15/07/2022
'গবেষণা' এই বিষয়টির গুরুত্ব দিনের পর দিন নিচের দিকে নামছে।
যদিও এমন অনেক কিছুই আছে, যা বাদ দিয়ে আমরা আজকের দিনে কেউ কিছু ভাবতেই পারি না, সেই সমস্ত কিছুর সৃষ্টি'ই হয়েছে প্রচুর প্রচুর গবেষণার মধ্য দিয়ে।
আর এই গবষণা করার জন্য কিছু জিনিস (যেমন - গবেষণার উপযুক্ত পরিবেশ, স্বাধীনতা, মুক্ত চিন্তা, গাইডের সাথে সুষ্ঠু বোঝাপড়া, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, সায়েন্টিফিক টেম্পারামেন্ট, ফেলোশিপ ইত্যাদি...) খুবই প্রয়োজন যা বাদ দিয়ে কোনো গবেষকের পক্ষেই গবেষণা করা বা গবেষণার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সাথে দরকার ইনস্টিটিউট/বিশ্ববিদ্যালয়, গাইড/সুপারভাইজার, সরকারের সহযোগিতা।
সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস ফ্যাকাল্টির International Relations ডিপার্টমেন্টের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওই ডিপার্টমেন্টের'ই এক গবেষকের "Attempt to R**e" এর অভিযোগ সামনে এসেছে। কেন এই মানসিকতা থাকবে কারোর? অভিযোগকারিণীর বিবৃতি থেকে আমরা এও জানতে পেরেছি যে তাকে তার সেই গাইড থিসিস সাবমিশন করার আগে নানা কুপ্রস্তাব দেন, নানা অশালীন মন্তব্য করেন, নানা অযাচিত কাজকর্মও করতে বলেন, যেগুলি না করলে তার থিসিস গৃহীত হবে না বলে ইঙ্গিত করেন সেই অধ্যাপক। গবেষণার জায়গায় এরকম পরিবেশ কেন থাকবে! উচিত ছিল তো গবেষণার কাজ গাইড এবং স্কলার উভয়েই দারুন বোঝাপড়া সহ তাদের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে এক বন্ধুত্বপূর্ন, সহযোগিতামূলক, সুস্থ, স্বাভাবিক, সুসম্পর্কের মধ্যে দিয়ে। যদিও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র/গবেষক দের সাথে শিক্ষকদের সম্পর্ক একেবারেই আলাদা, যা অন্যান্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সেভাবে দেখা যায় না।
এই অভিযোগ সামনে এসেছে ১৯ দিন হয়ে গেল, পুলিশ প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষ সুবিচারের জন্য উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থা নেয় নি।
এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, JUDRSF (Jadavpur University Democratic Research Scholars' Forum) এর পক্ষ থেকে গত ২৭শে জুন, প্রথম ডেপুটেশন দেওয়া হয় VC -র কাছে দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্নাঙ্গ তদন্তের দাবী জানিয়ে এবং তদন্ত কমিটিতে রিসার্চ স্কলারদের প্রতিনিধি রাখারও দাবী জানানো হয়।
এরপর ১১ই জুলাই, যাদবপুর থানায় OC -র কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়ে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
১৩ই জুলাই VC তথা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবারও ডেপুটেশন দেওয়া হয়, তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে কেন এত দেরি করছে কর্তৃপক্ষ তথা I.C.C. (ইন্টার্নাল কম্প্লেন্ট কমিটি) তার জবাব দিতে হবে VC কে। সাথে দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার দাবী জানানো হয় এবং সেই তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রিসার্চ স্কলারদের প্রতিনিধি রাখারও দাবী জানানো হয়। এছাড়াও গবেষকদের গবেষণা সংক্রান্ত এবং অন্যান্য নানা সমস্যা জানানোর জন্য অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত গবেষকদের জন্য 'Grievance Cell' খোলার দাবী জানানো হয়।
একটানা বলে যাওয়ার পর, অবশেষে কর্তৃপক্ষ উত্তর দিতে বাধ্য হল। VC মেইল মারফত জানালেন যে, তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার নির্দেশ I.C.C. কে তিনি দিয়েছেন, সাথে তদন্ত প্রক্রিয়াতে রিসার্চ স্কলারদের প্রতিনিধি রাখার দাবীও মেনে নেয় কর্তৃপক্ষ এবং রিসার্চ স্কলারদের প্রতিনিধির নাম এবং মেইল আইডি চেয়ে পাঠায় I.C.C.।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিশ্বজোড়া নাম, তার অন্যতম একটি বড় কারণ তার গবেষণা এবং সেখানে গবেষকদের কথা বলার, সমস্যা জানানো, দাবী জানানোরও অধিকার আছে। আর এখান থেকে এইটুকু শিক্ষা হল যে, একটানা ন্যায্য দাবীর কথা বলে গেলে দাবী আদায় করা যে সম্ভব তা JUDRSF দেখিয়ে দিল।
গবেষকদের জন্য JUDRSF আওয়াজ তুলছে... তুলবে...
গবেষণার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ, পরিকাঠামো, ফেলোশিপ, সায়েন্টিফিক টেম্পারামেন্ট রক্ষা করতে ও সুনিশ্চিত করতে JUDRSF আওয়াজ তুলছে... তুলবে...
✊🏼❤️