23/05/2025
University of Hawaii at Monoa থেকে এনিম্যাল নিউট্রিশনে পিএইচডি সম্পন্ন করলেন সাদিদ আমাজ।
“ইন্টারে এ+ পাবার পর আমার খুব ভাব বেড়ে গেলো। ভাবলাম বুয়েট- মেডিকেল যেখানে পরিক্ষা দিবো সেখানেই চান্স পাবো। এ আর এমন কি! কিন্তু কোথাও চান্স পেলাম না,” এমনই বলেছিলেন তিনি। শেষে ভর্তি হন সিলেট অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটিতে। কিন্তু সেখানেও বিধি বাম, ৪ বছর পর সিজি থাকে ৩.০৯।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ বছর শেষে ইন্টার্নশিপ করতে থাকলেন তিনি। আর এর ফাঁকে ফাঁকেই সারাদেশ ঘুরে ফেলেছিলেন। তবে কনভোকেশনের কথা মনে করতেই তিনি বলেন, “ব্যাচের সবাই কনভোকেশন নিলো। খালি আমি কনভোকেশন পাই নাই, কারন আমার ৪-২ তে কেরি ছিলো। এবং ওইদিন সবাই মিলে মজা করলো, কিন্তু কেউ আমাকে একটা ফোনও দিলো না! এই জিনিসটা আমাকে খুব ভালোভাবে হিট করলো। ওইদিন থেকে ভাবলাম, কিছু একটা করা দরকার।”
তখন চিন্তা করলেন বিদেশে যাবেন, তবে ৩.০৯ সিজি আর ১০ টা কেরি নিয়ে সে এক বিশাল স্বপ্ন, তাই সিলেট অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটিতেই শুরু করলেন মাস্টার্স।
সাথে শুরু করলেন জিআরই প্রিপারেশন। প্রথমবার যখন ২০১৯ e GRE দিয়েছিলেন, স্কোর ছিল মাত্র 288। এরপর ৬ মাসের টার্গেটে ট্রাভেলসহ সমস্ত কিছু ত্যাগ করে GRE প্রিপারেশন নিয়ে 307 স্কোর তুললেন।
GRE প্রিপারেশন নিয়ে তিনি বলেন, “ভোকাবুলারি আর আর্টিকেল পড়া দিয়ে শুরু করলাম। পরীক্ষার দুইদিন আগ পর্যন্ত প্রতিদিন আমি এই কাজ করে গেছি, I never miss a day, never. জিয়ারিকে জীবনের ধ্যান,জ্ঞান বানায়ে ফেললাম। প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা পড়াশোনা করেছি। বাজারের মোটামুটি এমন কোন বই নাই যেটা আমি পড়ি নাই। গ্রেকেও ভর্তি হলাম, মানে এবার আর কোন রিস্ক নিতে চাই না। গ্রেকের ফ্যাকাল্টি জিতু ভাই, ক্লাসমেট তন্নী আপু এনারা দুইজন আমাকে খুবই সাহায্য করেছে। লাইফ সাইন্সের স্টুডেন্ট হওয়ার আমি কোয়ান্টে খুবই দুর্বল ছিলাম। যখনই কোন সমস্যায় পড়তাম ওনাদের নক করতাম। ওনারা সলভ করে দিতেন।
এর মাঝে ৩ মাস পর মক দিলাম। আশা অনুযায়ী স্কোর আসলো না। যত বই ছিলো, রাগ করে সব ছিড়েখুঁড়ে ফেললাম। সব। ওইদিন রাতে অনেক কান্নাকাটি করলাম। তাহলে জিয়ারি কি আমার জন্য না? আমি কি এতই বাজে ছাত্র যে আমার দ্বারা জিয়ারি হবে না? আমেরিকায় পড়তে যাবার স্বপ্ন, দুনিয়া ঘুরার স্বপ্ন কি স্বপ্নই থেকে যাবে?
পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার নিজেকে বোঝালাম, যে যা হবার হইসে, ছাল ছাড়া যাবে না। জিয়ারির শেষ দেখেই ছাড়তে হবে। আবার নীলক্ষেত গিয়ে সব বই কিনে আনলাম। আবার পড়াশোনা শুরু। এইবার পড়ার স্পিড আরো বাড়িয়ে দিলাম। দিনে ৮-১০ ঘন্টা পড়তাম। এরপর আবার মক দিলাম ২ মাস পর আশানুরূপ স্কোর পেতে শুরু করলাম। ২০২০ এর ফেব্রুয়ারীর ১০ তারিখ সাহস করে ডেট নিয়ে ফেললাম। এক্সাম দিলাম এবার GRE SCORE ( V-150,Q-157, AWA- 3). আমার টার্গেট ছিলো ৩১০+ যদিও পাইনি তবুও আমি খুশি ছিলাম।”
এর মাঝে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ছিলেন সিলেট অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটিতেই। ২০২১ এর আগষ্টে University of Hawaii তে শুরু করলেন পিএইচডি।
৩ বছর ৯ মাস পর এখন তিনি পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। এর ফাঁকে পাবলিশ করেছেন ৭ টি পেপার, যার ৬টিই ফার্স্ট অথর হিসেবে। এছাড়াও আরো ৫ টি রয়েছে পাইপলাইনে। সাদিদ আল আমাজকে অভিনন্দন পিএইচডি কমপ্লিশনে, এবং আগামী দিনের জন্য শুভকামনা।
©Beyond stories