29/07/2018
অনেক দিন ধরেই ভাবছি ৪০ তম বিসিএস
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে
কিছু কথা লিখব। কাছের কিছু ছোট ভাই ও
বন্ধু প্রায়ই আমার কাছে সাজেশন চায়।
কিন্তু আমি সামান্য মানুষ, কাউকে
পরামর্শ দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। যেটা
করতে পারি তা হল, আমি কি করেছি বা
কাছের সফল ব্যাক্তিদের কি করতে
দেখেছি তা নিয়ে কিছু বলা।
আমি যে বিসিএস অর্থাৎ ৩৫ তম বিসিএস
এর মাধ্যমে চাকুরীতে প্রবেশ করেছি
তার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় আমি
অনেকটা প্রস্তুতিহীনভাবে ও ভাগ্যগুনে
পাশ করেছিলাম। তাই ওটা নিয়ে কিছু
বলব না। বরং ৩৬ তম বা ৩৭ তম বিসিএস এর
ক্ষেত্রে আমার কিছু প্রস্তুতি নিয়ে
আলোচনা করি। আমার মতামত এর সাথে
অন্যদের ভিন্নমত থাকতে পারে। গ্রহণ বা
বর্জন আপনাদের একান্ত ইচ্ছা।
আশা করছি কিছু দিনের মাঝেই ৪০ তম
বিসিএস এর প্রজ্ঞাপন জারী হবে।
সেক্ষেত্রে আমরা হয়ত প্রস্তুতির জন্য
৭-৮ মাস সময় পাব। কম ও হতে পারে। তাই
এই সময়কে যথাযথ ভাবে কাজে লাগালে
অবশ্যই সফল হওয়া যাবে বলে আমি
বিশ্বাস করি।
১. প্রথমেই যেকোনো একটা প্রশ্ন ব্যাংক
কিনে তা ভালো করে রপ্ত করেন। অপশন
সহ ব্যাখ্যা পড়ুন। ১০-৩৭ বিসিএস এর প্রশ্ন
যদি ব্যাখ্যা সহ পড়া যায় তাহলে আপনার
৪০% প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। কারণ এর ফলে
আপনি কি ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে বা
কি কি পড়তে হবে সে সম্পর্কে ধারণা
পাবেন।
২. গত ৬ মাসের কারেন্ট এফেয়ার্স সংগ্রহ
করে পড়ুন। সময় বাচানোর জন্য শুধু ১ম
দিকে থাকা ৪০-৫০ টি অব্জেক্টিভ প্রশ্ন
পড়ুন। সামনের কয়েক মাসের গুলো পড়ুন
একই ভাবে।
৩. যেকোনো একটা ভালো সংবাদপত্রের
প্রধান প্রধান শিরোনাম নোট করে রাখা
ও মাঝে মাঝে চোখ বূলানো।
আন্তর্জাতিক, অর্থনৈতিক, বিভিন্ন
সম্মেলন ও ঘটনা বিষয়ে জানতে হবে। এ
সময়ে অগুরুত্বপূর্ণ বিষয় না পড়াই ভালো।
৪. যেকোনো বিষয়ের বেসিক টা জানা।
অনেক কিছু পড়ার দরকার নাই। যে সকল
বিষয় হতে প্রশ্ন আসে সেগুলই বারবার
দেখা। আনকমন বা দুর্বোধ্য বিষয়ে অধিক
সময় দেয়ার প্রয়োজন নাই।
৫. কিছু কিছু টপিক বা বিষয় আছে যা
অল্প পড়লেই তা থেকে বেশী কমন পাওয়া
যায়। সেগুলো সবার আগে শেষ করা।
যেমন: ইংরেজি সাহিত্য, ইংরেজি
গ্রামার,
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগ,
আধুনিক যুগের পরিচিত কবি-সাহিত্যিক,
বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা বানান ( বিগত
বছর থেকে হুবহু)
বিজ্ঞান (বিগত বছরের প্রশ্নের
আলোকে),
মানসিক দক্ষতা( বিগত বছরের প্রশ্ন
থেকে ৮০%), গণিতের সাধারণ বিষয়াবলি
(বিগত প্রশ্নের আলোকে), কম্পিউটার
( বিগত বছরের প্রশ্ন),
সংবিধান ( বিগত বছরের প্রশ্ন+
সংশোধনী)
জাতিসংঘ,
ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপ,
সংস্থার সদর দপ্তর,
মধ্যপ্রাচ্য সংকট,
আমেরিকা নির্বাচন,
জলবায়ু পরিবর্তন ও সম্মেলন,
জাতীয় বাজেট,
অর্থনৈতিক উন্নয়ন,
বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান,
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৮,
৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা,
এসডিজি
বাঙালি ইতিহাসের বিভিন্ন সাল,
ব্যাক্তি ও ঘটনা ( যেমন: ১২০৪,
১৫২৬,১৫৫৬,১৭৫৭, ১৭৬৪,১৭৯৩,১৮৩১,১৮৫৭,
১৮৮৬, ১৯০৫,১৯১১,১৯৪০,১৯৪৭,১৯৪৮,১৯৫২,
১৯৫৪,১৯৫৬, ১৯৫৮,১৯৬২,১৯৬৬,
১৯৬৯,১৯৭০,১৯৭১(মার্চ, এপ্রিল, ডিসেম্বর)
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি, বিষয়, সাল,
স্থান, পক্ষ।
৬. পরীক্ষার ২ মাস পূর্বে একটা ডাইজেস্ট
কিনে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পড়া।
৭. পরীক্ষার ১ মাস পূর্বে কারেন্ট
এফেয়ার্স বিশেষ সংখ্যা কিনে পড়ে
ফেলা।
৮. ২.৫- ৩ মাস প্রস্তুতি নেয়ার পর
যেকোনো একটা মডেল টেস্ট কিনে দিনে
অন্তত ২ টা টেস্ট দেয়া। এটা সময়
ম্যানেজ ও কনফিডেন্স বাড়াতে সাহায্য
করে।
যদি ৫০ টা মডেল টেস্ট দেয়া যায় তাহলে
৫০*২০০=১০,০০০ প্রশ্ন পড়া হবে।
*** ইংরেজি ভোকাবুলারী, দেশ, মুদ্রা,
রাজধানী, আধুনিক যুগের লেখকদের বই,
সুশাসন-নৈতিকতা,
কঠিন ম্যাথ, বিজ্ঞানের আবিষ্কারক-
সাল এগুলো অনেক পড়লেও কমন পাওয়া
কষ্টকর। তার থেকে কমন বিষয়ে বেশি
সময় দেয়া যেতে পারে।
৯. সুযোগ ও সামর্থ্য থাকলে কোনো একটা
ভালো মানের বিসিএস কোচিং এ ভর্তি
হওয়া। এটা পড়া গুছাতে সাহায্য করে।।
১০. প্রতিদিন ৬/৭ ঘণ্টা করে পড়লেই হবে।
চেষ্টা করতে হবে যেন প্রতিদিন নূন্যতম ১
টা গুরুত্বপূর্ণ টপিক শেষ হয়।
১১. সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, প্রিলি
পরীক্ষায় ১ম/২য় বলে কিছু নেই বা এর
নম্বর যোগ হয় না। প্রিলি পরীক্ষায় পাশ
করাটাই মূখ্য।
১২. সবাই যখন ২ ঘণ্টায় ২০০ নম্বর এর
পরীক্ষা দিবে আপনি তখন ১৬০/১৭০ নম্বর
এর পরীক্ষা দিবেন। প্রশ্ন যত সহজ ই হোক
না কেন, আপনি ১৩০ পেলেই পাশ করবেন।
তাই ২০০ নম্বর নিয়ে না ভাবলেও চলবে।
বাংলা ২৫
ইংরেজি ২০
গণিত ১০
মানসিক দক্ষতা ১১
বিজ্ঞান ১২
কম্পিউটার ১০
ভূগোল ৫
সুশাসন ৫
বাংলাদেশ বিষয়াবলী ২০
আন্তর্জাতিক ১২........................................
সর্বমোট = ১৩০
( প্রশ্নের ধরণ, প্রস্তুতি ও বিষয়ভিত্তিক
দক্ষতার উপর ভিত্তি করে কম বেশি হতে
পারে)
১৩. বিসিএস পরীক্ষার জন্য দরকার
বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা,পরিশ্রম, ভাগ্যের
ছোয়া আর কৌশলী প্রস্তুতি। এগুলোর
সংমিশ্রণ ঘটলেই ধরা দিবে সাফল্য।
একটি উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করি। দালাই
লামা বলেছেন, "অতীতের কোনো বিষয়
নিয়ে হতাশ হইয়ো না, কারণ তা ফিরিয়ে
আনা যাবে না আর ভবিষ্যতের কোনো
বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন হইয়ো না, কারণ তা
অর্জনের সুযোগ রয়েছে"।
সকলে নিশ্চিন্তমনে পরীক্ষার প্রস্তুতি
গ্রহণ করুন আর স্রষ্টার নিকট প্রার্থনা
করুন। সুস্থ থাকুন।
সকলের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।
শুভেচ্ছান্তে
মোঃ তরিকুল ইসলাম
(৩৫তম বিসিএস এ প্রশাসন এ ৮ম)
সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেট
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
ময়মনসিংহ।
# Collected