08/09/2025
বাংলাদেশে সম্প্রতি সবচেয়ে আলোচিত একটি ইস্যু হলো IELTS পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস। আন্তর্জাতিক মানের এ পরীক্ষা মূলত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও নিয়োগকর্তারা শিক্ষার্থী এবং প্রার্থীদের ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করার জন্য ব্যবহার করে থাকে। অথচ প্রশ্নফাঁসের ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর পুরো সিস্টেমটির ওপরই আস্থা কমে যাচ্ছে।
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা কোম্পানিগুলো যখন বুঝতে পারবে যে বাংলাদেশের IELTS পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়মিত ফাঁস হচ্ছে, তখন তারা বাংলাদেশের পরীক্ষার্থীদের ফলাফলের উপর আস্থা হারাবে। ফলশ্রুতিতে হয়তো তারা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের IELTS স্কোর গ্রহণ বন্ধ করে দেবে অথবা অতিরিক্ত কঠোর যাচাই-বাছাই চালু করবে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে মেধাবী শিক্ষার্থীরাই, যারা সৎভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসল যোগ্যতা অর্জন করেছে।
বাংলাদেশে মেধা অপচয় রোধের সবচেয়ে বড় উপায় হলো বিদেশে পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ তৈরি করা। মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিদেশে গিয়ে উন্নত শিক্ষার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে তোলে, আবার কেউ কেউ আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে কাজ করে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা আনে। কিন্তু IELTS প্রশ্নফাঁসের কারণে যদি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশিদের উপর আস্থা হারায়, তাহলে এই পথটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে।
অর্থাৎ, প্রশ্নফাঁস শুধু কয়েকজন পরীক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সুবিধা নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে মেধার পরিপূর্ণ বিকাশ রোধের একমাত্র নির্ভরযোগ্য দরজা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। এর ফলে বাংলাদেশে একদিকে মেধা অপচয় বাড়বে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
, , , , , , , , ,