Pabna University of Science & Technology

Pabna University of Science & Technology Pabna University of Science and Technology (PUST) is a government financed public university in Bangladesh.

29/08/2025

শুনলাম একজন বলছেন যে, গাড়ির সমস্যা হলে ধোলাই খাল যান দেখবেন ১০-১২ বছরের একটা ছেলে ১০ মিনিট এদিক সেদিক করে নাকি বলে ফেলবে আপনার গাড়ির কি কি সমস্যা। কিন্তু সেটা বুয়েটের ইলেকট্রিকাল অথবা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে নিয়ে গেলে নাকি তারা বোকার মত, বলদের মত তাকাইয়া থাকবে। তারা নাকি বলবে ভাই এইটা কি জিনিস? আরও বলবে তাদেরতো এইটা এখনো পড়ায়নি, নেক্সট সেমিস্টারে বা ফোর্থ সেমিস্টারে পড়াবে ইত্যাদি।

শুনেন আপনারা যারা এমন ভাবেন তারা মেকানিক অথবা টেকনিসিয়ান আর ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে পার্থক্য বুঝেন না। শুধু ধোলাই খাল কেন আপনি নীলক্ষেত বা এলিফ্যান্ট রোডে যান এমন অনেক স্কিলড ছেলেপেলে পাবেন যাদের কাজ কর্ম দেখলে আপনি আশ্চর্য় হয়ে যাবেন। ওদের কাজের মূল্য আছে। সমস্যা কি জানেন? ওরা একই কাজ দেখতে দেখতে, করতে করতে মুখস্ত করে ফেলে। এইটাকে বলে স্কিল। এইটা জ্ঞান না। এখন ধোলাই খালের ১২ বছরের ছেলে গাড়ির সমস্যা ১০ মিনিট ঘেটেঘুটে বলতে পারে বলে বিশ্বসেরা গাড়ির কোম্পানি তাকে ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে বিশাল বেতনে চাকুরী দিবে না বা এমআইটি, ক্যালটেক তাকে পিএইচডি করতে টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দিবে না।

যিনি বলেছেন তিনি ২৪এর গণ অভ্যুথানের পর উদয় হওয়া বড় রাজনীতিবিদ। হয়তবা আগামীর বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কেউ হবেন। উনি যদি এমন ভাবেন তাহলে এই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি মারাত্মকভাবে শংকিত। উনার কথার মাধ্যমে মনে হচ্ছে যেন বুয়েটে পড়ে গরু গাঁধা তৈরী হচ্ছে। উনার হয়ত আরও মনে হতে পারে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও একইরকম বলদ তৈরী হচ্ছে। যেই পরিমান অর্থ বাংলাদেশের শিক্ষায় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তারপরেও যে দেশ কিছু বিশ্বমানের স্কলার তৈরী করছে এইটাই আশ্চর্যের। আমার সাথে থিসিস করে বা গবেষণা করেছে এমন ৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী এখন আমেরিকায়। আর শ্রেণিকক্ষে পড়িয়েছি এমন শিক্ষার্থী ধরলে এই সংখ্যা বিশাল। এদেরকে যদি ফিরিয়ে আনা যেত তাহলে দেশের অবস্থা এমন হতো না।

একটু খোঁজ নিয়ে দেখবেন বুয়েট থেকে পাশ করে প্রতিবছর কত জন ছাত্রছাত্রী বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে। তারা তাদের সমস্ত খরচাদি দিয়ে নিয়ে যায়। কেন নেয়? তারাতো দেখে না শিক্ষার্থীটা ১০ মিনিটে গাড়ির সমস্যা বলে দিতে পারে কিনা। যেই দেশের একজন শিক্ষিত মানুষ বুয়েট সম্মন্ধে এমন ধারণা পোষণ করে সেই দেশ কিভাবে সামনে আগাবে। কারণ উনার মত মানুষেরাই নির্ধারণ করবে শিক্ষায় বরাদ্দ কত হবে, গবেষণায় বরাদ্দ কত হবে? শিক্ষকদের বেতন কেমন হওয়া উচিত। প্লিজ জ্ঞান এবং স্কিলের পার্থক্য আগে জানুন এবং শিখুন। গতকালকেই এইটা নিয়ে লিখেছিলাম।

বুয়েট কেমন মানুষ তৈরী করেছে? বুয়েট তৈরী করেছে এফ আর খান। তাঁর দূরদর্শিতা, সৃজনশীল নকশা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা তাকে বাংলাদেশে স্থাপত্যের ক্ষেত্রে একটি কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁকে প্রায়শই “স্থাপত্যের আইনস্টাইন” বলা হয়, কারণ তিনি জটিল স্থাপত্য নকশায় বৈজ্ঞানিক চিন্তা ও শিল্পের নিখুঁত সমন্বয় দেখিয়েছেন। বুয়েট তৈরী করেছে ফাজলে হুসাইন। তিনি ফ্লুইড ডাইনামিক্সের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিখ্যাত গবেষক। তরল প্রবাহ এবং জটিল ফ্লুইড সমস্যার গবেষণায় তাঁর অবদান অসাধারণ। বুয়েট সায়িফ সালাহউদ্দিনের মত প্রতিভাবান বিজ্ঞানী তৈরী করেছে যিনি আজ Caltech-এর ফ্যাকাল্টি এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক। এইরকম আরও অসংখ্য নাম নেওয়া যাবে যারা বিশ্বের নামিদামি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি। এরা জ্ঞানের ফ্রন্টিয়ার দেয়ালকে সামনে নিয়ে যায়। যাদের নাম এখানে নিলাম তারা দক্ষতার চেয়ে জ্ঞানের জন্য বেশি বিখ্যাত।

বুয়েট থেকে পাশ করে অসংখ্য শিক্ষার্থী গুগল, ইন্টেলসহ বিশ্বের নানা বড় বড় কোম্পানিতে চাকুরী করছে। আপনাদের মত মানসিকতার মানুষদের জন্যই আমাদের দেশের মেধাবীরা দলে দলে দেশ ছাড়ছে। মেধাবীদের মূল্যায়ন না করলে মেধাবীরা থাকবে কেন?

©
Kamrul Hassan Mamun
Professor
Department of Physics
University of Dhaka

14/07/2025
29/03/2025

পার্লামেন্টারি সিস্টেম অফ গভর্নমেন্ট সেই দেশেই সফল হয় যেই দেশের মানুষ সভ্য, শিক্ষিত এবং সচেতন। একটা থ্রেশোল্ড সংখ্যক মানুষ সভ্য, শিক্ষিত এবং সচেতন না হলে এই সিস্টেমটা চলে যায় মাফিয়াদের দখলে। খারাপ মানুষেরা সহজে একত্রিত হতে পারে। খারাপ মানুষরা একত্রিত হতে শিখে গেলে সেই সিস্টেম আর কাজ করে না তার চরম উদাহরণ বাংলাদেশ। গত সরকার স্থানীয় সরকার সিস্টেমটাকে এমনভাবে পরিবর্তন করেছে যাতে দলের বাহিরে, তাও আবার সরকারি দল, কেউ যেন নির্বাচনে আসতে না পারে। খুবই যোগ্য একজন মানুষ যদি দেশের সরকার প্রধান হতে হয় তাকে প্রথমে দল করতে হবে। দল গঠন করে বড় দুই দলের চ্যালেঞ্জ জয় করতে হবে, নির্দিষ্ট সংখ্যক এমপি সেই দল থেকে জয় লাভ করতে হবে তারপর প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশের জন্য আসলে দরকার প্রেসিডেনশিয়াল ফর অফ গভর্নমেন্ট। আমি এর বিকল্প কিছু দেখি না। প্রেসিডেন্ট সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। ফলে সরাসরি সারা দেশের মানুষের আস্থা নিয়ে দেশ পরিচালনার সুযোগ তৈরী হয়। এর মাধ্যমে নতুন নেতা হওয়ার পথ একটু সুগম হয়। পার্লামেন্টারি সিস্টেম অফ গভর্নমেন্ট মানেই হলো প্রত্যেকটা কনষ্টিটুয়েন্সিতে একেকজন এমপি মানে এক জন মাফিয়ার জন্ম নেওয়া। আর আমাদের দেশে কেউ একবার এমপি নির্বাচিত হলে পরের বছর দল আবার তাকেই মনোনয়ন দেয়। কয়েকবার দিতে দিতে ওই এমপিকে ওই এলাকার স্থায়ী রাজা বানিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের দলগুলো কেউ ব্যর্থ হলে নতুন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া ঝুঁকি নেয় না। আমাদের এমপিরা গোটা কনষ্টিটুয়েন্সির একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। আমার মতে আমাদের উচিত প্রেসিডেনশিয়াল ফর্ম অফ গভর্ণমেন্টে ফিরে যাওয়া। যদি কখনো আমরা সভ্য, শিক্ষিত এবং সচেতন জাতি আমরা তখন আবার পার্লামেন্টারি সিস্টেম অফ গভর্নমেন্ট-এ ফিরে যাব।

বিএনপি কি চায় তা দিন যত যাচ্ছে ততই পরিষ্কার হচ্ছে। সংস্কার কমিটি প্রস্তাব করেছে কেউ দুই বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না। বিএনপি প্রস্তাব দিল রাশিয়ার মডেল। সেটা কি? রাশিয়ার সিস্টেম হলো এক নাগারা কেউ দুইবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না। তাই পুতিন কি করেছিল? মাঝে একবার তার এক অনুগতকে প্রেসিডেন্ট বানিয়ে এক টার্ম পর আবার ফিরে এসেছে। এইভাবে যুগের পর যুগ ক্ষমতায় থাকার পথ তৈরী করেছে। বিএনপিরও একই প্রস্তাব এবং সেটা হলো এক নাগারা কেউ দুইবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না। মাঝে একজন অনুগতকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে কয়েকমাস পর আবার তাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী হবে এবং যুগ যুগ ধরে হতেই থাকবে।

20/03/2025

বিজ্ঞান গবেষণাগারে সচিবদের কাজ কি?

এখানে কোন দ্বন্দ্বের বিষয় না। এটা যৌক্তিক প্রশ্ন।
এই সামান‍্য বোধটুকু আমাদের নাই কেন?

দুনিয়াতে জ্ঞান-গবেষণা ছাড়া, কোথাও উচ্চতর ডিগ্রি, প্রতিনিয়ত পড়াশুনা, ট্রেইনিং, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ, কনফারেন্স এগুলোর দরকার হয় না।

বা তুলনামূলক কম দরকার হয়।

সারা দুনিয়াতেই এই সেট-আপ। কালচার।

একজন মানুষ ইউনিভার্সিটির এসিসট‍্যান্ট প্রফেসর হতেই তার উচ্চতর ডিগ্রি লাগে। অনেক সময় কয়েক বছরের পোস্টডক লাগে। অনেকগুলো ভালো পাবলিকেশন লাগে।
বিজ্ঞান গবেষণাগারে কাজ করতে গেলেও তাই।

বিশ্ববিদ‍্যালয়, বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান—এগুলোতে প্রশাসনিক লোকদের প্রভাব খাটানোর কিছু নাই। তাদের অপ্রোয়াজনীয় সম্পৃক্ততারও কিছু নাই।

বিশ্ববিদ‍্যালয় ও বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানকে জাগাতে হবে। কালের সেরা যোগ‍্য মানুষদের নিয়োগ দিয়ে এগুলোকে বিশ্বমানের করতে হবে। তাহলে এসব প্রতিষ্ঠানের জন‍্য আলাদা বেতন-ভাতার কাঠামো তৈরি করতে হবে। এখানে জাতীয় স্কেলে সবাইকে মাপলে সবকিছুকে জাগানো যাবে না।

আমাদের দেশে এক আজব সংস্কৃতি। কাকে কোথায় দিবে, এই চর্চাটুকু পর্যন্ত এখনো হচ্ছে না। সেনা বাহিনীর লোক নিয়ে দিয়ে রাখবে ওষুধ নিয়ন্ত্রণে। সচিবের অফিস থাকবে বিআরইসিএম-এ। —কেন?

দুনিয়ার ভালো বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলো, গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে চলে—সেটা কি আমরা চোখে দেখি না। নাকি দেখেও বুঝি না। দেশের ভিতরেই আইসিডিডিআরবি কিভাবে চলে, একটু দেখেন।

২৪’এর অভ‍্যুত্থানে পর যদি এইসব প্রশাসনিক কাঠামো, অযথা নিয়ন্ত্রণ কিংবা ইগো-কেন্দ্রিক মনোঃস্তাত্বিক সংস্কৃতি দূর না হয়, তাহলে বাংলাদেশকে আর দাঁড় করাতে হবে না।
…………………
Rauful Alam

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাগণ কি বিষয়ে উপর গবেষণা করছেন এবং গবেষণা কোন পর্যায়ে আছে তা যাচাই ও মনিট...
20/03/2025

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাগণ কি বিষয়ে উপর গবেষণা করছেন এবং গবেষণা কোন পর্যায়ে আছে তা যাচাই ও মনিটরিং এর জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। তিন জন সদস্য কারা? একজন অতিরিক্ত সচিব, একজন যুগ্ম সচিব এবং সদস্য সচিব হিসাবে একজন সিনিয়র সহকারী সচিব ওই কমিটিতে আছেন।

পরমাণু শক্তি কমিশনের মত একটি গবেষণা ধর্মী প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা কি বিষয়ে গবেষণা করছেন আর তারা গবেষণার কোন পর্যায়ে আছেন এইটা আমলারা কি করে বুঝবেন? আমার পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের একেকজন একেক বিষয়ে গবেষণা করে এবং আমি অধিকাংশ সহকর্মীদের গবেষণার বিষয় বুঝে তারা গবেষণার কোন স্টেজে আছে সেটা বোঝা পদার্থবিজ্ঞানের হেয় অন্য ফিল্ডের গবেষকদের পক্ষে কঠিন। আর এখানে আমলাদের করা হয়েছে যাদের কারো পিএইচডি ডিগ্রীই নাই এবং হয়ত তারা পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন বা ইঞ্জিনিয়ারিং এরই না। উল্লেখ্য পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানীরা মূলত এই ৩ বিষয়েরই হয়।

একজন বিজ্ঞানীর কাজ তদারকি করবে একজন মাস্টার্স বা এমফিল করা একজন? এইসব কেবল এই বাংলাদেশেই সম্ভব! আমার এক ছাত্র পরমাণু শক্তি কমিশন সাভারে কর্মরত ছিল। একদিন নাকি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ওখানে ল্যাব মনিটরিং-এ গিয়েছিল। ল্যাব দেখে আর গবেষকদের বলে এইসব গবেষণা করে দেশের কি লাভ? শুধু তাই না। মন্ত্রণালয়ের অধীনে গবেষণা প্রকল্প জমা দিলে সেখানেও নাকি অধিকাংশ সময়েই প্রশ্ন থাকে এই প্রকল্পে যেই গবেষণার কথা বলা হচ্ছে সেই গবেষণায় দেশের কি কাজে লাগবে। এই ধরণের প্রশ্ন শুনলে আমার মাথায় পাগ উঠে।

যারা সব কিছুর মধ্যে লাভ খুঁজে এরা হলো চরম বোকা আর লোভী। গণিতে গবেষণার কথা ভাবুন। গণিতে কোন গবেষণার কোন সরাসরি লাভ নাই যা চোখে দেখা যাবে এবং হাতে ধরা যাবে। এখন কি পৃথিবী থেকে গণিতের গবেষণা বন্ধ করে দিতে হবে? ওদের ফান্ড দেওয়া বন্ধ করে দিতে হবে? গণিত ও ফান্ডামেন্টাল সাইন্স যেমন পদেরবিজ্ঞানের নানা বিষয়ের গবেষণা মানুষের মস্তিষ্ককে উন্নত করে। এটি ব্রেইনের জিমনাসিয়ামের মত। ওই উন্নত ব্রেইন দিয়ে তখন উন্নত গবেষণা হয়। এছাড়া গণিত ও ফান্ডামেন্টাল সাইন্স এর অনেক গবেষণা ভবিষ্যৎ উন্নত প্রযুক্তির সূতিকাগার। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো গত বছরের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার। ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে জন জে. হপফিল্ড এবং জিওফ্রি হিন্টনকে প্রদান করা হয়েছে "কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং সক্ষম করার ক্ষেত্রে মৌলিক আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের জন্য। যখন এরা মৌলিক আবিষ্কারগুলো করছিলেন তখন কেউ কল্পনাও করেনি তাদের এই কাজ একদিন প্রযুক্তির নতুন দুয়ার খুলে দিবে।

তাই মনিটরিং এর নামে বসিং করা বন্ধ করুন। দেশকে যদি সত্যিকারের ভালোবাসেন তাহলে বিজ্ঞানীদের সম্মান করতে শিখুন। তাদেরকে প্রতিপক্ষ ভাবা বন্ধ করুন। নিজের ওয়েইট মাপুন। Dunning–Kruger effect সিন্ড্রোমে ভুগবেন না। কেউ পিএইচডি অফার পেলে তাকে দ্রুত ছুটি মঞ্জুরে সহায়তা করুন। কেউ বিদেশে পোস্ট-ডক অফার পেলে তাকে congratulate করে তাকেও সাহায্য সহযোগিতা করুন। এই জন্যই আমি বলি দেশের শিক্ষা ও গবেষণাকে বাঁচাতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন, পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ ইত্যাদিকে মন্ত্রণালয়মুক্ত করতে হবে।

পাকিস্তান অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন (PAEC) একটি স্বাধীন সরকারি সংস্থা, যা কেন্দ্রীয়ভাবে অর্থায়নপ্রাপ্ত কিন্তু কোন মন্ত্রণালয় এর উপর ছড়ি ঘুরায় না। এটি পারমাণবিক শক্তির গবেষণা ও উন্নয়ন, পারমাণবিক বিজ্ঞানের প্রচার, জ্বালানি সংরক্ষণ এবং পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাজ করে। অন্যদিকে ভারতের অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন হল ভারতের পরমাণু শক্তি বিভাগ (DAE)-এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই বিভাগ সরাসরি দেশের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিচালিত হয়। এইটাকে কতটা গুরুত্ব দিলে এটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কর্তৃক পরিচালিত। এরপরেও ভারতের আমলারা বিজ্ঞানীদের সম্মান করে। তারা খবরদারি করে না। তারা সাচিবিক কাজ করতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করে।

© Kamrul Hasan Mamun

20/03/2025

বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ‍্যালয়ের মতো অদ্ভুত নিয়ম দুনিয়ার আর একটা দেশেও নাই।

যে মানুষটা ব‍্যাচেলর বা মাস্টার্স করে লেকচারার পদে নিয়োগ পেলো, সে ১০ বছর শিক্ষকতার যদি ৬-৭ বছর বিদেশে পড়াশুনার জন‍্য ব‍্যায় করে, তাইলেও তার ১০ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা গণ‍্য করা হয়। সেই ৬-৭ বছর বিদেশে থেকে, দেশের বিশ্ববিদ‍্যালয়ে একটা ক্লাস না নিয়েও বেতন খাড়া থাকে।

আমি যে জায়গাটাতেই নাই, যেখানে কোন কাজই করলাম না, সেখান থেকে কি করে বেতন পাই? এর চেয়ে উত্তম মধু পৃথিবীর কোথাও নাই।

এবং এই ১০ বছরের মধ‍্যে সে এসোসিয়েট প্রফেসর হয়ে যেতে পারে। হয়েছে এবং হচ্ছে।

আর যদি কেউ ব‍্যাচেলর শেষ করে, বিদেশে গিয়ে পিএইচডি-পোস্টডক শেষে দেশে ফিরতে চায়, তাকে আমরা বিশ্ববিদ‍্যালয়ে সহজে নিতে চাই না। অনেক ভালো মানের গবেষণা থাকলেও তাকে আমরা এসোসিয়েট প্রফেসর পদে নিয়োগ দিতে চাইবো না। কোন না কোন ছুতায়, আটকে দেয়ার একটা ব‍্যবস্থা করা আছে।

অথচ সে দেশের টাকা বাঁচালো। অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিজেকে প্রস্তুত করে শিক্ষকতা ও গবেষণায় আসতে চাইলো। কিন্তু তার জন‍্যই পথগুলো কাঁটাময় করে রাখা হলো।

এমন একটা অদ্ভুত আনপ্রোডাক্টিভ নিয়মে, দেশের বিশ্ববিদ‍্যালয়ের তরুণরা কি করে পৃথিবীতে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখবে? দিন শেষে ওদের রাজনীতি, টিউশনি আর অনর্থক সময় নষ্ট করা ছাড়া খুব বেশি পথও থাকে না।

বীজতলাটাই নষ্ট করে রাখা হয়েছে। উত্তম বীজগুলোও সেখানে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারে না।
এমন একটা নিয়মে, রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন কেন হবে? কোন দেশে হয়েছে?

একটা ব‍্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ কি দেশে গিয়ে নেতা বা সমন্বয়ককে বলবে—আমি বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষক হবো! বরং সে একটা প্রতিযোগিতামূলক সিস্টেমের ভিতর দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে প্রস্তুত থাকবে।

“রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন”, রাষ্ট্র উদ‍্যোগ নিয়ে করে। টেলেন্ট হান্ট প্রজেক্ট নেয়। নাইলে হয় না। কোন দেশে হয়নি।
…………….
Rauful Alam

20/03/2025

বাংলাদেশে গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। বিশেষত, আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক প্রোগ্রাম এবং কর্মশালাগুলোতে যোগদানের সুযোগ বিজ্ঞানীদের পাওয়ার কথা, কারণ এই ধরনের প্রোগ্রাম গবেষণা জ্ঞান সমৃদ্ধ করে এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেয়। অথচ এসব ক্ষেত্রে যোগ্য বিজ্ঞানীদের বাদ দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাঠানোর ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

IAEA-এর মতো সংস্থা যাদের মূল লক্ষ্য বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা, তাদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বিজ্ঞানীদের মনোনীত করার কথা বলা হলেও, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাঠানোর প্রবণতা আসলেই হতাশাজনক। একজন অতিরিক্ত সচিব বা সিনিয়র সহকারী সচিব এসব বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক কর্মশালায় গিয়ে কোনো বাস্তব অবদান রাখতে পারেন না, বরং দেশের প্রকৃত গবেষণা উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করে দেন। এতে শুধু বিজ্ঞানীদের মনোবল ভেঙে যায় না, বরং ভবিষ্যৎ গবেষণা উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হয়।

আরও হতাশার বিষয় হলো, একজন বিজ্ঞানী যখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত JSPS পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপের মতো মর্যাদাপূর্ণ সুযোগ অর্জন করেন, তখন তাকে ছুটি না দেওয়ার ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং জাতীয় গবেষণা উন্নয়নের বিরুদ্ধেও এক ধরনের অন্যায়। এই ধরনের সুযোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একজন বিজ্ঞানী নতুন প্রযুক্তি এবং গবেষণা পদ্ধতি শিখে দেশে ফিরে আরও সমৃদ্ধ গবেষণা পরিচালনা করতে পারেন। অথচ প্রশাসনিক জটিলতায় এই সুযোগও হাতছাড়া হচ্ছে।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং গবেষকদের উপযুক্ত মর্যাদা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়। ভারত ও পাকিস্তানেও পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় এবং তারা উচ্চ পর্যায়ের গবেষণায় যুক্ত হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। অথচ বাংলাদেশে বিজ্ঞানীরা প্রশাসনিক কর্তাদের ছায়ায় অবহেলিত হয়ে আছেন।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন:

১. গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখা: পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোসহ সব গবেষণা সংস্থাকে মন্ত্রণালয়মুক্ত করে স্বাধীনভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে।

২. যোগ্যতার ভিত্তিতে মনোনয়ন: IAEA-র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মশালা বা ফেলোশিপে মনোনয়নের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যোগ্য বিজ্ঞানীদেরই সুযোগ দিতে হবে।

৩. বিজ্ঞানীদের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা: গবেষকদের উপযুক্ত বেতন, সুযোগ-সুবিধা এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা দেশেই থেকে উন্নত গবেষণায় মনোনিবেশ করতে পারেন।

৪. আমলাতান্ত্রিক স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ করা: প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রমে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং এই বিষয়ে একটি স্বচ্ছ নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অগ্রগতি ছাড়া কোনো দেশই উন্নতি করতে পারে না। তাই এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি

20/03/2025

প্রতিবছর ইন্টারন্যাশনাল পরমাণু শক্তি এজেন্সী (IAEA) এর অধীনে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানীদের কর্মশালা, টেকনিক্যাল কোর্স, কনফারেন্স, সেমিনার ইত্যাদিতে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। কে বা কারা যোগদান করবে এটি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ঠিক করবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় কি জানেন? বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এই অধীনে বিষয়টাকে আমাদের মন্ত্রণালয় ভাবে তাদের নেতৃত্বে। অথচ এদের কাজ হওয়ার কথা কেবল সাচিবিক বা দাপ্তরিক কাজ করে কমিশনকে সাহায্য করা।

সম্প্রতি আমেরিকার Illinois এর আর্গন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি (ANL) একটি প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার জন্য প্রার্থীদের নাম নির্বাচন করে IAEA-কে পাঠানোর অনুরোধ করে। এই প্রোগ্রামটি একান্তই একটা একাডেমিক প্রোগ্রাম এবং এটি একান্তই বিজ্ঞানীদের যোগ দেওয়ার কথা। আর নির্বাচনের কাজটি একান্তই পরমাণু শক্তি কমিশনের হাতে থাকার কথা। কিন্তু এটিতো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং মন্ত্রণালয় অধীনে থাকে মানে তাদের নেতৃত্বে থাকা মনে করে। ফলে তারা একজন বিজ্ঞানীর পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে এই প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার জন্য নির্বাচন করে (কমেন্ট থ্রেডে প্রমান দেখুন)।

শুধু তাই না। অস্ট্রিয়ায় Intemational Training Course on Insider Threats Using the Shapash 3D Model এর উপর একটি প্রোগ্রামেও একজন বিজ্ঞানীর বদলে মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র সহকারী সচিবকে পাঠাচ্ছে (কমেন্ট থ্রেডে প্রমান দেখুন)। লক্ষ রাখেন আমেরিকা হলে অতিরিক্ত সচিব আর ইউরোপে হলে সিনিয়র সহকারী সচিব। এখানেও বৈষম্য আছে। এই দুই ক্ষেত্রেই যাতায়ত, থাকা খাওয়াসহ সব ব্যয় বহন করবে IAEA! এই IAEA কি বিজ্ঞানী ছাড়া কাউকে এই সুযোগ দেওয়ার কথা? অথচ একান্তই বিজ্ঞানীদের সুযোগ আমলারা কেড়ে নীল। এটি শুধু আজকে না। যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশে এটিই হয়ে আসছে। এইসব প্রগ্রামে বিজ্ঞানীর বদলে সরকারি কর্মকর্তা গেলে এরা নিজের স্বচ্ছন্দবোধ করবে না আর ওরাও এদের দেখে হাসবে।

আরো আছে সম্প্রতি পরমাণু শক্তি কমিশনের একজন বিজ্ঞানী জাপানের JSPS পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ পেয়েছে। একদম ঠিক হয়েছে। বিজ্ঞানীদেরতো পিএইচডি থাকবে, পোস্ট-ডক্টরাল অভিজ্ঞতা থাকবে তাহলেই না তারা গবেষণায় বিশেষজ্ঞ হবে। সেই বিজ্ঞানী ২ বছরের ছুটির জন্য আবেদন করেছিল মন্ত্রণালয় তাকে ছুটি দেয়নি। প্রার্থী একাধিকবার আবেদন করেও প্রত্যাখিত হয়েছে (কমেন্ট থ্রেড দেখুন)।

পৃথিবীর উন্নত দেশের পরমাণু শক্তি কমিশনের কথা বাদ দেন। খোদ ভারত আর পাকিস্তানের পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানীদের দেখে আসুন। তাদের গবেষণার মান, নিজ দেশে তাদের স্ট্যাটাস, বেতন ও অন্যান্য সুবিধা অনন্য উচ্চতায়। হতেই হবে তারা যে বিজ্ঞানী। এমনকি আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখনও আমাদের পরমাণু শক্তি কমিশনের জৌলুশ আর বিজ্ঞানীদের মান ও স্ট্যাটাস দেখেছি। কোথা থেকে কোথা নামলাম। এই কমিশনের বিজ্ঞানী মানে তাদের ন্যূনতম পিএইচডি থাকবে পোস্ট-ডক্টরাল অভিজ্ঞতা থাকবে, প্রকাশিত অনেক গবেষণা প্রবন্ধ থাকবে আর তাদের উপর ছড়ি ঘুরাবে মন্ত্রণালয়ের আমলারা। তাদের লজ্জা লাগে না? এই দেশ কিভাবে আগাবে বলেন? এই জন্যই আমি বলি দেশের শিক্ষা ও গবেষণাকে বাঁচাতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন, পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ ইত্যাদিকে মন্ত্রণালয়মুক্ত করতে হবে।

আমাদের বিজ্ঞানী গবেষকরা তাদের মেধা দিয়ে বিদেশে পিএইচডি অফার পাবে, পোস্ট ডক করার অফার পাবে কিন্তু মন্ত্রণালয় ছুটি দিবে না। কি সাংঘাতিক অসুস্থ মানসিকতা। দেশের এক পয়সাও খরচ না করে বিদেশে গবেষণা করে বরং বিদেশ থেকে দেশে অর্থ আনবে তারপরেও যেতে দিবে না। এই যে দিবে বা দিবে না এই ক্ষমতা দেখানোটাইতো অসভ্যতা। এইগুলোতো অনলাইনে রুটিন কাজ হওয়া উচিত।

এতে কোন সমস‍্যা আমি দেখি না। ব‍্যাচেলর ডিগ্রি ছাড়াই যদি প্রফেসর হয়ে যায়, তাতেও সমস‍্যা দেখি না।বরং, যদি কেউ ভালো গবেষণ...
18/03/2025

এতে কোন সমস‍্যা আমি দেখি না। ব‍্যাচেলর ডিগ্রি ছাড়াই যদি প্রফেসর হয়ে যায়, তাতেও সমস‍্যা দেখি না।

বরং, যদি কেউ ভালো গবেষণা করে, ভালো পাবলিকেশন রেকর্ড নিয়ে, ভালো মানের বিশ্ববিদ‍্যালয় ও সুপারভাইজরদের সাথে কাজ করে একসময় চবিতে গিয়ে শিক্ষক হতে চায়, সেটাই সমস‍্যা। ফলে সে সমস‍্যা সমাধানের সকল ব‍্যবস্থা আমরা করে রেখেছি।

মনে করেন, আপনার দুইটা ন‍্যাচার পাবলিকেশন আছে। আপনি একটা মাস্টার্স করেছেন জার্মানীর ম‍্যাক্সপ্ল‍্যাংক থেকে। পিএইচডি করেছেন ইমপেরিয়ালে এবং পোস্টডক করেছেন ক‍্যালটেকে। আপনার সুপারভাইজরদের বেশ নাম-ডাক আছ, আপনার ফিল্ডে। আপনি আমেরিকায় ৪-৫ বছর ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। শিক্ষকতা করেননি। কিন্তু চবিতে যদি আবেদন করেন, তাইলে আপনাকে “এসোসিয়েট প্রফেসর” পদও দিবে না। প্রফেসরশিপ তো বহু দূর। চাকরিটা দেয় কিনা—সেটাও দেখার বিষয়। এবং শুধু চবিতে না, অন‍্যান‍্য পাবলিক বিশ্ববিদ‍্যালয়েও একই নিয়ম করা আছে।

কিন্তু আপনি একই প্রোফাইল নিয়ে চীনে সরাসরি প্রফেসর হতে পারবেন। ভালো বিশ্ববিদ‍্যালয়ে। যাদের বিশ্বর‍্যাংক আছে।

সুতরাং ডিগ্রি ছাড়া প্রফেসর হয়ে গেছে—এগুলো কোন সমস‍্যা না। সমস‍্যা হবে সেটাই যদি ভালো ডিগ্রি নিয়ে কেউ প্রফেসর হয়ে যায়।
যার সমস‍্যাটা যেমন হয় আর কি!

আমি মনে প্রাণে চাই, বাংলাদেশ সরকার আগামি আরো ৫০ বছর, ব‍্যাচেলর-মাস্টার্স পাশ শিক্ষকদের বিদেশে পাঠিয়ে উচ্চশিক্ষিত করুক। তারা বিদেশে গিয়ে পড়ুক। দেশে বেতন খাড়া থাকুক। দেশে ফিরে গিয়ে বেশিরভাগই রাজনীতি করুক।

এরচেয়ে প্রোডাক্টিভ সিস্টেম আমি পৃথিবীতে দেখি নাই। সুতরাং ভুল করেও এসব সিস্টেম বাদ দেয়া উচিত হবে না।

© Rouful Alam

12/03/2025

আমার ক্লাসের গড়ে সেরা ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্র প্রতিবছর বিদেশ যায়। এই মেধাবী ছাত্রদের তৈরী করতে দেশের সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা খরচ হয়েছে। এই মেধাবীদের তৈরী করে যেই উদ্দেশ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরী করা হয়েছে সেই উদ্যেশ্য সফল হচ্ছে না। অর্থাৎ দেশের তেমন লাভ হচ্ছে না। আবার তাদের সার্ভিস পেতে দেশও কিছু করছে। এটি একটি পাজল যা দেশের কোন সরকার সমাধান দিতে পারেনি। যতদিন না আমরা ট্যালেন্ট হান্ট মেগা প্রজেক্ট নিচ্ছি এই দেশ নিয়ে কোন আশা নাই। সব মেধাবী যদি চলে যায় থাকে কারা? যারা আপাত না যেতে পারছে তাদের চোখেমুখেও বিদেশে চলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছি। তাহলে এই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি আর আশা করতে পারি?

© Sadiqur Rahman Khan

07/03/2025

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা সংস্কার: এক জরুরি আহ্বান

বর্তমানে বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু এগুলো কি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়? শুধুমাত্র কিছু ভবন তৈরি করে পছন্দের কয়েকজনকে ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) ও প্রোভিসি নিয়োগ দেওয়া এবং তাদের মাধ্যমে অনুপযুক্ত ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিলেই কি একটি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়?

গত প্রশাসনের সময় যখন মন্ত্রীরা ও সংসদ সদস্যরা প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্লোগান তুলছিলেন, তখন আমি বারবার বলেছিলাম—শুধুমাত্র অবকাঠামো নির্মাণ ও কিছু শিক্ষক নিয়োগ করলেই প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয় না। যেমন একটি ব্যাঙ নিজের শরীর দিয়ে হাতির আকার বোঝাতে পারে না, তেমনি আমাদের অনেক নীতিনির্ধারকও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত ধারণাটিই বোঝেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত মানদণ্ড: অবকাঠামো নয়, শিক্ষকই মূল:

সীমিত অবকাঠামোর মধ্যেও যদি যোগ্য শিক্ষক থাকেন, তাহলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে পারে। কিন্তু যদি অযোগ্য ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে শিক্ষার মান শুধু ধ্বংসই হয় না, সমাজেও শিক্ষকদের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হয়। যখন সাধারণ মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ে অযোগ্য শিক্ষক দেখেন, তখন তারা পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি সন্দিহান হয়ে ওঠেন। এর ফলে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েও সমালোচনা হয়।

অন্যদিকে, প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা ক্রমশ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। অনেকেই অনার্স বা মাস্টার্স শেষ করেই বিদেশে চলে যায়, আর যারা বিদেশে পিএইচডি করতে যায়, তাদের একটি বড় অংশ আর দেশে ফেরে না। যারা ফেরে, তারাও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেতে হিমশিম খায়, কারণ নিয়োগ এখন সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হয়। গত ১৪ বছরে ক্ষমতাসীন দল এতটাই সফলভাবে দলীয় শিক্ষক নিয়োগ করেছে যে বর্তমান প্রশাসন শিক্ষকদের সংগঠনের নির্বাচন দিতেও ভয় পাচ্ছে। কারণ, তারা জানে যে নতুন নতুন বিভাগ খুলে যে বিপুল সংখ্যক দলীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারাই এখন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে হলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সংস্কার অপরিহার্য:

বাংলাদেশ যদি সত্যিই তার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানোন্নয়ন করতে চায়, তাহলে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কার করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কঠোর ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাদের অবস্থান গড়ে তুলেছে। আমাদেরও সেই পথেই হাঁটতে হবে।

প্রথমেই, ভাইস-চ্যান্সেলর ও প্রোভিসিকে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড থেকে সরাতে হবে। যদি তারা বোর্ডে থাকেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই অন্য সদস্যরা তাদের মতামতের দ্বারা প্রভাবিত হবেন। বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসির ক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তা দেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সঙ্গে তুলনীয়। যেখানে সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত, সেখানে ভিসি ও প্রোভিসির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়ে দাঁড়ায়। পৃথিবীর উন্নত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কি ভিসি বা প্রোভিসিকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়?

শিক্ষক নিয়োগ একটি একাডেমিক কাজ, প্রশাসনিক নয়। ভিসির ভূমিকা হওয়া উচিত প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা, শিক্ষক নিয়োগ নয়। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৩টি বিভাগের প্রতিটি নিয়োগ ও পদোন্নতি বোর্ডে ভিসি বা প্রোভিসি থাকেন। যতদিন এই ব্যবস্থা থাকবে, ততদিন রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। কারণ সরকার জানে, যদি তারা একজন বা দুইজনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাহলে সংস্কারের আশা করবো কিভাবে?

প্রকৃত জ্ঞানীর ক্ষমতা:

একজন সত্যেন বোস, জামাল নজরুল ইসলাম, হারুন স্যার বা কবির স্যারের মতো প্রকৃত শিক্ষকের কী প্রভাব হতে পারে তা কি আমরা বুঝতে পারি? প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তির সম্মান কেবল তার পদবির কারণে আসে না, বরং তার মেধা ও অবদানের মাধ্যমে অর্জিত হয়। যদি শিক্ষকরা বিশ্বমানের হন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও সেই মানের হবে। তখন কেউ তাদের সঙ্গে বেয়াদবি করার সাহস পাবে না।

আমাদের মূল সমস্যা এখানেই—আমরা প্রকৃত শিক্ষকদের নিয়োগ দেই না, তাই শিক্ষকদের ওপর আস্থা রাখি না। এই অবিশ্বাস দূর করতে আমরা "বহিরাগত পরীক্ষক" ব্যবস্থা চালু রেখেছি, যা বহু আগেই উন্নত দেশগুলো থেকে বিলুপ্ত হয়েছে। এই ব্যবস্থা শুধু প্রশাসনিক ব্যয় বাড়ায় না, পরীক্ষার ফল প্রকাশেও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করে, যার চূড়ান্ত ভোগান্তি ছাত্রদেরই পোহাতে হয়।

উচ্চশিক্ষার পুনর্গঠন: সময়োপযোগী সংস্কার প্রয়োজন:

শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালার সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কি শত বছরের পুরনো নিয়োগ ও পদোন্নতির পদ্ধতি চলতে পারে?

সমস্যা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে বাংলাদেশের ৮০০টিরও বেশি কলেজে অনার্স প্রোগ্রাম চালু আছে, এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) কোর্সও রয়েছে। কার্যত, এসব প্রতিষ্ঠানও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কাজ করছে। অথচ, অনেক কলেজে প্রতিটি বিভাগে শিক্ষক আছেন মাত্র ২-৪ জন। এই স্বল্প সংখ্যক শিক্ষক একইসঙ্গে এইচএসসি, পাস কোর্স, অনার্স এবং মাস্টার্স প্রোগ্রাম পরিচালনা করছেন। এটি সরাসরি ছাত্রদের প্রতি রাষ্ট্রীয় প্রতারণা।

একটি কার্যকর ব্যবস্থা হতে পারে ১০০টি কলেজকে বেছে নিয়ে সেগুলোকে সত্যিকারের লিবারেল আর্টস কলেজে রূপান্তর করা, যা যুক্তরাষ্ট্রের মডেলের মতো হবে। যদি এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান বিপুলভাবে উন্নত হবে। ফলে আমাদের শিক্ষার্থীদের আর বিদেশমুখী হতে হবে না।

এছাড়াও, যে প্রতিষ্ঠান অনার্স প্রোগ্রাম চালায়, সেখানে এইচএসসি রাখা হবে কেন? উন্নত বিশ্বের কোথাও কি এমন ব্যবস্থা আছে? সরকারকে এই কলেজগুলোর পুনর্গঠন করতে হবে—

১০০টি কলেজকে পূর্ণাঙ্গ চার বছরের অনার্স কলেজে রূপান্তর করা, যেখানে শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রদান করা হবে এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

বাকি কলেজগুলোতে শুধুমাত্র এইচএসসি ও দুই বছরের বিএ/বিএসসি পাস কোর্স রাখা, যাতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন থাকে।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে শক্তিশালী করা, কারণ সবার জন্য অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রি জরুরি নয়।
সামনের পথ

বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। যদি আমরা এখনই উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার না করি, তাহলে মেধাবীরা দেশ ছেড়ে চলে যাবে, আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেবল গড়পড়তা অবস্থায় থেকে যাবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো—শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সংস্কার। যোগ্য শিক্ষক ছাড়া শুধু অবকাঠামো দিয়ে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার শুধু একটি বিকল্প নয়—এটি এখন জরুরি প্রয়োজন। দেশের ভবিষ্যৎ এর ওপরই নির্ভর করছে।

© Kamrul Hasan Mamun

26/02/2025

যোগাযোগ অবকাঠামোর সুফল লাভে যোগাযোগের প্রতিটি মাধ্যমের মাঝে যথাযথ ইন্টিগ্রেশন অতীব জরুরি। আর প্রজেক্ট বাস্তবায়নে বিভিন্ন কম্পোনেন্টের মাঝে যথাযথ ইন্টিগ্রেশনের জন্য যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় কো-অর্ডিনেশনের কোনো বিকল্প নেই।
সচরাচর যোগাযোগের মাধ্যম বলতে আমরা বুঝি- সড়ক, রেল, নৌ, আকাশপথ। বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্য যে, এদেশে আমলাদের পুনর্বাসনের জন্য যোগাযোগের প্রতিটি মাধ্যমের উপর সওয়ার হয়ে আলাদা আলাদা মন্ত্রণালয়/সংস্থা করা হয়েছে। এদেশে রাস্তা বানানোর কাজ করে একই সাথে এলজিইডি (এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের অধীন), আরএইচডি (সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন), সিটি কর্পোরেশন (স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন)। এরপর একটা ব্রীজ বানাতে গেলে সেখানে হাজির নানান সংস্থা- এলজিইডি, বিবিএ, আরএইচডি, বিআইডব্লিউটিএ, রেলওয়ে ইত্যাদি। এক মেট্রোরেলের জন্য তো তারা আলাদা সংস্থায় খুলে বসেছে। এভাবে যোগাযোগের নানান মাধ্যমের জন্য নানান মন্ত্রণালয় আর সংস্থা। আবার সেগুলোর মাথায় বসে আছে অথর্ব আমলারা। আজ পর্যন্ত এমন কোনো প্রজেক্ট হয়েছে, যারা সুবিধা/ইফেক্টিভিটি মোটামুটি ৩০ বছর একই রকম থাকছে!!!
বাংলাদেশ আর ভারতই দুটি মাত্র দেশ ( https://en.m.wikipedia.org/wiki/List_of_ministries_of_transport_by_country ), যেখানে আমলাতন্ত্র অন্যান্য স্পেশালাইজড সেক্টরের পাশাপাশি যোগাযোগ অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায়ও বিষফোঁড়ার মতো বসে আছে। দুনিয়াতে এমন ৩য় আর কোনো দেশ দেখাতে পারবেন না, যেখানে একটা দেশ/অঞ্চল/জেলা/স্ট্যাটের পরিবহন ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা আলাদা মিনিস্ট্রি/সংস্থা গড়ে তুলেছে। অথচ, আমাদের দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোগত উন্নয়নে আলাদা করে খুব গবেষণা ও ইনোভেশনের প্রয়োজন নেই। যেটা প্রয়োজন চীন/জাপান/জার্মানি/যুক্তরাষ্ট্র/ফ্রান্স/তুরস্ক/কানাডার কোনো একটি দেশের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাকে মডেল হিসেবে ধরে সে আলোকে কাজ করা। কিন্তু আমলাদের দাপটে সেটা হচ্ছে কই? আমলারাই যে সবজান্তা শমসের!!!
বেশ ক'মাস আগে বিআইডব্লিইউটিএতে একটা স্টাডি রিপোর্টের উপর দিনব্যাপী ওয়ার্কশপে ছিলাম। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর, প্রকৌশলী ও অন্যান্য অফিশিয়ালসরা দারুন পয়েন্টে কথা বলেছে, প্র‍্যাক্টিক্যাল এক্সপ্লেনেশন দিয়েছেন। এমনকি চেয়ারম্যানও লজিক্যাল কথা বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ২ জন সিনিয়র সচিব পর্যায়ের ব্যক্তিদ্বয় স্টেজে আসন পেয়েও আগডুম-বাগডুম কথা বলে রংতামাশায় পরিণত করেছেন আসর। ব্যস, ব্যাপক কার্যসিদ্ধি হলো তাদের দ্বারা। এভাবেই মূলত প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ আসন দখল করে তারা হয় ছড়ি ঘুরান অথবা মজা নেন।
জুলাই পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন তাই আশার আলো ছিলো। কিন্তু মৌলিক পরিবর্তনের জায়গায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে সেই আমলারাই, যারা অবসরপূর্ব সময়ে পদ-পদবি আর ক্ষমতার স্বাদে মত্ত থাকতে পছন্দ করে। এদের প্রভাবে যে কমিশন সুপারিশ করবে, তা কখনো মৌলিক গলদকে এড্রেস করবে না, এটাই তো স্বাভাবিক। অথচ, সংকট থেকে উত্তরণে গঠিত টাস্কফোর্সের সুপারিশমালায় উল্লেখযোগ্য সুপারিশ হওয়া উচিৎ ছিলো- "ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্কিং ও প্ল্যানিং থেকে সর্বোত্তম সুফললাভে ইন্টিগ্রেটেড ডেভলপমেন্ট নিশ্চিত করা এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় কো-অর্ডিনেশন বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাপনাকে নির্দিষ্ট একটি মন্ত্রণালয়/সংস্থার অধীন আনয়ন করা"।
কিন্তু ঘুরেফিরে সেই কম্পোনেন্টনির্ভর সুপারিশমালা, অথচ ব্যবস্থাপনার সংকট নিরসনের সুপারিশ কই?
Md. Touhidul Islam
BUET Alumni

Address

Pabna

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Pabna University of Science & Technology posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to Pabna University of Science & Technology:

Share