23/03/2026
চোখের পাপ (হারাম দৃষ্টি) মনের মধ্যে এমনভাবে গেঁথে যায় যে, নামাজের সিজদায়ও (যেখানে মানুষ সবচেয়ে বিনয়ী অবস্থায় থাকে) সেই ছবি ভেসে ওঠে এবং খুশু-খুজু নষ্ট হয়। ফলে নামাজ পূর্ণ প্রশান্তি দেয় না।
চোখের গুনাহ কী?
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: চোখের যিনা হলো দৃষ্টি (হারামের দিকে তাকানো)। (সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য সূত্রে বর্ণিত, সহীহ)
আর কুরআন মজীদে স্পষ্ট নির্দেশ:
“মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।” (সূরা নূর: ৩০)
একইভাবে মহিলাদের জন্যও (সূরা নূর: ৩১)। হারাম দৃষ্টি (নন-মাহরামের সৌন্দর্য দেখা, অশ্লীল ছবি/ভিডিও) চোখের যিনা, যা হৃদয়কে কলুষিত করে এবং বড় গুনাহের দিকে নিয়ে যায়।
✅ এ থেকে বাঁচার বিস্তারিত আমল
এ গুনাহ থেকে বাঁচতে শুধু দোয়া নয়, প্র্যাকটিক্যাল + আধ্যাত্মিক আমল একসাথে করতে হবে। নিচে ধাপে ধাপে লিখছি:
১. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: দৃষ্টি নত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা
➡️ হারাম কিছু চোখে পড়লে তৎক্ষণাৎ চোখ ফিরিয়ে নিন।
রাসূল ﷺ জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.)-কে বলেছেন:
“অনিচ্ছাকৃত দৃষ্টি পড়লে তা ফিরিয়ে নাও।” (সহীহ, আবু দাউদ ২১৪৮)
➡️ দ্বিতীয় দৃষ্টি দেওয়া একেবারে হারাম। আলী (রা.)-কে বলা হয়েছে: প্রথম দৃষ্টি তোমার জন্য, দ্বিতীয়টি নয়।” (আবু দাউদ, তিরমিযী—সহীহ)
➡️ বাস্তব পদক্ষেপ:রাস্তায়/বাজারে চলার সময় মাটির দিকে বা সামনের দিকে তাকিয়ে চলুন। মোবাইল/কম্পিউটারে অ-শ্লী-ল কনটেন্টের ফিল্টার লাগান (যেমন: ওয়েবসাইট ব্লকার অ্যা-প)।
টিভি/ইউটিউব/সোশ্যাল মিডিয়ায় অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং কমান। প্রয়োজন ছাড়া নন-মাহরামের সাথে মেলামেশা এড়ান।
২. নিয়মিত দোয়া পড়ুন (সবচেয়ে শক্তিশালী আমল)
রাসূল ﷺ শকল ইবনে হুমাইদ (রা.)-কে শিখিয়েছেন:
“আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন শাররি সাময়ী ওয়া মিন শাররি বাসারী ওয়া মিন শাররি লিসানী ওয়া মিন শাররি ক্বালবী ওয়া মিন শাররি মানিয়্যী।”
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার কানের অনিষ্ট থেকে, চোখের অনিষ্ট থেকে, জিহ্বার অনিষ্ট থেকে, হৃদয়ের অনিষ্ট থেকে এবং আমার বীর্যের (যৌন কু-প্রবৃত্তির) অনিষ্ট থেকে।
(সুনান আবু দাউদ ১৫৫১—সহীহ, আলবানী)
সংক্ষিপ্ত সংস্করণ (যা অনেকে বলেন):
“আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন শাররি বাসারী।”
(হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার চোখের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।)
✅ কখন পড়বেন?
➡️ ফজর ও মাগরিবের পর।
➡️ ঘুমাতে যাওয়ার আগে।
➡️ বাইরে বের হওয়ার আগে।
➡️ হারাম দৃষ্টি পড়ার সাথে সাথে “আস্তাগফিরুল্লাহ” + এই দোয়া। ৩. তওবা করুন (প্রতিদিন)
➡️ যদি গুনাহ হয়ে যায়, তৎক্ষণাৎ তওবা করুন।
“আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতূবু ইলাইহি” বলুন + আল্লাহর কাছে কাঁদুন। রাসূল ﷺ বলেছেন: যে তওবা করে, সে যেন কখনো গুনাহ করেনি। (ইবনে মাজাহ—সহীহ)
প্রতি জুমার দিন বা রাতে বিশেষ তওবা করুন।
৪. অন্যান্য শক্তিশালী আমল
➡️ নিয়মিত নামাজ + খুশু: সিজদায় দোয়া বেশি পড়ুন। চোখের গুনাহ কমলে সিজদায় শান্তি আসবে। রোজা রাখুন: রাসূল ﷺ বলেছেন, রোজা যৌন কু-প্রবৃত্তি দমন করে। কুরআন তিলাওয়াত: প্রতিদিন অন্তত ১ পারা। চোখের গুনাহ কমায়। যিকির: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বেশি পড়ুন। হৃদয় আল্লাহমুখী হলে চোখ স্বয়ংক্রিয় নত হয়।
মৃত্যু স্মরণ: প্রতিদিন ৫ মিনিট চিন্তা করুন—এ চোখ কবরে কী জবাব দেবে?
➡️ পরিবেশ পরিবর্তন:
বন্ধুবান্ধব যাদের সাথে অ'শ্লীল আলোচনা হয়, তাদের এড়ান। ঘরে/মোবাইলে অ'শ্লীল কনটেন্ট রাখবেন না।
বিয়ে করতে পারলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব (হালাল পথ খুলে যায়)।
৫. বিশেষ টিপস (প্র্যাকটিক্যাল)
প্রথম ৪০ দিন কঠোরভাবে চোখ নত রাখার চ্যালেঞ্জ নিন। আল্লাহ সাহায্য করবেন। হা'রাম দেখলে সাথে সাথে “আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম” + দোয়া।
মহিলাদের জন্যও একই নিয়ম—পুরুষদের দিকে অপ্রয়োজনীয় দৃষ্টি এড়ান।
✅ শেষ কথা:
এ গুনাহ থেকে বাঁচলে আল্লাহ হৃদয়ে নূর দান করেন, চোখের মাধ্যমে জান্নাতের পথ সহজ হয়। রাসূল ﷺ বলেছেন, যে আল্লাহর জন্য কিছু ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার জন্য তার চেয়ে উত্তম কিছু দেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে চোখের হেফাজত দান করুন। 🤲