20/05/2026
তখনো ১৪১ রান লাগে পাকিস্তানের। তবে মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আলী আগা যেভাবে ক্রিজে জমে গেছেন, অস্বস্তি বাড়ে মনে। পাকিস্তান টেস্টে টার্গেট তাড়া করতে নামলেই মুলতানের কথা মনে পড়ে। ২৩ বছর আগে মহাকাব্যিক এক জয়বঞ্চিত করেছিলেন ইনজামাম, মহাকাব্যিক এক ইনিংসে। সিলেটের সবুজে ফিরি। দ্বিতীয় নতুন বল নিলেন শান্ত৷ প্রথম ওভারে শরিফুল মন:সংযোগে চিড় ধরাতে পারলেন না।
পরের ওভারেই স্পিনার। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ টেস্ট শিকারী তাইজুল ইসলাম। ওভারের পঞ্চম বলটা ছিল আর্ম বল। সালমান টার্নের জন্য খেললেন, বলটা ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলে স্টাম্পে। ১৩৪ রান খরচ আর কয়েক ঘণ্টা পেরোনোর পর স্বস্তি। প্রায় ১৫০ রানের বাকি পথটা পাকিস্তানের জন্য নিমেষেই বন্ধুর। এই খেলাটা এতো রঙ বদলায়।
৪৫০ ওভারের খেলায় একটা রানও ভাগ্য বদলাতে পারে। প্রতিপক্ষ চাপে রাখলে নিজেদের সবকিছু নিয়েই হয় সন্দেহ। ইশ, মুশফিকরা তাড়াহুড়ো না করলেই পারতেন! তাইজুলকে দিয়ে শান্ত বল না করাতেন সাজিদ খানের সামনে। ব্যাটিং করতে হয় অখণ্ড মনোযোগে। প্রলোভনের ফাঁদে দেয়া যাবে না পা। বোলিংয়ে লাগে ধারাবাহিকতা। টোপ ফেলে শিকারকে আনতে হয় বশে। কখনো দাবার মতন চালে চলে। আবার অ্যাকশনে ভরা সিনেমা।
পঞ্চম দিনে যাওয়া টেস্ট ক্রিকেটের তুলনা হয় না। ছোট পরিসরের খেলায় সাময়িক বিনোদন। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট রীতিমতন এক যুদ্ধ। পিছিয়ে যেতে হয়। আবার সুযোগ পেলেই আগানো। হাল না ছাড়া৷ যতই ২০, ১০ ওভারের ম্যাচ আসুক না কেন, টেস্ট ক্রিকেট অনন্যই। সাদা পোশাকে লাল বলের খেলাটার সাথে আর কিছুর তুলনা চলে!