19/04/2025
যৌন হয়রানি এলার্ট ⚠️
আমি পরিসংখ্যান নবম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী।
আমি আমার ডিপার্টমেন্টের রশীদুল স্যারের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি। শুরুতেই আমি ডিপার্টমেন্টে তার নজরে আসি আমার মুখের হাসির ( উনার ভাষ্যমতে) জন্য । আমার সাথে এভাবেই উনি কমপ্লিমেন্ট দিয়ে কথা বলা শুরু করে। তারপর ইনবক্সে নক দিয়ে নানাভাবে পড়ালেখার খোঁজখবর নেয় এবং আমি সরল মনে বিশ্বাস করি আমি অনেক দূর থেকে এসেছি তাই এভাবে খোঁজ নিচ্ছে। এভাবে কিছুদিনের মধ্যে আমাদের ডিপার্টমেন্টের পিকনিক হয় সেখানে তার বউয়ের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর একদিন ওনার বউ আমাকে নক দিয়ে বলে আমাদের এলাকায় কি কি খাবার( যেটা ফেমাস) পাওয়া যেটা উনি খেতে চান আর আমিও বাসায় গিয়ে তাকে দিয়ে আসি( যেহেতু সরাসরি চেয়েছে) , এভাবেই একটা সম্পর্ক তৈরি হয় তার সাথে আমার। এরপর আমি আমার ডিপার্টমেন্টের চিয়ারের সাথে তার রুমে যাই দু একবার উনি আমাকে বলেছিল ক্লাসের লেকচার না বুঝলে তার কাছ থেকে গিয়ে বুঝায় নিতে। এটাও আমি খুব সরল মনে বিশ্বাস করি কারণ আমার সাথে থাকা বান্ধবীরা প্রায়ই যেত তার কাছে আমিও তাদের সাথেই যেতাম। এভাবে এভাবে চলতে চলতে উনি ইনবক্সে কথা বলা বাড়িয়ে দেয় এবং এক পর্যায়ে আমার শাড়ি পরা ছবি চায়। ব্যাপারটা ইমিডিয়েটলি আমি আমার কাছের এক বান্ধবীকে জানাই স্যার আমার কাছে এভাবে শাড়ি পরা ছবি চেয়েছে আমি কি দিব? সে আমাকে বলে স্যার আমার কাছেও চেয়েছিলো। আমি স্যারকে বলি স্যার আমার শাড়ি পরা কোন ছবি আপাতত নেই।এর কিছুদিন পরে আমাদের ভাইবা হয় আর আমি সেখানে শাড়ি পরি। আর এ সময় উনি আমার কাছাকাছি এসে বারবার ছবি তোলেন। বিষয়টা অনেক বেশি অকওয়ার্ড হলেও আমি সবার সামনে কিছু বলতে পারি না। এরপর আমি কিছুটা ইগনোর করা শুরু করলে উনি আমাকে নক দিয়ে ওনার চেম্বারে যেতে বলেন। আমি তখনও ভাবি নি এত এত লোকের ভিড়ে উনি কিছু বলবেন বা কিছু করার সাহস পাবেন। এতোটুকু ভরসা নিয়ে আমি তার রুমে যাই। উনি তখন শুরুতে আমাকে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল শুরু করে তুমি এত দূর থেকে পড়াশোনা করতে এসেছ কোনভাবে যদি তোমার রেজাল্টটা খারাপ হয় বাবা মার কাছে কি জবাব দিবে। এরপর উনি আমাকে বলেন তোমার কোন আইডিয়া আছে একজন ভার্সিটি টিচার সম্পর্কে তোমার পাশ ফেল সবকিছুই আমার হাতে আমি যেভাবে বলবো তোমাকে সেভাবেই শুনতে হবে। এভাবে তোমার সিনিয়র রাও পাশ করে গেছে। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর করোনা চলে আসে আমিও বাসায় চলে যাই আর আমার আইডি ডিলিট করে দিই কিছুদিন পরে অন্য একটি আইডি খুললে উনি আমাকে খুঁজে খুঁজে আবার রিকোয়েস্ট দেয় আর মেসেজ দিয়ে বলে তুমি কি আমাকে ব্লক করে দিয়েছো। আমি তাকে বলি আমার আইডি নষ্ট হয়ে গেছে। পড়ানো সময় সবকিছু আনসার টেন থাকার কারণে আমি ভাবছি যা হওয়ার হবে তাই তার সাথে ওই সময় কোন যোগাযোগ রাখিনি। কিন্তু বিপত্তিটা করোনা পরবর্তী সময়ে ঘটলো। ডিপার্টমেন্টে আবার ব্যাক করার পর সে তার বউয়ের আইডি থেকে নক করত শুরুতে আমি ব্যাপারটা ধরতে পারিনি। এরপর আমাদের অনার্সের প্রজেক্ট এর সময় চলে আসে, আমার রোল ডিপার্টমেন্টের অন্য একজন শিক্ষকের আন্ডারে আসে কিন্তু উনি আমাকে ফোর্স করে অ্যাপ্লিকেশন দেওয়ায় তার গ্রুপে আসার জন্য এত কষ্ট করে এতদিন পড়াশোনা করে আসলাম এখন তিনটা কোর্সে সে যেন ফেল করায় দিতে বাধ্য না হয়। এসব ভয়ে আমি অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়ে তার গ্রুপে আসি। এভাবে প্রজেক্ট এর কাজে একদিন আমার বান্ধবীর সহ তার রুমে গেলে প্রজেক্ট নিয়ে নানান আলোচনা করার পর আমার বান্ধবী কে বলে তুমি সিঁড়ির কাছে একটু যাও তোমার বান্ধবীর সাথে আমার একটু কথা আছে আমিতো বাঘ না ওকে খেয়ে ফেলবো। পরে উনি সরাসরি আমাকে বলে তুমি কি জানো ক্লাসে পড়াই আমার পড়ানো থেকে তোমার দেখে মনোযোগ বেশি থাকে। তোমাকে দেখলে আমি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিনা। এর থেকেও আরও অনেক নোংরা নোংরা সেনসিটিভ কথা বলে যা আমি পাবলিকলি বলতে পারব না। পরে আমি ওখানে কান্না করে দিলে উনি আমার ফোন নেয় এবং লক খুলতে বলে। তারপর ওনার লিস্টে ঢুকে ওনার চ্যাট ডিলিট করে আর বলে তুমি এসবের কোন রেকর্ড রাখো নাই তো। পরে ওই মুহূর্তে আমার বান্ধবী চলে আসলে আমি ওখান থেকে বের হয়ে চলে আসি। এরপর একদম প্রজেক্ট শেষ করে প্রজেক্ট জমা দেওয়ার দিনে আমি যাই। সেদিনও উনি আমাকে একা অপেক্ষা করতে বলে আমি আমার বান্ধবী কে বলে যে তুই প্লিজ থাক আমি একা একা ভয় পাচ্ছি। আমার বান্ধবী বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে উনি কথা বলতে বলতে এক সময় এসে আমাকে ব্যাড টাচ করার চেষ্টা করে তখন আমি ওনাকে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে আসি। আমি তখন কান্না করতে করতে হলের দিকে যাচ্ছিলাম তখন আমার এক বান্ধবী আমার দেখা পেয়ে কথা বলে আমার সাথে আমার কাছে জানতে চায় আমার কি হয়েছে আমি তার সাথে কথা বলে ভরসা পাই শেয়ার করার তাই তাকে আমি সব খুলে বলি। আমার সেই বান্ধবী এবং আরো একজন বন্ধু আমাকে সাজেস্ট করে প্রজেক্ট জমা দেওয়ার সময় যে ছবিগুলো তোলা হয় আমার ফোন থেকে সেগুলো সে চাওয়ার জন্য নক দিলে আমি যেন এমন ভাবে কথা বলি তার সাথে যেন সে যে আমাকে নোংরা প্রস্তাব দিয়েছে তার কোন প্রমাণ রাখতে পারি। ওদের কথা মতো আমি তার সাথে সেভাবেই কথা বলি। আর রাতের মধ্যেই সব কিছু গোছগাছ করে হল ত্যাগ করে বাসায় চলে আসি। নিচে আমার সেই প্রমাণস্বরূপ কনভারসেশন এর স্ক্রীনশট দেওয়া হল।
বি.দ্র: সে যেহেতু আমার ফোন নিয়ে তার সাথে আমার সমস্ত কনভারশেসন ডিলিট করে দেয়, সেহেতু আমি তাকে আমার ক্লাসমেট বন্ধুর কথামতো হানি ট্রাপে ফেলে শেষে এই কথাটুকু বের করে সস রেখে দিছি। যার কারণে আমি তার সাথে তালে তাল মিলিয়ে কথা বলতেছিলাম🙏
বিস্তারিত কমেন্টে