18/05/2026
প্রথম বর্ষে সিজিপিএ ছিল মাত্র ২.৮৮। অনেকেই হয়তো তখন ভেবেছিলেন, এই ফলাফল নিয়ে বড় কিছু করা কঠিন। কিন্তু সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ প্রমাণ করেছেন—শুরুটা নয়, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মানসিকতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করা আব্দুল্লাহ এখন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষার অফার পেয়েছেন। এর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসে পিএইচডি ইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে ফুল ফান্ডিংসহ গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্টেন্টশিপ (GRA) পেয়েছেন তিনি।
তার গবেষণার আগ্রহের ক্ষেত্রগুলোও বেশ আধুনিক ও সম্ভাবনাময়—3D Genome Organization, Biology-তে AI-এর ব্যবহার, এবং বৃহৎ পরিসরের বায়োমেডিকেল ডেটাসেট বিশ্লেষণের জন্য অ্যালগরিদম ও সফটওয়্যার টুল তৈরি।
আব্দুল্লাহর একাডেমিক যাত্রা ছিল ধৈর্য ও পরিশ্রমে ভরা। স্নাতকে তার সিজিপিএ ছিল ৩.৫৭, যা IEE Evaluation-এর পর দাঁড়ায় ৩.৬৪। এছাড়া GRE-তে ৩১৬ এবং IELTS-এ ৭.৫ স্কোর করেন তিনি। তার রয়েছে ৩টি জার্নাল ও ১টি কনফারেন্স পাবলিকেশন, পাশাপাশি রিমোট সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে এক বছরের কাজের অভিজ্ঞতাও।
শুধু ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস নয়, আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অফার পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে Tennessee Tech University-তে পিএইচডি, Michigan Tech University ও Illinois Tech-এ মাস্টার্স, এবং Lamar University-তে Doctor of Engineering প্রোগ্রাম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ইন্টারভিউ অভিজ্ঞতাও ছিল স্মরণীয়। মাত্র এক মিনিটের সাক্ষাৎকারে ভিসা অফিসার তার গবেষণার কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। প্রথমে Administrative Processing (221g) দেখালেও একই দিন তার ভিসা অনুমোদিত হয় এবং পরদিন “Issued” স্ট্যাটাস আপডেট আসে।
নিজের এই দীর্ঘ যাত্রা থেকে জুনিয়রদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দিয়েছেন আব্দুল্লাহ। তার মতে, GRE ও IELTS আগে থেকেই সম্পন্ন করা উচিত। পাশাপাশি অধ্যাপকদের ইমেইল করা পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি।
তিনি বলেন, “শুধু ইমেইল পাঠালেই হবে না। আগে প্রফেসরদের গবেষণাপত্র পড়তে হবে, কোথায় উন্নতির সুযোগ আছে তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। যদি মনে হয় আপনার কাজ তাদের গবেষণায় অবদান রাখতে পারে, তাহলে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যোগাযোগ করুন।”
তার ভাষায়, “ফান্ডিং সংকটের কারণে Fall 2025 ও 2026 সেশন ছিল খুবই কঠিন। অনেক হতাশা এসেছে, অনেক সময় কোনো উত্তরও পাইনি। কিন্তু আমি বিশ্বাস হারাইনি। কারণ আপনার জন্য যা নির্ধারিত, তা একদিন ঠিকই আপনার কাছে আসবে।”
প্রথম বর্ষের ২.৮৮ সিজিপিএ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অফার—আব্দুল্লাহর গল্প তাই শুধু একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য নয়, বরং ধৈর্য, কৌশল আর নিরন্তর চেষ্টার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
©️পাবলিকিয়ান