29/08/2017
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি
অর্ধ যুগেরও বেশী সময় ধরে সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষিত ছাত্রসমাজের একটা বড় অংশ চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর মত যৌক্তিক দাবি নিয়ে মাঠে আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে খোলা চিঠি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
২৬ লক্ষ বেকার ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে আপনাকে স্বশ্রদ্ধ সালাম জানাই। আজ আপনাকে আমরা কয়েকটা কথা বলতে চাই। ছাত্র সমাজের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছরে বৃদ্ধি করলে আপনার কি এমন ক্ষতিটা হয়? এর জন্য কি আপনাকে কারও কাছে জবাবদিহি করতে হবে? এর জন্য কি দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার সৃষ্টি হবে? কিছুই হবে না বরং ব্যাংক ড্রাফ্ট বা ট্রেজারী চালানের কল্যাণে রাজস্বখাতটা উল্টো স্পীতই হয়। তবুও কেন আপনি আমাদের সাথে বারবার এমন করছেন? আপনি তো চাইলেই সেটা হয়ে যায়। অথচ আপনার মন্ত্রীসভার এক তৃতীয়াংশেরও বেশী মন্ত্রীরা আমাদের এই দাবীকে অন্তর থেকে সমর্থন করেন। যা ইতোপূর্বে বহুবার উনাদের সাথে সরাসরি সাক্ষাত করলে জানতে পারি। এছাড়া বহু এমপিরাও রয়েছেন এই কাতারে। জানেন, লক্ষ লক্ষ বেকার ছাত্রের প্রতিটা মুহূর্ত কিভাবে কাটে তা সত্যিকারের মা হয়ে, সত্যিকারের দেশকর্তা হয়ে বা সত্যিকারের গণতন্ত্রমনা হয়ে একটাবার গভীরভাবে ভাবেন দেখবেন উত্তর পেয়ে যাবেন। আপনি অবসরের বয়স বাড়িয়েছেন ও আরও নাকি বাড়াতে যাচ্ছেন এবং পাশাপাশি বিদ্যমান বেতন-ভাতাও করেছেন দ্বিগুণ। সেটা একটা পক্ষের জন্য সত্যিই আনন্দের। অথচ এই ক্ষেত্রে আপনি চাইলে বেতন ভাতা দ্বিগুণ না করে এক জনের জায়গায় দু’জন নিয়োগের ব্যবস্থা করতে পারতেন। এতে করে বেকারত্ব থেকে কিছু হত দরিদ্র পরিবার এবং দেশটা অন্তত অনেকটা হাফ ছেড়ে বাঁচত। তাহলে আপনার নীতিটা কি এমনি-“যারা আছে শুধু তাঁরাই দিব্যি থাকুক?” আর আমরা? যাবো কোথায়? আমাদের মধ্যে কি সুনাগরিকের সব বৈশিষ্ট্য নেই? একটা ন্যায্য দাবি/অধিকার নিয়ে এই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মাঠে নামলে সেখানেও আমাদের নিস্তার নেই। আপনার পুলিশ প্রশাসন বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের পরিবর্তে শুরু করে অমানবিক ও বর্বরোচিত হামলা।
মাননীয় দেশকর্তা,
দয়া করে শুধু একবার বলেন কি করলে আমাদের এই দাবি মেনে নিবেন? আপনার কি চাই? আমাদের তো শুধু কঙ্কালসার দেহ আর প্রাণটাই আছে। যদি তার বিনিময়েও আমাদের দিকে ফিরে তাকান তাহলে আর দেরি না করে শুরু করুন এর আনুষ্ঠানিকতা। জানেন, আমাদের মা-বাবারা হয়ত আমাদের জন্ম দিয়ে ভুল করেছেন না হলে তারা কেন এই বৃদ্ধ বয়সে খেয়ে না খেয়ে, অনাহারে-অর্ধাহারে, রোগে ভোগে তার প্রায়শ্চিত্ত করবে?
হে মমতাময়ী মা,
আমরা যে মা-বাবার কাছে কুলাঙ্গার, পরিবারের বোঝা, সমাজের চোখে অবহেলিত। আমরা সত্যিই বড় অসহায়। শুনেছি আপনি পরহেজগার, ধার্মিক এবং নামাজি। রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আপনি সংকল্পবদ্ধ। ইসলামের ইতিহাসে অনেক রাষ্ট্র নায়কই রয়েছেন যারা প্রজাদের সুখ-দুঃখ ভালভাবে বুঝতেন। তাদেরই উল্লেখযোগ্য একজন হযরত উমর ফারুক(রা)। তিনি রাতের বেলা ছদ্মবেশে, লুকিয়ে প্রজাদের হাল-হকিকত এর খোঁজ নিতেন এবং তাদের সব সমস্যার সমাধান করে দিতেন। অথচ এমন একজন ধার্মিক ও নামাজি রাষ্ট্রনায়ক হয়ে আপনি আমাদের দিকে ফিরেও তাকান না। আল্লাহ ৩০ দিন রোজা পালনের নিয়ম করেছেন এই জন্য যাতে ধনীরাও বুঝতে পারে কতটা কষ্টকর উপোস থাকার যেভাবে বার মাস গরিবরা কাটায়। তাই ২৬ লক্ষ বেকার ছাত্র ছাত্রীর পক্ষ থেকে অনুরোধ করবো, মাত্র ৫ মিনিটের জন্য নিজেকে একবার আমাদের জায়গায় কল্পনা করুন অথবা মা হয়ে আমাদের মা-বাবার মত আমাদের মত হতভাগাদের নিয়ে ভাবুন। আল্লাহর কসম করে বলতে পারি, আপনি এর প্রকৃত স্বাদ পেয়ে যাবেন।
হে দেশরত্ন,
আমরা তো আপনার কাছে বেকার ভাতাও চাচ্ছি না। শুধুমাত্র একটু সুযোগ চাচ্ছি নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের। মনে রাখবেন, আবেদনের বয়স বৃদ্ধি করা মানেই চাকরি প্রদান করা নয়। আমরা না পারি আপনার কাছে গিয়ে দু’টা কথা বলতে, শত অনুরোধ করলেও না আসেন আপনি আমাদের সামনে। তখন বাধ্য হয়ে যাই পত্রিকা অফিস ও টিভি চ্যানেলগুলোর কাছে যাতে তাদের মাধ্যমে হলেও আমাদের বিষয়টা আপনার দৃষ্টি গোচর হয়। কিন্তু সেখান থেকে ঐ মিডিয়া কর্তারাও আমাদের তাড়িয়ে দেয়। আমাদের স্বাধীনতাটা কোথায়? লক্ষ লক্ষ বেকারের গণতান্ত্রিক মতামতের মূল্যায়নটা কোথায়? তাহলে এই কি বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সোনার বাংলা? এই কি উনার আদর্শের প্রতিফলন আপনার মাঝে? তাই এত সব যৌক্তিক আলোচনা, বাস্তব ও আবেগময়ী ভাষ্য এবং দেশকে বেকারত্বের করালগ্রাস থেকে বাঁচাতে অতি শীঘ্রই আপনি আমাদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি মেনে নিবেন বলে আমরা ২৬ লক্ষ ছাত্র ছাত্রী এমনি আশা রাখি।
মোঃ নাজমুল হোসেন, (হবিগঞ্জ থেকে) এবং
মোঃ ইমতিয়াজ হোসেন (ঢাবি) এম এ আলী, নাদিয়া সুলতানা, নাঈম, নূরউদ্দিন, কানিজ সুবর্ণা (ইডেন মহিলা কলেজ), ফারজানা আক্তার নাইস (ইডেন মহিলা কলেজ), মুন (ইডেন মহিলা কলেজ), লিন্ডা ফেরদৌস (ইডেন মহিলা কলেজ), ইমরান মাসুদ, জিলানি, রুহুল আমিন তপু, আমান, ইহসান আহমেদ, তাওহিদুর ইসলাম শিকদার, মিজানুর রহমান, সোহেল, রাকিব, তৌফিক, মাসুদ প্রমুখ।