02/02/2021
উচ্চ শিক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট:
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনপত্রের সাথে স্টেটমেন্ট অফ পারপাস/মোটিভেশান লেটার/ষ্টেটমেন্ট অফ স্টাডি প্ল্যানিং/ কনসেপ্ট পেপার, সিভি, রিকমেন্ডেশান লেটার ইত্যাদি ডকুমেন্ট সংযুক্ত করতে হয়। মূলত এই তিন ধরনের ডকুমেন্টের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাডমিশন কমিটি অথবা গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক আপনাকে যাচাই করে নিবে। খেয়াল করে দেখুন কি সুনিপুণ ভাবে আপনাকে যাচাই করা হচ্ছে।
প্রথমতঃ স্টেটমেন্ট অফ পারপাস/ মোটিভেশান লেটার/ষ্টেটমেন্ট অফ স্টাডি প্ল্যানিং/কনসেপ্ট পেপার এর মাধ্যমে যাচাই করবে আপনার চিন্তার ধরন, গভীরতা, সৃষ্টিশীল মন মানসিকতা কোন পর্যায়ের এবং আপনি কত সুন্দর করে একটি বিষয়ের সাথে অপর বিষয়ের যোগসূত্র স্থাপন করে উপস্থাপন করতে পারেন।
দ্বিতীয়তঃ আপনার কারিকুলাম ভাইটা বা সিভি, কিংবা রেসুমি-র মাধ্যমে যাচাই করবে আপনার কি কি যোগ্যতা ইতোমধ্যে আছে কিংবা আপনি অর্জন করেছেন?
তৃতীয়তঃ রিকমেন্ডেশান লেটার যা কিনা আপনার সম্পর্কে অন্য কেউ কি ভাবছেন বা আপনাকে কেমন মনে করেন।
এই তিনটি বিষয় সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা যেতে পারে?
গ) সিভি/রেসুমি
Curriculum Vitae (CV)- সিভি কি? খুব সহজ ভাবে বাংলা ভাষায় অর্থ দাঁড়ায় জীবন বৃত্তান্ত। আপনার জীবনের যাবতীয় যোগ্যতা সমূহের বিস্তারিত বর্ননা। তাহলে Resume রেসুমি কি? বাংলা অর্থ দাঁড়ায় সেই একই, জীবন বৃত্তান্ত।
কিন্তু খেয়াল করুন Resume শব্দের প্রায় সমার্থক আরেকটি শব্দ হল সারসংক্ষেপ। চলুন এক ঝলক দেখে নেই এই দুই জীবন বৃত্তান্তের মধ্যে পার্থক্য।
সিভিতে আপনি আপনার বিভিন্ন ধরনের যোগ্যতা সমূহ বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরবেন। আর রেসুমি তে আপনি আপনার যোগ্যতা সমূহ উপস্থাপন করেব সংক্ষিপ্ত রূপে। যেমন ধরুন, আপনি কোন নির্দিষ্ট পদের জন্য কোথাও আবেদন করছেন, হউক তা পেশাগত অথবা শিক্ষাগত, আপনাকে ঠিক ঐ পদের সাথে মিল রেখেই সুধুমাত্র ঐ পদের সাথে সংশ্লিষ্ট যে সমস্ত যোগ্যতা আপনার আছে তা যখন আপনার জীবন বৃত্তান্তে উপস্থাপন করবেন তাই হবে আপনার রেসুমি। তার মানে রেসুমি হল প্রত্যেক পদের সাথে মিল রেখে প্রতিবার ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আপনাকে উপস্থাপন।
খেয়াল করুন, আপনি যেখানে বা যার কাছে আবেদন করছেন সেই প্রতিষ্টান বা ব্যক্তি কি চাইছে? সিভি নাকি রেসুমি? ঠিক সেই ভাবে তৈরি করুন।
যখন আপনার নিজের সম্পর্কে কিছু তৈরি করবেন, খেয়াল রাখবেন আপনি বিচার করবেন আপনাকে যার কাছে পাঠাবেন তার যায়গা থেকে। যেহেতু আপনি তৈরি করছেন উচ্চশিক্ষার জন্য তাই উক্ত শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরুন। চলুন একবার দেখে নেই।
যোগাযোগের ঠিকানা
আপনি প্রথমে কি দেখতে চাইবেন? যিনি আবেদন করেছেন তার যোগাযোগের ঠিকানা।
তাহলে প্রথমেই লিখুন; আপনার নাম, আপনার যোগাযোগের ঠিকানা। যেমন; ইমেল আইডি, ফোন নাম্বার, পোস্টাল এড্রেস। অনেকেই এই ক্ষেত্রে বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা এসব দিয়ে থাকেন। আপনি নিজেই চিন্তা করুন তো, স্থায়ী ঠিকানা দিয়ে কি হবে? উনি কি আপনার বাসায় আপনাকে খুঁজতে আসবেন? বর্তমান ঠিকানাতে না পেলে স্থায়ী ঠিকানাতে চলে যাবেন? না খুঁজতে আসবেন না। বর্তমানে প্রয়োজন আপনার একটি সঠিক ইমেইল আইডি।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
যেহেতু উচ্চ শিক্ষার জন্য আবেদন, তাই আপনার নাম এবং যোগাযোগের ঠিকানার পরেই উল্লেখ করুন, আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা কি কি আছে? কবে করেছেন? প্রথমেই উল্লেখ করবেন সর্বশেষ কোন ডিগ্রী অর্জন করেছেন। এই ধারাবাহিকতায় স্কুল পর্যায়ের ডিগ্রী পর্যন্ত উল্লেখ করুন।
যদি মাঝে কোন ডিপ্লোমা জাতীয় কোর্স করে থাকেন তাহলে সাব-হেডিং দিয়ে তা উল্লেখ করুন।
প্রশিক্ষন
আপনার শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট কোন প্রশিক্ষণ যদি গ্রহন করে থাকেন, তাহলে তা ধারাবাহিক ভাবে উল্লেখ করুন। যদি অন্য কোন ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহন করে থাকেন যা এই উচ্চ শিক্ষায় কাজে লাগবে তাও উল্লেখ করুন। যেমন ধরুন আপনি স্নাতক করেছেন ভূগোল বিষয়ে। কিন্তু আপনার একটি প্রশিক্ষণ গ্রহন করা আছে লিডারশীপ এর উপরে। আপনি তা উল্লেখ করবেন, কেননা লিডারশীপ যে কোন বিষয়ের সাথেই গুরুত্ব পূর্ন।
প্রযুক্তিগত দক্ষতা
প্রযুক্তিগত দক্ষতা আপনার কি কি আছে? যেমন কম্পিউটারে আপনি কি কি জানেন? কি কি প্রোগ্রামে আপনি দক্ষ? সংক্ষেপে উল্লেখ করুন। এ ছাড়াও, যদি অন্য কোন ধরনের প্রযুক্তি গত দক্ষতা থাকে যেমন, কোন ল্যাবরেটরি মেশিন চালনা, প্রযুক্তির কোন যন্ত্র পরিচালনা ইত্যাদি।
গবেষণা অভিজ্ঞতা
আপনি কি কোন গবেষণা কর্ম করেছেন? মনে হচ্ছে করেননি। তাই না। আসলে কিন্তু করেছেন। মনে পড়ছে না? খেয়াল করিয়ে দিচ্ছি। আপনি আপনার স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর যে কোন পর্যায়ে আপনি কোন একটি গবেষণা কর্ম করেছিলেন আপনার ডিগ্রী সম্পন্ন করার জন্য। উক্ত গবেষণা কর্মটি উল্লেখ করুন। অবশ্যই আন্তর্জাতিক কোন একটি ফরমেট অনুসরন করবেন।
যদি আপনি শিক্ষা গ্রহনের কোন এক পর্যায়ে কোন শিক্ষা সফরে গিয়ে থাকনে, এবং শিক্ষা সফর সংক্রান্ত কোন প্রতিবেদন জমা দিয়ে থাকেন, তবে তাও উল্লেখ করেন গবেষণা কর্ম হিসাবে। কারন শিক্ষা সফরের প্রতিবেদন তৈরি করা গবেষণার একটি প্রাথমিক পর্যায়।
প্রকাশিত গবেষণা
যদি কোন গবেষণা কর্ম কোথাও প্রকাশিত হয়ে থাকে তাহলে তা সঠিক ভাবে উল্লেখ করুন। সাধারনত রেফারেন্সিং স্টাইলে উল্লেখ করতে হয়। একাধিক প্রকাশনা থাকলে তা নিকটবর্তী সালে প্রকাশিত গবেষণা কর্মটি প্রথমে দিন এবং ধারাবাহিক ভাবে অন্য প্রকাশনা গুলি উল্লেখ করুন।
কনফারেন্স/সেমিনার
করফারেন্স বা সেমিনারে কোন পেপার প্রেসেন্ট করে থাকলে তা উল্লেখ করুন। যদি তা প্রকাশিত হয়ে থাকে তাহলে প্রকাশিত গবেষণা সেকশানে উল্লেখ করুন।
যে সমস্ত কনফারেন্স এবং সেমিনারে যোগদান করেছেন তা সুন্দর ভাবে উল্লেখ করুন কোথায়, কখন, আয়োজক প্রতিষ্ঠান অথবা সংস্থা, ইত্যাদি সব কিছু। আপনি কি হিসাবে যোগদান করেছিলেন তাও উল্লেখ করতে পারেন। যেমন হতে পারে, পেপার প্রেসেন্টার, কিংবা আলোচক, কিংবা সমালোচক, বিচারক, বক্তা, গবেষক শ্রোতা ইত্যাদি।
পেশাগত অভিজ্ঞতা
পেশাগত অভিজ্ঞতা যদি আপনার উচ্চ শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট হয় তাহলে তা ভালভাবে উল্লেখ করুন। কেননা এই ধরনের অভিজ্ঞতা আপনাকে এগিয়ে দেবে। যদি সংশ্লিষ্ট নাও হয়ে থাকে, তবুও উল্লেখ করুন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এমন ভাবে ব্যাখ্যা করুন যেন আপনার উচ্চ শিক্ষার সাথে সমন্বয় করা যায়। এভাবে ধারাবাহিক ভাবে যা অভিজ্ঞতা আছে তা উল্লেখ করুন।
এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তি
শিক্ষা জীবনে অথবা অন্য কোন অতিরিক্ত অভিজ্ঞতায় যদি কোন এ্যাওয়ার্ড পেয়ে থাকেন তাহলে এবারে তা উল্লেখ করুন। হতে পারে তা যে কোন পুরষ্কার।
অতিরিক্ত যোগ্যতা বা কর্মকান্ড
ইতিবাচক যে কোন অতিরিক্ত যোগ্যতা বা কর্মকান্ডের দক্ষতা। যেমন হতে পারে আপনি শিক্ষা জীবনে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম বা ইভেন্ট আয়োজন করেছেন। হতে পারে তা শিক্ষাগত অথবা অন্য কোন কিছু যেমন সিক্ষাসফর বা বনভোজন কিংবা সাংস্কৃতিক কোন অনুষ্ঠান। সংক্ষেপে বর্ননা করুন। কারন এতে করে ফুটে উঠবে আপনার আয়োজক হিসাবে দক্ষতা। পাশাপাশি আপনার নেতৃত্ব।
আপনার শখ
অনেক ক্ষেত্রেই আপনার শখের মাঝে ফুটে উঠবে আপনার চরিত্র, ব্যক্তিত্ব, আপনার চিন্তা চেতনা আপনার চারিত্রিক বৈশিষ্ট। তাই ভেবে চিনতে উল্লেখ করুন। তাই বলে মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না। যেমন আপনি আপনার নিজেকে খুব জ্ঞানী ভাবে উপস্থাপনের জন্য বললেন আপনার শখ হল শুধু মাত্র জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশা বা আড্ডা দেয়া। আসলেই কি তাই? অথচ আপনি যদি সত্যিকার বাভেই লিখেন যে আপনার শখ হল বাড়ীর পাশের গাছটিতে যে ছোট্ট পাখী বাসা বাঁধে তা পর্যবেক্ষন করা। খেয়াল করে দেখুনতো এর মাঝে আপনার কতগুলি বিষয় এক সাথে ফুটে উঠছে। যেমন,
· আপনি আপনার খুব কাছে পরিচিত একটি বিষয় কেও যথেষ্ট মূল্যায়ন করছেন।
· আপনি খুব ছোট্ট একটি বিষয় কে দারুণ অনুভূতি নিয়ে পর্যবেক্ষন করছেন।
· আপনি সূক্ষ্ম ভাবে দেখছেন যে প্রকৃতি কিভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখছে।
· আপনি প্রকৃতিকে ভালবাসেন।
· আপনার মাঝে প্রকৃতি পর্যবেক্ষনের বাসনা আছে।
· আপনি খুব সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষক, ইত্যাদি।
রেফারেন্স/রেফারি
অভিজ্ঞ শিক্ষক কিংবা পেশাগত তত্ত্বাবধায়ক অথবা আপনাকে ভালো জানেন এবং আপনার সম্পর্কে যে কারো কাছে আপনার অনুপস্থিতিতে ইতিবাচক কথা বলবেন, এইরকম দুইজন অথবা অনেক সময়ে তিনজন এর নাম, পদবী এবং যোগাযোগের ঠিকানা রেফারেন্স হিসাবে উল্লেখ করেন। আপনি হয়তো খুব বড়ো এমন একজনের নাম লিখলেন শক করে, সেই ব্যক্তিকে আপনার সম্পর্কে জানতে চাইলে উনি সরাসরি বলে দিলেন যে আপনাকে চিনে না, বাস আর কিছু লাগবে না। যাদের নাম রেফারেন্স/রেফারি হিসাবে দিবেন, অবশ্যই তাদের কাছে থেকে পূর্ব অনুমতি নিয়ে নিবেন। নতুবা যদি আপনাকে চিনতে না পারে তখন আপনি হাজারবারও যদি বলেন,
এইটা কোন কথা?
কোন লাভ নাই।
অপ্রয়োজনীয় তথ্য
প্রচলিত ভাবে অনেকেই লিখে থাকেন, বাবা- মা এর নাম, রক্তের গ্রুপ এবং কেউ কেউ সাথে যুক্ত করেন আপনার জাতীয় আইডি নাম্বার। খেয়াল করে দেখুন তো এই তথ্য গুলি কি আসলেই প্রয়োজন? বাবা-মা সবার কাছেই সম্মানের শ্রদ্ধার। কিন্তু এখানে উনাদের নাম জেনে কি হবে? আপনার কি মনে হয় যে আপনাকে যাচাই করা হবে আপনি কার সন্তান হিসাবে? না তা করা হবে না। তবে আপনি সফল হলে আপনার বাবা-মাকে সম্মানের সাথে আমন্ত্রন জানানো হবে আপনার সফলতার সনদপত্র প্রদানের সময়ে। আপনার রক্তের গ্রুপ কি এইটা দিয়ে কোন কাজে আপাতত আসবে না। আর দেশের আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার কমিটির কাছে কোন মূল্য নেই। এমন কোন তথ্য সরবরাহ করবেন না যাতে করে অন্য কারো বিরক্তির উদ্রেক হয়। বরং প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপনের মাঝে আপনি আপনার বিচক্ষনতার পরিচয় দেবেন।
ভাইরে ভুলেও লেইখেন না যে আপনার সাথে অমুখ সেলিব্রেটির পরিচয় আছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। অথবা আপনি অমুখের বিশাল পাংখা। ভুলেও সোশ্যাল মিডিয়ার কোন লিঙ্ক সাথে যুক্ত করবেন না।
এই ধরনের সিভি তে আপনার ‘Career Objectives’ – জাতীয় কিছু লিখবেন না।
অনুচ্ছেদ লিখেছেনঃ
Dr. Masum A Patwary