17/09/2018
◘◘ অভিযোগ : স্কুলে পড়াশোনা হয় না।
বাস্তব:
অভিযোগ খুব অসত্য হয়তো নয়। তবে এক্ষেত্রেও প্রকৃত চিত্র অনেকে দেখেও দেখেন না। এযুগের বিদ্যালয় আর ততটা বিদ্যার আলয় নয়। বিদ্যা বস্তুটাই হয়ত একদিন লয় পাবে বিদ্যালয় থেকে। বিদ্যালয় এখন জনকল্যাণ কেন্দ্র। বিদ্যালয়ে় আজকাল যা যা পাওয়া যায় তার মধ্যে পড়ে মধ্যাহ্নভোজ,জুতো, জামাপ্যান্ট,বালা, সাইকেল,ওষুধ। অর্থাৎ, বিদ্যালয় আজকাল অনেকটা সরকারী রেশন দোকানের মতো। আর দেশগড়ার কারিগর শিক্ষকদের কাজ এখন রেশন দোকানের দোকানীর মতো। জনকল্যাণের স্বার্থে,তাঁরা বিলি করতে এবং খাতাকলমে হিসেব রাখতে ব্যস্ত কজন সাইকেল পেল,কজন ওষুধ খেল,জামা পেল কি না।এছাড়া আছে নানান ভাতা, বৃত্তির বিলিবন্দোবস্ত ও তার হিসাব।ক্লাসে যাঁরা পড়ান
" 'হিন্দু,না ওরা মুসলিম'?ওই জিজ্ঞাসে কোনজন?",তাঁরাই লম্বা লম্বা সরকারী ফর্মে দেগে দেগে দ্যাখাতে বাধ্য হন এ হিন্দূ,ও মুসলিম,এ তপশিলি। এসব বিলিবাটোয়ারা,হিসেবনিকেশ করে ক্লান্ত শিক্ষক যেই তাঁর সেই কুখ্যাত হাইখানি তুলতে যাবেন, অমনি মিড-ডে মিলের ঘন্টাখানি টংটঙিয়ে বলে উঠবে "ও ছ্যার। আগে মিড্ডিমিলটা চেখে দ্যাখেন,ঠিক হইছে?বিষটিষ নাই তো? আপনেরই তো দ্যাখার কতা।" অর্থাৎ জীবিকার সঙ্গে শিক্ষকের জীবনও জড়িয়ে। দৈবাৎ,বিষ থাকলে মিডডে মিলের খাতায় "আজ মিডডে মিলে বিষ রান্না হয়েছিল। অতি সুস্বাদু হয়েছিল" লিখে, তবেই হয়তো শিক্ষক মরতে পারবেন। নচেৎ show cause letter এলেও আসতে পারে। এ সব, সবই,এযুগের শিক্ষকের কর্তব্য। এছাড়া,কার বাড়ি কটা পায়খানা গুনতে যাওয়া, কোন পাড়ায কার ছেলেমেয়ে পড়া ছেড়েছে, তাকে ধরে আনা,এ সবই শিক্ষক- শিক্ষিকাদের কাজ। এত মহতী জনকল্যাণের কর্মশালার কোণে ভিখারিণী মায়ের মত পড়ে রয়েছে শিক্ষা।আজকের যুগের সন্তানদের হয়তো প্রয়োজন নেই তার স্তন্যের, তাদের হয়তো সাইকেলটা,বা ভাতাটা,বা জুতোটাই দরকার। তাই, বিদ্যালয়ে আজকাল পড়াশোনা হয় না- এই অভিযোগ অনেকাংশে সত্যি হয়ে উঠতে খুব দেরি নেই।সবই কপাল। নাহলে কি আর Ph.D. degreeধারী শিক্ষককে Sanitary survey পরিচালনা করতে বেরোতে হয়? Sanitary Inspector পদটিতে যাঁরা আছেন, তাঁদের তো কখনও স্কুলে ক্লাস নিতে দেখা যায় না।বিদ্যালয়ে এত কিছুর পরেও যে পড়াশোনা চলছে এটিই বিস্ময়কর। আজ্ঞে হ্যাঁ। চলছে। যাঁরা বলেন শিক্ষকরা ক্লাসে পড়ান না, তাঁরা কখনও ক্লাসে শিক্ষকের চেয়ারটিতে বসেননি। ৫০-৬০টি ছাত্র ছাত্রীর সামনে ঘুমিয়ে পড়া যায় না,চুপ করে বসে থাকাও যায় না। পড়াতেই হয়। এবং পড়ানোই হয়।তুলনায়, বিদ্যালয়ের পাঠে ছাত্রদেরই আগ্রহ কম।কারণ,সে জানে ওই পড়াটি সে tutor-এর কাছে বুঝে নেবে। এবার বলুন,teacher যান tuitionএর ছাত্র ধরতে? নাকি অভিভাবক আসেন teacher-এর কাছে?private tuition-এর বাড়বাড়ন্ত শুধুই মাস্টারগুলোর কারণে? এক বোদ্ধা দেখলাম commentএ লিখেছেন এখন ছাত্র তৈরীর মত শিক্ষক নাকি বিরল, শিক্ষকরা নাকি private-এ notes দিতে ব্যস্ত। তাঁর মতো অনেকেরই এই ধারণা যে notes-ই আসল মাল, ক্লাসের পড়ানোটা ভেজাল। আবার বলি, শিক্ষকের আসনে বসেননি বলেই এমন ভ্রান্ত মত ধরেছেন।Teachers try to give their best inside the classroom.কারণ, সেখানে তাঁকে অন্য tutor-এর ছাত্রদের প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয়, ব্যাখ্যা করতে হয়, সকলকে বোঝাতে হয়। Notes-এর মতো ছাত্রের সামনে ফেলে দিয়ে বলা যায় না-"লে,এইটা ভাল্লো করে মুখস্থ করবি। ৮০% বাঁধা।" শিক্ষার এই shortcut পথটি অভিভাবকরাই ধরিয়ে দেন শিক্ষার্থীকে।
ক্লাসে ছাত্র তৈরির মতো লাখ লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকা আজও আছেন। তবে বাস্তব হল তাঁদের কেউ হয়তো পায়খানার হিসেব রাখতে ব্যস্ত, কেউ মিডডে মিলের হিসেব লিখতে, তো কেউ আপনার মেয়ে যাতে সাইকেল পায়,তার তদারকে ব্যস্ত। তবে অন্য অফিসের সঙ্গে তফাৎ এই যে, তাঁদের পরিবর্তে অন্য শিক্ষকরা তাঁদের ক্লাসগুলো নেন।
এখানেই বিদ্যালয় আর পাঁচটা অফিসের থেকে স্বতন্ত্র।
লেখাটি share করলে জনচেতনা কিছুটা হলেও বাড়তে পারে। Share করতে না পারলে,copy paste করেও কাজ চালাতে পারেন।