Barasat College

Barasat College Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Barasat College, Barasat.

১৯৯৩ সালে, ফরাসি ইলেকট্রিশিয়ান এমিল লেরেই একা মরক্কোর মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার এক সাহসী যাত্রায় বের হয়েছিলেন—কিন্তু বিপদ...
23/09/2025

১৯৯৩ সালে, ফরাসি ইলেকট্রিশিয়ান এমিল লেরেই একা মরক্কোর মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার এক সাহসী যাত্রায় বের হয়েছিলেন—কিন্তু বিপদ নেমে এলো যখন তার সিট্রোয়েন 2CV একটি পাথরে ধাক্কা খেয়ে মাঝ মরুভূমিতে বিকল হয়ে গেল। কোনো সেল ফোন নেই, রেডিও নেই, আর চারপাশে ভয়ংকর ভূখণ্ড—তবুও লেরেই হার মানলেন না। হাতে থাকা সাধারণ কিছু যন্ত্রপাতি আর অদম্য সংকল্প নিয়ে তিনি টানা ১২ দিন ধরে তার ভেঙে যাওয়া গাড়িটিকে রূপ দিলেন একটি সম্পূর্ণ কার্যকর মোটরসাইকেলে—শুধুমাত্র অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ আর নিজের হাতে থাকা জিনিস ব্যবহার করে।

লেরেইয়ের এই যান্ত্রিক কীর্তি আজ কিংবদন্তি—প্রমাণ করে যে সত্যিকারের উদ্ভাবনশক্তির কোনো সীমা নেই। তিনি তার তৈরি করা মরুভূমির বাইক চেপে নির্জনতা থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন।讽 irony হলো, অবশেষে যখন তিনি সভ্যতায় পৌঁছালেন, তখন মরক্কোর পুলিশ তাকে জরিমানা করল—কারণ তার যানবাহন আর আসল রেজিস্ট্রেশনের সঙ্গে মিলছিল না। আজ তার এই নিজ হাতে তৈরি সার্ভাইভাল বাইক দুঃসময়ে টিকে থাকার ক্ষমতা ও সৃজনশীলতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

“একটি গাছ, কিন্তু দেখতে পুরো বন!"বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাজু গাছটি ব্রাজিলের নাটাল শহরে অবস্থিত, যা *৮,৫০০ বর্গমিটার* এলাকা জ...
15/09/2025

“একটি গাছ, কিন্তু দেখতে পুরো বন!"

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাজু গাছটি ব্রাজিলের নাটাল শহরে অবস্থিত, যা *৮,৫০০ বর্গমিটার* এলাকা জুড়ে বিস্তৃত—প্রায় একটি ফুটবল মাঠের চেয়েও বড়!

এই গাছের শাখাগুলি মাটিতে ছুঁয়ে *শিকড় গেড়ে নতুন শাখা জন্ম দেয়*, যার ফলে এটি একটি *স্ব-ক্লোনিং জীবন্ত ছাউনি* তে পরিণত হয়েছে।
জিনগত অস্বাভাবিকতার কারণে এটি একটি একক গাছ হয়েও দেখতে যেন একটি বনভূমি!

*অবস্থান:* নাটাল, রিও গ্র্যান্ডে দো নর্তে, ব্রাজিল
*বয়স:* ১০০+ বছর (কিছু সূত্র বলছে ১,০০০ বছর!)
*উৎপাদন:* প্রতি বছর হাজার হাজার কাজু বাদাম
*স্বীকৃতি:* গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃক বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাজু গাছ হিসেবে স্বীকৃত

এটি শুধু একটি পর্যটন আকর্ষণ নয়—এটি প্রকৃতির বিস্ময়কর ক্ষমতার এক জীবন্ত প্রমাণ!

একটা গল্প শোনাই। গল্পটা এমন এক ছেলের, নাম আলেকজান্ডার ওয়াং । জন্ম ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে, আমেরিকার নিউ মেক্সিকো রাজ্যের ...
10/09/2025

একটা গল্প শোনাই। গল্পটা এমন এক ছেলের, নাম আলেকজান্ডার ওয়াং । জন্ম ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে, আমেরিকার নিউ মেক্সিকো রাজ্যের লস আলামোসে। বাবা আর মা দুজনেই ছিলেন চীন থেকে আসা পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানী, কাজ করতেন লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবে। ছোট থেকেই বিজ্ঞানের পরিবেশে বড় হয়েছে আলেকজান্দ্র। তাই আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে, অল্প বয়স থেকেই ওর মাথা ছিল অঙ্ক আর প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে।

কেবল স্কুলের পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি সে। ২০১৩ সালে ম্যাথ অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়, ২০১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিজিক্স টিমে জায়গা করে নেয়, আবার ২০১২-১৩ সালে USACO নামের কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের ফাইনালিস্টও হয়। ভাবতে পারো? তখনও সে কেবল এক কিশোর।

লস আলামোস হাই স্কুল শেষ করার পর আলেকজান্দ্র ওয়াং কিছুদিন সিলিকন ভ্যালির নামী কোম্পানিগুলোতে ইন্টার্নশিপ ও পার্ট-টাইম কাজ করেছে—কোয়ারো, অ্যাডেপার আর হাডসন রিভার ট্রেডিং। তখনই বোঝা যাচ্ছিল, ছেলেটা কোনো সাধারণ পথে হাঁটার জন্য জন্মায়নি।
এরপর ১৭ বছর বয়সে ভর্তি হলো এমআইটিতে। প্রথম বর্ষেই এমন সাহস দেখাল যে, গ্র্যাজুয়েটদের জন্য রাখা মেশিন লার্নিং-এর কোর্সেও অংশ নিল। কিন্তু ভাগ্য ওর জন্য অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। ২০১৬ সালের গ্রীষ্মে ইয় কমবিনেটর নামের স্টার্টআপ প্রোগ্রামে সুযোগ পায় সে। সেখানে যোগ দিতে গিয়ে সে এমআইটি ছেড়ে দেয়। সেই ড্রপ আউট সিদ্ধান্তটাই বদলে দিলো সবকিছু।

১৯ বছর বয়সে আলেকজান্দ্র ওয়াং, সহপ্রতিষ্ঠাতা লুসি গুও-এর সঙ্গে শুরু করল Scale AI। কোম্পানিটা কিন্তু কোনো এআই মডেল বানাত না। বরং এআই মডেল চালানোর জন্য যে লেবেল করা ডেটা দরকার, সেই ডেটা তৈরি করার প্ল্যাটফর্ম বানাল তারা। গুগল, ওপেনএআই, মাইক্রোসফট, মেটার মতো জায়ান্টরা তাদের গ্রাহক হয়ে গেল। এভাবেই শুরু হলো স্কেলের উত্থান।

২০২১ সালের দিকেই কোম্পানির মূল্য দাঁড়াল সাত বিলিয়ন ডলার। তখন ওয়াংয়ের বয়স মাত্র ২৪, আর সে তখনই বিলিয়নিয়ার। ২০২৪ সালে কোম্পানির আয় ছিল প্রায় ৮৭০ মিলিয়ন ডলার, আর ২০২৫ সালে সেটা একেবারে দেড় বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাল।

এরপর এলো সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট। ২০২৫ সালের জুনে মেটা প্ল্যাটফর্মস Scale AI-এর ৪৯% শেয়ার কিনে নিল ১৪.৩ বিলিয়ন ডলারে। কোম্পানির মোট মূল্য দাঁড়াল প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। সেই সময় ওয়াং Meta-তে যোগ দিল, Scale AI-এর বোর্ডে পরিচালক হিসেবে থাকলেও CEO-র দায়িত্ব তুলে দিল Jason Droege-এর হাতে।

এখনো ওয়াংয়ের হাতে আছে কোম্পানির প্রায় ১৪% শেয়ার। তার বর্তমান সম্পদ ৩.৬ বিলিয়ন ডলার—অর্থাৎ প্রায় ৩৬০ কোটি ডলার বা ৪৩,২০০ কোটি টাকা। বয়স এখনো মাত্র ২৮, আর সে-ই বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী স্বনির্ভর বিলিয়নিয়ার।

তার জীবন থেকে কী শেখা যায়? একটা বড় পাঠ হলো—ডিগ্রি থাকলেই সব হয় না। মূলধন হলো সাহস আর দক্ষতা। আলেকজান্দ্র প্রমাণ করেছে—বড় স্বপ্ন দেখা, ঝুঁকি নেওয়া আর নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করলেই সাফল্য ধরা দেয়।

ছেলেটা যদি এমআইটি ছেড়ে না দিত, হয়তো আজো কেবল ছাত্র হিসেবেই থেকে যেত। কিন্তু ঝুঁকি নিয়েছিল, তাই ইতিহাস লিখে ফেলল। এখন প্রশ্ন হলো—তুমি কোন পথে হাঁটতে চাও? কোডিং, এআই, নাকি নিজের ব্যবসা?
..............✍️ কলমে- দেবাশিস সরকার

শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা।
05/09/2025

শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা।

পুলিত্জার পুরস্কার জয়ী ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছবি! 💔 যে ছবিটি বদলে দিয়েছিল আইন।১৯৭৫ সাল। ফটোসাংবাদিক স্ট্যানলি ফ...
02/09/2025

পুলিত্জার পুরস্কার জয়ী ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছবি! 💔 যে ছবিটি বদলে দিয়েছিল আইন।

১৯৭৫ সাল। ফটোসাংবাদিক স্ট্যানলি ফরম্যানের তোলা এই ছবিটি যেন মাঝপথে জমে যাওয়া এক ভয়ঙ্কর মুহূর্ত। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ১৯ বছর বয়সী ডায়ানা ব্রায়ান্ট এবং তার ২ বছরের ধর্মকন্যা (goddaughter) টিয়ারে জোনস বোস্টনের এক জ্বলন্ত অ্যাপার্টমেন্টের ফায়ার এস্কেপ ভেঙে নিচে পড়ে যাচ্ছেন।

জীবন ও মৃত্যুর মাঝের এই একটি মুহূর্তের ছবি পুলিৎজার পুরস্কার জিতে নেয় এবং ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ছবিতে পরিণত হয়।

দুঃখজনকভাবে, ডায়ানা এই ঘটনায় মারা যান। কিন্তু ছোট্ট টিয়ারে বেঁচে যায়, কারণ সে তার ধর্মমায়ের শরীরের ওপর পড়েছিল। এই ছবিটি এতটাই সাড়া ফেলেছিল যে, এটি বিল্ডিং কোড এবং ফায়ার এস্কেপের নিরাপত্তা মান উন্নত করার জন্য দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দেয়।

একটি মর্মান্তিক ছবি, যা শুধু একটি ট্র্যাজেডিকেই তুলে ধরেনি, বরং ভবিষ্যৎ দুর্ঘটনারোধে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছিল।_/

নিউইয়র্ক শহরের এক ব্যস্ত হাইস্কুল।শহরের ভেতরেই যেন আরেক শহর—শব্দ, কোলাহল, আর ক্লান্ত মুখের ভিড়ে বাচ্চারা আসছে স্কুলে।মিস...
29/08/2025

নিউইয়র্ক শহরের এক ব্যস্ত হাইস্কুল।
শহরের ভেতরেই যেন আরেক শহর—শব্দ, কোলাহল, আর ক্লান্ত মুখের ভিড়ে বাচ্চারা আসছে স্কুলে।
মিসেস হোয়াইট ছিলেন সেই স্কুলের একজন শিক্ষক—নিবেদিতপ্রাণ, নিয়মানুবর্তী, কিন্তু কিছুটা শীতল স্বভাবের।
তাঁর ক্লাসে একদিন ভর্তি হলো নতুন এক ছাত্র—কালো চামড়ার, হালকা কুঁজো হয়ে হাঁটে, চোখে সবসময় আতঙ্কের ছাপ। নাম—জেরেমি স্টোন।
জেরেমিকে দেখে কেউ বলতো না সে নবম শ্রেণির ছাত্র।
সবসময় তার হাতে ধরা থাকতো একটা পুরনো চামড়ার ব্যাগ। কোনোদিন ব্যাগটা রাখেনি কোথাও, এমনকি টয়লেটে যেতেও হাতে নিয়েই যেত।
ছেলেটা কারও সঙ্গে কথা বলতো না। শিক্ষকরা তাকে উপেক্ষা করতেন, কারণ সে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিত না, এমনকি তাকাতও না শিক্ষকের চোখে।
একদিন মিসেস হোয়াইট ক্লাসে জোরে বলে উঠলেন,
“এই ছেলেটা কি বোবা? উত্তর তো দূরের কথা, নড়াচড়াই করে না ঠিক মতো!”
সবাই হেসে উঠলো। জেরেমির মুখে তখনও একটাই ভঙ্গি—ভয় আর নিরবতা।
পরীক্ষায় তার নম্বর কম, ক্লাসে মনোযোগ নেই। মিসেস হোয়াইট ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিলেন।
একদিন স্কুলে “ব্যাগ চেকিং” ক্যাম্পেইন শুরু হলো। সবাই ব্যাগ জমা দিচ্ছে, জেরেমির কাছে যেতেই সে আঁকড়ে ধরলো ব্যাগটা।
“না, এটা কেউ নিতে পারবে না!”
তার চোখে একরাশ আতঙ্ক, বুক ধুকপুক করে উঠছে।
হেড টিচার এগিয়ে এলো। বললো, “এভাবে কেউ নিজেকে আলাদা রাখতে পারে না। ব্যাগ দাও।”
জোর করে ব্যাগটা খুলে দেখা গেলো—
একটা ছোট লাঠি, কিছু শুকনো খাবার, একটা মেয়েদের চুলের ক্লিপ, একটা ছোট শিশির বোতল, আর একটা চিঠি…
চিঠিতে লেখা ছিলো—
“জেরেমি, মা হয়তো আর তোমার সাথে স্কুলে যেতে পারবে না। কিন্তু এই ব্যাগের প্রতিটি জিনিসে আমার স্পর্শ আছে। কখনো ভয় পাস না। তুই পারবি, মা বিশ্বাস করে।”
চোখের সামনে এক মুহূর্তে বদলে গেলো সব।
মিসেস হোয়াইটের মুখ নিস্তব্ধ হয়ে গেলো।
হেড টিচার বললেন, “তার মা গৃহহীন ছিলেন। কিছুদিন আগে রাস্তায় শীতে মারা যান। এরপর থেকে ছেলেটা একাই আসে-যায়, এই ব্যাগই তার মায়ের স্মৃতি।”
মিসেস হোয়াইট বাড়ি ফিরে রাতে ঘুমাতে পারলেন না। চোখ বন্ধ করলেই ভেসে উঠছে সেই চিঠির শব্দ—
"তুই পারবি..."
পরদিন স্কুলে তিনি নিজেই খুঁজে বের করলেন জেরেমিকে। পাশে বসালেন, চুপ করে তার হাত ধরলেন।
কিছু বললেন না—শুধু চুপচাপ পাশে বসে থাকলেন।
তারপর ধীরে ধীরে, প্রতিদিন একটু একটু করে তিনি জেরেমিকে পড়ানো শুরু করলেন। প্রশ্ন করতেন না, বরং গল্প বলতেন, তার ব্যাগের জিনিস নিয়ে খেলা করতেন, একদিন বললেন,
“তোর মায়ের চিঠি আমি প্রতিদিন পড়ি...”
জেরেমির মুখে সেই প্রথম একটা ছোট্ট হাসি ফুটলো।
ছয় মাসের মধ্যে বদলে গেলো ছেলেটি।
চুল আঁচড়ে আসে, প্রশ্ন করে, গল্প বলে, বন্ধু জোটে তার।
বছরের শেষে ক্লাস টেস্টে প্রথম পাঁচজনের মধ্যে সে স্থান পায়।..বছরের শেষে বিদায় অনুষ্ঠানে জেরেমি মিসেস হোয়াইটকে একটা ছোট প্যাকেট দিলো।
ভেতরে ছিলো—একটা নতুন চামড়ার ব্যাগ আর তার মায়ের চিঠির একটি প্রতিলিপি।
সাথে লিখেছিলো—
“আজ আমি আবার মা পেয়েছি। আপনি আছেন বলেই আমি হারিয়ে যাইনি…”
মিসেস হোয়াইট সে দিন কাঁদলেন।
কিন্তু তখনও জানতেন না—এই ছেলেটিই একদিন তাঁর জীবনের সবচেয়ে গর্বের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বছর পেরিয়ে যায়...
শহরের পত্রিকায় একদিন বিশাল শিরোনাম ছাপা হয়—
“ড. জেরেমি স্টোন: গৃহহীন শিশুর জীবন থেকে আমেরিকার সেরা শিশু-মানসিক বিশেষজ্ঞ পর্যন্ত যাত্রা।”
প্রবন্ধে লেখা—
“তিনি আজ হাজারো ট্রমাগ্রস্ত শিশুদের মানসিক চিকিৎসা দেন। নিজের মতোই যারা হারিয়ে ফেলেছে আপনজন, আশ্রয়—তাদের মনে তিনি আশার আলো জ্বালান।”
আর ঠিক তার নিচে, নিজের হাতে লেখা ছোট্ট একটা মন্তব্য ছাপা হয়—
“আমার আজ যা কিছু, তার পেছনে একমাত্র যিনি আছেন—তিনি একজন শিক্ষক।
যিনি শুধু আমাকে পড়াননি, আমাকে ‘মানুষ’ করে তুলেছেন।”তাঁর দেওয়া ব্যাগের নিচে আজও লেখা আছে সেই কথাটা—
“একজন মায়ের শেষ চিঠি আর একজন শিক্ষিকার প্রথম ভালোবাসা—এই ব্যাগেই বেঁচে আছে।”
একদিন ড. জেরেমি নিজেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বললেন,
“আপনারা হয়তো আমাকে মনোবিজ্ঞানী হিসেবে চেনেন।
কিন্তু আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো—
আমি মিসেস হোয়াইট নামের এক শিক্ষিকার ছাত্র ছিলাম।
তিনি যদি সেদিন আমার হাত না ধরতেন, তাহলে আজ আমি হয়তো বেঁচে থাকতাম না।”
মঞ্চের একপাশে বসা বৃদ্ধা শিক্ষিকা তখন কান্নায় চোখ মুছছিলেন।
তার হাতের আঙুলে এখনও সেই পুরনো চামড়ার ব্যাগের ছোট্ট চাবির রিং ঝুলছিল...
শিক্ষকের একটি স্পর্শ, একটি ভালোবাসার চোখ—এটাই পারে অন্ধকার জীবনেও আলো জ্বালাতে।
কারণ শিক্ষকতা পেশা নয়—তা হল আত্মা দিয়ে অন্য কারও জীবন গড়ার ব্রত।
একটি চামড়ার ব্যাগ”
(বিদেশি ঘটনা অবলম্বনে)
Farhana Yasmin

প্রফেসর সিডনি এঙ্গেলবার্গ ক্লাস নিচ্ছেন। পরিপূর্ণ ক্লাসরুম। পিনপতন নীরবতায় শুনে চলেছে প্রতিটি শিক্ষার্থী, তাঁর লেকচার। হ...
20/08/2025

প্রফেসর সিডনি এঙ্গেলবার্গ ক্লাস নিচ্ছেন। পরিপূর্ণ ক্লাসরুম। পিনপতন নীরবতায় শুনে চলেছে প্রতিটি শিক্ষার্থী, তাঁর লেকচার। হঠাৎ, একটি শিশু কাঁদতে আরম্ভ করলো তীব্র চিৎকারে। শিশুটি ছিল তার মায়ের কোলে— মা, সেই ক্লাসরুমেরই একজন শিক্ষার্থী, তরুণী। সাঁই করে পুরো ক্লাস ঘাড় ফেরালো ক্লায়াএর পিছনদিকে, যেখানে বসে ক্লাসটি করছে শিশু-কোলে তরুণীটি। যারপরনাই বিব্রত মা! উঠে দাঁড়ালো সিট ছেড়ে, বেরিয়ে যেতে উদ্যত হলো ক্লাসরুম থেকে।

অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি তখনই ঘটলো। তরুণী তার শিশুকে নিয়ে দরজায় পৌঁছুনোর আগেই, প্রফেসর এঙ্গেলবার্গ থামিয়ে দিলেন লেকচার, শান্ত-পদক্ষেপে এগিয়ে গেলেন তরুণীর কাছে, একটি শব্দও উচ্চারণ না-করে তিনি দু'হাতে নিজের বুকে তুলে নিলেন ক্রন্দনরত শিশুটিকে। শিশুকে নিয়ে নিজের স্থানে ফিরে এসে, এমন প্রশান্ত কণ্ঠে পুনরায় লেকচার আরম্ভ করলেন প্রফেসর, যেন কিছুই ঘটেনি এই কয়েক মুহূর্তে! তিনি লেকচার দিয়ে চললেন, শিশুটির পিঠে আলতোয় হাত চাপড়ে দিতে-দিতে, দোলাতে-দোলাতে, বুকে চেপে রেখেই। তাঁর চোখেমুখে বিরক্তি নেই, কারো কাছে কোনো অভিযোগ নেই, ক্লাসে শিশু আনা-না-আনার নিয়মনীতি নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই!

ক্লাসরুম পুরো চমৎকৃত! প্রত্যেকে তাকিয়ে রইলো প্রফেসরের দিকে, নিশ্চুপ প্রশংসার অভিব্যক্তি নিয়ে। সম্পূর্ণ লেকচার এভাবেই, শিশুটিকে বুকে নিয়েই সম্পন্ন করেছিলেন প্রফেসর এঙ্গেলবার্গ।

প্রফেসর সিডনি এঙ্গেলবার্গ তাঁর মা-ছাত্রীদেরকে সম্মান করে গেছেন চিরকাল। তাদেরকে বুঝিয়েছেন— ক্লাসে শিশুসন্তানকে নিয়ে আসা কোনোই অপরাধ নয়, উপরন্তু শিশুকে ক্লাসে নিয়ে আসতেই উৎসাহিত করেছেন তিনি, যাতে অন্য কারো কাছে শিশুকে রেখে আসতে না-হয়, যেন মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত না-হয় শিশু। এমনকি, সন্তানকে ব্রেস্টফিডিংয়ের অনুমতিও ছিল তাঁর ক্লাসে। তাঁর কথাটি, পৃথিবীর সমস্ত শিক্ষার্থী-মাতাদের জন্য, একইসাথে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য, চির-স্মরণীয় ও অনুকরণীয় হয়ে আছেঃ

"একজন মায়ের, কখনোই উচিৎ নয়, তাঁর সন্তান ও তাঁর পড়াশোনার মধ্য থেকে যেকোনো একটি বেছে নেওয়া। আজকে একজন মাকে শিক্ষিত হতে দেওয়া, শুধুমাত্র তাঁর সন্তান বা তাঁর পরিবারের জন্য নয়, তাঁর পুরো জাতির জন্যই আগামীকালের শ্রেষ্ঠতম প্রাপ্তি।"

নিচের, সেদিনের ক্লাসের ছবিটি, সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে, মাতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাবোধে, মায়ের শিক্ষিত হয়ে ওঠার দাবিতে ও দায়িত্ববোধে। একটি ক্লাসরুম তো সেই প্রথম জায়গাটিই, যেখানে শেখা যায়— মানুষ মূলত কী।

সংগ্রহীত

18/08/2025

শিক্ষক সুকান্ত ব্যানার্জি

18/08/2025

True or false, Education is must..

স্যাম অল্টম্যান (OpenAI-এর CEO)-কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, তার মতে একটা সফল স্টার্টআপের বা অনলাইন ব্যবসার ‘গোপন রহস্য’ কী? ত...
16/08/2025

স্যাম অল্টম্যান (OpenAI-এর CEO)-কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, তার মতে একটা সফল স্টার্টআপের বা অনলাইন ব্যবসার ‘গোপন রহস্য’ কী?

তার উত্তরটা এতটাই সহজ ছিলো যে, শুনলে অবাক হতে হয়!

স্যামের মতে - "এমন একটি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস তৈরি করুন যা এতটাই ভালো যে, মানুষ নিজে থেকেই তাদের বন্ধুদের কাছে এর প্রশংসা করবে। যদি এটা করতে পারেন, আপনার অর্ধেক কাজ সেখানেই শেষ।"

একবার Google-এর কথা ভাবুন। তাদের কোনো মার্কেটিং ক্যাম্পেইনের দরকার হয়নি। এটি এতটাই দ্রুত এবং ভালো ছিল যে, মানুষ মুখে মুখে এর প্রচার করেছে।

অথবা Facebook-এর কথা ভাবুন, যা বিজ্ঞাপন ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে ছড়িয়ে পড়েছে শুধু মানুষের ভালো লাগার কারণে।

স্যাম অল্টম্যানের মতে, এই অবিশ্বাস্য গ্রোথের পেছনে কয়েকটি সাধারণ কিন্তু শক্তিশালী নীতি কাজ করে:

১. এমন কিছু বানান যা এক কথায় বোঝানো যায়:
একজন ব্যবহারকারী যদি আপনার প্রোডাক্টকে এক লাইনে ব্যাখ্যা করতে না পারে, তাহলে সে কখনওই এটা শেয়ার করবে না। যে আইডিয়াগুলো সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়, সেগুলো বোঝানোও সবচেয়ে সহজ।

২. স্রোতের সাথে চলুন, উল্টোদিকে নয়:
এমন একটি মার্কেটে কাজ শুরু করুন যা ইতোমধ্যেই বড় হচ্ছে। ইন্টারনেট যখন জনপ্রিয় হচ্ছিল, তখন Google এসেছিল। অনলাইন সোশ্যাল নেটওয়ার্ক যখন অপরিহার্য হয়ে উঠছিল, তখন Facebook এসেছিল। স্রোত আপনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

৩. আসল ট্রেন্ডকে চিনতে শিখুন:
আসল ট্রেন্ড হলো সেটাই, যেখানে ব্যবহারকারীরা বারবার ফিরে আসে এবং অন্যদেরও আসতে বলে। এটা এক সপ্তাহের হাইপ নয়, বরং মাস বা বছর ধরে এর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।

আর সবচেয়ে অসাধারণ বিষয়টা কী জানেন?

স্যাম অল্টম্যান বিশ্বাস করেন, এই সময়ে একজন মানুষ একাই একটি বিলিয়ন-ডলারের কোম্পানি তৈরি করতে পারে!

একসময় যে টুলগুলো ব্যবহার করার জন্য শত শত মানুষের টিম লাগত, তা এখন আপনার হাতের মুঠোয়: AI, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং গ্লোবাল পেমেন্ট সিস্টেম—এসবের সাহায্যে আপনি একাই ডিজাইন, নির্মাণ, মার্কেটিং এবং সারা বিশ্বে আপনার প্রোডাক্ট পৌঁছে দিতে পারেন।

তাই, এমন একটি আইডিয়া বেছে নিন যা আপনাকে উত্তেজিত করে এবং তাকে এতটাই অসাধারণ করে তুলুন যে, আপনার প্রথম ব্যবহারকারীরাই এর মার্কেটিং শুরু করে দেয়।

কারণ, বিলিয়ন-ডলারের গল্পগুলো ঠিক এভাবেই শুরু হয়।

Collected

বাবা একবার বলেছিলেন, "if he wished to make money, he should pick up a pickaxe and break into a bank, not misuse the nobl...
09/08/2025

বাবা একবার বলেছিলেন, "if he wished to make money, he should pick up a pickaxe and break into a bank, not misuse the noble profession of medicine." | এই কথাই সারাজীবন পালন করেছেন কুন্নুরের ডাঃ এ কে রাইরু গোপাল
রোজ রাত দুটোর সময় ঘুম থেকে উঠতেন | তারপর স্নান, প্রার্থনা করে সংবাদ পত্র পড়তেন | ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ছয়টা | রোগী দেখা শুরু করতেন কুন্নুরের ডাঃ এ কে রাইরু গোপাল | রোগী দেখা চলত বিকেল চারটে অবধি | শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল বয়সের মানুষ চিকিৎসার জন্য তাঁর কাছে ভিড় জমান। প্রতিদিন ৩০০ জনেরও বেশি রোগীর চিকিৎসা করতেন | বেশীরভাগ রোগীই খুবই গরীব | মাত্র দুই টাকা ফিস নিতেন ডাঃ এ কে রাইরু গোপাল | কান্নুরের মানুষের কাছে ডাঃ এ কে রাইরু গোপাল "দুই টাকার ডাক্তার" নামে পরিচিত | এভাবেই নিঃস্বার্থ ভাবে প্রায় ৫০ বছর দুঃস্থ মানুষের সেবা করেছেন তিনি | এখানেই শেষ নয় | বহু রোগীকে বিনামূল্যে ওষুধও দিতেন তিনি | রোগীদের কথায়, “People came to him not just for medicine, but for love,”

গত শনিবার (২ আগস্ট, ২০২৫) বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে মারা যান তিনি। রবিবার (৩ আগস্ট, ২০২৫) বিকেলে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয় ।
ডাঃ এ কে রাইরু গোপাল | শ্রদ্ধা ও প্রণাম |

আত্মার শান্তি কামনা করি | যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন দুই টাকার ডাক্তার বাবু🙏🙏

© সংগৃহীত

 #সুনীতা_কৃষ্ণনের_নাম_শুনলে_ধর্ষকরা_ভয়_পায়মাত্র পনেরো বছর বয়সে আটজন মিলে ধর্ষণ করেছিল সুনীতা কৃষ্ণনকে, জীবনে প্রায় চোদ্দ...
06/08/2025

#সুনীতা_কৃষ্ণনের_
নাম_শুনলে_ধর্ষকরা_ভয়_পায়
মাত্র পনেরো বছর বয়সে আটজন মিলে ধর্ষণ করেছিল সুনীতা কৃষ্ণনকে, জীবনে প্রায় চোদ্দ বার শারীরিক নিগ্রহের শিকার হতে হয় সুনীতাকে.....

সুনীতা কৃষ্ণনের ছোটবেলা থেকে শুরু করা যাক, সকলেই একটু মন দিয়ে পড়ুন প্লিজ....

সুনীতা কৃষ্ণণ তখন আট বছরের কিশোরী, তখন থেকেই তাঁর মন কাঁদতো অন‍্যের জন্য। সুনীতা নিজে নাচ শিখতে শিখতে, সেই বয়েসেই নাচ শেখাতে শুরু করেছিল মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের.....

বয়স যখন মাত্র ১২ বছর তখনই বস্তির হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য আস্ত একটা স্কুলই করে ফেলেছিল সুনীতা.....

পুরুষের সমাজে বড় বেশি মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে পুঁচকে একটা মেয়ে, অতএব এমন শিক্ষা দাও, যাতে সারা জীবন ঘরে মুখ লুকিয়ে থাকে....

তাই আটজন পুরুষ মিলে একদিন ধর্ষণ করলো স্বাধীনচেতা একরত্তি মেয়েটিকে, ভয়ঙ্কর ভাবে মারধর করে জখম করলো সুনীতাকে, সেই আঘাতে তিনি আজও প্রায় বধির।

কিন্তু সেই ঘটনাই সুনীতার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল, ঘরের কোনে মুখ লুকিয়ে না বেঁচে থেকে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দেওয়া কলঙ্কের মুখে চুনকালি মাখিয়ে সুনীতা একাই রাস্তায় নামলেন। তাঁর উচ্চতার সামনে এবার মুখ লুকিয়ে ফেললো ধর্ষকরা....

ব্যাঙ্গালোরের সেন্ট যোসেফ কলেজ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতক ও ম্যাঙ্গালোর থেকে MSW (medical & psychiatric) করলেন। তারপর একাই ঝাঁপিয়ে পড়লেন সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারীদের ওপর যৌন শোষণ ও নারীপাচার রুখতে, বিনিময়ে সুনীতাকে হারাতে হয়েছে অনেক কিছুই....

১৯৯৬ সালে, ব্যাঙ্গালোরে মিস ওয়ার্ল্ড কম্পিটিশন হতে বাধা দিয়েছিলেন সুনীতা, নারীকে পন্য হতে দেবেন না তিনি, সেই কারণেই সুনীতা বাধা সৃষ্টি করেন মিস ওয়ার্ল্ড কম্পিটিশনে....

সেই অপরাধে সুনীতাকে জেলে যেতে হলো, দু’মাসের জেল খেটে বেরিয়ে দেখেন নিজের বাড়ির দরজা তাঁর জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। সুনীতার বাবা মা সুনীতার জীবনযাত্রা পছন্দ করছেন না এবং তাঁদের সামাজিক মর্যাদাহানি হচ্ছে সুনীতার জন্য, নিপীড়িতা মেয়েগুলির মতোই সুনীতার জীবন থেকে হারিয়ে গেল তাঁর পরিবার.....

সুনীতা একা চলে এলেন হায়দ্রাবাদ, সেই সময় হায়দ্রাবাদের "মেহবুব কি মেহেন্দি" নামের এক কুখ্যাত নিষিদ্ধপল্লী থেকে যৌনকর্মীদের উচ্ছেদ করা হয়। সেই নিষিদ্ধপল্লীর ঘরেই যৌনকর্মীদের সন্তানদের জন্য স্কুল এবং পেশা হারানো যৌনকর্মীদের জন্য হাতের কাজ শেখানোর ব্যবস্থা করলেন সুনীতা.....

সমাজকে নগ্ন করতে লাগলেন নিজের ব্লগের পাতায় পাতায়, শুরু করলেন ব্লগ, "Sunitha Krishnan: Anti - Trafficking Crusader”.....

কত শত মেয়ের যন্ত্রণা উঠে এসেছে সুনীতার কলমে, সেখানে আছে একটি ৪ বছরের মেয়ের কথা, যাকে ধর্ষণ করেছে তারই বাবা, কাকা, দাদা, খুড়তুতো ভাই ও প্রতিবেশীরা।

ব্লগের মাধ্যমে সুনীতা জানিয়েছেন, কিভাবে নারী পাচারের নিত্যনতুন পদ্ধতি বার করছে পাচারকারীরা, ক্রীতদাসের চেয়েও খারাপ অবস্থায় রাখা হয় পাচার করে আনা মেয়েদের। সঙ্গে চলে নিয়মিত যৌনশোষণ ও মারধোর, যতক্ষণ না মেয়েটি স্বেচ্ছায় গ্রাহকদের দেহ দিতে বাধ্য হয়....

কিভাবে দিনের পর দিন অত্যাচার সয়ে শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে চুড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় নিপীড়িতা মেয়েগুলি। বেশিরভাগ মেয়ের জীবন শেষ হয় এইডস দিয়ে, কুকুরের মৃত্যু জোটে তাদের, কোনও কানাগলির এঁদো নর্দমার পাশে শুয়ে....

সুনীতা নিজের কাছে থাকা সবকিছু বিক্রি করে তিনি তৈরি করলেন তাঁর স্বপ্নের সংস্থা ‘প্রজ্জ্বলা‘.....

পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করা মেয়েদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা শুরু করলেন তাঁর সংস্থা প্রজ্জ্বলা‘র মাধ্যমে। হাতের কাজ শিখিয়ে পাচারকারী নারীদের সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে দেওয়া পর্যন্ত নিপীড়িত মহিলাদের পাশে রইলেন সুনীতা.....

পেশায় যৌনকর্মীদের জন্য এবং অসহায় মেয়েদের জন্য সুনীতা বানালেন আবাসন ও তারপর কারখানা, যেখানে কার্পেন্ট্রি, ওয়েল্ডিং প্রিন্টিং, ম্যাসোনারি, হাউসকিপিং সহ আরও অনেক ট্রেনিং দেওয়া হয়, করা হয় চাকরির ব্যবস্থাও।

এইডস আক্রান্তদের চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়, অসহায় ও শোষিত মেয়েদের আইনি সহায়তাও দেওয়া হয়, এমনকি এই সব অসহায় মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থাও করে ‘প্রজ্জ্বলা’.....

আর একটি কাজ করে ‘প্রজ্জ্বলা‘, এইডস বা শারীরিক নিগ্রহের কারণে মৃত্যু পথযাত্রী মেয়েদের শেষ ইচ্ছা পূরণ করে এই সংস্থা। অসহায় মেয়েদের জীবনের শেষ মুহূর্তেও পাশে থাকেন সুনীতা.....

আজ "প্রজ্জ্বলা" পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অ্যান্টি-ট্রাফিকিং শেল্টার, সংস্থাটিতে প্রায় ২০০ জন কর্মী আছেন, সবাই বেতন পান, একমাত্র সুনীতা কৃষ্ণন ছাড়া.....

ছোট্টবেলার মতো এখনও তিনি পূর্ণ সময়ের স্বেচ্ছাসেবক এবং সংস্থার অবৈতনিক কর্মী, চিত্র পরিচালক স্বামী রাজেশ টাচরিভারের অর্থও সুনীতা নেন না.....

বই লিখে, নারী পাচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সেমিনারে বক্তব্য পেশ করে যেটুকু অর্থ মেলে, তার থেকে সামান্য পারিশ্রমিক নিয়ে বাকিটা তাঁর সংস্থায় দান করে দেন।

এসবেরই ফাঁকে, নারী পাচারের বিরুদ্ধে এক চমকপ্রদ স্লোগান দিয়ে পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছেন সুনীতা। স্লোগানটি হলো, “Real Men Don’t Buy Sex”....

সারা পৃথিবীতে ১০৮ কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে স্লোগানটি।

সুনীতা পেয়েছেন পদ্মশ্রী (২০১৬) সহ প্রচুর দেশি এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারও.....

বিভিন্ন বয়েসের প্রায় ১২০০০ নারীকে, পাচারকারীদের কবল থেকে এ পর্যন্ত উদ্ধার করেছেন সুনীতা কৃষ্ণণ। তাঁর চেষ্টায় কয়েক হাজার নারী পাচারকারীকে আজ জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে। তবুও আজ সমাজের বাধার সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে।

এখনও অবধি মোট ১৪ বার শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়েছেন সুনীতা, আজও ফোনে আসে খুনের হুমকি, গাড়ি চাপা দিয়ে সুনীতাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে....

তাঁর দিকে অ্যাসিডও ছোঁড়া হয়েছে, তবে সুনীতা জানেন তাঁর পথ কঠিন। যে সমাজে ধর্ষণকারী বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়, আর ধর্ষিতা ঘরে মুখ লুকিয়ে থাকে, অন্তত সেই সমাজে তাঁর জন্য কেউ লাল কার্পেট বিছিয়ে রাখবে না.....

কিন্ত, অন্যায় অনেকসময় আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণের মতোই বের করে আনে ক্ষোভের লাভা, শুরু হয় প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ...

কণ্ঠরোধ করতে এগিয়ে আসে কয়েকশো হাত। তবুও, সুনীতার শক্ত মেরুদন্ড আর নিষ্পলক ঠান্ডা চাউনি তাঁকে জিতিয়ে দেয় প্রতিটি যুদ্ধ....

আপনাকে কুর্নিশ ও প্রণাম সুনীতা কৃষ্ণন....🌹🌹

ছড়িয়ে পড়ুক আপনার এই ঋজু মানসিকতার এমন খবর সব জায়গায়.... এই অন্ধকারপুতিময় পৃথিবী আপনার আলোকস্পর্শে উদ্ভাসিত হয়ে উঠুক🌹🌹

সংগৃহীত🌹🌹

Address

Barasat

Telephone

+919836888969

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Barasat College posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to Barasat College:

Share