05/04/2026
প্রথমেই বলি, আমি জুলাই নিয়ে কোনো কথা বলবো না। জুলাইয়ে কারো অবদান আমি ছোট করে দেখিনা।
প্রশ্ন ১ঃ তুমি বলেছো যে নেতাদের পকেটে টাকা না থাকলে তারা আন্দোলন আন্দোলন খেলা করে অথবা অনশনে বসে।
আমার রিকোয়েস্ট থাকবে, আমার ক্যাম্পাসে কোন আন্দোলন দেখে তোমার মনে হয়েছে যে, এখানে প্রচুর টাকা আছে! জুলাই পরবর্তী সময়ে টুকটাক যতটুকু দাবি দাওয়া কিংবা আন্দোলন করা হয়েছে সেখানে আমি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলাম। সুতরাং এই কথাটা আমার উপরেও বর্তায় বলে মনে করি। তবে কেও যদি প্রমান দিতে পারে এসবে টাকার ট্রানজেকশন হয়েছে তাহলে নাকে খত দিয়ে ক্যাম্পাস ছেড়ে দিব। আর এখন পর্যন্ত অনশন হয়েছে একবার, তাও সেটা মাকসুর জন্যে। যারা এটা নিয়ে হাসিঠাট্টা করেছিল, মাকসু আইন রিজেন্টবোর্ডে পাশ হওয়ার পরে ঐ সুশিলদের সবার আগে প্যানেল সাজাতে দেখেছি। আর এই অনশনে আমার পকেট থেকে মিডিয়া ফি দিয়েছি আর সাজুভাই হয়তো ঢাকায় কয়েকটা ফ্লাট কিনে ফেলেছে 😄
প্রশ্ন ২ঃ তুমি বলেছো সামান্য কিছু টাকার পেছনে ছুটবে না বলে জুলাইয়ের পরে তোমাকে কোথাও দেখা যায়নি।
আমি যতটুকু জানি, একটা গণঅভ্যুত্থান হয় মূলত পরিবর্তনের স্বপ্ন থেকে। আমরা সেই পরিবর্তন চেয়েছি। যারা আন্দোলনের পরে নিজ জায়গাতে ফিরে গেছে তাদের জীবনটা খুবই স্বাভাবিক, সমাজ বা দেশের পরিবর্তন নিয়ে এদের খুব বেশি মাথাব্যথা না থাকলেও অনেকে পরিবর্তনের রাজনীতি দেখতে চেয়েছে আর তারাই শেষ পর্যন্ত মাঠে রয়ে গেছে। তবে কিছু কিছু নেতা এখানে লাভজনক অবস্থানে থাকলেও বেশিরভাগই নিজ পকেটের টাকা দিয়ে রাজনীতিতে টিকে রয়েছে।
প্রশ্ন ৩ঃ ক্যাম্পাসে সেমিষ্টার ফি আন্দোলন থেকে শুরু করে তোমার ভাষায় ব্লা ব্লা অনেক আন্দোলন হয়েছে এখন পর্যন্ত, এটাতে শিক্ষার্থীদের কী লাভ হয়েছে?
সেমিষ্টার ফি কমাটা শিক্ষার্থীদের লাভ, মাকসুর জন্যে লড়াই করাটা জুলাইয়ের দাবির বাস্তবায়ন করা এবং ছাত্রলীগের সিস্টেমকে 'না' বলা, প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা ভার্সিটির জন্যে লাভ, কেও ফেসিস্ট হয়ে উঠলে তার বিচার করে উদাহরণ তৈরি করা পুরো জাতির জন্যে লাভের, ঠিক এই কারণেই লক্ষ লক্ষ মানুষ হাসিনার ফাঁসি চায়। এসব আন্দোলনের ফলাফল হাতেনাতে পাওয়া না গেলেও এগুলোর প্রভাব সুদূরপ্রসারী।
প্রশ্ন ৪ঃ এসব আন্দোলন দেখে তোমার কাছে এটাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনে না হয়ে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান মনে হচ্ছে।
প্রথমত ভার্সিটি কোনো কেজি স্কুল না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঢাকা ভার্সিটি হলো আতুরঘর। যদি ভার্সিটির স্টুডেন্ট রা রাজনীতিতে না আসে তাহলে কাদের আসা উচিৎ বলে তুমি মনে করো! আর এখন পর্যন্ত আমার ক্যাম্পাসে এমন একটা আন্দোলনও হয়নি যেটা কোনো শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গেছে।
প্রশ্ন ৫ঃ সেমিষ্টার লেনথ নিয়ে আমরা কোনো কথা বলিনা কেন!
কথা আমরা বলেছি, এই বিষয় নিয়ে আমরা কয়েকদফায় ভিসি স্যারের কাছে গেছি। তোমাদের সেশনের অনেকেই গেছে আমার সাথে। তাদের জন্যই হয়তো এখন পর্যন্ত কিছুটা সেশনজট কন্ট্রোলে আছে।তুমি যাওনি তাই হয়তো জানোনা, যারা গেছে তাদের কাওকে আমি অনলাইনে এগুলো নিয়ে লিখতে দেখিনি, আর যাদের লিখতে দেখেছি তাদের কখনও মাঠে দেখিনি।
প্রশ্ন ৬ঃ অডিটোরিয়াম, টিএসসি ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছো
এগুলো নিয়ে বহু আগেই আমরা কথা বলেছি, কিন্তু লাভ কি!! এগুলোর জন্যে বাজেট লাগে, যেই বাজেট পাস করানোর হ্যাডাম অন্তত আমাদের ভিসি স্যারের নাই। বাজেট পাস করানোর জন্যে লাগে সৎ সাহস, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা আর প্রশাসনিক দক্ষতা যেগুলো ছাড়া সবই আছে আমাদের ভিসি স্যারের।
প্রশ্ন ৭ঃ নির্বাচনের জন্যে যে এক্সাম পিছানো হয়েছে সেটার খোঁজ নিয়েছি কিনা!
না নিইনি, প্রতিটা ডিপার্টমেন্টে গিয়ে খোঁজ নেওয়াটা কি আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে! তাহলে তোমার দায়িত্ব কী! কখন পরিক্ষা নিলে ভালো হয় এটা সিদ্ধান্ত নিবে সেই ডিপার্টমেন্টের টিচার এবং স্টুডেন্ট।
প্রশ্ন ৮ঃ জুলাইয়ে অনেকে আন্দোলন কইরা রাতে ছাত্রলীগের পা ধরে কান্নাকাটি করতো
আমি এটা স্বীকার করি, তবে বর্তমানে ক্যাম্পাসে যারা এক্টিভ পলিটিক্স করে তারা এমন ছিল কিনা আমার জানা নাই।
সর্বোপরি আমার ক্যাম্পাসের স্টুডেন্ট রা প্রচণ্ড রকমের সুশীল এবং স্বার্থপর। এদের ভীরেও যারা অন্তত ক্যাম্পাস নিয়ে কিছুটা ভাবে, তাদের পাশে না দাড়াতে পারলেও এমন কটু কথা বলা উচিত না যাতে এরা কাজ করার অনুপ্রেরণা হারিয়ে ফেলে। কাজের বেলা অষ্টরম্ভা হলেও কমেন্ট, পোস্ট কিংবা সুশিলতার দিক দিয়ে অনেক এক্টিভ, কারণ এখানে স্বার্থে আঘাত লাগার কোনো চান্স নাই
তোশার আহমেদ, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন