Senbag Fazil Madrasah

Senbag Fazil Madrasah সেনবাগ ফাযিল মাদ্রাসা , সেনবাগ, নোয়াখালী।

30/04/2026
25/04/2026

‎একবার মুসা (আঃ) রাস্তার পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন।তিনি দেখলেন, অত্যন্ত দরিদ্র ব্যক্তি বালির ভিতর শরীর ডুবিয়ে বসে আছে।তাঁর গায়ে কোনো কাপড় নেই,লজ্জায় সে বালু দিয়ে শরীর ঢেকে রেখেছে।

‎লোকটি হযরত মুসা (আঃ)-দেখে আর্তনাদ করে বলল,"হে আল্লাহর নবী।আমার জন্য একটু দোয়া করুন।আল্লাহ যেন অন্তত আমাকে বেঁচে থাকার জন্য সামান্য কিছু রিজিক দান করেন।অভাবের তাড়নায় আমি আর বাঁচতে পারছিনা।"

‎ফকিরের করুণ অবস্থা দেখে মুসা (আঃ)-এর দয়া হল।তিনি আল্লাহর কাছে লোকটির সচ্ছলতার জন্য দোয়া করলেন এবং চলে গেলেন।পরর্বতীতে আল্লাহর নবীর দোয়া কবুল হলো।

‎কিছুদিন পর নবীর মুসা (আঃ) ওই পথ দিয়ে ফিরছিলেন।তিনি দেখলেন রাস্তায় বিশাল জটলা।এখানে অনেক মানুষ ভীর করে আছে।তিনি জিজ্ঞেস করলেন,এখানে কি হয়েছে? এত ভীর কেনো?

‎লোকেরা জানাল,"কিছুদিন আগে যে ভিক্ষুক বালির নিচে শরীর ঢেকে পরে থাকত,সে হঠাৎ কিছু সম্পদ পেয়ে ছিল।টাকা পেয়ে সে মদ খেয়ে মাতাল হয়েছে।এরপর মাতলামি করতে গিয়ে ঝগড়া করে এক ব্যক্তি কে হত্যা করেছে।এখন তার 'কিসাস' বা মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার প্রস্ততি চলছে।

‎হযরত মুসা (আঃ) আল্লাহর প্রজ্ঞার স্বীকারোক্তি দিলেন এবং নিজের আবদারের জন্য ইস্তেগফার পড়লেন।

‎ঘটনাটি উল্লেখ করে আল্লামা শেখ সাদী (রহ.) কিছু চমৎকার প্রবাদও উপমা ব্যবহার করেছেনঃ-

‎১/বেচারা বিড়ালের যদি ডানা থাকত,তবে সে দুনিয়া থেকে সব চড়ুই পাখির বংশ শেষ করে দিত। অর্থাৎ, দূর্বলরা শক্তি পেলে অত্যাচারী হয়ে উঠে।

‎২/প্লাটো (আফলাতুন) বলেছেন,"পিঁপড়ার পাখা না থাকাই ভালো।কারণ পাখা গজালে সে উড়ে বেড়াবে এবং নিজের ধ্বংস ডেকে আনবে।

‎৩/পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন,যদি আল্লাহ তার সব বান্দাকে অঢেল রিজিক দিতেন,তবে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত। (সূরা-শুরা:২৭)

‎৪/বাবার কাছে অনেক মধু আছে,কিন্তু তিনি জ্বরে আক্রান্ত ছেলে কে খেতে দেন না।কারণ তিনি জানেন মধু মিষ্টি হলেও জ্বরের রোগীর জন্য (শরীরে গরমের তাপমাত্রা বেশি থাকলে) তা ক্ষতিকর।

‎অতএব, যিনি তোমাকে ধনী করেননি,তিনি তোমার ভালো-মন্দ তোমার চেয়ে বেশি জানেন।

‎আল্লামা শেখ সাদী (রা.)

বেশিরভাগ ভাইরা পাপ করতে চায় বলে relapse করে না…তারা relapse করে কারণ তারা—ক্লান্ত, একা, স্ট্রেসে, স্ক্রল করতে করতে, রাত...
21/04/2026

বেশিরভাগ ভাইরা পাপ করতে চায় বলে relapse করে না…
তারা relapse করে কারণ তারা—
ক্লান্ত, একা, স্ট্রেসে, স্ক্রল করতে করতে, রাত জেগে বিরক্ত হয়ে পড়ে।

প্রথমে আমরা দোষ দেই—সময়কে, মানুষকে, পরিস্থিতিকে…
কিন্তু ভেতরে ভেতরে জানি—
👉 আপনি আল্লাহর কাছে বারাকাহ চাইতে পারেন না,
যখন গোপনে নিজের হৃদয়কে হারামে ভরিয়ে রাখেন।

পর্ন শুধু “একটা অভ্যাস” না।
এটা চোখের যিনা।
এটা লজ্জাশীলতা (হায়া) নষ্ট করে,
হৃদয়কে দুর্বল করে দেয়।

আর পাপ কখনো এক জায়গায় থাকে না—
ধীরে ধীরে পুরো জীবনকে গ্রাস করে ফেলে।

তাই—
নামাজে মন বসে না…
দোয়া দুর্বল লাগে…
সকালগুলো ফাঁকা লাগে…

কারণ—
🌙 রাতগুলো যদি নোংরা হয়,
☀️ সকালগুলো শান্তি দেয় না।

⚠️ এই চক্রটা লক্ষ্য করুন:
কাজ → স্ট্রেস → রাতে relapse → নিজের উপর ঘৃণা → ক্লান্ত সকাল → আবার একই চক্র

আপনি unlucky না…
আপনি একটা cycle-এ আটকে গেছেন—যা আপনার বারাকাহ ধীরে ধীরে শেষ করে দিচ্ছে।

🛑 সমাধান (শুধু চেষ্টা না, সিস্টেম লাগবে):
✔️ রাতকে প্রটেক্ট করুন
✔️ ফোন পরিষ্কার করুন (হারাম কনটেন্ট বাদ দিন)
✔️ এশার পর ঘুমানোর অভ্যাস করুন
✔️ বিছানায় ফোন নিয়ে যাবেন না
✔️ trigger গুলো ব্লক করুন
✔️ দিনে শরীরকে ব্যস্ত রাখুন (exercise)
✔️ তওবা করুন + লাইফস্টাইল বদলান

💡 মনে রাখুন:
Discipline শুধু ইচ্ছাশক্তি দিয়ে আসে না,
এটা আসে সঠিক “setup” থেকে।

যখন আপনি এগুলো শুরু করবেন—
🕌 নামাজ হালকা লাগবে
🧠 মন পরিষ্কার হবে
⚡ এনার্জি ফিরে আসবে
🚪 রিজিক ও সুযোগের দরজা খুলতে শুরু করবে

বারাকাহ তখনই ফিরে আসে, যখন গুনাহ ছেড়ে দেওয়া হয়।

21/04/2026

আমি যখন থেকে প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত শুরু করলাম, শুরুতে আমার মনে একটা নির্দিষ্ট আশা ছিল। মনে হতো—এই আমলটা করলে হয়তো আমার ইচ্ছাগুলো দ্রুত পূরণ হবে। হয়তো জীবনের যে সমস্যাগুলো নিয়ে আমি এতদিন দুশ্চিন্তা করছি, সেগুলো একে একে মিটে যাবে। আমি ভাবতাম—হয়তো খুব দ্রুত কোনো বড় পরিবর্তন ঘটবে।

কিন্তু কিছুদিন পর বুঝলাম, আল্লাহ আমার জীবনে যে পরিবর্তন আনলেন—তা আমার কল্পনার থেকেও ভিন্ন, অথচ অনেক গভীর।

আমি হঠাৎ করে সব ইচ্ছা পূরণ হতে দেখিনি। জীবনের সব সমস্যাও একদিনে শেষ হয়ে যায়নি।
বরং এর চেয়েও মূল্যবান কিছু ঘটতে শুরু করল।
ফজরের পর যখন আমি শান্ত সকালে বসে Surah Ya-Sin তিলাওয়াত করতাম, তখন মনে হতো দিনের শুরুটাই অন্যরকম হয়ে গেছে। যেন পুরো দিনটা আল্লাহর স্মরণ দিয়ে শুরু হচ্ছে।

ধীরে ধীরে একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম— আগের মতো আর অস্থির লাগছে না। যে বিষয়গুলো নিয়ে আগে খুব দুশ্চিন্তা করতাম, সেগুলো এখন ততটা ভারী মনে হয় না। মনে হয়—আল্লাহ আছেন, তিনি দেখছেন, তিনিই সহজ করে দেবেন। প্রতিটি সকাল এখন একটু বেশি শান্ত লাগে।
ফজরের নরম আলো, চারপাশের নিস্তব্ধতা, আর সেই সময় কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করা—এগুলো যেন আমার হৃদয়ের ভেতর একটা অদৃশ্য প্রশান্তি তৈরি করতে শুরু করল।

একদিন হঠাৎ বুঝলাম—
আমি আর আগের মতো অস্থিরভাবে ইচ্ছা পূরণের অপেক্ষা করছি না। বরং আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শিখছি। তখনই আমি বুঝলাম—ইচ্ছা পূরণ সবসময় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে না। অনেক সময় আল্লাহ প্রথমে মানুষের হৃদয়কে বদলে দেন। তিনি মানুষের ভিতরে ধৈর্য দেন, ভরসা দেন, এবং এমন এক প্রশান্তি দেন—যা কোনো দুনিয়ার অর্জন দিয়েও পাওয়া যায় না।

আমাদের প্রিয় নবী
হযরত মুহাম্মদ (সা.) কুরআনের তিলাওয়াতকে মানুষের হৃদয়ের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশান্তির উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আজ আমি বুঝি— বারাকাহ শুধু সম্পদে নয়, শুধু সাফল্যে নয়। অনেক সময় বারাকাহ আসে হৃদয়ের ভেতর—শান্তি হিসেবে, সন্তুষ্টি হিসেবে, আল্লাহর ওপর দৃঢ় নির্ভরতা হিসেবে।

তাই আজও প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর যখন আমি সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করি, তখন আর শুধু ইচ্ছা পূরণের জন্য পড়ি না। আমি পড়ি আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য।আমি পড়ি সেই বিশ্বাসের জন্য, যা আমাকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয়— যে পথেই যাই না কেন, আল্লাহ আমার সাথে আছেন।
কারণ ধীরে ধীরে আমি বুঝেছি— মানুষের সব ইচ্ছা পূরণ হয়ে গেলেও তার মন শান্ত হয় না। আর অনেক সময় মানুষের সব সমস্যার মাঝেও তার হৃদয় শান্ত থাকে—যদি সে আল্লাহর কাছে থাকে।

আমরা দুনিয়ার পেছনে এত দৌড়াই, যেন এখানেই আমাদের চিরকাল থাকতে হবে। কিন্তু কুরআনের প্রতিটি আয়াত যেন নীরবে মনে করিয়ে দেয়— এই জীবন আসলে খুবই ক্ষণস্থায়ী। একদিন সব ব্যস্ততা থেমে যাবে। সব স্বপ্ন, সব দৌড়, সব হিসাব শেষ হয়ে যাবে। সেদিন আমাদের সাথে থাকবে না সম্পদ, না সাফল্য, না মানুষের প্রশংসা।
সেদিন আমাদের সাথে থাকবে শুধু সেই কাজগুলো—যেগুলো আমরা আল্লাহর জন্য করেছি।

তাই যদি তুমি আগামীকাল ফজরের পর সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করো— শুধু কোনো ইচ্ছা পূরণের আশায় নয়।
পড়ো তোমার হৃদয়ের জন্য। পড়ো সেই প্রশান্তির জন্য, যেটা আমরা সবাই খুঁজে বেড়াই। আর তারপর ধীরে ধীরে দেখো— কীভাবে নিঃশব্দে আল্লাহ তোমার অস্থিরতাকে বদলে দেন এক গভীর শান্তিতে।

☞ ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে-বুঝতে এবং মহা-জরুরী মাসয়ালাগুলো সহজে পেতে ইসলামিক অনুপ্রেরণা কে ফলো দিয়ে রাখুন!

21/04/2026

সূরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত আমাকে বারবার অভিভূত করে।
এই আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা আমাদের জীবনসঙ্গী ও সন্তানের জন্য এক অপূর্ব দুআ শিখিয়েছেন। সেখানে তিনি একবারও বলেননি_সুন্দর, ফর্সা, লম্বা, খাটো, মোটা বা চিকন। বাহ্যিক কোনো নির্দিষ্ট গুণের কথা উল্লেখ করেননি। বরং তিনি এমন একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ—উভয় সৌন্দর্যকে একসাথে ধারণ করে। আর সেই শব্দটি হলো- ❝কুররাতু আইয়ুন❞

“কুররাতু আইয়ুন” অর্থ এমন কিছু, যা চোখকে শীতল করে, হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং মানুষকে গভীর তৃপ্তি দেয়। আমরা যখন চোখ দিয়ে এমন কিছু দেখি, যা আমাদের ভালো লাগে, তখন তা আমাদের মস্তিষ্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আনন্দ, ভালোবাসা ও প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি হয়, আর ধীরে ধীরে আমাদের পুরো নার্ভ সিস্টেম শান্ত হয়ে যায়। এই প্রশান্তি একেকজন মানুষের কাছে একেকভাবে ধরা দেয়।কেউ চায় তার স্ত্রীর হাসি তাকে শান্তি দিক, কেউ চায় তার স্বামীর আচরণে নিরাপত্তা খুঁজে পাক। কারো কাছে সন্তানের কুরআন তিলাওয়াত প্রশান্তির কারণ।আবার কারো কাছে তার সুশৃঙ্খল জীবনযাপনই চোখের শীতলতা।

সুবহানআল্লাহ,রব্বুল আলামীন পুরো মানবজাতির জন্য একটিমাত্র দুআ দিয়েই প্রশান্তি চাওয়া শিখিয়েছেন। আমরা যখন আমাদের জীবনসঙ্গী ও সন্তানদের জন্য “কুররাতু আইয়ুন” হওয়ার দুআ করি, তখন মূলত আল্লাহর কাছে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন চাই, যা আমাদের জন্য দুনিয়াতে প্রশান্তির কারণ হবে।

তবে আল্লাহ এখানে থেমে থাকেননি। তিনি একই দুআর মধ্যেই আমাদের আরও উচ্চতর লক্ষ্য শিখিয়েছেন_“ওয়াজ‘আলনা লিলমুত্তাকীনা ইমামা”—অর্থাৎ, আমাদের মুত্তাকীদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন।
এমন পরিবারও আছে যাদের দুনিয়াবি দিক থেকে সুখী মনে হয়, কিন্তু আল্লাহর কাছে অপ্রিয়। দ্বীন পালনে সচেষ্ট নয়৷ আবার এমন পরিবারও আছে, যেখানে দ্বীনের চর্চা আছে। সেখানে প্রকৃত প্রশান্তি ও বরকত নেমে আসে। তাই আল্লাহ দুআর শেষ অংশে দুনিয়ার সাথে আখিরাতকেও জুড়ে দিলেন,যেন আমরা কেবল দুনিয়ার প্রশান্তি নিয়ে মেতে না থাকি। আখিরাতেরও ফিকির করি।

আমি,আপনি হয়তো ভাবছি—আমি কি এমন কিছু করেছি, যার বিনিময়ে আল্লাহ আমাকে এতো সুন্দর একটি পরিবার দিবেন? আমি কি এই শান্তির যোগ্য? আমার কি আসলেই স্বামী বা স্ত্রীর ভালোবাসা পাওয়ার মতো কিছু আছে?

এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে দুআর শুরুতেই—
“রব্বানা হাবলানা…”
“হাবলানা” শব্দটি এসেছে আল্লাহর গুণবাচক নাম “আল-ওয়াহাব” থেকে, যার অর্থ _যিনি বিনিময় ছাড়া দান করেন, বারবার দান করেন।অর্থাৎ, আমরা যখন “হাবলানা” বলে দুআ করি, তখন আমরা আল্লাহর কাছে কোনো যোগ্যতা বা বিনিময়ের দাবি করি না, বরং তাঁর অনুগ্রহের ওপর ভরসা করে চাই।

তাই যদি কখনো নিজেকে নিয়ে লো ফিল হয়, যদি পরিবারে শান্তির অভাব থাকে, যদি সন্তান অবাধ্য হয়, কিংবা মনে হয় আমি একটি সুন্দর সংসারের যোগ্য নই,তবে এই আয়াতটিকে নিজের জীবনের অংশ বানিয়ে নিন।

আল্লাহ আপনাকে এমন জীবনসঙ্গী, সন্তান,পরিবার দিতে সক্ষম, যা আপনার চোখের শীতলতা হবে।তিনি আপনাকে মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, এমনকি আদর্শও বানিয়ে দিতে পারেন—কোনো বিনিময় ছাড়াই, শুধুই তাঁর অসীম রহমতে।

21/04/2026

তিনি তাকে হাতেনাতে ধরে ফেললেন। চোরটি কাঁদতে কাঁদতে বলল—
“আমি অভাবী… আমার বাচ্চারা ক্ষুধার্ত…”
দয়ালু সাহাবী তাকে ছেড়ে দিলেন।
কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ নয়…

টানা তিন রাত একই ঘটনা!
তৃতীয় রাতে আবু হুরায়রা (রাঃ) সিদ্ধান্ত নিলেন—এবার তাকে রাসূল (সাঃ)-এর কাছে নিয়ে যাবেন।

ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে চোরটি তখন এক আশ্চর্য গোপন কথা জানাল— “ঘুমানোর আগে ‘আয়াতুল কুরসি’ পড়লে আল্লাহ একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করেন। সারারাত সে পাহারা দেয়, শয়তান কাছে আসতে পারে না।”
পরদিন রাসূল (সাঃ) বললেন:
“সে মিথ্যাবাদী হলেও এই কথাটি সত্য বলেছে। আর তুমি কি জানো সে কে ছিল? সে ছিল শয়তান!” কেন ‘আয়াতুল কুরসি’ এত শক্তিশালী?

১. জান্নাতের পথ সহজ করে
প্রতি ফরজ নামাজের পর এটি পাঠ করলে জান্নাতে যেতে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকে না।

২. আল্লাহর মহান নামের সমাহার
এতে রয়েছে “আল-হাইয়্যু” ও “আল-কাইয়্যুম”—যা দোয়া কবুলের বিশেষ চাবিকাঠি।

৩. অদৃশ্য সুরক্ষা ঢাল
এটি পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়—যা কোনো অশুভ শক্তি ভেদ করতে পারে না।
আমাদের জন্য শিক্ষা
এই ব্যস্ত, দুশ্চিন্তায় ভরা জীবনে—
একটু থামুন…
একবার মন দিয়ে ‘আয়াতুল কুরসি’ পড়ুন…
ভাবুন—
আসমান-জমিনের মালিক নিজেই আপনাকে পাহারা দিচ্ছেন।

🎯 চ্যালেঞ্জ!
আগামী ৭ দিন:
✔️ প্রতি ফরজ নামাজের পর
✔️ ঘুমানোর আগে

👉 মন থেকে ‘আয়াতুল কুরসি’ পড়ুন
তারপর দেখুন—
আপনার মন কতটা শান্ত হয়!

🤲 ভালো লাগলে শেয়ার করুন
প্রিয়জনদের আল্লাহর হেফাজতে রাখার মাধ্যম হোন

☞ ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে-বুঝতে এবং মহা-জরুরী মাসয়ালাগুলো সহজে পেতে ইসলামিক অনুপ্রেরণা কে ফলো দিয়ে রাখুন!
চারদিকে পিনপতন নীরবতা। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) যাকাতের খেজুর পাহারা দিচ্ছেন। হঠাৎ অন্ধকার ভেদ করে এক ছায়ামূর্তি এসে খেজুর চুরি করতে শুরু করলো!

20/04/2026

শিক্ষক আদর্শ হলে ছাত্র আদর্শ হবে

মানুষ গড়ার কারিগর বলা হয় শিক্ষককে। একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে শিক্ষকের ওপর, কারণ তারাই আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। একজন শিক্ষক যদি আদর্শবান, সৎ ও দায়িত্বশীল হন, তবে তার প্রভাব সরাসরি ছাত্রদের জীবনে প্রতিফলিত হয়। তাই বলা হয়—শিক্ষক আদর্শ হলে ছাত্রও আদর্শ হবে।
প্রথমত, শিক্ষকই ছাত্রদের জন্য সবচেয়ে বড় অনুকরণীয় ব্যক্তি। ছাত্ররা শুধু বইয়ের জ্ঞানই নয়, শিক্ষকের আচরণ, কথা বলা, জীবনযাপন—সব কিছু থেকেই শিক্ষা নেয়। যদি শিক্ষক সময়নিষ্ঠ, পরিশ্রমী এবং নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন হন, তাহলে ছাত্ররাও সেই গুণগুলো নিজেদের মধ্যে গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়।
দ্বিতীয়ত, একজন আদর্শ শিক্ষক কখনো শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন না। তিনি ছাত্রদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেম শেখান। তিনি ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝিয়ে দেন এবং সঠিক পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেন। ফলে ছাত্ররা শুধু ভালো ফলাফলই নয়, ভালো মানুষ হিসেবেও গড়ে ওঠে।
তৃতীয়ত, শিক্ষকের দায়িত্বশীলতা ছাত্রদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। যদি শিক্ষক নিয়মিত পড়াশোনা করে ক্লাসে আসেন, আন্তরিকভাবে পাঠদান করেন, তবে ছাত্ররা মনোযোগ দিয়ে পড়ে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হয়। অন্যদিকে, যদি শিক্ষক উদাসীন হন, তবে ছাত্রদের মধ্যেও সেই উদাসীনতা ছড়িয়ে পড়ে।
এছাড়া একজন আদর্শ শিক্ষক ছাত্রদের ভালোবাসেন এবং তাদের সমস্যা বুঝতে চেষ্টা করেন। এই ভালোবাসা ও সহানুভূতি ছাত্রদের মনে আত্মবিশ্বাস জাগায় এবং তারা জীবনে সফল হওয়ার প্রেরণা পায়।
পরিশেষে বলা যায়, একজন শিক্ষক শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি জাতির নির্মাতা। তার আদর্শ, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ ছাত্রদের জীবনে আলো ছড়িয়ে দেয়। তাই আমাদের প্রত্যেক শিক্ষকের উচিত নিজেকে আদর্শ হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে তার ছাত্ররাও আদর্শ মানুষ হয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

19/04/2026

‎একটু ভাবুন— ‎আপনি কি এমন মানুষ, ‎যে মাথায় হাজারটা চিন্তা নিয়ে ঘুমাতে যায়, ‎আর ঘুম ভাঙে আরও বেশি চিন্তা নিয়ে? ‎একটা কথা বারবার মাথায় ঘোরে, ‎একটা ভুল বারবার মনে পড়ে, ‎ভবিষ্যতের এমন সব ভয় ‎যেগুলোর অর্ধেকও কখনো ঘটেনি। ‎এইটাই অতিরিক্ত চিন্তা। ‎আর এটাকে হালকা ভাবলে ‎এটা ধীরে ধীরে আপনার সুখ–শান্তি কেড়ে নেয়।

‎১ অতিরিক্ত চিন্তা আপনাকে বর্তমান থেকে ছিনিয়ে নেয়
‎আপনি শরীরে এখানে থাকেন, ‎কিন্তু মন থাকে— ‎অতীতে করা ভুলে ‎ভবিষ্যতের অজানা ভয়ে, ‎ফলে আজকের দিনটা
‎আপনি কখনোই পুরোটা বাঁচতে পারেন না।

‎২ যা নেই, তা নিয়েই আপনাকে কষ্ট দেয়! ‎অতিরিক্ত চিন্তা বাস্তব সমস্যা নিয়ে নয়, ‎এটা “হতে পারে”—এই শব্দটা নিয়ে খেলে। যদি এমন হয়? না পারলে কী হবে? লোকজন কী ভাববে? ‎এই কাল্পনিক প্রশ্নগুলোই ‎আসল শান্তিটা মে'রে ফেলে।

‎৩ আপনার আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে শেষ করে দেয়
‎যে মানুষ বেশি চিন্তা করে, ‎সে নিজেকেই সবচেয়ে বেশি সন্দেহ করে। ‎একসময় মনে হয়— আমি ঠিক নই, আমি পারবো না, আমার দ্বারা কিছু হবে না, ‎এই ভাবনাগুলো সত্য না, ‎কিন্তু বারবার চিন্তা করলে ‎সত্য মনে হতে শুরু করে।

‎৪ অতিরিক্ত চিন্তা সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়
‎আপনি কথা বলার আগেই ভাবেন— সে কী ভাববে? ভুল বুঝলে? কিছু হলে? ‎ফলে আপনি— ‎চুপ হয়ে যান, ‎নিজের অনুভূতি লুকান, ‎দূরে সরে যান, ‎আর মানুষ ভাবে—‎আপনি বদলে গেছেন।

‎৫ শরীরেও এর প্রভাব পড়ে
‎অতিরিক্ত চিন্তা শুধু মাথার ভেতর থাকে না। ‎এটা তৈরি করে— ‎ঘুমের সমস্যা, ‎বুক ধড়ফড়, ‎মাথা ব্যথা, ‎ক্লান্তি, ‎অকারণ দুশ্চিন্তা, ‎শরীর বুঝে ফেলে—‎আপনি ভেতরে ভেতরে যুদ্ধ করছেন।

‎৬ সুখের ছোট মুহূর্তগুলো নষ্ট হয়ে যায়!
‎হাসি আসে, ‎কিন্তু ধরে রাখতে পারেন না। ‎কারণ মাথার ভেতর একটা কণ্ঠ বলে— এটা বেশি ভালো লাগছে না তো? কিছু খারাপ হবে না তো? ‎এই ভয়ই ‎সুখের মুহূর্তগুলো কেড়ে নেয়।

‎৭ অতিরিক্ত চিন্তা আপনাকে ক্লান্ত মানুষ বানিয়ে দেয়!
‎আপনি সারাদিন কিছু না করেও ‎মনে হয় ভীষণ ক্লান্ত।‎কারণ আপনার মস্তিষ্ক ‎এক মুহূর্তও বিশ্রাম পায় না। ‎চিন্তাই আপনার শক্তি খেয়ে ফেলে।

‎শেষ কথা: ‎অতিরিক্ত চিন্তা মানে আপনি খারাপ মানুষ নন।
‎এর মানে আপনি বেশি অনুভব করেন, ‎বেশি ভাবেন। ‎কিন্তু মনে রাখবেন— ‎সব চিন্তা সত্য নয়, ‎সব ভয় বাস্তব নয়। আজ থেকে নিজেকে এই কথাটা বলুন—

19/04/2026

বনী —ই স রা ঈ লে— এক আবেদ ছিলেন, যিনি তার সময়ের শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। একদা তিন ভাই যু/দ্ধে যাওয়ার সময় তাদের অবিবাহিত বোনকে ওই আবেদের কাছে আমানত হিসেবে রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তারা আবেদের ইবাদতখানার কাছেই একটি ঘরে বোনকে থাকার ব্যবস্থা করল। আবেদ প্রথমে রাজি না হলেও তাদের অনুরোধে রাজি হলেন।

শুরুতে আবেদ তার ইবাদতখানা থেকে খাবার নামিয়ে দরজার সামনে রেখে দিতেন এবং দরজা বন্ধ করে ওপরে চলে যেতেন। মেয়েটি এসে খাবার নিয়ে যেত। কোনো কথা হতো না।

শয়তান তখন আবেদের মনে কু_মন্ত্রণা দেওয়া শুরু করল। সে বলল, "মেয়েটি একা বের হলে কেউ দেখে ফেলতে পারে। তুমি যদি খাবারটা তার দরজায় পৌঁছে দাও তবে সওয়াব বেশি হবে।" আবেদ তাই করলেন।

এরপর শয়তান বলল, "মেয়েটি একা খুব ভয় পাচ্ছে। তুমি যদি তার সাথে একটু কথা বলো, তবে সে সাহস পাবে।" আবেদ কথা বলা শুরু করলেন।
এরপর শয়তান বলল, "তুমি যদি তার দরজার কাছে বসে কথা বলো, তবে সে আরও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।" আবেদ তা-ও করলেন।
অবশেষে শ'য়তান বলল, "তুমি ঘরের ভেতরে গিয়ে কথা বললে কেউ দেখবে না।" আবেদ ঘরে ঢুকলেন।

দীর্ঘদিন মে-লামেশার পর আবেদের মনে পাপের ইচ্ছা জাগল। শয়তান তাকে ধোঁকা দিয়ে জি_নার (ব্য-ভি-চারের) পাপে লিপ্ত করল। ফলে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়ল এবং একটি ছেলেসন্তান জন্ম দিল।

শয়তান আবার এসে বলল, "মেয়েটির ভাইয়েরা ফিরে এসে যদি বাচ্চা দেখে, তবে তোমার মানসম্মান যাবে। তুমি বাচ্চাটিকে হ/ত্যা করে পুঁতে ফেলো।" আবেদ বাচ্চাটিকে হ*ত্যা করলেন।
শয়তান বলল, "মা কি বাচ্চার হ/ত্যার কথা গোপন রাখবে? সে তো ভাইদের বলে দেবে। তুমি মাকেও হ/ত্যা করে বাচ্চার সাথে পুঁ'তে ফেলো।" আবেদ তা-ও করলেন এবং তাদের কবরের ওপর বড় পাথর চাপা দিলেন।

ভাইয়েরা যুদ্ধ থেকে ফিরে বোনের খোঁজ করল। আবেদ মিথ্যা বলে কান্নাকাটি করে বললেন, "তোমাদের বোন মারা গেছে, সে খুব ভালো ছিল।" তিনি একটি মিথ্যা কবর দেখালেন। ভাইয়েরা বিশ্বাস করে চলে গেল। রাতে শয়তান তিন ভাইয়ের স্বপ্নে এল। সে তাদের আসল ঘটনা জানাল যে,আবেদ তাদের বোনকে ধ/র্ষ/ণ করেছে, বাচ্চা হয়েছে এবং মা ও বাচ্চাকে হ/ত্যা করে ঘরের পেছনে পুঁতে রেখেছে।

সকালে ছোট ভাই স্বপ্নের কথা বিশ্বাস করে ওই নির্দিষ্ট জায়গায় খুঁড়ল এবং বোন ও বাচ্চার লা/শ পেল। তারা আবেদের কাছে গিয়ে সত্য জানতে চাইলে তিনি সব স্বীকার করলেন।

লোকেরা আবেদকে ধরে শূ-লে চড়ানোর (ফাঁ*সি) জন্য নিয়ে গেল। শূ-লে চড়ানোর ঠিক আগ মুহূর্তে শয়তান মানুষের বেশে এসে বলল,
"আমিই সেই শয়তান, যে তোমাকে দিয়ে এসব করিয়েছি। আজ যদি তুমি আমাকে একটি সিজদা করো (বা আল্লাহকে অস্বীকার করো), তবে আমি তোমাকে এই বিপদ থেকে বাঁচাব।"

আবেদ বাঁচার আশায় শয়তানকে সিজদা করলেন এবং কাফের হয়ে গেলেন। শয়তান তখন বলল, "আমি তোমার থেকে মুক্ত। আমি বিশ্বজগতের রব আল্লাহকে ভয় করি।"এরপর তাকে হ/ত্যা করা হলো।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই কুরআনের আয়াত নাজিল হয়,
"শয়তানের দৃষ্টান্তের মতো, যখন সে মানুষকে বলে, 'কু_ফরি করো'। তারপর যখন সে কু_ফরি করে, তখন শয়তান বলে, 'তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই...'" (সূরা হাশর: ১৬)

শয়তান মানুষকে সরাসরি কুফরি করায় না, বরং ছোট ছোট নেক কাজের বাহানায় পাপের দিকে টানে এবং শেষে ঈমান কেড়ে নেয়।

Address

DB Road, Senbag , Niakhali
Senbag

Opening Hours

Monday 10:00 - 16:00
Tuesday 10:00 - 16:00
Wednesday 10:00 - 16:00
Thursday 10:00 - 16:00
Sunday 10:00 - 16:00

Telephone

+8801856371999

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Senbag Fazil Madrasah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share