20/09/2026
সমালোচনা হোক তথ্যনির্ভর, উদ্দেশ্য হোক প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চন্দ্রগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও চন্দ্রগঞ্জ কারামতিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসার দুটি রসিদ পাশাপাশি উপস্থাপন করে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাকি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান?
বিষয়টি সম্পর্কে কিছু তথ্য পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
প্রথমত,উচ্চ বিদ্যালয়ের রশিদ টি অস্পষ্ট,যদি ধরেও নি উচ্চ বিদ্যালয়ের রশিদ টি প্রশংসা পত্রের তার পরেও দুটি রসিদ একই ধরনের সেবার নয়। একটি ছাড়পত্র+প্রশংসাপত্রের, অন্যটি শুধু প্রশংসাপত্রের। ছাড়পত্র+প্রশংসাপত্র ও শুধু প্রশংসাপত্রের উদ্দেশ্য, প্রয়োজনীয়তা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম এক নয়। সুতরাং দুটি ভিন্ন সেবার ফি পাশাপাশি উপস্থাপন করে সরাসরি তুলনা করা কতটা যৌক্তিক, তা বিবেচনার বিষয়।
দ্বিতীয়ত, দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাস্তরও এক নয়। চন্দ্রগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম এসএসসি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে চন্দ্রগঞ্জ কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসায় দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল (মাস্টার্স সমমান) পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ রয়েছে।
অর্থাৎ, একজন শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করার পর উচ্চ বিদ্যালয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে অধ্যয়নের সুযোগ পান না। কিন্তু মাদ্রাসায় দাখিলের পর আলিম এবং পরবর্তী উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। ফলে দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী স্থানান্তরসংক্রান্ত বাস্তবতাও ভিন্ন।
তৃতীয়ত, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তক্রমে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী ছাড়পত্র+প্রশংসাপত্রের জন্য ১৫০০+ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। আলোচ্য ক্ষেত্রে সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত অর্থের চেয়েও কম ১২০০ টাকা গ্রহণ করা হয়েছে।
এখানে কোনো প্রশ্ন থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নীতিমালা ও প্রযোজ্য বিধিবিধান সম্পর্কে জানতে চাওয়া যেতে পারে। কোথাও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তা সংশোধনেরও সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্রের রসিদ এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রশংসাপত্রের রসিদ পাশাপাশি উপস্থাপন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ করা কতটা ন্যায়সংগত?
আমরা মনে করি, সমালোচনা করার আগে তথ্যের যথার্থতা যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের ভুল থাকলে তা ধরিয়ে দেওয়া অবশ্যই ভালো কাজ। কিন্তু অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা কোনো গঠনমূলক সমালোচনা হতে পারে না।
মনে রাখতে হবে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর ভালোবাসা, শ্রম ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
প্রশ্ন তুলুন, তবে তথ্য যাচাই করে। সমালোচনা করুন, তবে ন্যায়সংগতভাবে। ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা ভুল বোঝাবুঝির কারণে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্মান ক্ষুণ্ণ না হোক।
আমাদের প্রত্যাশা, সমালোচনার উদ্দেশ্য হোক সংশোধন, বিভ্রান্তি সৃষ্টি নয়।