21/02/2026
শহীদ মিনারে ফুল দেয়া শিরক নাকি শিরক নয়?
উত্তরে যাওয়ার আগে একটু ইতিহাস ঘেটে নেই।
"জরোয়াস্ট্রিয়ানিজ্ম" বা জরাথ্রুস্টবাদ - প্রাচীন পার্সি বা বর্তমান ইরানে এই ধর্মে প্রচলিত ছিল টাওয়ার বা মিনারের সামনে নীরবতা পালন করা।
মিনার বা টাওয়ারের সামনে কেন নীরব থাকতো তারা?
তারা মনে করতো এতে যা যা হবে
— মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও আচার-অনুষ্ঠান
— "আত্মা ও পাথর" সংযোগ
— মৃত্যুর পবিত্রতা
— চূড়ান্ত দাতব্য কাজ
— দূষণ এড়ানো
দেব-দেবীর পূজার করার সময় মুশরিকরা নীরব থাকে কেন?
১. আধ্যাত্মিক আত্মসমর্পণ এবং নম্রতা (অহংকার বিনাশ)
২. গভীর মনোযোগ এবং একাগ্রতা
৩. শ্রদ্ধা এবং শ্রদ্ধার প্রকাশ
৪. ইতিবাচক শক্তি এবং শান্তি গড়ে তোলা
৫. সাংস্কৃতিক এবং মানসিক তাৎপর্য
শহীদ মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে ইসলামে কি বলে?
পুষ্পার্ঘ নিবেদন, এক মিনিট নীরবতা পালন করা, মোমবাতি জ্বালানো, মশাল জ্বালানো, শিখা অনির্বাণ বা শিখা চিরন্তন প্রজ্বলন ইত্যাদির সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।
এই গুলো বিজাতিরা পালন করছে আসছে - রোমান সম্রাজ্যের পেগানিস্ট , সুমেরীয় সভ্যতার মুশরিক থেকে বর্তমানের ইহুদি, খ্রিস্টান, সনাতনীরা একই ভাবে মুসলিমদের সেক্যুলার বানানোর কথা বলে এই ধরণের উপশিরক বা শিরকের কাজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
"যে ব্যক্তি বিজাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত হিসেবে গণ্য হবে।" [সুনানে আবু দাউদ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছেদ হা/৪০৩১-হাসান সহিহ]
“যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ, অনুসরণ ও সামঞ্জস্য বিধান করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে”
হাদীসটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহ. বর্ণনা করেছেন; ‘ফতহুল বারী’: ১৩/৩০০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং- ২৬৬৯।
হাদিস থেকে আমরা কি পাচ্ছি, এখানে স্পষ্ট যে যারা মুশরিকদের ন্যায় পাথরের সামনে নীরবতা পালন করলো, মাথা নিচু রাখলো, ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা করলো পাথরকে তারাও মুশরিকদের দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলো।
যদিও এখানে সরাসরি পূজা করা হচ্ছে না কোনো দেবতাদের কিন্তু দেখতে হবে তাদের কি সম্মান জানানোর কথা বলে ধোঁকা দেয়া হচ্ছে কি না? কারণ অন্ধঅনুকরণ ইসলামে নেই। দেখবেন শহীদ মিনারের বেদিতে জুতা পড়ে উঠা যায় না যেমনটা মূর্তিদের বেদিতেও একই ভাবে সম্মান করা হয় যদি কেউ উঠে তবে তর্ক বিতর্ক থেকে মারামারি হয়ে যায়।
মুসলিমদের সব কিছু যাচাই করা সুন্নাহ।
‘‘হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপী তোমাদের কাছে কোনো খবর আনে, তবে তোমরা তা পরীক্ষা করবে যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্থ না কর, এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।’’
- সূরা (৪৯) হুজুরাত: আয়াত ৬
এখানে হামিদুর রহমান এবং নভেরা আহমেদ ছিলেন ভাস্কর শিল্পী। তারা নামে মুসলমান ছিলেন কিন্তু প্রকাশ্যে এবং আচরণে কখনোই মুসলিম ছিলেন কি না সন্দেহ তবে মুক্তমনা ছিলেন। নভেরা আহমেদ বা ভাস্কর নভেরা একজন মুশরিক ছিলেন সরাসরি সনাতন বেশ ছিল যা তার বাহ্যিক ভাবে দৃশ্যমান। এখনো উইকিপিডিয়াতে তার ছবিসহ বায়ো দেয়া আছে।
মূলত তারা সুমেরীয় সভ্যতার ইনান্না, আরবীয় সভ্যতার উজ্জা, লাত, মানত কিংবা দূর্গা, লক্ষী, সরস্বতী দেবীর যেভাবে পূজা করা হয় ঠিক একই কনসেপ্টে একটি বড় এবং দুই পাশে ছোট ছোট আরো মিনার দিয়েছে।
নভেরা আহমেদের বাহ্যিক ভাবে সনাতন দৃশ্যমান, একই ভাবে তার শিল্পকর্ম কাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত তাও দৃশ্যমান।
ভাস্কর নভেরার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মুসলিমদের পথভ্রষ্ট করা এবং সে কাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত তা স্পষ্ট তাই সে মুশরিকদের পূজার কনসেপ্ট কপি করেছে আর আমাদের রাজনৈতিকরা না বুঝে এতো দিন গিলেছে, কারণ এটা নিয়ে তাদের মাথা ব্যথা নেই কারণ চেতনা ব্যবসা চলবে তাদের এবং এটাকে জাতীয় রূপ দিয়েছে। যা আরো একটা একই বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করে বিশ্ব মান দাঁড় করিয়েছে। আসলে তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন, বিশ্ব স্বীকৃতি না।
আমাদের অনেক ইসলামিক স্কলার শহীদ মিনারে ফুল দেয়াকে সরাসরি শিরক বলে না আবার অনেকে উপশিরক বলে। তবে আমি এটার গড়া থেকে ইনভেস্টিগেট করে যা পেলাম তাতে মুসলমানদের ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই দেয়া হয় নাই।
আমি এটাকে শিরক হিসাবেই গণ্য করবো কারণ অন্ধঅনুকরণ ইসলামে নেই এবং এটা থেকে মুসলমানদের দূরে সরে আসার আহবান জানাবো এবং না জেনে করার জন্য তওবা করার জন্য অনুরোধ করবো। আল্লাহ গাফুরুর রাহিম।
মুসলমানদের উচিত সে হোক দেশের প্রধান কিংবা বিরোধীদল যাচাই ছাড়া কোনো কাজে উৎসাহী না হওয়া। মানুষকে ইমপ্রেস করার জন্য আল্লাহকে আপসেট করানোর পরিণাম হবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম। তাই স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে ভালোভাবে এই মিনার সম্মান বন্ধ করতে হবে।
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে অংশীদার করা ক্ষমা করেন না, তবে তিনি যাকে ইচ্ছা অন্যান্য পাপ ক্ষমা করে দেন। আর যে আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার করে, সে এক গুরুতর পাপ করেছে।"
— সূরা আন-নিসা ৪:৪৮
আমরা অনেক ভাবে শহীদের স্মরণ করতে পারি যেটা ইসলামে জায়েজ রয়েছে। আমরা কি তাদের জন্য দোয়া করেছি কিংবা তাদের পরিবারদের খোঁজ খবর নিয়েছি কিংবা নিজেদের ভাষাকে বিশ্বে আরো মূল্যায়িত করার চেষ্টা করেছি?
কোনো একটা ভালো কাজ দিয়ে দিনটা স্মরণীয় করা যেতে পারে যেমন দরিদ্রদের সদকা করা, বৃক্ষরোপন করা, আরো অনেক কিছু। কিন্তু আমরা উল্টো নিজেদের জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছি এতে না শহীদের উপকার হচ্ছে, না আমাদের ভাষার। ইহকাল এবং পরকাল উভয় ক্ষতিগ্রস্থ থেকে বাঁচতে আমাদের শিরক থেকে সচেতন হতে হবে এবং অন্ধঅনুকরণ বন্ধ করতে হবে।
ব্ল্যাক ফিলোসোফার হামিদুর রহমান এবং নভেরা আহমেদ বা ভাস্কর নভেরাকে জানতে ও তাদের কাজকর্ম দেখতে পারবেন উইকিপেডিয়া এবং ইন্টারনেটে।
© দ্যা ব্ল্যাক ফিলোসফার্স - হু কন্ট্রোলস আ সোসাইটি
- আতাউল করিম