03/05/2020
#জাহানারা_ইমাম
তিনি লেখিকা, গুণী কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং শহীদ জননী ও একাত্তরের ঘাতক দালাল বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন...
আজ ৩ মে অনন্য এই মহীয়সীর জন্মদিন।
১৯২৯ সালের এই দিনে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে তাঁর জন্ম। ত্রিশ ও চল্লিশ দশকের রক্ষণশীল বাঙালি মুসলমান পরিবার বলতে যা বোঝায়, এমন একটি পরিবারেই তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জাহানারা ইমামের ডাক নাম ছিল জুড়ু। তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।
তার জ্যেষ্ঠ পুত্র শফি ইমাম রুমী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মুক্তিসংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন এবং কয়েকটি সফল গেরিলা অপারেশনের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। এবং পরবর্তীতে নির্মমভাবে শহীদ হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর স্বামী, মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী, দেশপ্রেমিক শরীফ ইমামও ইন্তেকাল করেন।
বিজয় লাভের পর রুমীর বন্ধুরা রুমীর মা জাহানারা ইমামকে সকল মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে বরণ করে নিয়েছিলেন। রুমীর শহীদ হওয়ার সূত্রেই তিনি শহীদ জননীর মযার্দায় ভূষিত হন।
তাঁর বাবা সৈয়দ আবদুল আলী। তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আর মা সৈয়দা হামিদা বেগম। তিনি ছিলেন সুগৃহিনী।
শিক্ষাকালে জাহানারা ইমাম ১৯৪২ সালে মাট্রিক পাস করেন। এবং রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ১৯৪৪ সালে আইএ পাস করে। এরপর ১৯৪৫ সালে ভর্তি হন কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ণ কলেজে(বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়)।
১৯৪৭ সালে লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে বিএ পাস করেন । এবং ১৯৬০ সালে বিএড ডিগ্রি অর্জন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন ডিগ্রি অর্জন করেন।
এবং এরপর ১৯৬৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন।
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম কর্মজীবনের প্রথম সময় কাটে ময়মনসিংহ শহরে শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। সেখানে বিদ্যাময়ী বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে ১৯৪৮ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত তিনি কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি ঢাকায় চলে আসেন। এবং ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৬০সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত তিনি বুলবুল একাডেমি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন।এবং ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের প্রভাষক হিসাবে তাঁর কর্মজীবন অতিবাহিত হয়। তিনি কিছুদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটেও খন্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে কাজ করেন।
১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলের আমীর ঘোষণা করলে বাংলাদেশে জনবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি জনবিক্ষোভের অংশ হিসাবে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত হয়। তিনি হন এর আহ্বায়ক। এর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী প্রতিরোধ মঞ্চ, ১৪টি ছাত্র সংগঠন, প্রধান প্রধান রাজনৈতিক জোট, শ্রমিক-কৃষক-নারী এবং সাংস্কৃতিক জোটসহ ৭০টি সংগঠনের সমন্বয়ে পরবর্তীতে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গঠিত হয়। সর্বসম্মতিক্রমে এর আহ্বায়ক নির্বাচিত হন জাহানারা ইমাম।
১৯৯৪ সালের ২রা এপ্রিল তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার কারণে চিকিৎসার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ডেট্টয়েট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
১৯৯৪ সালের ৬ জুন বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় মিশিগানের ডেট্টয়েট নগরীর সাইনাই হাসপাতালে ৬৫ বছর বয়সে জাহানারা ইমাম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
৪ জুলাই তার মৃতদেহ বাংলাদেশে আনা হয়।
এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার মৃতদেহ গ্রহণ করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (জাতীয় সংসদের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী আওয়ামীলীগ সভানেত্রী)।
সবশেষে ৫ জুলাই তাকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।
তিনি লেখিকা, গুণী কথাসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ এবং শহীদ জননী ও একাত্তরের ঘাতক দালাল বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে খ্...