19/01/2026
সর্বোচ্চ ফলাফল ‘মুমতাজ’ (Excellent) অর্জন করে এমফিল সম্পন্ন করলেন ইত্তিহাদের সাবেক উপদেষ্টা মাজহারুল ইসলাম।
আজ বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থী জনাব মাজহারুল ইসলাম–এর বহুল প্রতীক্ষিত এমফিল থিসিস ডিফেন্স অনুষ্ঠান সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার অঙ্গনে তাঁর এই অর্জন নিঃসন্দেহে এক আনন্দঘন ও গৌরবোজ্জ্বল সংযোজন। এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য তাঁর অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও জ্ঞানান্বেষণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, বরং আমাদের ইত্তিহাদ ও আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রদের জন্যও গর্ব ও অনুপ্রেরণার উৎস।
তার গবেষণার শিরোনাম ছিল —
إمام الكلام فيما يتعلق بالقراءة خلف الإمام -للإمام أبي الحسنات عبد الحي اللكنوي المتوفى : ١٣٠٤هـ
دراسة حديثية فقهية
সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয় উলুমুল ইসলামিয়া অনুষদের ইমাম আহমাদ ইবনে তায়্যিব সেমিনার হলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান মুশরিফ ছিলেন প্রফেসর ড. হিশাম ইব্রাহিম ফারাজ মুহাম্মদ হিজাব।
মুনাকিশ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,
প্রফেসর ড. নাদি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ এবং প্রফেসর ড. ওসামা ইব্রাহিম মাহদী।
রাজধানী ঢাকার এই কৃতি সন্তান , ধামরাই থানাধীন ভূরবাড়ীয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ২০০৬ সালে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া রাহমানিয়া আরাবিয়াহ থেকে দাওরায়ে হাদীস (তাকমিল ফিল হাদীস) সম্পন্ন করেন। এই সময়ে তিনি বিশ্ববিখ্যাত হাদিস বিশারদ শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.)–এর নিকট সহিহ বুখারীর দারস গ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেন এবং হাদিসশাস্ত্রে সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেন। তারপর চট্টগ্রামের দারুল মাআরিফ আল ইসলামিয়াহ থেকে দুই বছর মেয়াদি আরবি সাহিত্যে ডিপ্লোমা কোর্স সফলভাবে সমাপ্ত করেন। পরে উম্মুল মাদারিস হাটহাজারী থেকে তাখাসসুস ফিত তাফসীর কোর্স সম্পন্ন করে কুরআনিক জ্ঞানচর্চায় বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন।
পরবর্তীতে বিশ্ববিখ্যাত দারুল উলুম করাচির দীর্ঘ ২৩ বছর সিনিয়র মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আল্লামা কামাল উদ্দিন আহমদ রাশেদী (হিফিজাহুল্লাহ) এর নিকট তারই প্রতিষ্ঠিত উচ্চতর ইসলামী ফিকহ ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউট ঢাকা, থেকে ইসলামী অর্থনীতি ও ইফতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই প্রতিষ্ঠানের ফতোয়া বিভাগে শিক্ষকতা করার মাধ্যমে তিনি ইফতা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা ও প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রাখেন।
দ্বীনি শিক্ষায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে তীক্ষ্ণ মেধার সাক্ষর রাখেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে (বি এ অনার্স) অধ্যয়নরত অবস্থায় আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্কলারশিপ লাভ করে ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর তিনি উচ্চতর জ্ঞানসাধনার উদ্দেশ্যে মিশরে আগমন করেন—যা তাঁর আন্তর্জাতিক শিক্ষাজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।
ইসলামী শিক্ষা ও আধুনিক একাডেমিক গবেষণার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই মেধাবী গবেষক আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের উসূলুদ্দিন (ইসলামিক থিওলজি) ডিপার্টমেন্ট থেকে ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ ফলাফল নিয়ে বিএ (অনার্স) সম্পন্ন করেন। সম্মিলিত মেধাতালিকায় সেরা দশে স্থান লাভ করায় আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে হজ্ব পালনের সৌভাগ্য অর্জন করেন—যা তাঁর অসাধারণ মেধা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার এক বিরল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তিনি বাংলাদেশের ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থার একাধিক ধারায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে ধারাবাহিকভাবে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে চলেছেন।
আজ তিনি তাঁর দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রা, সাধনা ও গবেষণার ধারাবাহিকতায় এমফিল থিসিস ডিফেন্সে এক্সিলেন্ট ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে জনাব মাজহারুল ইসলাম তাঁর শিক্ষক, পরিবার এবং ইত্তিহাদের সকল সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,
ইত্তিহাদের এই আন্তরিকতা আমার গবেষণার পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে। তিনি তাঁর অনুভূতিতে উল্লেখ করেন যে, ইত্তিহাদের দায়িত্বশীলদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নৈতিক সমর্থন, আন্তরিক সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক অনুপ্রেরণা তাঁর আজকের থিসিস অনুষ্ঠান সফল হতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। দায়িত্বশীলদের প্রজ্ঞাপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও সুপরামর্শ তাঁকে গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় আরও দৃঢ় ও মনোযোগী হতে সহায়তা করেছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ইত্তিহাদের শিক্ষা, আদর্শ ও সাংগঠনিক চেতনা ভবিষ্যতেও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। দায়িত্বশীলদের নিষ্ঠা, ত্যাগ ও নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি সবার জন্য মহান আল্লাহর নিকট কল্যাণ, সুস্বাস্থ্য ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন। পরিশেষে, তিনি ইত্তিহাদের মহৎ কার্যক্রমের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং ভবিষ্যতেও সংগঠনের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমেও সমানভাবে সক্রিয়। বাংলাদেশে অবস্থানকালে ঢাকা জেলার অন্তর্গত ধামরাই থানার সর্বস্তরের ওলামায়ে কেরামের সার্বজনীন দ্বীনি ও সামাজিক সংগঠন “দ্বীনি চেতনা পরিষদ”–এর ছাত্র সংগঠন “দ্বীনি চেতনা ছাত্র পরিষদ”–এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি মূল সংগঠন “দ্বীনি চেতনা পরিষদ”–এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন তিনি মিশরস্থ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম “বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন”–এর সহ-সভাপতি এবং একাধিকবার উপদেষ্টা হিসেবে নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
উল্লেখযোগ্য এই একাডেমিক সাফল্য তাঁর মেধা, অধ্যবসায় ও গবেষণামুখী চিন্তাধারার সুস্পষ্ট প্রতিফলন। এ অর্জন ব্যক্তিগত পর্যায়ে যেমন গৌরবের, তেমনি ইত্তিহাদের জন্যও সম্মান ও গর্বের বিষয়।
আমরা আশাবাদী যে, তাঁর অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে শিক্ষা, গবেষণা এবং সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও আগামী দিনের কর্মজীবনে উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে আমরা বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করছি।
শুভেচ্ছান্তে
কার্যকরী পরিষদ, সেশন-২০২৫-২৬
বাংলাদেশ স্টুডেন্টস' অর্গানাইজেশন মিশর।