21/05/2014
এইচএসসির তিনটি বিষয়ে নৈর্ব্যত্তিক,সৃজনশীল ও ব্যবহারিকে আলাদাভাবে পাসের বিধান অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে হাই কোর্ট। এক শিক্ষার্থীররিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজাউলহক ও এবিএম আলতাফ হোসেনেরবেঞ্চ গত ২৯ জানুয়ারি এ রায়দেয়, যার পূর্ণাঙ্গঅনুলিপি বুধবারপ্রকাশিত হয়েছে।রায়ে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান,জীববিজ্ঞান ওরসায়নে নৈর্ব্যত্তিক, সৃজনশীল ওব্যবহারিকে আলাদাভাবে পাসেরবিধানকে অবৈধঘোষণা করা হয়েছে।গত বছরবিজ্ঞান বিভাগথেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী তাসনীমরাইসার আবেদনে হাই কোর্টেরএই রায় আসে।তার আইনজীবী শাহ মোহাম্মদআহসানুররহমান বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকমকে বলেন,“কোনো গেজেট প্রকাশছাড়াইঅন্যান্য বিষয়েও একই নিয়ম চালুকরায় অন্য বিষয়গুলো নিয়ে কেউআদালতে এলে তারাও এরায়েরসুবিধা পাবেন।” রিটআবেদনকারী ২০১১সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশনিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেন।পরে ২০১৩সালে ঢাকা সিটি কলেজথেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশনেন।২০১৩ সালের ৩ অগাস্ট তারএই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়।রাইসা সব বিষয়ে জিপিএ-৫প্রত্যাশা করলেও প্রকাশিতফলে দেখা যায়,তিনি বাংলা,জীববিজ্ঞান, গণিতে এ প্লাসপেয়েছেনএবং ইংরেজি ওপদার্থ বিজ্ঞানে এ গ্রেডএবং রসায়নে এফ গ্রেডপেয়েছেন।পরে ৪ অগাস্ট তিনি তার ফলপুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেন।কিন্তুপুননিরীক্ষা ছাড়াইপুনঃগণনা করে তার ফল পরিবর্তনহয়নি বলে টেলিটকেরমাধ্যমে তাকে জানানো হয়।রায়ের বলা হয়,“এখানে দেখা যায়,রিটকারী রসায়নের অন্যপার্টগুলোতে উত্তীর্ণ হলেওব্যবহারিকে প্রয়োজনীয় নম্বরঅর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। আমাদেরমতহচ্ছে, নৈর্ব্যত্তিক, সৃজনশীল ওব্যবহারিকে পাস করারবিধানকে আইন সমর্থন করে না। একারণে তাকে পাসবলে বিবেচনা করা উচিত।”“পুনঃগণনারপরিবর্তে পুনঃনিরীক্ষা করা যাবে না বলে যে বিধানেরকথা বলা হচ্ছে সেটার গেজেটকরা হয়নি। অথচ এ ধরনের বিধানকরতে হলে গেজেট করারবাধ্যবাধকতা রয়েছে।’রিট আবেদনে বলা হয়, ২০১৩সালের ওই পরীক্ষার ২৪ হাজারশিক্ষার্থী তাদের ৮৫ হাজারউত্তরপত্র মূল্যায়নের আবেদনকরেন।পুনঃগননায় যাদের ৫২৬ জনের ফলবদলে যায়।রায়ে বলা হয়, “একজনশিক্ষার্থীওদেশের নাগরিক। তাদেরউত্তরপত্রযথাযথভাবে নিরীক্ষারপ্রত্যাশা আইনসম্মত। যখনতারা নিশ্চিত থাকেন যে,তারা পরীক্ষা পাস করারমতো ভালো করেছেন,সেক্ষেত্রে এক বা একাধিকবিষয়ে ফেলতাদেরপুরো ভবিষ্যতকে বিপদাপন্নকরে তোলে।”“এই (মামলার)ক্ষেত্রে আবেদনকারী এসএসসিতে ‘এ’প্লাস পেয়েছেন। এইচএসসিতেওএকইফলপ্রত্যাশা করেছেন। এইঅবস্থায়যেখানে পুনঃনিরীক্ষারবিষয়ে বিধিতে কিছু বলা নেই,সেখানে তার অনুকূলে সিদ্ধান্তনেয়া যেতে পারে। উত্তরপত্রপুনঃনিরীক্ষায়অস্বীকৃতি যুক্তিসঙ্গতহওয়া উচিত।”“উত্তরপত্রের পুনঃনিরীক্ষারকোনো বিধান না থাকায়রিটকারীর পক্ষেই সিদ্ধান্তনিতে হবে। উত্তরপত্রপুনঃনিরীক্ষায়অস্বীকৃতি অবৈধভাবে করা হয়েছে,”বলেছে আদালত।