15/05/2026
#কষ্ট_হয়
(একটি প্রতিবেদন)
"আছে প্রত্যয় -
আমরা করব জয় একদিন... "
এই আমাদের প্রত্যয়।
তাই স্বপ্ন।তাই অপেক্ষা। তাই নিষ্ঠা। অধ্যবসায়।
তারপর একদিন আসে। আজকের দিন। স্বপ্ন পূরণের দিন। যেদিন উচ্চ মাধ্যমিকে 74 জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে 51 জন স্টার মার্কস প্রাপক। 71 জন প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ। সর্বোপরী বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নম্বর 479 যা এতদাঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। তাইতো আমার বিদ্যালয় সেরা ।
সন্তানের কৃতিত্বে আনন্দ হয়।
স্বভাবতই আমরা যারপরনাই আনন্দিত সন্তানসম ছাত্রদের এই নজিরবিহীন ফলাফলে। কারণ সেই সাফল্যের পশ্চাতে থাকে অকৃত্রিম নিষ্ঠা আর অধ্যবসায়।ছাত্রদের আগ্রহ আর শিক্ষক শিক্ষিকাদের পথনির্দেশিকা এবং অভিভাবকদের সাহচর্যে সীতানাথ পাঠশালার সন্তানেরা এবছর উচ্চ মাধ্যমিকে অভূতপূর্ব ফলাফল এনে দিয়েছে। ফলতঃ শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছে এ এক স্বপ্ন পূরণের দিন।
এমন একটি সাফল্যের দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকে প্রতিটি শিক্ষাঙ্গন। কিন্তু এই প্রত্যাশার বুনিয়াদ নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের শীক্ষার্থীকেন্দ্রিক পরিবেশ।আর তার কারিগর হলেন প্রধান শিক্ষক মহাশয় থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গনের সকল সৈনিক।
মূলত, ফ্রয়েডীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে শিক্ষা হলো একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি শিশু নিজের অবচেতন জগতকে বুঝতে শেখে এবং আবেগের ভারসাম্য রক্ষা করতে শেখে।শিক্ষকের ভূমিকা প্রসঙ্গে ফ্রয়েড বলছেন, শিক্ষকরা শুধুমাত্র তথ্যদাতা নন, তারা শিশুর বিকাশে অভিভাবকতুল্য ভূমিকা পালন করেন, যা শিশুর প্রাথমিক বিকাশের (Childhood development) প্রতিফলন।
ফলতঃ সীতানাথ পাঠশালা এই বুনিয়াদের উপর ভিত্তি করে নির্মাণ করেছে ঐতিহ্য। সুনাম।
সুতরাং এই দিনের তাৎপর্য কেবল এই দিনের মধ্যে সীমীত নয়, বরং এই সাফল্য বর্ণনা করে তিল তিল করে নির্মীয়মাণ একটি পবিত্র বুনিয়াদের কাহিনী। যার নাম সীতানাথ পাঠশালা।
আসা যাক কষ্টের কথায়। যে কারণে এত কথার অবতারণা করা।
মূলাজোড় সীতানাথ Mulajore Sitanath Pathsala -H.S. মূলাজোড় সীতানাথ পাঠশালা- উ:মা: পাঠশালার এই স্বপ্ন পূরণের দিনে একদিকে যেমন ছাত্রদের জন্য ভীষণ গর্ববোধ হয়, তেমনি একটি বিষয় শিক্ষক হিসেবে বেশ পীড়া দেয়।কষ্ট হয় যখন যাতায়াতের পথে কিছু প্রিয় ছাত্র অন্য বিদ্যালয়ের পোশাকে দেখি। তাকে দেখে মনে পড়ে তার পঞ্চম থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত দীর্ঘ ছয় বছরের প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহুর্তের স্মৃতি। মনে পড়ে সেই ছাত্রের পঞ্চম শ্রেণীতে কচি কচি আঙ্গুলে লেখা অক্ষরমালা। ছবি আঁকা। নাটক। গান। আবৃত্তি। ফুটবল ম্যাচ।সরস্বতী পুজো। আসছে বছর আবার হবে। আরও আরও কত কি! নিজের বিদ্যালয় ত্যাগ করে অন্য বিদ্যালয়ে যাওয়ায় শিক্ষক শিক্ষিকারা ব্যাথা পান। ছাত্রদের কাছে একথা সস্নেহে পৌঁছে দিতে চাই।
পৌঁছে দিতে চাই মাননীয় অভিভাবক অভিভাবকদের চিন্তনে।
আমার ছাত্র। আমার গর্ব।
সকলে ভালো থেকো।
ভালোবাসা। ❤❤
-- শ্রী মানিক পাল, শিক্ষক,
বিষয় ভূগোল,
মূলাজোড় সীতানাথ পাঠশালা (উঃমাঃ)