01/05/2024
১ম ও ২য় ছবির মানুষটাকে কি চিনেন ????
প্রথম ব্যাচ হতে ষষ্ঠ ব্যাচ পর্যন্ত অনেকেই হয়তো চেনেন তাকে, বাকিদের চেনার কথা না। তিনি হলেন ইসতিয়াক আহমেদ । আমাদের ভার্সিটির তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের। ভাইয়ার বাসাই রংপুরে। ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ রংপুর হতে এসএসসি ও এইচএসসি শেষ করে ভর্তি হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিজনেস ফ্যাকাল্টির তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী হওয়ায় তার বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম দিন টিই শুরু হয় ভার্সিটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে উদ্বোধনের মাধ্যমে। সেই সময় ভার্সিটির ক্যাম্পাস ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। ক্লাস রুম মূল ক্যাম্পাসে তো ল্যাব লালকুঠি মোড়ে এমন দসা। এতটা দুরত্ব নিয়ে একটা বিশ্ববিদ্যালয়, ছিল শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক কস্টের। সেই সময় তিনি ও তার দুই সহপাঠী রোকুনুজ্জামান রনি (AIS ৩য় ব্যাচ) ও মোঃ তৌফিকুর রহমান তুষার (সাবেক AIS ৩য় ব্যাচ, যদিও F&B ৪র্থ ব্যাচ হিসেবে পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করেন)। তারা তিন জন মিলেই শুরু করেন বাস ক্লাব। পাবলিক ভার্সিটির অন্যতম এক অংশ ভার্সিটি বাস। যে অংশটি বাদ দিলে আর যাইহোক পূর্নাঙ্গ ভার্সিটির অনুভুতি পাওয়া কঠিন। তারা শুধু বাস এর দাবিই নয় সেই সাথে প্রতিবাদ স্বরুপ টার্মিনাল হতে মর্ডান রুট ব্যবহার করা সকল বাসে যাতায়াত এবং ভার্সিটির পরিচিতি শুরু করেন। পাবলিক ভার্সিটি এবং ভার্সিটি গুরুত্ব সেই সাথে ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা সম্পর্কে ততকালীন মটর মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন কে জানান দেয়ায় ছিল তাদের বিশাল ভূমিকা। এমন কি ততকালীন মটর শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ কেও এক দিন ভার্সিটি বাস হবার পড়, বাসের উঠতে তো দেয় নি বরং নামায় দিয়েছিলো তারা। এই মর্মে যে এটা ভার্সিটি বাস, যার তার বাস নয় যে কেউ চাইলেই যাতায়াত করতে পাবে না । যাইহোক সাল ২০১১ এর মাঝামাঝি তাদের সেই কার্যক্রম এর পর ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ রংপুর মটরমালিক সমিতির অন্তর্ভুক্ত শাহেদ শিমু পরিবহনের একটি বাস দিয়ে শুরু করে ভার্সিটি বাসের যাত্রা। আমাদের প্রিয় রাশেদ মামা ছিলেন ততকালীন ড্রাইভার। একটি মাত্র বাস আর তা দিয়েই সকাল ৮ টা ৯ টা দুপুর ১:৩০ আর ৩:৩০ এর বাস দিয়ে যাত্রা শুরু ভার্সিটি বাসের। কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় ছিল একদম নগন্য। ফলে শুধু বাস নয় বাসের ছাদে ভরে যাত্রা করাই ছিল নিত্য দিনের শিক্ষার্থীদের এক মাত্র উপায়। এরাই প্রথমে প্রচলন করেন ভার্সিটি বাসে আপনি যতই আগে উঠেন না কেন, যতই ভাল সিটে বসেন না কেন, নারীদের এবং বড়রা যদি সিট না পায় দাড়িয়ে থাকে তবে তাদের জন্য ছেড়ে দেবেন আপনি সিট। যাইহোক এর কিছুদিন পর বাধ্য হয়েই ভার্সিটি পরিবহন পুল যুক্ত করেন আরো একটি শাহেদ শিমু পরিবহনের বাস ভার্সিটি বাস বহরে। কিন্তু এবার তাতে বাগড়া দেয় মটর মালিক শ্রমিকরা। এলাকার ভার্সিটিতে সকলের হক তাই সকল মটর মালিক ই চায় তাদের বাস ভার্সিটিতে চলুক। পরে এই সিদ্ধান্তে আসা হয় যে, সব সময় একটি বাস থাকবে শাহেদ শিমু পরিবহনের কিন্তু অন্য বাস টি প্রতি মাসে পরিবর্তন হবে। আর এভাবেই চলতে থাকে ভার্সিটি বাস। সে এক যেন বিভিষিকা কারন প্রয়োজনের তুলনায় খুবি অপ্রতুল সেই সার্ভিস সেই সাথে এত দুরের দুই ক্যাম্পাসের মধ্যে সমন্নয় করে ক্লাস করায় আর যাইহোক সেই বাস গুলো ততোটা ভুমিকা রাখতে পারছিল না। এখন একক ভাবে এগিয়ে আসলো আমাদের ইসতিয়াক ভাইয়া। সকাল ১০:৩০ এ ক্লাস শেষ করে ১২ টায় ল্যাব ধরা যেমন ছিল খরচা সাপেক্ষ তেমনি শিক্ষাথীরা ভয়ংকর রকমের সিডিউল মেলাতে হিমসিম খেত। এখন দরকার ১১ টায় একটা বাস। তাই পরিবহন পুল, ভিসি, বাস স্টাফ, ডিপার্টমেন্ট, ফ্যাকাল্টি সব কিছুতেই একাই সে শুরু করে লাগাতার পুস করা। ফাস্টে যখন কাজ হতচ্ছিল না তখন সে এক প্রকার জোর করেই বাস চালাতে বাধ্য করে সকাল ১১ টায়। পরে তার যুক্তি ও চেস্টায় ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয় ১১ টায় নিয়মিত বাস সার্ভিস চালু করতে। এর মাঝেই হয়ে যায় তার পরিবহন পুল, ভিসির পিএস এমন কি ভিসি স্যারের সাথেও নানান বাকবিতন্ডা। যাইহোক তার একক প্রচেস্টায় চালু এই ১১ টার। শুধু তাই নয় তাদের প্রচেস্টাতেই শুরু হয় বিকাল ৫ টার বাস ও। তাদের সময় বাস ভর্তি হবার পরের অতিরিক্ত ৫-৬ জন শিক্ষার্থী থাকলেও ভার্সিটি পরিবহন পুল বাধ্য হত অতিরিক্ত বাস দিতে। ততকালীর সময় ই ভার্সিটি বাস ছিল প্রকৃত পক্ষেই ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের। ইতি মধ্যেই চলে আসে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেয়া চাইনিজ ডংফেং কোম্পানির দুটো সিএনজি বাস। এদিকে ওয়াজেদ মিয়া ফাউন্ডেশন থেকে দেয়া হয় পুরনো হিনো একে১৭২ মডেলের একটি বাস। আর তাই নিয়ে জমে উঠে ভার্সিটি পরিবহন পুল। এমন কি দেশের লাগাতার ধর্মঘটের সময় যখন ভার্সিটি বাস বলে কিছু একটা আছে তা প্রায় ভুলতেই বসেছিল ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা তখনো এগিয়ে আসে এই ইসতিয়াক ভাই ও রনি ভাই। তাদের চাপের মুখে ততকালীন ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ আবারো বাধ্য হয় বাস সার্ভিস চালু করতে। যদিও বা এর জন্য অনেক হুমকি ও ভয় ভিতি তাদের দেখানো হয় কিন্তু কখনোই তারা পিছপা হয় নি, শিক্ষার্থীদের দাবি থেকে। এমন কি এখন কার যে ৭ টার বাস সেটাও ছিল তাদের দাবির অংশ যদিও ভাইয়ারা নিজেরা এর সুফল ভোগ করতে পারেন নাই কিন্তু ভার্সিটি হতে চলে যাওয়ার পূর্বেই তা চালু করে দিয়ে গেছেন আমাদের কে। এই ইসতিয়াক, রনি ও তুষার ভাই এর মাঝে আরেকটি মিল রয়েছে। তারা যেমন রংপুরের সন্তান, তেমনি তারা তিন'ই বর্তমানের ব্যাংকার। ইসতিয়াক ভাইয়া ছিলেন ভার্সিটি ৩য় ব্যাচের মধ্যে প্রথম ব্যাংকার। তিনি আগে ইস্টার্ন ব্যাংকে কর্মরত থাকলেও বর্তমানে আছে ব্রাক ব্যাংকে কর্মরত, তিনি একজন Certified Expert in Anti-Money Laundering and Financial Crime, রনি ভাইয়া আছেন ইউসিবি ব্যাংকে কর্মরত আর তুষার ভাই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মরত। তারা শুধু ভার্সিটি বাস নিয়ে নয়, আরো নানান বিষয়ে ভার্সিটি স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়তে রয়েছে তাদের অসামান্য অবদান। ভার্সিটি যে ১নং খেলার মাঠ সেটিকেও প্রথম খেলার উপযোগী করা ও খেলা চালু করা তাদের হাত দিয়েই, স্থায়ী ক্যাম্পাসে আল্পনা আঁকার সংস্কৃতি প্রচলন তাদের করা। এমন কি বিজয় সড়ক নামের যে রাস্তা দিয়ে আমরা প্রতিদিন হাটি সেই নামও ইসতিয়াক ভাইয়াদের দেয়া। ভার্সিটিতে প্রথম ১০০% স্পনসর দিয়ে অনুষ্ঠান করা যে সম্ভব তাও প্রথম করে দেখিয়ে গেছেন এই ভাইয়ারা। ততকালীন সময় রবির মত বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানী ভাইয়াদের অনুষ্ঠানে যেখানে ১,২০,০০০ টাকা স্পনসর হতে রাজি হতো সেখানে একি অনুষ্ঠান ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ কে জাস্ট ৪০,০০০ টাকা দিয়ে ছিল। আর ভার্সিটিতে যে জারুল ও সোনালু গাছ গুলো ফুল গুলো দেখি তাও এই রনি ভাই, ইসতিয়াক ভাইয়াদের অবদান। ভাইয়ারা আজ ক্যাম্পাসে নেই কিন্তু ক্যাম্পাস টিকে সাজিয়ে দিয়ে গেছেন এই সকল ব্যাক স্টেজের হিরোরা। কখনোই যাদের কে কোন স্টেজে দেখা যায় নি। থেকে গেছেন স্টেজের পিছনেই, করে গেছেন সকলের জন্য। ধন্যবাদ ভাইয়াদের দের কে, তাদের এই সকল অসামান্য অবদানের জন্য। ব্যাক্তি জীবনে তারা আরো সফল হোক, সেই সাথে সুস্থ ও সুন্দর হোক তাদের পথ চলা এই কামনা ভার্সিটির সকল সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে।