13/01/2024
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাবার্তা ডট কম দৈনিক শিক্ষা- Dainik Shiksha Mohibul Hassan Chowdhoury
আসসালামু আলাইকুম।
১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ইং তারিখে আমার লেখাটি আমার টাইমলাইন সহ বেশ কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে পোস্ট করেছিলাম। লেখাটি অনেক আলোচনায় এসেছিলো। বর্তমান সরকার এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শিক্ষামন্ত্রীর নিকটে আবেদন আমার লেখাটির মূল উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করার জন্য। লেখাটিতে আমার দেওয়া ৩ নং পরামর্শটিকে কিভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব তার রূপরেখা তৈরি করেছি আমি। নিচে আমার সেই লেখাটি সংযুক্ত করলাম।
ফ্যাক্টঃ (নতুন কারিকুলাম)। অতীব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। সবাইকে পড়ার জন্য অনুরোধ করা হইলো।
★★★পরীক্ষায় ছাড় পাওয়া, দেখাদেখি কিংবা নকল, খাতা মূল্যায়নে ছাড় দেওয়া, ভুল বা আধা সঠিক, আধা ভুল লিখলেই পুরো মার্ক দেওয়া, পাশের হার বাড়ানোর জন্য বিভিন্নভাবে ছাড় দিয়ে পাশের হার বাড়ানো, সুযোগ বুঝে মেধাবীদের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদেরও গোল্ডেন এ প্লাস বা শুধু এ প্লাস এর ছড়াছড়ি। রেজাল্টের পর অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্টুডেন্টদের আনন্দ-উল্লাস, মাতামাতি, নাচা-নাচির ছড়াছড়ি।।। এবার বলুনতো এভাবে কি সম্ভব একটা দেশকে, একটা জাতিকে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যাওয়া? অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে টক্কর দেওয়া??? বাদ দেন বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে টক্কর, আমি আপনি আপনার সন্তান আমরা কেউ কি এই ধরনের শিক্ষা আর রেজাল্ট দিয়ে আদৌও কি পারবো ভালো কোনো অবস্থানে যেতে??? অথচ এই ধরনের শিক্ষা এবং তার মূল্যায়ন ও ফলাফলের কারণে দেশে আজ লক্ষ লক্ষ বেকারের সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করে একটা চাকুরির আশায় অনেকের বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে তবুও বিয়ে করতে পারতেছেনা। আবার উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার কারণে অনেকেই ছোট চাকুরি / ব্যবসা / কৃষিকাজ কোনকিছুই করতে পারতেছেনা বা করতেও অনেক হীনমন্যতায় ভুগতেছেন।।। বাস্তবিকপক্ষে এইধরনের শিক্ষার মাধ্যমে কখনোই একটা দেশকে / জাতিকে / এমনকি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব নয়।।।
★★★বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ এইজন্য যে, অনেক দেরিতে হলেও বাস্তবমুখী, কর্মমুখী এবং আত্মনির্ভরশীল শিক্ষাব্যবস্থা চালু করার জন্য। যারা নতুন কারিকুলাম এর বিপক্ষে কথা বলতেছেন তারা হয় না বুঝে মন্তব্য করতেছেন কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য বলতেছেন। এই ধরনের মন্তব্যকারীদের বলবো অপেক্ষাকরুন আর দেখুন। আগামীতে আমাদের প্রজন্ম সঠিক দিশা পাবে ইনশাআল্লাহ এবং আপনিও লাভবান হবেন।।।
★ নতুন কারিকুলাম এর সংযোজন বিয়োজন হয়তো হবে। তারজন্য আমরা সবাই গঠনমূলক পরামর্শ দিতে পারি। নেগেটিভ সমালোচনা করে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে আসুন সবাই গঠনমূলক পরামর্শ দিই।।।
★ একজন শিক্ষক (প্রভাষক -পদার্থবিদ্যা) এবং সাধারণ মানুষ হিসেবে আমিও কিছু পরামর্শ দিবো ইনশাআল্লাহ।।।
১। নতুন কারিকুলাম কে বাস্তবায়নের জন্য প্রশিক্ষিত, দক্ষ এবং প্রয়োজন অনুপাতে শিক্ষক সরবরাহ করতে হবে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিকভাবে স্থাপনের ব্যবস্থা নিতে হবে।।।
২। যেহেতু নতুন কারিকুলাম এর শিক্ষাপদ্ধতিতে শিক্ষকদের অনেক পরিশ্রম দিতে হবে এবং টিউশন করে আয়ও করার সুযোগ নাই যেটা পূর্বের শিক্ষাপদ্ধতিতে ছিলো সেহেতু শিক্ষকদের মানানসই এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা প্রদান করতে হবে।
৩। শিক্ষার্থীদেরকে বয়স ও শ্রেণী অনুযায়ী প্রতিটি শ্রেণীতে কমপক্ষে ৩-৫ টি বাস্তব ধর্মী কাজ শেখাতে হবে। যেমন: গার্ডেনিং, কৃষিকাজ, ব্যবসা, প্রকল্প, সেলসম্যান, টেকনিক্যাল ওয়ার্ক ( রঙ, টাইলস, রাজমিস্ত্রী, হাউজ ওয়ারিং, লেদ, বিভিন্নধরনের ওয়ার্কশপ, বিদেশে যেসমস্ত কাজের চাহিদা আছে ইত্যাদি ইত্যাদি কাজের যেকোনো ২/৩/৫ টি কাজ স্টুডেন্টদের পছন্দ অনুযায়ী শ্রেণী ভিত্তিক করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আমার কিছু পরিকল্পনা আছে যা বাস্তবায়ন করতে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।
৪। যেসমস্ত দেশে বিভিন্ন কাজের জন্য জনশক্তি নিচ্ছে সেসমস্ত দেশের সাথে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক স্থাপন করে এবং আমাদের দেশের যুবকদের সেসমস্ত দেশের প্রয়োজনীয় কাজের ট্রেনিং করিয়ে সরকারিভাবে লোকবল বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই কোনো দালালদের মাধ্যমে বিদেশে লোকবল পাঠানো যাবেনা। প্রয়োজনে এই দায়িত্ব বাংলাদেশ আর্মিকে দেওয়া যেতে পারে।।।
আপাতত এই চারটি পরামর্শ আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান দিয়ে দিলাম। আপনারাও আপনাদের মূল্যবান জ্ঞান দিয়ে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করুন। অহেতুক নেগেটিভ সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন।।।
ধন্যবাদ।।।
এস, এম, জাহাঙ্গীর হোসেন
প্রভাষক (পদার্থবিদ্যা)
দ্বিতীয় মেধাতালিকা অনুযায়ী এন টি আর সি এ কর্তৃক সুপারিশকৃত এবং নিয়োগপ্রাপ্ত।।।