08/01/2026
ডাঃ এজাজ। আমার অন্যতম শ্রদ্ধেয় কিংবা পছন্দের তারকা। হুমায়ূন আহমেদের নাটকগুলোতে তাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছি বহুবার। অসম্ভব ভালো অভিনেতা। সাথে অসম্ভব ভালো একজন মানুষও। যিনি দীর্ঘদিন ধরেই ৩০০ টাকা ভিজিটে রোগী দেখেন বলে শুনেছি। এমনকি আমৃত্যু এই রেটেই দেখবেন বলে জানিয়েছেন। গুণী মানুষ, সাথে কাইন্ড হার্টেড।
পুরো নাম এজাজুল ইসলাম। গাইবান্ধায় জন্ম। ১৯৮৪ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। পরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিউক্লিয়ার মেডিসিনে স্নাতকোত্তর পাশ করে, ডাক্তার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। যদিও তার নিজস্ব চেম্বার গাজীপুরে। হুমায়ূন আহমেদ বা নুহাশপল্লীর সাথে অতি সখ্যতাই হয়তো তাকে ওদিকে টেনে নিয়ে গেছে। যাই হোক! তার একটা সাক্ষাৎকার দেখেছিলাম চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, "ঢাকা মেডিকেলে আসার পর সেখানকার স্টাফরা আমাকে বললেন, স্যার আপনি রোগী দেখতে যে ফি নেন, সেটা খুবই সামান্য। জুনিয়ররাও এর চেয়ে বেশি নেয়। আপনার ভিজিট ফি বাড়ানো উচিত। তাদের কথায় ৩০০ টাকা থেকে ফি ৫০০ টাকা করলাম। কিন্তু দুদিন ৫০০ ফি নেয়ার পর দেখলাম, অনেক রোগী এই খরচ বহন করতে পারছেন না। পরে আমি আবার ৩০০ টাকা ফি নেয়া শুরু করি। সবাইকে তখন বলে দিই, যতদিন বাঁচবো ততদিন এই ৩০০ টাকা ফি’তেই রোগী দেখবো।"
ডাঃ এজাজ সাহেবের মতে, স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপনের জন্য মানুষের খুব বেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যখন কেউ টাকার প্রতি অস্বাভাবিক আসক্তি তৈরি করে, তখন এটি নেশায় পরিণত হয় এবং মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই নেশায় পড়তে চান না তিনি। সৃষ্টিকর্তা যা দিয়েছেন, তাতেই সন্তুষ্ট থেকে অল্প টাকাতেই আজীবন রোগীদের সেবা দিতে চান।
অনেক তারকা কিংবা বড় বড় ডাক্তার সাধারণ মানুষের কিছুটা দূরত্ব রেখে চলতে চান। কিন্তু ডাঃ এজাজ চলাফেরা করেন সাধারণ, মানুষের সাথে মিশে যান। অন স্ক্রিন এবং অফ স্ক্রিন- দু'জায়গাতেই এই লোকটা আমার অসম্ভব প্রিয়! ©©©