27/10/2025
গণমাধ্যম ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি খোলাচিঠি
সম্প্রতি আমাদের প্রিয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাথে সিটি ইউনিভার্সিটির আক্রমণাত্মক ঘটনার পর পাওয়া ভিডিও সাক্ষ্য–প্রমাণ ও মিডিয়া সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণ করে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো দ্রুতভাবে অনুসন্ধান ও প্রকাশ করার আবেদন জানাচ্ছি—
দ্রুত পদক্ষেপ দাবি ও প্রমাণভিত্তিক মন্তব্য:
লক্ষণীয় যে ঘটনাস্থলে বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং কিছু বীভৎস ও সহিংস দৃশ্য সুচারুভাবে ক্যামেরাবদ্ধ করে জনসম্মুখে প্রচার করা হয়েছে—যার উদ্দেশ্য বাস্তব ঘটনাকে ঢাকা দেওয়া এবং দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা বলেই আমরা মনে করছি। এ সব ঘটনার সময় ও মিডিয়ায় ছাপানোর পদ্ধতিকে বিচার করে বোঝা যাচ্ছে যে এটি পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত এক নাট্যচিত্র; যাতে সত্যিকারের অপরাধী ও মূল উদ্দেশ্য থেকে মনোযোগ সরিয়ে এনে জনসাধারণের মনোভাব প্রভাবিত করা হয়েছে !
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ঘটনার সময়কালীন সময়ে অর্থাৎ সন্ধ্যা থেকেই , ড্যাফোডিল প্রশাসন বার বার সিটি ইউনিভার্সিটিকে অবহিত করেছে, তখন কর্তৃপক্ষের তৎপরতা ছিল নগণ্য বা অনুপস্থিত; এজন্য প্রশ্ন উঠছে—কী কারণে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি এবং কেন নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর এভাবে আক্রমণ, নির্যাতন ও জিম্মি রাখার সুযোগ তৈরী করা হলো !
এমন পরিস্থিতিতে অপরাধীদের পরিচয় উদঘাটন ও ঘটনার সুষ্ঠ বিচার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, ভিডিও-ও কনটেন্ট ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ও মোবাইল ডেটা সংগ্রহ, এবং প্রত্যক্ষদর্শী বয়ানের ভিত্তিতে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা জোর দাবি করছি—কারণ অপরাধের অজুহাতে কেউ মিডিয়ার সহায়তায় ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সক্রিয়ভাবে অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করতে পারবে না; দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিলেই সব রহস্য উদঘাটিত হবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাঙ্গনে এমন কুশাস্তুতি রোধ করা সম্ভব হবে।
১. বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিজে রাষ্ট্রীয় টিভি ও বিভিন্ন মিডিয়া সাক্ষাৎকারে স্বীকার করা হয়েছে যে, ক্যাশ অর্থ এখানে (বিশেষ একটি স্থান/অনুমান করা হয়েছে) সংরক্ষিত রয়েছে এবং ব্যাংকে না রেখে ক্যাশ রাখা হচ্ছে। এই বক্তব্য স্বয়ং অপরাধ স্বীকারের সমতুল্য ও গূঢ় দিক নির্দেশ করে। একই সাথে তিনি নিজে সবাইকে জানিয়েছেন যে, ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের তারা আটক রেখেছে জরিমানার টাকা আদায় করার ইচ্ছায় , অথচ ঠিক তখনি তার লোকজন ছাত্রদের মারধর করে ভুয়া স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দি রেকর্ড করে তাদের মিডিয়া প্লানের অংশ হিসাবে দ্রুততার সাথে মিডিয়াতে প্রচারের ব্যবস্থা করেছেন ! তার সকল কর্মকান্ডের উদ্দোশো ছিল ডেফোডিলকে ফাঁসিয়ে টাকা আদায় ! তা না হলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কখনো কোথাও ছাত্র আটকের মতো জঘন্য কাজের দাবিদার হতে পারে ? এ বিষয়ে ওই সাক্ষাৎকারগুলোর রেকর্ডিং, টেলিভিশন ফুটেজ দ্রুত সংগ্রহ করে প্রামাণ্যভাবে সংরক্ষণ করার অনুরোধ থাকলো ।
২. ঘটনার সূত্রপাত নিরীহ একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলেও পরে যে পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল আক্রমণ সংগঠিত হয়েছে—তার প্রাথমিক নির্দেশক স্পষ্ট। আমাদের কাছে উপস্থিত প্রমাণ ও ভিডিও থেকে পরিলক্ষিত হচ্ছে, যে কোনো বাহ্যিক বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত উসকানি ও সহিংসতা তৈরি করেছে। তাই ঘটনাস্থল, কড়া নিরীক্ষণ ও CCTV ফুটেজ, মোবাইল কল ডাটা, সামাজিক মাধ্যম পোস্টের টাইমস্ট্যাম্পসহ সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
৩. আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র ও পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো ব্যক্তি ও গ্রুপগুলোকে দ্রুত শনাক্ত করা হোক—বিশেষত যারা প্রথমে আক্রমণ সূচনা করেছে এবং পরে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদেরকে জিম্মি রেখে নির্যাতন করেছে। অথচ কোনো মিডিয়া তা প্রচার না করে টাকা পয়সা আসবাবপত্রের হিসাব করেছে ! যার ফলে এখন জানা পনেরো নিরাপরাধ শিক্ষার্থী এখন জীবন মরণের সাথে যুদ্ধ করছে ! এই ঘটনা সংশ্লিষ্ট সকলকেই ধরে আইনের আওতায় আনা হলে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হবে।
৪. দেড়শতাধিক আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ, আহতদের উপর হামলার ধরন (চোখে, মাথায় আঘাত, ইত্যাদি) আইনিভাবে নথিভুক্ত করে ফরেনসিক রিপোর্ট তলায় আনতে হবে। জিম্মি থাকা শিক্ষার্থীদের যে কোনওভাবে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের বা নির্যাতনের ঘটনা থাকলে তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের বাইরে রাখা যাবে না। ইতোমদ্ধেই নির্যাতনের মুখে বানোয়াট স্বীকারোক্তি তারা অস্বীকার করে পাল্টা জবানবন্দি দিয়েছে ! যে সকল মিডিয়া অধমৃত শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে যবানবন্দি কোনো বিচার বিষ্লেশন ছাড়া উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে প্রচার করেছে, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা জরুরি ! এভাবে মিডিয়া ট্রায়াল জাতির জন্য ভয়ংকর !
৫. ঘটনার দ্রুততা ও মিডিয়ার প্রমাণ-প্রকাশের সময়সীমা থেকে মনে হচ্ছে—কেউ আগেভাগে মিডিয়া কার্যক্রম পরিকল্পনা করেছিল। তাই মিডিয়া রিলিজ ও সোশ্যাল পোস্টের উৎসও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৬. উপযুক্ত তদন্ত সংস্থাদের (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী/ডিজিটাল ফরেনসিক টিম/মেডিক্যাল ফরেনসিক বিভাগ) অবিলম্বে সম্পূর্ণ ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনার জন্য অনুরোধ জানাই। এছাড়া ঘটনাস্থল, সাইট, প্রমাণাদি অক্ষুন্ন রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৭. আমরা চাই—আইনগতভাবে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্ত মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক; একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাঙ্গনের শান্তি পুনঃস্থাপিত করা হোক।
দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অতিরিক্ত তাত্ত্বিক ও প্রমাণভিত্তিক দাবি:
মনে রাখতে হবে যে এই অপরাধের পর্যায় ও সংঘটনের ধরণ পূর্বপরিকল্পিতভাবেই সাজানো ছিল। আমাদের শিক্ষার্থীদের জিম্মি রেখে, তাদের অস্ত্রের মুখে ধরে জোরপূর্বক বিভিন্ন বক্তব্য (স্বীকারোক্তি) আদায় করা হয়—যা স্পষ্টতই আইন-বিরুদ্ধ। তারা গ্রেফতারের বদলে নিজেরাই ওই শিক্ষার্থীদের আটক করে সাররাত নির্যাতন করেছে এবং ফলে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেফতারকৃত বা আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও গ্রেফতারের কারণও শিক্ষার্থীদের বা পরিবারকে জানানো হয়নি; এজন্য আমরা সন্দেহ করছি যে ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য সম্ভবত অর্থ হরণ বা অন্য কোনো স্বার্থান্বেষী উদ্দেশ্য প্রচলন করা। এ কারণে অনতিবিলম্বে বিচার দাবি করছি—নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে (১) জিম্মি করে স্বীকারোক্তি আদায়কারীদের শনাক্ত করা হোক, (২) যাদের দ্বারা এই ঘটনাকে পরিচালিত বা উসকানি দেওয়া হয়েছে তাদের পেছনের গোষ্ঠী/উদ্দেশ্য উন্মোচন করা হোক, এবং (৩) যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক সংগঠিত কার্যক্রমের মাধ্যমে এটি সংঘটিত হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
জিম্মি শিক্ষার্থীদের কারণে পরিস্থিতির ভয়াবহ মানসিক চাপ ও পরিকল্পিত মিডিয়া ট্রাইয়ালের অপচেষ্টা সম্পর্কে ব্যাখ্যা:
আমাদের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে রাখার কারণে আমরা সারাদিনই চরম উদ্বেগ ও মানসিক উৎকণ্ঠায় ছিলাম। কোন মিডিয়ার সাথে কথা বলা বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগও পাইনি, কারণ আমরা নিশ্চিত ছিলাম না — কোন শিক্ষার্থীরা আটক আছে, তাদের অবস্থা কী, এবং কোথায় রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অসংখ্য অভিভাবক আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও শিক্ষার্থীরা আমাদের ঘিরে রেখেছিল উদ্বেগের মধ্যে।
এই দুর্বলতার সুযোগে, সিটি ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে “মিডিয়া ট্রায়াল” পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে সত্য ঘটনাকে বিকৃত করে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা যায়। আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে, তখন তারা মিডিয়ার মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে মূল অপরাধ ঢাকতে ও সহানুভূতি আদায়ে ব্যস্ত ছিল।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—এই মিডিয়া ট্রায়াল ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং সত্য ঘটনাকে আড়াল করার কৌশল। তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি—এই “মিডিয়া ম্যানিপুলেশন” এবং “জিম্মি রাখার” ঘটনার যৌথ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে সত্য বিকৃত করে ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।
সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো , শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে তাদের অভিভাবকসহ পুরো দেশবাসীকে উৎকণ্ঠায় রেখে মিডিয়া ট্রায়াল করলো ! তারপরও আলহামদুলিল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মন্জুরি কমিশন এক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা নিয়ে স্বশরীরে ঘটনাস্থলএ গিয়ে সিটি উনিভার্সিটিতে গিয়ে নিরাপরাধ শিক্ষার্থীদের মুক্ত করে চক্রান্তকারীদের মুখোশ চূড়ান্তভাবে খুলে দিলো ! মিডিয়া ট্রায়ালের সময় মিডিয়াতে অস্ত্রের কথা বললেও অর্ধমৃত শিক্ষার্থীদের মন্জুরি কমিশনের প্রতিনিধিদের সামনে ঐসব গুজবএর কোনো কিছুই তারা দিতে পারেনাই !
আমরা আশা করি—দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে, এবং যারা পরিকল্পনাকারী ও উস্কানিদাতা তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ প্রসঙ্গে আমরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করতে প্রস্তুত আছি—ভিডিও/সাক্ষী/চিকিৎসা নথি ইত্যাদি প্রমাণাদি সরবরাহ করতে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীবৃন্দ