10/24/2022
রুপনাদের বাড়ি-
রুপনা ও আনাইদের বাড়ি এবং তাদের গ্রামে যাওয়ার রাস্তা নিয়ে অনেক পোস্ট দেখেছি।
রুপনারা ঐসব দেখে তাদের মনে কী ভাবনা আসতে পারে? আমি অন্তত তাদের বয়সে হলে একটু লজ্জা পেতাম। কারণ এ বয়সে সবাই নিজের ঘর, পরিবারকে সুন্দর করে উপস্থাপন করতে চায়। আজ জাতীয় সেলিব্রেটি হিসেবে তাদের আজ এসব মেনে নিতেই হবে।
তবে চারপাশে তাকিয়ে দেখেন পাহাড়ে - সমতলে মেজরিটি মানুষের বর্তমানে কিংবা সামান্য অতীতে বাড়িগুলো এমনই। যাদের এখন সুন্দর পাকাবাড়ি তাদের অতীতে বাড়িও রুপনা বা আনাইদের বাড়ি থেকে তেমন তফাৎ ছিল না।
আমাদের শৈশবের বাড়িও এর চেয়ে ভালো ও সুন্দর তেমন ছিল না। আমি বড় হয়েছি শনের ছাদ ও বাঁশের তৈরী ঘরে। মাকে বলতে শুনেছি, দাদুদের বাড়ি থেকে তফাৎ হয়ে যখন আলাদা সংসার করতে বাড়ি তৈরী করেন তখন বাবা টিনের ছাদ দিতে চেয়েছেন। কিন্তু মায়ের চরম বিরোধীতায় টিনের ছাদ দেওয়া হয়নি। কারণ শনের ছাদ হলে গ্রীষ্মকালে বাড়ি থাকে ঠান্ডা, আর টিনের ছাদ হলে হতো উল্টোতা। আমি ও আমার ভাইরা সেই শনের বাড়িতে কেরোসিনের আলোতে লেখাপড়া করে বড় হয়েছি - এখন আমরা কেউ বিজ্ঞানী, কেউ কলেজ প্রিন্সিপাল, কেউ উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা। আজ যতই আমার চুল পাঁকছে শৈশবে সেই শনের বাড়িটিতেই ফিরে যেতে চাই।
আনাই, রুপনাদের বলবো, তোমরা এমন ঘরে, এমন অভাবী সংসার ও পশ্চাৎপদ গ্রামে বড় হয়েও দেশের জন্য যে সম্মান এনে দিয়েছো সেটাইতো এখন অনুপ্রেরণার সমস্ত উৎস। সুতরাং বিরক্ত নয় বরং গর্ব করো সেই ভাঙ্গা ঘর, গ্রামের পথে কোন রকমে ঝুলে থাকা বাঁশের সাকো, এবং বিছিন্ন সে গ্রামের জন্য। সরকার থেকে সাহায্য এলে ধন্যবাদ জানিয়ে গ্রহন করো, তবে নিজেকে ছোট করে নয়। কারণ এ ভাঙ্গা ঘরইতো সমস্ত অহংকার ও গৌরবের আঁতুঘর।