জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-1204

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-1204
Call Directions Website Contact the university

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-1204 দারূল উলূম দেওবন্দের আদর্শে উজ্জীবিত।
(1)

30/10/2026

৭০ সালা উপলক্ষে প্রফাইল পরিবর্তন।সারাজীবন থেকে মাত্র ২০ দিন এই পিকচারটি সকলে প্রোফাইলে দেয়ার ইহতিমাম করি। আগামি মাসের ২৩-২৫ তারিখের পর এইসব আবেদন, দাবি আর কেউ করবে না আপনাদের।
এই কয়টা দিন সবাই যার যার জায়গা থেকে সর্বোচ্চ প্রচারণা করতে থাকি।

সত্তর বছরের এই আয়োজন জীবনে একবারই পাওয়া যায়।

হে আল্লাহ! আমাদের প্রিয় জামিয়ার কাঙ্ক্ষিত ৭০ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলনকে পরিপূর্ণ কামিয়াবি ও কবুলিয়াত দান করুন।হে ...
29/10/2026

হে আল্লাহ! আমাদের প্রিয় জামিয়ার কাঙ্ক্ষিত ৭০ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলনকে পরিপূর্ণ কামিয়াবি ও কবুলিয়াত দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের এই মহাসম্মেলনকে জামিয়া, দেশ ও বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েত, রহমত ও বরকতের উসিলা বানিয়ে দিন।

হে আল্লাহ! এই বিশাল আয়োজনের যাবতীয় প্রয়োজন আপনার গায়েবি খাজানা থেকে পূরণ করে দিন এবং আমাদের সকল প্রচেষ্টা, ত্যাগ ও মেহনত কবুল করুন।

হে আল্লাহ! বিদেশ থেকে আগত উলামায়ে কেরাম ও মাশায়েখের সফর নিরাপদ, সহজ ও পেরেশানিমুক্ত করুন। তাঁদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে আগমন, অবস্থান ও প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করে দিন।

হে আল্লাহ! দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত উলামায়ে কেরাম, মেহমান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিরাপদে সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং সুস্থতার সঙ্গে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার তাওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ! পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা জামিয়ার সন্তানদের বুকভরা ভালোবাসা ও আবেগ নিয়ে প্রিয় জামিয়ার দস্তারবন্দী মহাসম্মেলনে অংশগ্রহণের তাওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের প্রত্যেক ফারেগীনকে সুস্থতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দস্তারে ফযীলত গ্রহণের সৌভাগ্য নসিব করুন।

হে আল্লাহ! দেশি-বিদেশি সকল উলামায়ে কেরামকে তাঁদের শান ও মর্যাদা অনুযায়ী ইকরাম ও তাজিম করার তাওফিক আমাদের দান করুন। তাঁদের ইলম, আমল, নসিহত ও রূহানি ফয়েজ-বরকত থেকে আমাদের উপকৃত করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের আকাবিরের ইলমি ও আমলি উত্তরাধিকার যথাযথভাবে ধারণ ও বহন করার তাওফিক দিন। আমাদের দস্তারে ফযীলতকে ইলম, আমল, তাকওয়া ও দ্বীনের খেদমতের পবিত্র অঙ্গীকারে পরিণত করুন।

হে আল্লাহ! যাঁরা অসুস্থতা, বার্ধক্য, আর্থিক অসচ্ছলতা, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা দূরত্বের কারণে সম্মেলনে আসতে পারছেন না, তাঁদের অপারগতা কবুল করুন এবং আপনার কুদরতি ব্যবস্থাপনায় তাঁদেরও অংশগ্রহণের তাওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের প্রিয় উস্তাদগণের মেহনত, ত্যাগ ও ভালোবাসা কবুল করুন। তাঁদের সুস্থতা, আফিয়াত ও নেক হায়াতে বরকত দান করুন। যেসব উস্তাদ ও আকাবির দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, তাঁদের কবর নূরান্বিত করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে উচ্চ মাকাম দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা, আকাবির, দায়িত্বশীল ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দ্বীনি খেদমত কবুল করুন এবং উত্তম প্রতিদান দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের প্রিয় জামিয়াকে কিয়ামত পর্যন্ত ইলমে নববীর আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মারকায হিসেবে কবুল করুন। একে সব ধরনের ফিতনা, বিভেদ, হিংসা, ষড়যন্ত্র ও অনৈক্য থেকে হেফাজত করুন এবং এর ইলমি ঐতিহ্য ও রূহানি পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখুন।

হে আল্লাহ! এই সম্মেলনের আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক, দাতা ও নীরবে খেদমত করে যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির মেহনত কবুল করুন এবং তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের আচরণ, কথাবার্তা, আতিথেয়তা ও ব্যবস্থাপনায় এমন সৌন্দর্য দান করুন, যেন কোনো মেহমান কষ্ট না পান এবং কোনো আলেমের সম্মান ক্ষুণ্ন না হয়।

হে আল্লাহ! আমাদের এই মহাসম্মেলনকে সব ধরনের দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, পদদলন, বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে হেফাজত করুন। আগত সকলের জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের ব্যবস্থাপনায় দূরদর্শিতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাওফিক দিন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সকল সহযোগীর কাজে সহজতা ও সফলতা দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের এই সমাবেশকে শান্তি, শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মানের অনন্য দৃষ্টান্ত এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভালোবাসা বৃদ্ধির উসিলা বানিয়ে দিন।

হে আল্লাহ! আমাদের ফারেগীনদের ইলমে নাফে, আমলে সালেহ, ইখলাস ও উত্তম আখলাক দান করুন। তাঁদের দ্বীনের একনিষ্ঠ খাদেম হিসেবে কবুল করুন এবং উম্মাহর কল্যাণে তাঁদের জীবনকে উৎসর্গ করার তাওফিক দিন।

হে আল্লাহ! এই সম্মেলনে আগত প্রত্যেককে ঈমানি প্রেরণা, রূহানি খোরাক ও দ্বীনের দাওয়াতের নতুন সংকল্প নিয়ে ফিরে যাওয়ার তাওফিক দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে আগামী প্রজন্মের জন্য দ্বীনি জাগরণ ও কল্যাণের এক অনন্য মাইলফলকে পরিণত করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের যেসব উস্তাদ ও মুরব্বির মেহনত, ত্যাগ ও দিকনির্দেশনার বদৌলতে আজ আমরা এই অবস্থানে পৌঁছেছি এবং এই ঐতিহাসিক আয়োজনের সৌভাগ্য লাভ করেছি, তাঁদের সকলকে কবুল করুন এবং উত্তম প্রতিদান দান করুন।

হে আল্লাহ! আমাদের এই মহাসম্মেলনের সূচনা রহমত দিয়ে করুন, প্রতিটি মুহূর্তে বরকত দান করুন, এর সমাপ্তি কবুলিয়াতের মাধ্যমে ঘটান এবং এর কল্যাণকে কিয়ামত পর্যন্ত জারি রাখুন।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।

ালা_দস্তারবন্দী
#জামিয়া_ফরিদাবাদ
#তানযীমে_আবনায়ে_ফরিদাবাদ
#দস্তারবন্দী_মহাসম্মেলন
#দস্তারে_ফযীলত



দরজায় কড়া নাড়ছে ৭০ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন। জামিয়ার ফুজালাদের দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুছিয়ে আসছে। কয়েক প্রজন্ম এ...
29/10/2026

দরজায় কড়া নাড়ছে ৭০ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন। জামিয়ার ফুজালাদের দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর গুছিয়ে আসছে। কয়েক প্রজন্ম একসাথে দস্তারে ফজিলত লাভ করবে। ভাবতেও একটা সুখানুভূতি টের পাচ্ছি।

প্রাণের এই অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সবাই আপন আপন জায়গায় সচেষ্ট হ‌ই। সাথী ভাইদের সবার কাছে অনুষ্ঠানের বার্তা পৌঁছে দেই।
যাদের নিবন্ধন বাকি নিবন্ধন করতে তাদের সহযোগিতা করি। নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি। সর্বোপরি আল্লাহ তাআলার কাছে এই মহতী অনুষ্ঠান সফল হ‌ওয়ার জন্য দোয়া করি।
যারা এখনো নিবন্ধন করেননি এই লিংকে গিয়ে নিবন্ধন করে নিন।
https://abnaefaridabad.com/

অথবা হোয়াটস্যাপ করুন 01977-645414

বায়তুল মোকাররমের খতিব হওয়ার পর অনেকেই হয়তো হযরতকে নতুন করে চিনেছেন। কেউ অবাক হয়ে বলছেন, "এই লোকটা কে?" আবার কেউ বলছেন, "...
24/10/2026

বায়তুল মোকাররমের খতিব হওয়ার পর অনেকেই হয়তো হযরতকে নতুন করে চিনেছেন। কেউ অবাক হয়ে বলছেন, "এই লোকটা কে?" আবার কেউ বলছেন, "আমরা তো বহুকাল আগেই উনাকে চিনেছি!"

আমার সঙ্গে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক সাহেব দা. বা.-এর প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিটা আজও বড্ড দোলা দেয়। সেটা ছিল হিজরি ২০ সনের ঘটনা—উনার রচিত 'আল-মাদখাল' কিতাবটির উসিলায়। সম্ভবত ১৮ হিজরিতে কিতাবটি প্রথম ছাপা হয়েছিল। এক ভাই কিতাবটি আমার কাছে নিয়ে এলেন। প্রচ্ছদটি দেখেই আমি তাক লেগে গেলাম—"বাংলাদেশের একজন আলেমের কিতাব এত চমৎকার প্রচ্ছদে ছাপা হয়েছে!"

সে রাতে আমার চোখে আর ঘুম ছিল না। পুরো রাত কিতাবটি উল্টেপাল্টে দেখেছি আর মনে মনে খুজেছি—আল্লাহ! কে এই মানুষ? নিচে লেখা: 'মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক, মারকাযুদ দাওয়াহ'। তখন মারকাযুদ দাওয়াহর নাম কেবল একটু-আধটু শুনতে শুরু করেছি, একদম নতুন একটা প্রতিষ্ঠান। মনে তীব্র তামান্না জাগল, এই মানুষটার সাথে দেখা করতেই হবে।

পরদিন কিতাবটা হাতে নিয়ে চলে গেলাম উনার কাছে। গিয়ে যেভা‌বে একের পর এক প্রশ্ন আর ইন্টারভিউ শুরু করলাম—আজ ভাবলে নিজেরই লজ্জা লাগে! আমি কত অবলীলায় হাত নাড়িয়ে, ঠেলা দিয়ে কথা বলেছিলাম! তখন আমি নিজে শিক্ষকতায় ১২ বছর পার করে ফেলেছি। কিন্তু হযরতের নম্রতা ও 'তাওয়াজু' (বিনয়) দেখে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। বিদায় নেওয়ার সময় হুজুর নিজেই আমার জুতো জোড়া এগিয়ে দিলেন, উঠিয়ে-নামিয়ে দিলেন! আমি ব্যাকুল হয়ে বললাম, "হুজুর, এমন করলে তো আমি আর কখনো মারকাযুদ দাওয়াহয় আসার সাহস পাব না!" তখনো হয়তো উনাকে পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারিনি, কিন্তু ধীরে ধীরে বু‌ঝেছি—তিনি কেমন রত্ন!

পরবর্তীতে জানতে পারলাম তাঁর জ্ঞানার্জনের অসামান্য সফরের কথা। পাকিস্তানের দারুল উলুম করাচীতে হযরত আল্লামা তাকী উসমানী সাহেব দা. বা.-এর কাছে যখন তিনি ভর্তি হতে যান, তখন শাওয়াল বা জিলকদ মাস—ভর্তির মেয়াদ প্রায় শেষ, দরসও শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু আল্লামা আব্দুর রশীদ নোমানী সাহেব রহ.-এর সুপারিশে আল্লামা তাকী উসমানী সাহেব উনার একটা ছোট পরীক্ষা নিতে চাইলেন।

'হেদায়া' কিতাবের একটি জটিল স্থান থেকে প্রশ্ন করা হলে তরুণ আব্দুল মালেক সাহেব ক্ষণিকের জন্য থমকে গেলেন। আন্দাজে কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি অত্যন্ত আদবের সাথে বললেন—
"হযরতজি! এই মুহূর্তে বিষয়টি আমার পূর্ণ বোধগম্য হচ্ছে না। আমাকে যদি সামান্য সুযোগ দেন, তবে আমি কোনো শরাহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) বা হাশিয়া না দেখে, শুধু মূল এবারতটুকু গভীর মনোযোগ দিয়ে চিন্তা-ফিকির করে সঠিক মর্মটি বুঝিয়ে বলব।"

তাঁর এই সততা আর আত্মবিশ্বাস দেখে আল্লামা তাকী উসমানী দা.বা. বলে উঠলেন—বাস! তেরি ইস বাত পার মায় তো তুঝে দাখেলা দে দেতা হূঁ! অর্থাৎ, তোর এই একটি কথার ওপর ভিত্তি করেই আমি তোকে দাখেলা (ভর্তি) দিয়ে দিলাম! তোর কথার মেজাজ দেখেই বুঝেছি তোর ভেতরে বিদ্যার কী গভীরতা রয়েছে!"

একেই বলে 'ইতকান' বা জ্ঞানের সুদৃঢ় ভিত্তি—আন্দাজে বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কথা না বলা।

অবশ্য অনুমানের কথা বলতে গেলে হাকিমুল উম্মত হযরত থানভী রহ.-এর ছাত্রজীবনের একটি মধুর ঘটনা মনে পড়ে যায়। থানভী রহ. যুক্তিশাস্ত্র (মানতেক বা মাকুলাত) তেমন পছন্দ করতেন না; উনার মূল আগ্রহ ছিল কুরআন-হাদিসের 'উলূমে আলিয়া'র প্রতি। একবার মানতেকের বার্ষিক মৌখিক পরীক্ষায় তিনি এমন এক ওস্তাদের মুখোমুখি হলেন, যাঁর ভয়ে ছাত্ররা থরথর করে কাঁপত!

পরীক্ষায় প্রশ্ন করা হলে থানভী রহ. না পেরে নিজের মতো বানিয়ে বানিয়ে চমৎকার এক লেকচার (তকরীর) শুরূ করে দিলেন! ওস্তাদজি শুনে শুধু বললেন, "আর কিছু বলবি?" থানভী রহ. ভাবলেন—ফেল করলাম বুঝি! তিনি সুযোগ চেয়ে নিয়ে দ্বিতীয়বার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ব্যাখ্যা দাঁড় করালেন। ওস্তাদজি আবারও আগের মতো প্রশ্ন করলেন। ভয় পেয়ে থানভী রহ. তৃতীয়বার আরও একটি সম্পূর্ণ নতুন ব্যাখ্যা পেশ করলেন! এবার ওস্তাদজি একটু মুচকি হেসে বললেন—
"হলো তো কিছুই না! কিন্তু তোর বুদ্ধিমত্তা আর এক জুমলা থেকে তিনটা ভিন্ন ব্যাখ্যা বানানোর ক্ষমতা দেখে তোকে নম্বর দিয়ে দিলাম!"

থানভী রহ.-এর ঘটনাটি ছিল ছাত্রজীবনের এক রসাত্মক ব্যতিক্রম। কিন্তু দ্বীনের আমানতদারিতে হযরত আব্দুল মালেক সাহেবের সেই নীতিই আমাদের আসল শিক্ষা—আন্দাজে কথা না বলা, জবানকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।

আজকাল আমাদের সমাজে একটা বড় ব্যাধি হলো—আন্দাজে বা না জেনে ফতোয়া ও মতামত দিয়ে ফেলা, আর পরে তাহকিক বা যাচাইয়ের জন্য দরজায় দরজায় ঘোরা। কিন্তু কথা বলার আগেই কেন আমাদের এই অনুভূতি জাগে না যে—যা বলছি, তা সঠিক তো?

মাঝে মাঝে ইফতার (ফতোয়া বিভাগ) ছাত্রদের জিজ্ঞেস করি—"পড়াশোনা কেমন লাগছে?" কেউ কেউ বলে, "হুজুর, দারুণ মজা পাচ্ছি!" তখন বুঝি, এ এখনো গভীরে পৌঁছায়নি। কিন্তু যখন কোনো ছাত্র বলে, "হুজুর! ইফতায় ভর্তি হয়ে তো মহাবিপদে পড়েছি! আগে অন্তত মানুষ কিছু জিজ্ঞেস করলে দুটো মাসআলা বলতে পারতাম, এখন তো মুখই খুলতে ভয় লাগে!"

তখন মনে হয়—হ্যাঁ, এ-ই আসল শিক্ষা পেয়েছে!

ইলম বা জ্ঞান অর্জনের প্রথম শর্তই হলো নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা এবং না জেনে কথা বলা থেকে জবানকে সংযত রাখা। আন্দাজে বানিয়ে বলার অভ্যাস যেদিন আমরা ছাড়তে পারব, ঠিক সেদিনই আমাদের এলেমে প্রকৃত বরকত নেমে আসবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের জবানকে হেফাজত করার এবং এলেমের সঠিক আদব ধারণ করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

সর্বোচ্চ পরিমাণের শেয়ার করে সবার কাছে দাওয়াত পৌঁছে দিন। প্রচারের কোন কমতি রাখা যাবে না। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্ব...
24/10/2026

সর্বোচ্চ পরিমাণের শেয়ার করে সবার কাছে দাওয়াত পৌঁছে দিন। প্রচারের কোন কমতি রাখা যাবে না। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচার-প্রচারণা করতে থাকুন।

23/10/2026

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদের ৭০ সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলনের কিছু কারগুজারি, কৈফিয়ত ও জামিয়ার সকল ভাইদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান

بسم الله الرحمن الرحيم

জামিয়ার মুহতারাম ফুজালায়ে কেরাম ও প্রিয় ভাইয়েরা
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته

আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ মেহেরবানি, মুরুব্বিয়ানে কেরামের দোয়া, আসাতেজায়ে কেরামের পৃষ্ঠপোষকতা এবং জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদের আবনায়ে কেরাম—আমাদের শ্রদ্ধেয় ফুজালাবৃন্দের আন্তরিক আগ্রহ ও ভালোবাসায় ৭০সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলনের প্রস্তুতির শেষ ধাপের কাজ চলছে। দীর্ঘদিনের লালিত প্রত্যাশা ও আবেগের এই আয়োজনকে ঘিরে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা ফুজালায়ে কেরাম ও ছাত্রভাইদের মধ্যে যে আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে আমাদের আশাবাদী করে।

আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই মহাসম্মেলন কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি আমাদের প্রিয় জামিয়ার সাত দশকের ইলমি-দ্বীনি খেদমতের স্মারক, মুরুব্বিয়ানে কেরামের মেহনতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপলক্ষ এবং জামিয়ার সন্তানদের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করার এক ঐতিহাসিক সুযোগ।
সত্তর বছর কম সময় নয়—এই দীর্ঘ পথচলার ঐতিহ্য, অবদান ও ইলমে নববীর চেতনাকে বুকে লালন করে আমাদের গর্বিত আত্মপ্রকাশের এক মাহেন্দ্রক্ষণ এই সত্তরসালা।

এই আয়োজন কোনো একক ব্যক্তি বা কমিটির নয়; এটি জামিয়ার প্রতিটি সন্তানের সম্মিলিত চেষ্টার ফলাফল ও আমানত। সেই আমানতের দায়িত্ব থেকেই আয়োজকবৃন্দের প্রস্তুতির কিছু কথা এবং জামিয়ার আবনা ও ফুজালাবৃন্দের প্রতি আন্তরিক আহ্বান তুলে ধরছি।

১. আয়োজনের সূচনা:
৭০ সালার এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ফুজালাবৃন্দের অব্যাহত আবেদন, আবনায়ে জামিয়ার আন্তরিক আগ্রহ এবং ফুজালায়ে কেরামের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। তাঁদের ভালোবাসা ও দাবিই জল্পনা কল্পনার স্তর থেকে উদ্যোগটিকে বাস্তব কাজের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

শুরুতে হযরত মুহতামিম সাহেবসহ মাদরাসার মুরুব্বিয়ানে কেরাম এ ধরনের বড় আয়োজন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সে উদ্বেগ অমূলক ছিল না। অন্যান্য কিছু প্রতিষ্ঠানে বড় আয়োজনকে কেন্দ্র করে মতভেদ, দূরত্ব, এমনকি বিভক্তির মতো বেদনাদায়ক ঘটনাও ঘটেছে। এ আশঙ্কা থেকেই মুরুব্বিয়ানে কেরাম সতর্ক ছিলেন। শাইখুল ইসলাম হাটহাজারীর হযরতের জীবদ্দশায়ও বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে; নানা বিবেচনায় তখন আয়োজনটি বাস্তবায়িত হয়নি।

পরবর্তীতে ফরিদাবাদের ফুজালায়ে কেরাম যখন আয়োজনের আর্থিক দায়ভার নিজেদের উদ্যোগে বহন করা এবং জামিয়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়ার আশ্বাস দিলেন, তখন মুহতামিম সাহেবসহ মুরুব্বিয়ানে কেরাম এ উদ্যোগে সম্মতি দেন। অর্থাৎ শুরু থেকেই এই মহাসম্মেলনের ভিত্তি আপনাদের ভালোবাসা, অঙ্গীকার এবং মুরুব্বিয়ানে কেরামের সম্মতিতে গড়ে ওঠা একটি সম্মিলিত উদ্যোগ।

২. আলহামদুলিল্লাহ—প্রস্তুতির অগ্রগতি:
কৈফিয়তের আগে শোকরের কথা বলি। আল্লাহ তাআলার মেহেরবানিতে জামিয়ার সন্তানদের সাড়া সবার প্রত্যাশার চেয়েও আশাব্যঞ্জক।

প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, ৮ হাজার ফুজালা নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। আরও প্রায় ৫ হাজার ফুজালা সম্মেলনের সংবাদ জানেন বা কমবেশি অবগত আছেন। পাশাপাশি জামিয়ার দোস্ত-আহবাব, মুহিব্বীন ও মুতাআল্লিকীনদের কাছেও সংবাদ পৌঁছেছে। এ অগ্রগতি আমাদের সাহস জোগায়; তবে পথ এখনো বাকি। এত বড় আয়োজনে সঠিক নিবন্ধন, যোগাযোগ ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রত্যেকের অংশগ্রহণ জরুরি—অগ্রজ, অনুজ ও সহপাঠী সবারই।

অনেক সাথী তারিখ জানলেও ব্যস্ততার কারণে ভুলে যেতে পারেন বা খেয়াল না-ও থাকতে পারে। তাই নতুন নির্ধারিত তারিখ—**২৩, ২৪ ও ২৫ নভেম্বর ২০২৬**—সবার কাছে নিশ্চিতভাবে পৌঁছে দিতে সরাসরি এসএমএস পাঠানো ও প্রবীণ হযরতদের যাদের নাম্বার সংরক্ষিত আছে তাদের নিকট ফোন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইতিমধ্যেই শুরুর থেকে ২০০০ সন পর্যন্ত রেজিস্টিকৃত সকল ফুযালাবৃন্দের ঠিকানায় চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য, যোগাযোগের ঘাটতি বা অসতর্কতার কারণে যেন কোনো ভাই অংশগ্রহণ থেকে বাদ না পড়েন। ইতিমধ্যেই যেসকল দৃশ্যমান প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে -

১/ দস্তারে ফযীলত গ্রহণের জন্য ৮ হাজার নিবন্ধন সম্পন্ন।

২/ প্রবীণ ফুযালাদের নিকট চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।

৩/ বিদেশী মেহমানদের দাওয়াত চূড়ান্ত ও তাদের ফ্লাইট বুকিং নিশ্চিত হয়েছে।

৪/ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি কর্পোরেশন, ডিএমপি, ইস্টার্ন ক্লাব থেকে ধুপখোলা মাঠের অনুমতি লিখিতভাবে আমাদের হাতে চলে এসেছে।

৫/ সিটি কর্পোরেশনে যোগাযোগের মাধ্যমে ধুপখোলা মাঠের রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করানো হয়েছে।

৬/ মাঠের প্যান্ডেল, স্টেজ, মাইক ব্যবস্থাপনার জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান পূর্বক ৬/৭টি জাতীয় পর্যায়ের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সাথে আলোচনা ও তাদের বাজেট যাচাইপূর্বক একটি ইভেন্ট কোম্পানিকে কাজের জন্য নির্বাচন করে তাদেরকে কাজ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা ইতিমধ্যেই ধুপখোলা মাঠের বিভিন্ন পয়েন্টে, মাদরাসার পথে গেট নির্মানের কাজ শুরু করে দিয়েছে।

৭/ গত ১৮ অক্টোবর ২৬ থেকে শুরু হওয়া মাদরাসার শশমাহী পরীক্ষার বন্ধে ছাত্রদের মাধ্যমে ১০ হাজার পোস্টার, ২৫০০ ফেস্টুন, ১২ হাজার হ্যান্ডবিল সারাদেশে বিতরণ করা হয়েছে।

৮/ দেশীয় মেহমানদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের দাওয়াত নিশ্চিত করে তাদের উপস্থিতির সময় চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

৯/ অনুষ্ঠানসূচী চূড়ান্ত করে মুরুব্বিদের নিকট অনুমোদনের জন্য দেয়া হয়েছে।

১০/ কোন বছরের ফুযালা কখন পাগড়ি গ্রহণ করবেন তার খসড়া তৈরি করে যাচাই বাছাই চলমান রয়েছে।

১১/ খাবারের ব্যবস্থাপনায় যারা থাকবেন তাদের সাথে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে খাবারের মেনু নির্বাচন ও বণ্টন প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

১২/ স্মারকের কাজের জন্য অভিজ্ঞ তিনজন আবনায়ে ফরিদাবাদ সকাল থেকে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত ফরিদাবাদে উপস্থিত হয়ে কাজ করছেন।

১৪/ স্পনসরের জন্য একাধিক কোম্পানির সাথে ইতিমধ্যেই মিটিং সম্পন্ন ও চলমান রয়েছে।

১৫/ দস্তারবন্দীর তিনদিনকে আকর্ষণীয় করতে ইসলামী বইমেলার জন্য একটি কমিটি নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন প্রকাশনীর সঙ্গে সমন্বয় চালিয়ে নিচ্ছেন।

৩. আর্থিক স্বচ্ছতা: কোনো আড়াল ছাড়াই

সম্মেলনের অর্থায়ন নিয়ে নানা কথা ও প্রশ্ন উড়ে বেড়ায় আমাদের কারও কারও চিন্তার আকাশে। কারও কারও মনে হয়েছে, জামিয়া কর্তৃপক্ষ বুঝি শুধু টাকার কথাই বলছে। তানযীমে আবনায়ে জামিয়া ফরিদাবাদ স্পষ্ট করে জানাতে চায়, দস্তারবন্দীর কাজের শুরু থেকেই সম্মেলন ও তানযীমের যাবতীয় কাজ উপলক্ষে পৃথক ফান্ড গঠন করা হয়েছে; এবং সেই ফান্ডের একটি টাকাও জামিয়ার অন্যকোন কাজের জন্য নেয়া হয়নি।

এ আয়োজনের জন্য পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আলাদা হিসাবরক্ষক, স্বতন্ত্র হিসাবের খাতা এবং পৃথক বাজেটের ব্যবস্থা রয়েছে। জামিয়ার নিয়মিত পরিচালন ব্যয় ও একটি বিশেষ ঐতিহাসিক সম্মেলনের ব্যয়—দুটি পৃথক বিষয়। এই পার্থক্য বজায় রাখতেই তানযীম আলাদা অর্থায়ন ও হিসাবব্যবস্থা অনুসরণ করছে।

বিগত সভা ও মজলিসগুলোতে এ পর্যন্ত কত অর্থ সংগৃহীত হয়েছে, কোন খাতে কত ব্যয় হয়েছে এবং সামনে আর কত অর্থের প্রয়োজন—তার হিসাব পেশ করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও কারো কোনো প্রশ্ন বা সংশয় থাকলে দূর থেকে ধারণা না করে তানযীমের মিটিংয়ে আসুন, হিসাব দেখুন, পরিকল্পনা শুনুন এবং দায়িত্বশীলদের কাছে প্রশ্ন করুন। যথাযথ দায়িত্বশীলগণ জবাব দিতে প্রস্তুত ও বাধ্য। এ আয়োজন আমাদের সবার, আর এর প্রতিটি হিসাবও আমাদের সামনে উন্মুক্ত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

একটি বাস্তবতা কখনোই আড়াল করা উচিত নয়—জামিয়ার বর্তমান আর্থিক সঙ্গতি কিছু প্রেক্ষাপটে এসে দুর্বল হয়ে পড়েছে। যার ফলে, আসাতিজায়ে কেরামের অজিফার কিছু অংশও বর্তমানে বকেয়া থাকছে প্রতিমাসে। তাঁদের অজিফা বকেয়া রেখে জামিয়ার সাধারণ ফান্ড থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করা শুধু মুরুব্বিয়ানে কেরাম নন; তানযীমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যবৃন্দও মুনাসিব মনে করেন না। একইসাথে বিদেশি মেহমানদের যাতায়াত ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন খরচও রয়েছে। আমাদের জানা হিসাব অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে আগত একেকজন সম্মানিত মেহমানের শুধু যাতায়াত ব্যয়ই দেড় লাখ টাকার বেশি। এসব ব্যয় ফুজালায়ে কেরাম ও তানযীমের উদ্যোগে বহন করা হচ্ছে; জামিয়ার নিয়মিত ফান্ডের ওপর এর বোঝা চাপানো হচ্ছে না। তানযীমেরও এমন ইচ্ছা নেই।

৪. একটি সন্দেহের অবদমন ; খতমে বুখারীর আয়োজন ও ৭০ সালার পার্থক্য

ফরিদাবাদে প্রতি বছর খতমে বুখারী উপলক্ষে বড় সমাগম হয়। প্রতিবছরই প্রায় ১৫০—১৬৫ ডেগ খাবার রান্না হয়; দাওরা হাদীসের ছাত্রদের ব্যক্তিগত মেহমানদের জন্য নির্ধারিত অংশের ব্যয় বাদে (যা সর্বোচ্চ এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত হয়) বাকি দুই তৃতীয়াংশের পুরো খরচ জামিয়াই বহন করে। ফুজালাদের কাছে তখন খরচের কথা তোলা হয় না। কারণ, সেটি জামিয়ার নিয়মিত কার্যক্রম ও বিদ্যমান ব্যবস্থাপনার অংশ। কিন্তু দু:খজনক হলো, কারও কারও মনে এমন আপত্তিও উদিত হয় যে, অন্যান্য মাদরাসাও তো প্রতিবছর দস্তারবন্দী, মাহফিল, আবনা সম্মেলন করে থাকে, তারা তো টাকার জন্য এত কিছু করে না। অথচ অন্যান্য মাদরাসার প্রতিবছরের মাহফিলের তুলনায় আমাদের খতমে বুখারিতে আগত আবনাদের উপস্থিতি কয়েকগুণ হয়ে থাকে এবং জামিয়াও বিনা বাক্যে তাদের সকলের আপ্যায়ন, ইকরাম, তাযীমের ব্যবস্থা করে থাকে। কিন্তু ৭০সালা একটি বিশেষ ঐতিহাসিক আয়োজন। দেশ-বিদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক ফুজালা, আলেম-উলামা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও মেহমানের উপস্থিতি প্রত্যাশিত। নিবন্ধন, আবাসন, খাবার, নিরাপত্তা, প্রচার, মঞ্চ-প্যান্ডেল এবং বিদেশি মেহমানদের যাতায়াতসহ নানা ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় ও প্রস্তুতি দরকার। তাই দুই আয়োজনের ব্যয়কে একইভাবে দেখা ইনসাফ নয়। পৃথক ফান্ডের উদ্দেশ্য জামিয়ার নিয়মিত আর্থিক কার্যক্রমকে বিশেষ আয়োজনের ব্যয় থেকে সুরক্ষিত রাখা। এতদসত্ত্বেও জামিয়ারও একটি খরচ (যা অন্যান্য বছর হয়, তা এবারও) হবে।

৫. উড়োকথা প্রসঙ্গে বিনীত নিবেদন

> يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ
“হে ঈমানদারগণ! কোনো সংবাদ এলে তা যাচাই করে নাও, পাছে অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মে অনুতপ্ত হও।”

তানযীম কারও প্রতি অভিযোগের আঙুল তুলছে না। শুধু নিবেদন—দূর থেকে সন্দেহ বা দোষারোপ না করে কাছে আসুন, তানযীমের মিটিংয়ে বসুন, নিজের চোখে হিসাব দেখুন, নিজের কানে পরিকল্পনা শুনুন। প্রশ্ন থাকলে প্রশ্ন করুন! পরিকল্পনায় সহায়তা করুন! তবুও যাচাই না করা কথা প্রচার না করে তথ্য জেনে নেওয়াই পারস্পরিক আস্থা রক্ষার সঠিক পথ।

৬. প্রচার-প্রচারণা, পোস্টার ও তারিখ

আরেকটি তথ্য জানিয়ে রাখছি, ফরিদাবাদ মাদরাসার কোনো অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ নেই। জামিয়ার নীতিনির্ধারণী মুরুব্বিগণ সর্বাবস্থাতেই ইন্টারনেট, ফেসবুক প্রচারণা, ভিডিও এশায়াত এগুলো থেকে পরহেজ করে চলেছেন এবং শরঈ নীতিগত জায়গা থেকে এসবের প্রতি অনীহামূলক মেজাজ ধারণ করেন। তাই আমাদের ৭০সালা কেন্দ্রিক সকল আয়োজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ ছড়ানো এবং আনন্দমুখর পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্বটি আমাদের তানযীমের সম্মিলিত কাঁধে। এ কাজ আমাদের ছাড়া আর কেউ করবে না। তাই, সকলের প্রতি অনুরোধ রইলো, আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে আমাদের সাধ্যানুযায়ী এই সম্মেলনের এশায়াত শুরু করে দিই।

সদ্য প্রচারিত পোস্টারটি একজন দায়িত্বশীল নিজের উদ্যোগে ভোর চারটা পর্যন্ত জেগে তৈরি করেছেন। এরপর নায়েবে মুহতামিম সাহেব হুজুর, মুফতি ইউনুস সাহেব হুজুর, মুফতি আবদুস সালাম সাহেব হুজুরসহ সিনিয়র প্রায় সবাই দেখে অনুমোদন দেয়ার পর ছাত্রদের মাধ্যমে মাদরাসা বন্ধের দিন ১০ হাজার পোস্টার ও আড়াই হাজার ফেস্টুন বিলি করা হয়েছে। কোনো ভাই এর চেয়ে সুন্দর, রুচিশীল ও তথ্যসমৃদ্ধ ডিজাইন করতে পারলে সানন্দে এগিয়ে আসুন। তানযীম সেটি মুরুব্বিয়ানে কেরামের সামনে পেশ করে অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে। অথবা যথাযথ পরামর্শ ও মূল্যায়ন করলেও আমরে সেগুলো কৃতজ্ঞচিত্তে গ্রহণ করতে প্রস্তুত।

তাই তানযীমের প্রচারণার মূল ফোকাস এখন নতুন তারিখটি সবাইকে নিশ্চিত করা এবং নিবন্ধনে উদ্বুদ্ধ করা। “আর সাত দিন বাকি”, “আর ছয় দিন বাকি”—এ ধরনের একই কাউন্টডাউন বারবার দেওয়ার বদলে প্রচারণা হোক প্রাণের কথায় ভরা। প্রাক্তন ছাত্ররা জামিয়ার স্মৃতি, দরসের দিন, ওস্তাদদের স্নেহ ও ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিন; অনুজ ও সহপাঠী ভাইয়েরাও নিজেদের স্মৃতি, শুভেচ্ছা ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে দিন—সেই আবেগই অন্যদের কাছে টানবে।

৭. নীরব সমর্থনও আমাদের জন্য দুয়া

জামিয়া ফরিদাবাদের ফাজেলরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে যোগ্য ও দায়িত্বশীল। তাঁদের অনেকে মসজিদ ও মাদরাসার খেদমত করেন, ওয়াজ-মাহফিলে সময় দেন, দাওয়াতি কাজে ব্যস্ত থাকেন কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। নিজের দায়িত্ব ফেলে বারবার মিটিংয়ে আসা সবার পক্ষে সম্ভব নয়—এ বাস্তবতা তানযীম হৃদয় দিয়ে বুঝে।

তাই কারও মিটিংয়ে অনুপস্থিতি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নীরবতাকে তানযীম কর্তৃপক্ষ অবহেলা কিংবা অনাগ্রহ মনে করে না। তানযীম বিশ্বাস করে, অনেক অগ্রজ, অনুজ ও সহপাঠী ভাই নীরবে দোয়া ও ভালোবাসা দিয়ে এ আয়োজনের পাশে আছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেকের সামান্য অংশগ্রহণও আয়োজনের ভার অনেকটা হালকা করতে পারে। যাঁর পক্ষে মিটিংয়ে আসা সম্ভব নয়, তিনি অন্তত নিজের ব্যাচ বা এলাকার দায়িত্বশীল সাথীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, তথ্য নিন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ভূমিকা রাখুন।
তানযীম কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করে, এই নিবন্ধিত ৮ হাজার ফুযালা প্রত্যেকেই যদি তার আপন জায়গা থেকে সম্মেলনের আওয়াজ তুলতে পারে অনলাইনে বা অফলাইনে, কমপক্ষে আরও কয়েক লাখ মানুষের নিকট বিনামূল্যে এই সংবাদ পৌঁছে যাবে।

৮. সর্বশেষে

প্রিয় ভাইয়েরা, এ মহাসম্মেলন সফল হবে তখনই, যখন জামিয়ার অগ্রজ-অনুজ ও সহপাঠী—প্রতিটি সন্তান নিজেকে এর আয়োজক মনে করবেন। সে লক্ষ্যে আপনাদের কাছে কয়েকটি বিষয় আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করছি:

√ ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে অনুমোদিত সংবাদ ও পোস্টার ছড়িয়ে দিন। নিজের স্মৃতি, আবেগ ও শুভেচ্ছা দিয়ে সহপাঠী ও সাথীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করুন।

√ একইসাথে ওয়াদাকৃত অনুদান ও আযায়েম পূরণ করুন। শুরুতে যে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন, সম্ভব হলে তা সময়মতো বাস্তবায়ন করুন। যাঁরা এখনো শরিক হননি, তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করুন।

√ নিবন্ধনের সংখ্যা বাড়ান। ইতোমধ্যে নিবন্ধনকারী প্রায় ৮ হাজার ফুজালাকে মোবারকবাদ। এখন সংবাদ জানা কিন্তু নিবন্ধন না করা ফুজালা, অনুজ ও সহপাঠী ভাইদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং তাঁদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে সহায়তা করুন।

√ ২৩, ২৪ ও ২৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখটি পরিচিত প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে দিন, যাতে খেয়াল না থাকার কারণে কেউ বাদ না পড়েন।

√ মিটিংয়ে আসুন, না পারলেও অন্তত হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ রাখুন। কাছে এসে কাঁধ মেলানো মূল্যবান; আসা কঠিন হলে ব্যাচের সাথীদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখুন, পরামর্শ দিন এবং আয়োজনের কবুলিয়্যাতের জন্য দোয়া করুন।

√ ডিজাইন, প্রচার, নিবন্ধন, যোগাযোগ, ব্যবস্থাপনা কিংবা অন্য কোনো কাজে অভিজ্ঞতা থাকলে এগিয়ে আসুন।

√ আমরা দ্রুতই ফারেগীনদের থেকে স্বেচ্ছাসেবক সংগ্রহের জন্য নিবন্ধন ফরম ছাড়বো। যারা আগ্রহী হবেন তারা কষ্ট করে ফরম পূরণ করলে আমরা তাদের সকলের জন্য আইডি কার্ড ও ভেস্ট বানানো শুরু করবো।

√ দুয়া, দুয়া, দুয়া। প্রচুর পরিমাণে আপনাদের দুয়া চাই। সম্ভব হলে নফল নামাজ, তিলাওয়াত ও রোজা রেখেও আমরা এই মহাসম্মেলনের সর্বোচ্চ সফলতা ও কামিয়াবির জন্য দুয়ার ইহতিমাম চালিয়ে যাই।

প্রিয় ভাইয়েরা, এই জামিয়া আমাদের শৈশবের উঠোন, কৈশোরের মেহনত আর যৌবনের গর্ব। এখানকার প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি দরসগাহ আমাদের স্মৃতিতে জড়িয়ে আছে। সত্তর বছরের এই উৎসবে আমরা যেন সেই ডাকের জবাব দিতে পারি—নিজের হাতে, নিজের সময়ে ও নিজের সামর্থ্যে।

আমরা আয়োজকবৃন্দ প্রস্তুতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রচারণার বিষয়ে আমাদের কথা আপনাদের সামনে রাখলাম। কোনো প্রশ্ন থাকলে দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন; কোনো কাজে দুর্বলতা চোখে পড়লে গঠনমূলক পরামর্শ দিন। আসুন, ভুল বোঝাবুঝির বদলে আস্থা, দূরত্বের বদলে সহযোগিতা এবং শুধু সমালোচনার বদলে কার্যকর অংশগ্রহণ বেছে নিই।

মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের নিয়ত খালিস করুন, ঐক্যবদ্ধভাবে এ আয়োজন সফল করার তাওফিক দিন এবং কুরআনের এ নির্দেশনাকে আমাদের চলার পথের পাথেয় বানিয়ে দিন:

> وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

ওয়া আখিরু দাওয়ানা আনিল হামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন।

**বিনীত**
আয়োজক কমিটি ও সমন্বয়কবৃন্দ,
৭০সালা দস্তারবন্দী মহাসম্মেলন,
জামিয়া ফরিদাবাদ।

23/10/2026

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ এর মুখপত্র

Address

11/12 হরিচরণরায় রোড, ফরিদাবাবদ, গেন্ডারিয়া
Dhaka
1204

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-1204 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The University

Send a message to জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ, ঢাকা-1204:

Shortcuts

Share