02/04/2026
আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না..
বর্তমান সময়ে আমরা অনেকেই আমাদের সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষার জন্য হিফজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে আগ্রহী। এটি নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, কিছু প্রতিষ্ঠান “আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন” নাম ব্যবহার করে বাহ্যিক চাকচিক্য ও আকর্ষণীয় পরিবেশ দেখিয়ে অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করছে।
চমৎকার আলোকসজ্জা, সুন্দর ভবন, আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন—সবকিছু দেখে অনেকেই ভাবেন এখানেই হয়তো সর্বোত্তম শিক্ষা দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় এমন নাও হতে পারে। আমাদের জামিয়ার আশেপাশে এমন কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, যেখান থেকে ছাত্ররা আমাদের এখানে ভর্তি হতে আসার পর খোঁজ নিয়ে জানা যায় ৩ বছরে মাত্র ৫ পারা পড়েছে,সেখানে ছাত্রদেরকে"বেফাক,তানযীম পরীক্ষা ও দেওয়ানো হয়না।
আমাদের জামিয়ার এক উস্তাদের নিকট ওই মাদরাসার এক ছাত্র ইন্টারভিউ দেয়,ওই হুজুরের ভাষ্য হলো "গতকাল এক ছাত্র বিশেষ জামাত ভর্তি হওয়ায় জন্য আসে সে কোরআন শরীফ নাযেরা পড়তে পারে না, বাংলা রিডিং পারে না কিন্তু তার আব্বা বলছে আমি তাকে এক প্রতিষ্ঠানেই ৯ বছর পড়িয়েছি। এবং সে ঐ প্রতিষ্ঠানের ১ নম্বর ছাত্র"
এমন আরো অনেক উদাহরণ রয়েছে।
একজন অভিভাবক হিসেবে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে সিদ্ধান্ত নিলে চলবে না।
বরং খোঁজ নিন—
★শিক্ষকদের যোগ্যতা কেমন
★শিক্ষার মান ও পদ্ধতি কী
★বেফাক ও তানযীম বোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কি না,
★পূর্বের শিক্ষার্থীদের সফলতা কেমন
★মনে রাখবেন, আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ কোনো পরীক্ষার বিষয় নয়। ভুল সিদ্ধান্ত তার জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই সচেতন হোন, যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিন। শুধুমাত্র নাম বা বাহ্যিক পরিবেশ দেখে নয়, প্রকৃত মানের ভিত্তিতেই আপনার সন্তানের জন্য সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করুন।
এ সমস্ত ধোঁকাবাজ প্রতিষ্ঠানকে বয়কট করুন