদ সাহেব) তার মুজাদ্দিদ গ্রন্থে আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান তাকভীয়াতুল ঈমান, তাহযিরুন্নাছ, সিরাতে মোস্তাকিম, ফতোয়ায়ে রশিদিয়া, বারহীনে কাতেয়া, বেহেস্তী জেওর, হেফযুল ঈমান, ইসলামের রুছুম-প্রভৃতি বাতিল ও ক্রিয়াকর্মকে শিরক ও বিদআত বলে প্রচার করতে লাগলো। তারা ঘোষণা করলো- “যারা রাসূলকে হায়াতুন্নবী মানবে, ইয়া রাসূলাল্লাহ বলে সম্বোধন করবে, মিলাদ কিয়াম করবে, রাসূলকে হাযির নাযির বলে বিশ্বাস করবে, নামাযে রাসূলকে ছালাম করার সময় রাসূলের খেয়াল করবে, যারা“খাতাবুন্নবীয়ীন” শব্দের অর্থ করবে শেষ নবী বলে, যারা আযানের দোয়ায় হাত তুলবে, যারা নবী বখ্শ, গোলাম কাদের, গোলাম জিলানী ও গোলাম আলী ইত্যাদি নাম রাখবে- তারা গোমরাহ, বেদয়াতী ও মুশরিক”। এভাবে ওহাবীরা ভারতের সর্বত্র শিরক বিদআতের বাজার বসিয়ে সুন্নী মুসলমানকে মুশরিক ও বিদআতী বলে আখ্যায়িত করতে লাগলো। ফলে বিভেদ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হাঙ্গামার সূত্রপাত হলো। এই সুযোগে ইংরেজরা হিন্দুদের সহায়তায় মুসলমানদেরকে নাস্তনাবুদ করে ছাড়লো। উপরে উল্লেখিত ওহাবী কিতাবসমূহ শিরক-বিদআতের উপরোক্ত ঘোষণাগুলো লিপিবদ্ধ আছে এবং এখনো কাউমী খারেজী মাদ্রাসায় এগুলোর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে।ভারতীয় মুসলমানদের এই ঘোর দুর্দিনে যিনি কলম তরবারীর মাধ্যমে বাতিল পন্থীদের উক্ত বে-দ্বীনি লেখনীর মোকাবেলা করে এগুলোকে কচুকাটা করেন সরল ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণকে দাঁতভাঙ্গা জবাব প্রদান করে ইসলামী আকায়েদকে স্বস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেন-তিনিই হচ্ছেন হিজরী চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দেদ ও ইমামে আহলে সুন্নাত আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী (র:)। তাঁর আকায়েদ গ্রন্থগুলো পাঠ করেই আজ এ দেশে নতুন উদ্যমে বাতিলের মোকাবেলায় সামনে এগিয়ে চলেছে এদেশে তৈরী হচ্ছে সুন্নী আদর্শের নতুন কাফেলা-আ’লা হযরতের আদর্শের অসংখ্য সৈনিক। আ’লা হযরত (র:) আমাদের ঈমান ও আকায়েদ রক্ষাকারী, বাতিল আকি¦দা হতে মুক্তিদাতা।
তিনি জীবদ্দশায়ই তার আদর্শ সৈনিক তৈরী করে গিয়েছেন। সদরুল আফাযেল মওলানা নাঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী, হামেদ রেযা খান, সদরুশ শরীয়াহ হযরত মাওলানা আমজাদ আলী, মালিকুল ওলামা মাওলানা যখরুদ্দীন বিহারী-প্রমুখ শাগরিদ মনিষীগণের প্রত্যেকেই ছিলেন যুগের ওহাবী-শিকারী বাজপাখী এবং কলম সম্রাট। সদরুল আফাযেলের আতইয়াবুল বয়ান, তাফসীরে খাজায়েনুল ইরফান, মাওলানা আমজাদ আলীর বাহারেশরীয়ত, মাওলানা হাশমত আলীর ইসলাহে বেহেস্তী জেওর-প্রভৃতি গ্রন্থ প্রসিদ্ধ।
আ’লা হযরত (র:) আধ্যাত্মিক জগতের এক কামিল মহাপুরুষ ছিলেন। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ,আরব, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে আর অসংখ্য মুরীদ ও ভক্ত। জববলপুর, বোম্বাই ও মাদ্রাজে তার মুরীদের সংখ্যা সর্বাধিক। অর্ধশতাব্দী ব্যাপী কলমযুদ্ধ চালিয়ে বাতিলের কিল্লায় মারাত্মক আঘাত হেনে এবং দ্বীন ও সুন্নীয়তের মশাল জ্বালিয়ে আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান (র:) ২৫ শে সফর১৩৪০ হিজরী মোতাবেক ১৯২১ খৃষ্টাব্দে ৬৮ বৎসর বয়সে পরপারে মাওলায়ে হাকিকী ও মাহবুবে এলাহী প্রেমাস্পদের সান্নিধ্যে গমন করেন। প্রতি বৎসর বেরেলী শরীফে তাঁর ওফাত দিবসে অগণিত ভক্তগণের উপস্থিতিতে 'উরছে আ’লা হযরত' পালিত হয়।
মহান আল্লাহ পাক আ’লা হযরত (র:) কে রফয়ে দরজাত ও
জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। আমিন।
----সুত্র : আল্লামা এম এ জলিল (রহ:)

09/03/2024
৩০ ফেব্রুয়ারীর ঐতিহাসিক তথ্য--------------‐----------------------------ইতিহাসে শুধুমাত্র একবার এমন সময় এসেছিল যখন ক্যালে...
29/02/2024

৩০ ফেব্রুয়ারীর ঐতিহাসিক তথ্য
--------------‐----------------------------
ইতিহাসে শুধুমাত্র একবার এমন সময় এসেছিল যখন ক্যালেন্ডারে ৩০ ফেব্রুয়ারি যোগ করতে হয়েছিল। সুইডেন একটি ডাবল লিপ ইয়ারের অংশ হিসেবে ১৭১২ সালের ক্যালেন্ডারে ৩০ ফেব্রুয়ারি যুক্ত করেছিল।

সুইডিশ সাম্রাজ্যের (যে সময় ফিনল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল) জুলিয়ান পঞ্জিকার পরিবর্তে ১৭০০ সাল থেকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার শুরু করে এবং পরবর্তী ৪০ বছরের জন্য লিপ দিনগুলো বাতিলের পরিকল্পনা করা হয়। যদিও ফেব্রুয়ারি ১৭০০ সালে অধিবর্ষ দিনটি বাদ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু পরের বছরই গ্রেট নর্দার্ন যুদ্ধ শুরু হয়, সুইডিশদের পক্ষে এই সময় ক্যালেন্ডার পরিবর্তনে মনোনিবেশ করা সম্ভব হয়নি, ফলে পরবর্তী দুইবার অধিবর্ষে অতিরিক্ত দিনগুলো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি এবং ১৭০৪ এবং ১৭০৮ সালে পূর্বের মতো অধিবর্ষ পালন করা হয়।

বিভ্রান্তি এবং আরো ভুল এড়ানোর জন্য, ১৭১২ সাল থেকে পুনরায় জুলিয়ান পঞ্জিকা ব্যবহার শুরু করা হয়, এই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে অধিবর্ষ দিনটি ছাড়াও অতিরিক্ত একটি দিন যোগ করা হয় এবং ওই বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ৩০ দিন ছিল। এই তারিখটি জুলিয়ান পঞ্জিকার মধ্যে ফেব্রুয়ারি ২৯ এবং গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে মার্চ ১১ তারিখ নির্দেশ করে। সুইডিশদের গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকাতে পরিবর্তন সম্পন্ন হয় ১৭৫৩ সালে, ওই বছর ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ ১১ দিন বাদ দিয়ে এটি সম্পন্ন করা হয়।

তবে ফেব্রুয়ারি ৩০ তারিখটি কিছু ক্যালেন্ডারে থাকলেও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে এটি ব্যবহার করা হয় না।

প্রসঙ্গ: শবে বরাত------------------------আরবিতে লাইলাতুল বরাত, হাদিসের ভাষায় লাইলাতুন নিসফিমিন শা'বান। মুসলমানরা এই রাতে...
24/02/2024

প্রসঙ্গ: শবে বরাত
------------------------
আরবিতে লাইলাতুল বরাত, হাদিসের ভাষায় লাইলাতুন নিসফি
মিন শা'বান। মুসলমানরা এই রাতে বেশী বেশী ইবাদত করে। কুরআন তেলাওয়াত, জিকির আজকার, নফল নামায, সালাতুত তাসবিহ, তাহাজ্জুদের নামায, কবর জিয়ারত, দান সদকা সব কিছু অন্য সময়ের চেয়ে বেশি আদায় করে। কেউ কেউ শবে বরাত বিদায়াত বলে মানুষ কে ইবাদত থেকে দূরে রাখতে বিভিন্ন মাহফিল, টিভি টকশো সহ মিডিয়াতে প্রপাগান্ডা চলাচ্ছে। মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, বান্দা আমার রহমত থেকে নৈরাশ হয়োনা, এই মহিমান্বিত রাতে মসজিদে আসুন, ইবাদতের দিকে চলে আসুন।
পরদিন কমপক্ষে একটি রোজা রাখবেন।
সালাতুত তাসবিহ নামাজ পড়তে নিয়মটি জেনে নিন।

জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসা
20/02/2024

জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসা

11/02/2024

ইংরেজিতে অনার্স, মাস্টার্স
আলিম পর্যন্ত দক্ষতার সাথে পাঠদানে সক্ষম
মহিলা শিক্ষক জরুরী আবশ্যক।
যোগাযোগ: 01309104703

11/02/2024

আলহামদুলিল্লাহ
️বাংলাদেশের আকাশে আজ শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেছে।
২৫শে ফেব্রুয়ারী
পবিত্র শব ই বরাত

08/02/2024

আনে ওয়ালা হে মেহবুব মেরা
আরশ কুরছি ফেরেশতৌঁ ছাজাও
ছরদে করদো জাহান্নাম কি আতীশ
আওর জান্নাতকা দুলহান্ বানাও।

30/01/2024

জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় ফাযিল ১ম বর্ষ ২০২৩-২৪ সেশনে সরাসরি মাদ্রাসায় এসে ভর্তি হতে পারবে
01309104703

জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় ফাজিল পাস কোর্সে  ভর্তি শুরু ,,,,সরাসরি মাদ্রাসায় এসে ভর্তি হবে২১/১/২৪ খ্র...
21/01/2024

জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া মহিলা কামিল মাদ্রাসায় ফাজিল পাস কোর্সে ভর্তি শুরু ,,,,
সরাসরি মাদ্রাসায় এসে ভর্তি হবে
২১/১/২৪ খ্রি: হতে

Address

Muradpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jamea Ahmadia Sunnia Mohila Madrasah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to Jamea Ahmadia Sunnia Mohila Madrasah:

Share